সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

বেলি ফুল চাষ: জমি ও টবে সুগন্ধি বেলি চাষের সহজ পদ্ধতি

বেলে ও ভারী এঁটেল মাটি ছাড়া প্রায় সব মাটিতেই বেলি চাষ করা যায়; কলম তৈরি, চারা রোপণ, শীতে ছাঁটাই আর মাকড় দমনের ধাপগুলো জেনে নিন।

বেলি ফুল চাষ: জমি ও টবে সুগন্ধি বেলি চাষের সহজ পদ্ধতি
ফুল

আষাঢ়ের বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় ঢাকার রাস্তার মোড়ে মোড়ে ফুল বিক্রেতারা সাদা বেলি ফুলের মালা হাতে দাঁড়িয়ে থাকেন। ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রথম আলোর জীবনধারা পাতায় এই ছবিই উঠে এসেছিল: নারীরা বেণি, খোঁপা আর হেডব্যান্ডে বেলি পরেন। পত্রিকাটি ফুলটির একটি দুর্বলতার কথাও বলেছিল, যা আবার এর কদরও বাড়ায়: বেলির মালা বেশিক্ষণ সতেজ থাকে না।

সুবাসের জন্য বেলি ফুলের বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। দেশের অধিকাংশ উৎসব ও অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত ফুলের তোড়া আর মালায় সুগন্ধি ফুল হিসেবে বেলির কদর অনেক। দ্য এগ্রো নিউজের মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বেলি এখন শুধু সৌন্দর্যের গাছ নয়, একটি অর্থকরী ফুল; দেশের বিভিন্ন নার্সারিতে এটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে।

এই লেখায় জানা যাবে বেলি আসলে কোন গাছ, দেশে কোন তিন ধরনের বেলি দেখা যায়, কেমন মাটি ও কোন মৌসুম এর জন্য ভালো, কলম ও ডাল থেকে কীভাবে নতুন চারা তৈরি হয়, জমিতে ও টবে কীভাবে লাগাতে হয়, আর আগাছা দমন, ডাল ছাঁটাই ও রোগবালাই থেকে গাছ বাঁচানোর উপায়। মূল প্রতিবেদনের ধাপগুলো মিলিয়ে দেখা হয়েছে গাছটি নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্রের সঙ্গে, প্রধানত বাংলাপিডিয়া এবং ভারতের ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ডের (এনএইচবি) জুঁই চাষের নির্দেশিকা, যা তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (টিএনএইউ, কোয়েম্বাটুর) গবেষণার ওপর ভিত্তি করে লেখা। যেখানে সূত্রগুলোর হিসাব আলাদা, সেখানে দুটোই দেওয়া হয়েছে; নিজের জমির মাটি অনুযায়ী পরামর্শের জন্য উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করার কথাও বলা হয়েছে।

বেলি কী: আরবীয় জুঁই


বাংলাপিডিয়ায় বাংলাদেশের বাগানের ফুলের তালিকায় বেলিকে গুল্ম বা ঝোপজাতীয় গাছের মধ্যে রাখা হয়েছে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Jasminum sambac, ইংরেজিতে একে বলা হয় অ্যারাবিয়ান জেসমিন বা আরবীয় জুঁই। একই তালিকায় দেশের বাগানে থাকা এর আত্মীয়দের আলাদা করে দেখানো হয়েছে: কুন্দ (Jasminum pubescens), যা আরেকটি গুল্ম; আর জুঁই (Jasminum auriculatum) ও চামেলি বা স্প্যানিশ জেসমিন (Jasminum grandiflorum), যেগুলো লতানো গাছ। তালিকায় এমন দুটি গাছও আছে যাদের ইংরেজি নামে জেসমিন শব্দটি থাকলেও এরা আসল জুঁই নয়: শেফালি বা কোরাল জেসমিন এবং টগর বা কেপ জেসমিন।

বেলি জলপাই পরিবারের (Oleaceae) গাছ। ভারতের ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ডের বর্ণনায় জুঁই জাতীয় গাছ লতানো, মাটিতে ছড়ানো বা খাড়া গুল্ম; এদের কোনোটি চিরসবুজ, কোনোটির পাতা ঝরে যায়, আর এদের সুগন্ধি ফুলে থাকে বাণিজ্যিক মূল্যের তেল।

