সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

পিরোজপুরের ভাসমান হাটে মৌসুমে ২০ কোটি টাকার বেশি পেয়ারা বিক্রি: কৃষি বিভাগ

২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষে পিরোজপুরের নেছারাবাদের আটঘর কুড়িয়ানায় ডিঙি নৌকায় জমে উঠেছিল পেয়ারার ভাসমান হাট; কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে জেলায় ৭১০ হেক্টরে ৭ হাজার ২১০ মেট্রিক টন পেয়ারা হয়, আর এই হাটে প্রতি মৌসুমে ২০ কোটি টাকার বেশি পেয়ারা কেনাবেচা হয়।

পিরোজপুরের ভাসমান হাটে মৌসুমে ২০ কোটি টাকার বেশি পেয়ারা বিক্রি: কৃষি বিভাগ
ফল

পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানায় ঐতিহ্যবাহী ভাসমান পেয়ারার হাট ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষ দিকে জমে উঠেছিল বলে ২৯ জুলাই জানিয়েছিল জাগো নিউজ ২৪। মৌসুমের প্রতিদিন সকালে খালপাড়ের গ্রামগুলো থেকে চাষিরা ছোট কাঠের ডিঙি নৌকায় পেয়ারা এনে নৌকায় বসেই পাড়ের পাইকারদের কাছে বিক্রি করতেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) পিরোজপুরের উপপরিচালক (খামারবাড়ি) সৌমিত্র সরকার পত্রিকাটিকে বলেছিলেন, জেলায় ৭১০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার আবাদ হয়, উৎপাদন ৭ হাজার ২১০ মেট্রিক টন, আর প্রতি মৌসুমে এই ভাসমান হাটে ২০ কোটি টাকারও বেশি পেয়ারা কেনাবেচা হয়।

জীবনের বড় অংশ পানির ওপর বলে স্থানীয় মানুষ ও দর্শনার্থীরা এই এলাকাকে বাংলার 'ভেনিস' বলে থাকেন। প্রতিবেদনে হাটটিকে স্থানীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে পরিচিত এক দর্শনীয় স্থান বলা হয়েছিল। চাষি ও ব্যবসায়ীরা পত্রিকাটিকে জানিয়েছিলেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণে সে বছর ফলন কিছুটা কম হলেও দাম ভালো ছিল; তাঁরা এলাকায় একটি হিমাগার ও পেয়ারার জেলি কারখানার পুরোনো দাবিও আবার তুলেছিলেন।

ভোরে খাল বেয়ে আসে পেয়ারাভরা ডিঙি


প্রতিবেদন অনুযায়ী, সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানা, আদমকাঠি, জিন্দাকাঠিসহ কয়েকটি গ্রামের চাষিরা খাল বেয়ে পেয়ারাবোঝাই নৌকা নিয়ে আড়তে আসতেন। একে একে নৌকাগুলো পাড়ে ভিড়ত, পাইকারদের সঙ্গে দরদাম চলত, দামে মিললে প্লাস্টিকের ট্রেতে করে পেয়ারা ওপরে তোলা হতো। বিক্রি শেষে চাষিরা ডিঙি বেয়ে বাড়ি ফিরতেন; কেউ কেউ পেয়ারা বেচার টাকায় আগে পরিবারের জন্য কেনাকাটা সেরে নিতেন।

স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছিলেন, হাট থেকে প্রতিদিন শত শত মণ পেয়ারা ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের নানা বাজারে যাচ্ছিল। প্রতি মণ পেয়ারা বিক্রি হচ্ছিল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। পাইকাররা কৃষকের কাছ থেকে পেয়ারা কিনে ট্রাকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন শহরে পাঠাচ্ছিলেন, আর নৌপথে কিছু পেয়ারা যাচ্ছিল ঝালকাঠি, বরিশাল, বানারীপাড়া ও পটুয়াখালীসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, এখানকার পেয়ারা আকারে বড় ও সুস্বাদু বলে বড় শহরগুলোতে এর চাহিদা বেশি।

পাশের জেলা বাগেরহাটের কচুয়া থেকে সূর্য ওঠার আগেই পেয়ারা কিনতে এসেছিলেন ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, 'আমি বাগেরহাটের কচুয়া থানা থেকে আসছি, এই জায়গা দিয়া পেয়ারা কিনে বাজারে বিক্রি করব। এই পেয়ারা বাংলাদেশে আর কোথাও হয় না। এ জায়গা দিয়ে পেয়ারা কিনে বাগেরহাট নিয়া বিক্রি করমু।'

