অস্ট্রেলিয়ার একদল কৃষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এমন একটি টুল তৈরি করছেন, যা প্রতিটি খামারের নিজস্ব কাজের ধরন শিখে নেয় এবং কৃষকের সন্ধ্যার সময় খেয়ে ফেলা হিসাব-নিকাশ ও রেকর্ড রাখার কাজের বড় অংশ নিজেই করে। খবরটি দিয়েছে বিফ সেন্ট্রাল।
‘ফার্ম অ্যাসিস্ট্যান্ট’ নামের টুলটি বানিয়েছে রিজেন ফার্মার্স মিউচুয়াল (Regen Farmers Mutual), পরিবেশ বাজার সামলাতে গড়া একটি কৃষক সমবায়। তাদের হিসাবে অস্ট্রেলিয়ার কৃষি, বন ও মৎস্য খাতের মাত্র ৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এআই ব্যবহার করে, যা সব খাতের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এবং জাতীয় গড় ১২ শতাংশের অনেক নিচে।
সমবায়ের সহপরিচালক অ্যান্ড্রু ওয়ার্ড (Andrew Ward) বলেন, এআই কম ব্যবহারের মানে এই নয় যে কৃষকেরা প্রযুক্তি নিতে চান না; তাঁরা বহু বছর ধরে জিপিএস, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র, সেন্সর ও দূর থেকে পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করছেন। তাঁর কথায়, চাষ কীভাবে করতে হবে তা বলতে কৃষকের এআই লাগে না; তাঁদের দরকার রাতে নানা সিস্টেমে তথ্য তোলা আর কাগজপত্রের কাজে যাওয়া ঘণ্টাগুলো কমানো।
কাজ করতে করতেই কৃষক মাঠ, ট্রাক্টর বা খোঁয়াড় থেকে ভয়েস নোট, ছবি বা লেখা পাঠিয়ে কী করছেন তা জানাতে পারেন। যেমন, পশুর চিকিৎসা দেওয়ার পর সহকারীকে বললেই চিকিৎসার রেকর্ড ও মজুত হালনাগাদ হয়ে যায় এবং কাগজপত্র তৈরি হয়, পরে আবার তথ্য তুলতে হয় না। সফটওয়্যারটি খামারের নিজস্ব ভাষাও শেখে, জমির নাম থেকে পশুর দলের নাম পর্যন্ত। ওয়ার্ড বলেন, ৩০ বছর ধরে যে জমিকে ‘দ্য ব্যাক ফোর্টি’ বলে ডাকছেন, নতুন সফটওয়্যার কিনেছেন বলে সেটির নাম বদলাতে হবে কেন। টুলটি খামার ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার, আবহাওয়ার তথ্য, যন্ত্রের সিস্টেম, সেন্সর ও পণ্যবাজারের তথ্যের সঙ্গে মিলে কাজ করার জন্য তৈরি।
বর্তমানে ২০ জন কৃষক টুলটি পরীক্ষা করছেন এবং প্রতি সপ্তাহে সমবায়ের ভাষায় ‘এআই জিমে’ মিলিত হয়ে অভিজ্ঞতা জানাচ্ছেন; যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় আছে আরও ৪০টির বেশি খামার। সহপরিচালক ও গরুর খামারি ক্রিস্তফ বুর (Christophe Bur) বলেন, লক্ষ্য হলো মূল্যবান তথ্য যেন খাতা বা স্মৃতিতে হারিয়ে না যায়। তাঁর ভাষায়, এআইয়ের কারণে কেউ যদি দিনের শেষে আরও দুই ঘণ্টা কম্পিউটারে না বসে পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খেতে পারেন, তবেই প্রযুক্তি সত্যিকারের সমস্যার সমাধান করল।
ছবি: Cgoodwin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: বিফ সেন্ট্রাল




মন্তব্য
(০)