ইংরেজি উইকিপিডিয়ার বর্ণনায় Jasminum sambac একটি চিরসবুজ লতা বা গুল্ম, উচ্চতা ০.৫ থেকে ৩ মিটার। এর ডিম্বাকার পাতা ৪ থেকে ১২.৫ সেন্টিমিটার লম্বা, পাতাগুলো মুখোমুখি জোড়ায় বা তিনটি করে একসঙ্গে জন্মায়। ফুল সাদা, ব্যাস ২ থেকে ৩ সেন্টিমিটার, পাপড়ির ভাগ ৫ থেকে ৯টি। ফুল ফোটে রাতে, সাধারণত সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে, আর সকালে আবার বুজে যায়। বাংলা উইকিপিডিয়া অনুযায়ী দেশে গাছটি প্রায় এক মিটার উঁচু হয়, কচি ডাল রোমশ, পাতা মসৃণ ও গাঢ় সবুজ, লম্বায় ৪ থেকে ৮ সেন্টিমিটার; গ্রীষ্ম ও বর্ষায় ফুল ফোটে, প্রতিটি থোকায় কয়েকটি করে ফুল থাকে।

প্রজাতিটির আদি নিবাস ভুটান ও ভারত; এখন পশ্চিম, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নানা দেশে এর চাষ হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় একে বেলি, মোগরা বা মাল্লিগে নামে চেনে মানুষ, বিয়ের অনুষ্ঠানে আর প্রতিদিনের খোঁপার সাজে এর ব্যবহার আছে। সাম্পাগিতা নামে এটি ফিলিপাইনের জাতীয় ফুল হয় ১৯৩৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জারি করা ৬৫২ নম্বর ঘোষণার মাধ্যমে, আর ইন্দোনেশিয়া ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রপতির ডিক্রির মাধ্যমে একে জাতীয় ফুলের স্বীকৃতি দেয়। এর ফুল দিয়ে জুঁই চা, সুগন্ধি ও মালা তৈরি হয়; বাংলা উইকিপিডিয়া বলছে, বেলি ফুল থেকে পাওয়া জুঁই তেল বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ডবল বা একাধিক স্তরের পাপড়িওয়ালা একটি বেলি জাতের ফুল। ছবি: AswiniKP / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA ৩.০)
ডবল বা একাধিক স্তরের পাপড়িওয়ালা একটি বেলি জাতের ফুল। ছবি: AswiniKP / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA ৩.০)

দেশের ফুলের বাজারে বেলি


বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ফুল চাষের ইতিহাস খুব পুরোনো নয়। ২০১৬ সালের আগস্টে দ্য ডেইলি স্টার এবং ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম আলো জানিয়েছিল, এর শুরু ১৯৮৩ সালে, যখন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালীতে শের আলী নামের এক কৃষক ৩০ শতক জমিতে রজনীগন্ধার চাষ করেন।

প্রথম আলোর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই এলাকায় তখন ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার চাষি প্রায় ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ করছিলেন, আর দেশের মোট ফুল সরবরাহের ৭০ শতাংশ আসছিল গদখালীর পাইকারি বাজার থেকে। সেখানে চাষের ৪৫ শতাংশ ছিল গ্ল্যাডিওলাস, ২৫ শতাংশ রজনীগন্ধা আর ২০ শতাংশ গোলাপ। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, সারা দেশে এই খাতের সঙ্গে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ যুক্ত, যাঁদের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার কৃষক।

দ্য ডেইলি স্টারের ২০১৬ সালের প্রতিবেদনে ২৩টি জেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ২০ হাজার ফুলচাষির হিসাব দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বাণিজ্যিক ফুল হিসেবে নাম ছিল গাঁদা, রজনীগন্ধা, গোলাপ, গ্ল্যাডিওলাস, জারবেরা, ক্যালেন্ডুলা ও চন্দ্রমল্লিকার। বাংলাপিডিয়ার পুষ্প উদ্যানতত্ত্ব বিষয়ক নিবন্ধেও বাণিজ্যিক কাটা ফুলের প্রায় একই তালিকা আছে (গোলাপ, গ্ল্যাডিওলাস, গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা ও রজনীগন্ধা), আর বলা হয়েছে জুঁই জাতীয় ফুল বাজারে মাঝেমধ্যে পাওয়া যায়।