আটঘর কুড়িয়ানার স্থানীয় পেয়ারা ব্যবসায়ী মোস্তফা হাওলাদার বলেন, 'এই জায়গার পেয়ারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় যায়। চট্টগ্রাম, ঢাকা, কুমিল্লা সহ অনেক জায়গায়। এ বছর পেয়ারা একটু কম হইছে, আবহাওয়া খারাপ এই কারণে। তবে দাম ভালো। প্রতি মন পেয়ারা বিক্রি হইতেছে ৬শত থেকে ৮শত টাকায়। আমাগো এখানকার পেয়ারা অনেক মিষ্টি হওয়ায় সারা দেশের মানুষ পছন্দ করে।'

মৌসুমজুড়ে এটি প্রতিদিনের দৃশ্য। প্রথম আলো ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিল, পেয়ারার মৌসুমে নেছারাবাদের আটঘর কুড়িয়ানা, জিন্দাকাঠি, আদমকাঠি ও ধলহার খালে প্রতিদিন ভাসমান হাট বসে এবং দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা পেয়ারা কিনতে আসেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, আটঘর কুড়িয়ানার গ্রামগুলোর খালের তীরে সারি সারি পেয়ারা ও আমড়ার বাগান রয়েছে, আর দুই ফলেরই বেচাকেনা হয় পানির ওপর।

আটঘর কুড়িয়ানা ও নেছারাবাদ: খালের জনপদ


নেছারাবাদ, যা এখনো পুরোনো নাম স্বরূপকাঠি নামেই বেশি পরিচিত, বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার সাতটি উপজেলার একটি। এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী উপজেলার আয়তন ২০০.৩৩ বর্গকিলোমিটার, ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ২ লাখ ১১ হাজার ৩২। নেছারাবাদ থানা গঠিত হয় ১৯০৬ সালে, উপজেলা হয় ১৯৮৩ সালে, আর ১৯৮৫ সালে স্বরূপকাঠি উপজেলার নাম বদলে নেছারাবাদ রাখা হয়। প্রধান নদী স্বরূপকাঠি, কালীগঙ্গা, বাইনাকাঠি ও বেলুয়া; অসংখ্য খালের মধ্যে গাবখান খাল সবচেয়ে পরিচিত। বাংলাপিডিয়া উপজেলার প্রধান ফলের তালিকায় এবং প্রধান রপ্তানি পণ্যের তালিকায় পেয়ারা রেখেছে; রপ্তানি পণ্যের তালিকায় আরও আছে নারকেলের ছোবড়াজাত পণ্য, কলা, নারকেল, পান, সুপারি ও আমড়া।

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী পিরোজপুর জেলার আয়তন ১ হাজার ২৭৭.৮০ বর্গকিলোমিটার, ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ১১ লাখ ১৩ হাজার ২৫৭। জেলা গঠিত হয় ১৯৮৪ সালে; এর উত্তরে গোপালগঞ্জ ও বরিশাল, দক্ষিণে বরগুনা, পূর্বে ঝালকাঠি এবং পশ্চিমে বাগেরহাট। প্রধান নদী বলেশ্বর, স্বরূপকাঠি, কচা ও কালীগঙ্গা। জ্ঞানকোষটির উদ্ধৃত আদমশুমারির তথ্যে জেলার ৫০.৮২ শতাংশ পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস কৃষি।

দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিল, যে খালে হাট বসে সেই আটঘর কুড়িয়ানা খাল সন্ধ্যা নদীর একটি শাখা, আর আটঘর বাজার নেছারাবাদ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে। বর্ষায় খালের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে ভাসমান হাট জমে ওঠে। প্রথম আলো আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের গ্রামগুলোকে পেয়ারাবাগানের জন্য বিখ্যাত বলেছে এবং উল্লেখ করেছে, আটঘর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে পাশের ঝালকাঠি জেলার ভীমরুলিতে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ভাসমান পেয়ারার হাট।

এই বাগানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বেদনার স্মৃতিও। বাংলাপিডিয়া লিখেছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী স্থানীয় দোসরদের সহযোগিতায় উপজেলায় সবচেয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালায় আটঘর কুড়িয়ানার পেয়ারাবাগানে; যুদ্ধের পর কুড়িয়ানা কলেজ প্রাঙ্গণের পেছনের একটি খাদ থেকে প্রায় ৩০০ মানুষের মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়।

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) উপজেলার কুড়িয়ানায় নৌকার হাট, ওপর থেকে তোলা ছবি; এখানে কাঠের নৌকা তৈরি ও বিক্রি হয়। ছবি: Muhammad Amdad Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) উপজেলার কুড়িয়ানায় নৌকার হাট, ওপর থেকে তোলা ছবি; এখানে কাঠের নৌকা তৈরি ও বিক্রি হয়। ছবি: Muhammad Amdad Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সংখ্যায় পিরোজপুর ও দক্ষিণাঞ্চলের পেয়ারা


