২০২৬ সালে ইংল্যান্ডে যবের উৎপাদন এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে, আর ফলন সামান্য বাড়ায় গমের উৎপাদন একটু বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার প্রাথমিক হিসাবের ভিত্তিতে খবরটি দিয়েছে ফার্মার্স উইকলি।
আবাদি এলাকা ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমলেও গমের উৎপাদন ২০২৫ সালের চেয়ে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন হয়েছে। গড় ফলন ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে হেক্টরপ্রতি ৭ দশমিক ২ টন হয়েছে, যা অবশ্য ১০ বছরের গড় ৭ দশমিক ৯ টনের নিচে। বসন্তকালীন যবের আবাদ কমা এবং ফলন ৮ শতাংশ কমায় যবের উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টনে নেমেছে।
তবু যুক্তরাজ্য থেকে পশুখাদ্যের যবের কয়েকটি চালান রপ্তানির জন্য জাহাজে উঠেছে, মূলত আয়ারল্যান্ডে; এর বড় অংশ উত্তর স্কটল্যান্ডের, যেখানে মল্ট ও মদ প্রস্তুতকারকদের চাহিদা কমায় উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে। ১৪ অক্টোবর খামার পর্যায়ে পশুখাদ্যের যবের দাম ছিল টনপ্রতি ১৮২ দশমিক ৬ পাউন্ড, পশুখাদ্যের গম ১৯৬ দশমিক ২ পাউন্ড। ডিউইং গ্রেইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্ড্রু ডিউইং (Andrew Dewing) বলেন, যব গমের পিছু পিছু দাম হারাচ্ছে, ব্যবধানটা অতিরিক্ত এবং সময়ের সঙ্গে কমে আসবে। এ দামে কৃষকেরা বিক্রিতে আগ্রহী নন বলেও জানান তিনি।
গমের বাজার আটকে আছে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি আর বিশ্বজুড়ে প্রচুর সরবরাহের মাঝখানে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত রাশিয়া-ইউক্রেন জ্বালানি যুদ্ধবিরতি নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ার পর ফিউচার্সের দাম কিছুটা ফিরেছে, এরপর রাশিয়া ইউক্রেনের গ্যাস ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা চালায়, তবু দামের প্রতিক্রিয়া সামান্য। ডিউইং বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম ও ভুট্টার প্রবাহ কমলেও বাজার যেন তাতে নির্বিকার। এএইচডিবির দেখানো মজুত যতটা বলা হচ্ছে ততটা কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি; তাঁর মতে, মৌলিকভাবে যুক্তরাজ্যে গমের ঘাটতি আছে এবং আমদানি করতেই হবে।
ছবি: Richard Humphrey / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি




মন্তব্য
(০)