তাই বেলি বিক্রি হয় মূলত খোলা ফুল, ফুলের ছড়া ও মালা হিসেবে, লম্বা ডাঁটার কাটা ফুল হিসেবে নয়। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় দেশের ফুল চাষ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, এর পেছনে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণ খুবই কম; তবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) একটি ফুল গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করেছে।

বেলির তিন ধরন


মূল প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে তিন ধরনের বেলি ফুল দেখা যায়, যাদের চেনা যায় ফুলের গড়ন দেখে:

  • সিঙ্গেল: পাপড়ির একটি স্তর, গন্ধ সবচেয়ে বেশি।
  • মাঝারি ডবল: মাঝারি আকারের ফুল, পাপড়ির স্তর একাধিক।
  • বৃহদাকার ডবল: বড় আকারের ফুল, পাপড়ির স্তর অনেক।

বাংলা উইকিপিডিয়াতেও এই তিন ধরনের কথা আছে। এগুলো ফুলের গড়নের ভাগ, দেশের কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অবমুক্ত করা জাত নয়; চাষিরা সাধারণত নার্সারি থেকে পছন্দের ধরনের কলম বা ডাল কিনে চাষ শুরু করেন।

ভারতে জুঁইয়ের বাণিজ্যিক জাত উন্নয়নের কাজ বেশি দিনের। এনএইচবির জাত-বিষয়ক নির্দেশিকায় Jasminum sambac-এর কয়েকটি জাতের নাম আছে। গুণ্ডুমাল্লির ফুল গোল, সুগন্ধ ভালো, গড় ফলন হেক্টরে ৭ থেকে ৮ টন ফুল। রামবন ও মদনবন বেশি ফলনের জাত, এদের কুঁড়ি লম্বা। ডবল মোগরার ফুলে পাপড়ির ৮ থেকে ১০টি স্তর থাকে, আর এর চমৎকার সুগন্ধকে বোর্ড সাদা গোলাপের গন্ধের সঙ্গে তুলনা করেছে।

মাটি, আবহাওয়া ও রোপণের সময়


মূল প্রতিবেদন বলছে, বেলে মাটি ও ভারী এঁটেল মাটি ছাড়া সব ধরনের মাটিতে বেলি চাষ করা যায়, আর জমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশন দুটোরই ব্যবস্থা থাকা ভালো। এনএইচবির নির্দেশিকাও বলছে জুঁই নানা ধরনের মাটিতে জন্মায়; তবে পানি সহজে সরে যায় এমন উর্বর দো-আঁশ মাটি, যার পিএইচ ৬.৫ থেকে ৭.৫, চাষের জন্য আদর্শ।

আবহাওয়ার ক্ষেত্রে এনএইচবি আদর্শ অবস্থা হিসেবে মৃদু শীত, উষ্ণ গ্রীষ্ম, মাঝারি বৃষ্টি আর রোদেলা দিনের কথা বলেছে। বোর্ডের হিসাবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত জুঁই ভালো জন্মায়, আর বছরে ৮০০ থেকে ১ হাজার মিলিমিটার বৃষ্টি, যদি তা সারা বছর ভালোভাবে ছড়িয়ে থাকে, গাছের বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে ভালো।

সময় নিয়ে মূল প্রতিবেদন বলছে, গ্রীষ্মের শেষ থেকে বর্ষার শেষ পর্যন্ত বেলির কলম বা চারা তৈরি করা যায়। বর্ষায় বা বর্ষার শেষ দিকে কলম বসানোই ভালো, তবে সেচের ভালো ব্যবস্থা থাকলে বসন্তকালেও কলম তৈরি করা যায়। এনএইচবির রোপণ পঞ্জিকাও প্রায় একই রকম: উত্তর ভারতে রোপণের আদর্শ সময় জুলাই থেকে আগস্ট, আবার জানুয়ারির শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি; দক্ষিণ ভারতে জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে যেকোনো সময় রোপণ করা যায়।

নতুন চারা তৈরি: কলম ও ডাল


মূল প্রতিবেদনে বেলির নতুন চারা তৈরির তিনটি পদ্ধতির কথা আছে: গুটি কলম, দাবা কলম ও ডাল কলম।

