সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে ২৯ শতাংশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকগুলো কৃষি খাতে ২১ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা বা ২৯ শতাংশ বেশি। ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি খবরটি প্রকাশিত হয়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে ২৯ শতাংশ
এগ্রোবিজ

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে, অর্থাৎ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত, দেশের ব্যাংকগুলোর কৃষিঋণ বিতরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য উদ্ধৃত করে ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি জাগো নিউজ জানায়, এই সময়ে কৃষি খাতে মোট ২১ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা বা ২৯ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশে ধানের চারা রোপণ করছেন কৃষকেরা। ছবি: বলরাম মহলদার / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বাংলাদেশে ধানের চারা রোপণ করছেন কৃষকেরা। ছবি: বলরাম মহলদার / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার ৫৩.৮৭ শতাংশ অর্জন


২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ৩৯ হাজার কোটি টাকার কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় মাসেই এই লক্ষ্যমাত্রার ৫৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বাংলাদেশ পোস্ট ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে নতুন কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ঘোষণা করা হয়। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার কোটি টাকা; নতুন লক্ষ্যমাত্রা তার চেয়ে ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি। নিউ এজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো মোট ৩৭ হাজার ৩২৬ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করেছিল।

অর্থবছরের শুরু থেকেই বিতরণে গতি দেখা যাচ্ছিল। ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর নিউ এজ জানায়, জুলাই-অক্টোবর এই চার মাসে ব্যাংকগুলো ১১ হাজার ৯২৮ কোটি টাকার কৃষিঋণ দেয়, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা; বৃদ্ধির হার ২৭ শতাংশ। পত্রিকাটির ভাষ্য, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে থাকায় এবং খাদ্য উৎপাদনে সহায়তার চাপ থাকায় বিতরণ আবার বেড়েছে।

ঢাকার মতিঝিলে শাপলা চত্বরের পাশে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন, ২০১১ সালে তোলা। ছবি: আবু নাঈম / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
ঢাকার মতিঝিলে শাপলা চত্বরের পাশে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন, ২০১১ সালে তোলা। ছবি: আবু নাঈম / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

ঋণ আদায় ও ঋণস্থিতিও বেড়েছে


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিতরণের পাশাপাশি কৃষিঋণ আদায়ও বেড়েছে। প্রথম ছয় মাসে কৃষি খাত থেকে ২১ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকার ঋণ আদায় হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা বা ১৩ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে কৃষি খাতে মোট ঋণস্থিতি দাঁড়ায় ৬২ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। নিউ এজের হিসাবে, অক্টোবর শেষে এই স্থিতি ছিল ৫৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা।

আড়াই শতাংশের লক্ষ্য বাড়ানোর বিবেচনা


বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর নিট ঋণ বিতরণের অন্তত ২ দশমিক ৫ শতাংশ কৃষি খাতে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে রেখেছে। জাগো নিউজ জানায়, এই লক্ষ্য বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রতি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে এক বৈঠকে উপস্থাপিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪৬ শতাংশ এই খাতে নিয়োজিত। অথচ প্রতি বছর গড়ে ৫ শতাংশ হারে ঋণ বাড়লেও কৃষি খাত কাঙ্ক্ষিত গুরুত্ব পাচ্ছে না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিট ঋণের মাত্র আড়াই শতাংশ কৃষিতে দেওয়ার লক্ষ্য বর্তমান বাস্তবতায় অপর্যাপ্ত। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জলবায়ু ঝুঁকি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন জরুরি। প্রতিবেদনের মূল্যায়ন, ঋণ সীমিত থাকায় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, যান্ত্রিকীকরণ, উন্নত বীজ-সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বাংলাদেশের একটি গ্রামে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করছেন এক কৃষক। ছবি: বলরাম মহলদার / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বাংলাদেশের একটি গ্রামে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করছেন এক কৃষক। ছবি: বলরাম মহলদার / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

কৃষিঋণ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ


বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানান, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কৃষক ও কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও সচেতনতা বাড়াতে প্রকাশ্য ও দলগত ঋণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ব্যাংক শাখার বাইরেও এজেন্ট ব্যাংকিং, উপশাখা, চুক্তিভিত্তিক চাষ (কন্ট্রাক্ট ফার্মিং), এরিয়া অ্যাপ্রোচ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের (এমএফআই) সঙ্গে সংযোগের মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণ বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ঋণ নীতিমালায় যেসব বিষয় যুক্ত হয়েছিল, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও বাংলাদেশ পোস্টের প্রতিবেদনে তার উল্লেখ রয়েছে:

  • প্রাণিসম্পদ খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা
  • সেচ ও কৃষি যন্ত্রপাতির জন্য ২ শতাংশ বরাদ্দ
  • আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণে সিআইবি সার্ভিস চার্জ মওকুফ
  • চুক্তিভিত্তিক চাষ ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আওতা বাড়ানো
  • শসা, কচুর লতি, বিটরুট, কালোজিরা, আদা, রসুন, হলুদ ও খেজুরের গুড় নীতিমালায় যুক্ত করা
  • উৎপাদন সম্ভাবনা অনুযায়ী অঞ্চলভিত্তিক ঋণ বিতরণ নির্দেশিকা

এ ছাড়া ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ভুট্টা চাষে ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ ভর্তুকি সুদে ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক, জানায় নিউ এজ।

বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) দুগ্ধ খামারের একটি প্রজনন ষাঁড়। ছবি: ইব্রাহিম হুসাইন মেরাজ / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) দুগ্ধ খামারের একটি প্রজনন ষাঁড়। ছবি: ইব্রাহিম হুসাইন মেরাজ / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ছবি: বলরাম মহলদার / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বাংলাদেশ পোস্ট, নিউ এজ

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ইংল্যান্ডে যবের ফলন ১৪ বছরে সর্বনিম্ন, গম সামান্য বেশি

যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার প্রাথমিক হিসাবে ইংল্যান্ডে যব উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টন হয়েছে, গম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন; গমের তুলনায় পশুখাদ্যের যব বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।

Farmers Weekly১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

নিজস্ব কারখানা ছেড়ে চুক্তিভিত্তিক ও যৌথ কারখানায় ঝুঁকছে উদ্ভিজ্জ মাংস

চাহিদা অনিশ্চিত থাকায় উদ্ভিজ্জ মাংসের ব্র্যান্ডগুলো নিজস্ব কারখানার বদলে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন, যৌথ অবকাঠামো ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের পুরোনো যন্ত্রপাতির দিকে ঝুঁকছে বলে জানিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

FoodNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

সারের দাম দেখার প্ল্যাটফর্ম ক্লিয়ারকস্টে বিনিয়োগ, সালফার সংকটে কমছে ফসফরাস

কৃষকদের সারের দাম ও চালান দেখার এবং সরবরাহ চুক্তির সুযোগ দেওয়া কানাডার স্টার্টআপ ক্লিয়ারকস্ট সিরিজ এ তহবিল পেয়েছে; ২০২৭ সালের শুরুতে উত্তর আমেরিকাজুড়ে নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু করবে তারা।

AgNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)