দাবা কলমের ব্যাপারে এনএইচবির নির্দেশিকা বলছে, উত্তর ভারতে জুন-জুলাইয়ে এবং দক্ষিণ ভারতে জুন থেকে ডিসেম্বরে এই কলম করা হয়। প্রায় এক বছর বয়সী ভালোভাবে পরিপক্ব ডাল বেছে নিয়ে, মাটিতে চাপা দেওয়ার অংশে অগভীর তেরছা কাট দিয়ে, সেই অংশটি মাটির ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার গভীরে পুঁতে দেওয়া হয়। ৯০ থেকে ১২০ দিনে শিকড় গজায়, তারপর নতুন গাছটি মাতৃগাছ থেকে কেটে আলাদা করা যায়।

এনএইচবির মতে ডাল কলম সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি, আর Jasminum sambac-এর বংশবিস্তারে ডালের আগার অংশ সবচেয়ে ভালো কাজ করে। ২২ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার লম্বা, তিন-চারটি গিটওয়ালা ডাল শিকড় গজানোর মাধ্যমে বসানো হয়; ডালটি ৫ সেন্টিমিটারের বেশি গভীরে পোঁতা হয় এবং একটি থেকে আরেকটির দূরত্ব রাখা হয় ৭ সেন্টিমিটার। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে নেওয়া ডালে শিকড় সবচেয়ে ভালো হয়, সবচেয়ে বেশি শিকড় হয় জুনে বসানো ডালে। নরম ডালের গোড়ায় বসানোর আগে শিকড় গজানোর হরমোন প্রয়োগের কথাও বোর্ড বলেছে (আইবিএ ৪০০ পিপিএম ও আইএএ ১ হাজার পিপিএম)। বসানোর ৪ থেকে ৫ মাস পর শিকড়ওয়ালা ডাল মূল জমিতে লাগানোর উপযোগী হয়।

জমি তৈরি ও চারা রোপণ


মাঠে বেলি লাগানোর জন্য মূল প্রতিবেদনের ধাপগুলো, সঙ্গে এনএইচবির গর্ত তৈরির পদ্ধতি:

  • জমি চার-পাঁচবার চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে ও সমান করুন।
  • জমি তৈরির সময় জৈব সার, ইউরিয়া, ফসফেট (টিএসপি) ও এমপি সার দিন। মূল প্রতিবেদনে সারের পরিমাণ দেওয়া নেই; এনএইচবি বলছে মাত্রা নির্ভর করে মাটির উর্বরতা ও দেওয়া জৈব সারের পরিমাণের ওপর, তাই মাটি পরীক্ষা করে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে মাত্রা জেনে নিন।
  • চারা লাগানোর গর্ত খুঁড়ে গর্তের মাটি রোদে শুকাতে দিন। এনএইচবির সুপারিশ, রোপণের এক মাস আগে ৪৫ সেন্টিমিটারের গর্ত তৈরি করে রোদ খাওয়ানো।
  • মূল প্রতিবেদনের পরামর্শমতো গর্তের মাটির সঙ্গে জৈব সার ও কাঠের ছাই মিশিয়ে গর্ত ভরাট করুন। এনএইচবির মিশ্রণ হলো গোবর সার, তাজা মাটি ও মোটা বালু ২:১:১ অনুপাতে, যা রোপণের কয়েক দিন আগে গর্তে ভরে পানি দিয়ে বসিয়ে নিতে হয়।
  • প্রতিটি গর্তের মাঝখানে মাটির বলসহ একটি শিকড়ওয়ালা কলম বা ডাল বসান, চারপাশের মাটি শক্ত করে চেপে দিন এবং সঙ্গে সঙ্গে পানি দিন।
  • মূল প্রতিবেদনের পরামর্শ অনুযায়ী চারা লাগানোর পর ইউরিয়া উপরি প্রয়োগ করে সেচ দিন।

চারার দূরত্ব নিয়ে সূত্রগুলোর হিসাব আলাদা। মূল প্রতিবেদনের এক জায়গায় চারা থেকে চারার দূরত্ব প্রায় ১ মিটার, আরেক জায়গায় চারা থেকে চারা ও সারি থেকে সারির দূরত্ব ৫০ সেন্টিমিটার বলা হয়েছে। এনএইচবির উদ্ধৃত টিএনএইউর সুপারিশ হলো বাণিজ্যিক মাঠে Jasminum sambac-এর জন্য ১.৫ মিটার বাই ১.৫ মিটার। এনএইচবি বলছে, প্রথম কয়েক বছর গাছের ফাঁকে সবজি বা শোভাবর্ধক গাছ সাথি ফসল হিসেবে চাষ করা যায়।

সেচ নিয়ে এনএইচবি বলছে, গাছের বৃদ্ধি ও ফুল ফোটার জন্য মাটিতে যথেষ্ট রস থাকা দরকার। গ্রীষ্মের মাসগুলোতে সপ্তাহে একবার প্লাবন সেচ দেওয়া হয়, আর ফুল ফোটা শেষ হলে পরের ছাঁটাই ও সার প্রয়োগ পর্যন্ত সাধারণত সেচের দরকার হয় না।

টবে বেলি চাষ


মূল প্রতিবেদন বলছে, টবেও বেলি চাষ করা যায়; জৈব পদার্থযুক্ত দো-আঁশ মাটিতে পরিমাণমতো ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপি সার মিশিয়ে টবে বেলি লাগাতে হয়। টব রাখা যায় ঘরের বারান্দায় বা ছাদে।

এই লেখার অন্য পরামর্শগুলোও টবের গাছে খাটে। গাছটির রোদ দরকার, কারণ এনএইচবি জুঁইয়ের আদর্শ অবস্থার মধ্যে রোদেলা দিনের কথা বলেছে। মূল প্রতিবেদন জমি ও টব দুই ক্ষেত্রেই বলেছে, টব থেকে নিয়মিত আগাছা তুলতে হবে, বছরে একবার শীতে ডাল ছাঁটাই করতে হবে, আর ছাঁটাইয়ের কয়েক দিন পর সার দিতে হবে।

হাওয়াইয়ের মাউই দ্বীপের কাহুলুইয়ের একটি দোকানে বিক্রির জন্য রাখা টবের বেলি গাছ, ২০০৮। ছবি: Forest and Kim Starr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY ৩.০)
হাওয়াইয়ের মাউই দ্বীপের কাহুলুইয়ের একটি দোকানে বিক্রির জন্য রাখা টবের বেলি গাছ, ২০০৮। ছবি: Forest and Kim Starr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY ৩.০)

আগাছা দমন, মালচিং ও ডাল ছাঁটাই


বেলি বাগানে আগাছা দমনের দিকে নজর দিতে হয়। মূল প্রতিবেদন বলছে, জমি বা টব থেকে নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করতে হবে, আর খড় কুচি কুচি করে কেটে মাটিতে বিছিয়ে দিলে সেচ কম লাগে এবং আগাছাও কম জন্মায়। এনএইচবির নির্দেশিকা এর কারণ ব্যাখ্যা করেছে: আগাছা পুষ্টির জন্য মূল ফসলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। বোর্ড আরও বলছে, মালচিং বা আচ্ছাদন দিলে আগাছা অনেক কমে; হাতে নিড়ানি কার্যকর হলেও খরচ বেশি; আর ছাঁটাইয়ের পর মূল কাণ্ডের চারপাশে ১৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার জায়গার মাটি ১৫ সেন্টিমিটার গভীর পর্যন্ত আলগা করে দিতে হয়, যা প্রতি দুই-তিন মাস পর পর আবার করতে হয়।

ফুলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ডাল ছাঁটাই। এনএইচবি বলছে, ছাঁটাই গাছের বৃদ্ধি, ফুলের কুঁড়ি তৈরি এবং শেষ পর্যন্ত ফুলের সংখ্যার ওপর প্রভাব ফেলে। মূল প্রতিবেদনের পরামর্শ হলো প্রতি বছর শীতের মাঝামাঝি ডাল ছাঁটাই করা, মাটির উপরিতল থেকে ৩০ সেন্টিমিটার উঁচুতে গাছ কেটে দেওয়া, আর ছাঁটাইয়ের কয়েক দিন পর জমিতে বা টবে সার দেওয়া।

এনএইচবির পদ্ধতি সামান্য আলাদা। ছাঁটাইয়ের আগে সাধারণত সেচ বন্ধ রাখা হয়; মাটি থেকে ৪৫ সেন্টিমিটার উঁচুতে গাছকে তার আগের দৈর্ঘ্যের অর্ধেকে ছেঁটে দেওয়া হয়; সব পাতা ছাড়িয়ে ফেলা হয়; আর রোগজীবাণু যাতে ঢুকতে না পারে, সে জন্য কাটা মাথায় বোর্দো পেস্ট লাগানো হয়। বোর্ড বলছে, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝির মধ্যে ছাঁটাই করলে সবচেয়ে বেশি ডাল বের হয় এবং ফুলের ফলনও সবচেয়ে বেশি হয়।

পোকামাকড় ও রোগবালাই


মূল প্রতিবেদন বলছে, বেলি গাছে ক্ষতিকর পোকা তেমন দেখা যায় না, তবে মাকড়ের আক্রমণ হতে পারে। মাকড়ের আক্রমণে পাতায় সাদা আস্তরণ পড়ে, আক্রান্ত পাতা কুঁকড়ে যায় ও গোল হয়ে পাকিয়ে যায়। এনএইচবির বর্ণনায় মাকড় জুঁইয়ের পাতার নিচের দিকে আক্রমণ করে, পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে। মূল প্রতিবেদন গন্ধক গুঁড়া বা গন্ধকঘটিত মাকড়নাশক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিল; এনএইচবি ০.৩ শতাংশ ভেজানোযোগ্য গন্ধক (ওয়েটেবল সালফার) স্প্রে করার কথা বলেছে।

এনএইচবির নির্দেশিকায় জুঁইয়ের আরও কয়েকটি শত্রুর নাম আছে, যেগুলো চিনে রাখা দরকার:

  • কুঁড়ির পোকা (বাড ওয়ার্ম): কালো মাথার সবুজাভ কীড়া, কচি কুঁড়ির ভেতরে ঢুকে ফুলের অংশ খেয়ে ফেলে।
  • গ্যালারি ওয়ার্ম: ডালের আগার পাতা ও কচি ডগা জাল দিয়ে জড়িয়ে ফেলে।
  • শিকড়ে গিঁট সৃষ্টিকারী কৃমি (রুট-নট নেমাটোড): গাছ মারাত্মকভাবে খাটো হয়ে যায়, ডাল শুকিয়ে যায়, হলুদ পাতা আগেভাগে ঝরে পড়ে। দমনের উপায়ের মধ্যে এনএইচবি হেক্টরে ১ টন নিমের খৈল প্রয়োগের কথা বলেছে।

মূল প্রতিবেদনে বেলির পাতায় হলদে ছিটে ছিটে দাগযুক্ত একটি ছত্রাক রোগের কথাও বলা হয়েছিল। এনএইচবি জুঁইয়ের তিনটি রোগ আরও বিস্তারিত বর্ণনা করেছে। সারকোস্পোরা ও অল্টারনারিয়া ছত্রাকে হওয়া পাতা ঝলসানো রোগে পাতার ওপরে লালচে-বাদামি গোল দাগ পড়ে, যা বর্ষায় দ্রুত ছড়ায়; পাতা কুঁকড়ে কিনারা থেকে শুকাতে থাকে। মরিচা রোগে পাতার নিচে, কচি ডালে ও ফুলের কুঁড়িতে হলদে-কমলা রঙের ফোসকা দেখা দেয়। ঢলে পড়া রোগ জমিতে ছোপ ছোপ আকারে দেখা দেয়, শিকড় কালো হয়ে যায়। এনএইচবির তালিকায় দমনের উপায়ের মধ্যে আছে পাতা ঝলসানো রোগে ০.১ শতাংশ বোর্দো মিশ্রণ; মরিচা রোগে আক্রান্ত ডাল ছাঁটাই, অথবা কপার অক্সিক্লোরাইড (০.৩ শতাংশ) বা ম্যানকোজেব (০.২ শতাংশ); আর ঢলে পড়া রোগে গাছের চারপাশের মাটি ১ শতাংশ বোর্দো মিশ্রণে ভিজিয়ে দেওয়া।

মূল প্রতিবেদনে রাসায়নিক দমনের জন্য যেসব বাণিজ্যিক নাম ছিল, এই লেখায় সেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। এর একটি, কেলথেন, হলো ডাইকোফলের বাণিজ্যিক নাম; ডাইকোফল ডিডিটির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অর্গানোক্লোরিন মাকড়নাশক। ২০১৯ সালের মে মাসে স্টকহোম কনভেনশনের পক্ষগুলো ডাইকোফলকে নির্মূলের তালিকা অ্যানেক্স এ-তে অন্তর্ভুক্ত করে, উৎপাদন বা ব্যবহারের কোনো ছাড় ছাড়াই। কোন মাকড়নাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহারের অনুমোদন আছে, তা উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জেনে নিন এবং মোড়কের নির্দেশনা মেনে চলুন।

ফুল তোলা, ফলন ও পরামর্শ কোথায় পাবেন


এনএইচবি জানায়, রোপণের ছয় মাস পর জুঁই গাছে ফুল আসতে শুরু করে, তবে বাণিজ্যিক ফলন পাওয়া যায় তৃতীয় বছর থেকে। তাজা ফুলের জন্য পুরো বড় হওয়া কিন্তু না-ফোটা কুঁড়ি ভোরবেলা হাতে তোলা হয়, আর তোলা ও পরিবহনের সময় সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হয়।

ফলন নির্ভর করে জাত ও যত্নের ওপর। এনএইচবির উদ্ধৃত টিএনএইউর হিসাবে Jasminum sambac-এর ফুলের ফলন হেক্টরে ৭৩৯ থেকে ৮ হাজার ১২৯ কেজি। একটি জুঁই বাগান ১০ থেকে ১৫ বছর টেকে, আর এনএইচবির পরামর্শ, ১৫ বছর পর পুরো বাগান নতুন করে লাগানো।

বিক্রির আগে কুঁড়ি আকার, গড়ন ও সতেজতা দেখে বাছাই করা হয়। এনএইচবি বলছে, স্থানীয় বাজারের জন্য ভেজা চটের বস্তায় ঢাকা বাঁশের ঝুড়ি এবং দূরের বাজারের জন্য ঢেউতোলা কার্ডবোর্ডের বাক্স ব্যবহার করা হয়।

জুঁই ফুলের মালা, দক্ষিণ ভারতে নারীরা যেমন মালা পরেন। ছবি: Challiyan at ml.wikipedia / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY ৩.০)
জুঁই ফুলের মালা, দক্ষিণ ভারতে নারীরা যেমন মালা পরেন। ছবি: Challiyan at ml.wikipedia / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY ৩.০)

জুঁই চাষ নিয়ে প্রকাশিত গবেষণার বেশির ভাগই ভারতের, তাই বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরুর আগে স্থানীয় পরামর্শ নেওয়া ভালো। মাটি পরীক্ষা, সারের মাত্রা ও অনুমোদিত বালাইনাশক জানতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপজেলা কৃষি অফিসে, আর ফুল ফসল নিয়ে প্রশ্নের জন্য বারির ফুল গবেষণা কেন্দ্রে যোগাযোগ করা যায়।

ছবি: Fanghong / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA ৩.০)

সূত্র: দ্য এগ্রো নিউজ (নিজস্ব প্রতিবেদক), ভারতের ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ড (জুঁই চাষ নির্দেশিকা, তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যসহ), বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, স্টকহোম কনভেনশন সচিবালয়, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফুল

সম্পর্কিত খবর

জৈব

গরুর চারণের আচ্ছাদন ফসলে সূর্যমুখী, সেই মাঠেই ফুল তুলতে আসেন দর্শনার্থী

কানাডার ম্যানিটোবার আর্নেসের দুগিদ পরিবার পুনরুৎপাদনশীল চারণের আচ্ছাদন ফসলে কাটা ফুলের সূর্যমুখী জাত যোগ করেছে। এখন একই মাঠ তাদের গরুর খাবার জোগায়, আবার দর্শনার্থীদের নিজ হাতে ফুল তোলার দিনেও ভিড় টানে।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফুল

আগুনরঙা সুগন্ধি পানামা রোজ: গোলাপ নয়, রঙ্গনের আত্মীয়; কাটিংয়েই চারা

মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে ফোটা কমলা-লাল পানামা রোজ (Rondeletia odorata) পানামা ও কিউবার গুল্ম; অক্টোবর থেকে মে পর্যন্ত ফোটে, ১০-১৫ সেন্টিমিটার ডাল কেটে পুঁতলে তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহে শিকড় গজায়।

সমকাল১৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফুল

পাবনার বিল-ঝিলে লাল-সাদা শাপলার সমারোহ, তবু কমছে শাপলা জন্মানোর জায়গা

গাজনার বিল, ডিকশির বিল, চলনবিলসহ পাবনার জলাশয়ে এখন লাল ও সাদা শাপলা ফুটেছে; তবে জলাশয় ভরাট, অপরিকল্পিত মাছ চাষ আর কীটনাশকে শাপলার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

দেশ রূপান্তর১২ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)