শিরোনামের হিসাবটি দিয়েছিলেন ডিএইর পিরোজপুরের উপপরিচালক। তিনি বলেন, 'পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদে সব থেকে বেশি পেয়ারার চাষ হচ্ছে। পিরোজপুর জেলায় ৭১০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার আবাদ হচ্ছে। এর উৎপাদন ৭ হাজার ২১০ মেট্রিক টন। প্রতি মৌসুমে ভাসমান এই পেয়ারার হাটে ২০ কোটি টাকারও বেশি পেয়ারা ক্রয়-বিক্রয় হয়।' তিনি জানান, পেয়ারার উৎপাদন বাড়াতে কৃষি অফিস থেকে চাষিদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছিল।

আগের প্রতিবেদনগুলো হাটের চারপাশের বাগান-এলাকার আরও স্পষ্ট ছবি দেয়। স্থানীয় কৃষি বিভাগের বরাতে প্রথম আলো ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিল, আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়ন এবং পাশের জলাবাড়ী ও সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের ২২টি গ্রামের ৬৫৭ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ২৫টি পেয়ারাবাগান রয়েছে, অন্তত ২০০ বছর ধরে এসব গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারার চাষ হচ্ছে, আর সে বছর হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ছিল ১০ টন।

বৃহত্তর অঞ্চলের হিসাবে, দ্য ডেইলি স্টার ২০২৫ সালের ১ আগস্ট ডিএইর বরাতে জানিয়েছিল, বরিশাল বিভাগে ২ হাজার ৭১৮ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হয়, উৎপাদন ২৫ হাজার টন, যার মূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা। নেছারাবাদের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেছিলেন, উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার কৃষক পেয়ারা, আমড়া ও লেবু চাষে যুক্ত। একই প্রতিবেদনে ঝালকাঠি সদরকে এ অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম পেয়ারা উৎপাদনকারী এলাকা বলা হয় এবং প্রধান ভাসমান পাইকারি কেন্দ্র হিসেবে ভীমরুলি, কীর্তিপাশা, শতদশকাঠি, খাজুরিয়া, ডুমুরিয়া, কাঁদাকাঠি, জগদীশপুর, কুড়িয়ানা ও রায়েরহাটের নাম দেওয়া হয়।

পেয়ারাগাছ কতটা ফলন দিতে পারে, সে বিষয়ে বাংলাপিডিয়া বলছে, জাত, বয়স ও চাষের অবস্থা অনুযায়ী পূর্ণবয়স্ক গাছে ৪০০ থেকে ৮০০টি ফল ধরে, হেক্টরপ্রতি ফলন ২০ থেকে ৩০ টন। ২০২৬ সালে আটঘর কুড়িয়ানার চাষিরা বলেছিলেন, আবহাওয়ার কারণে ফলন স্বাভাবিক বছরের চেয়ে কম হয়েছে, তবে দাম ভালো থাকায় ক্ষতির কিছুটা পুষিয়ে যাচ্ছে।

স্বরূপকাঠির পেয়ারা: জাত, গাছ ও মৌসুম


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী পেয়ারা (Psidium guajava) প্রায় ১৫০টি প্রজাতির একটি গণের সদস্য; এর আদি নিবাস গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আমেরিকা, সেখান থেকে এটি গ্রীষ্ম ও উপগ্রীষ্মমণ্ডলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ভারত, মেক্সিকো, ব্রাজিল, পাকিস্তানসহ উৎপাদনকারী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশও আছে। গাছ সবচেয়ে ভালো জন্মে ২৩ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়, যদিও পূর্ণবয়স্ক গাছ ৪৫ ডিগ্রি পর্যন্ত সইতে পারে; জৈব পদার্থসমৃদ্ধ, পানি সরে যায় এমন এঁটেল দোআঁশ থেকে বেলে দোআঁশ মাটি এবং সারা বছরে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ১০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টি এর জন্য উপযুক্ত।

আটঘর কুড়িয়ানার পেয়ারা একটি স্বীকৃত স্থানীয় জাত। বাংলাপিডিয়া স্বরূপকাঠি জাতের বর্ণনায় বলছে, গাছ মাঝারি আকারের, ফল ডিম্বাকার থেকে গোল, খোসা কিছুটা খসখসে, শাঁস সাদা, খুব মিষ্টি ও নরম, বিচি কম। এর তুলনায় কাজী পেয়ারা লম্বাটে বড় জাত, ১৯৮০-র দশকের কাছাকাছি সময়ে থাইল্যান্ড থেকে আনা, গড় ফলের ওজন ৫০০ গ্রাম; আর চট্টগ্রামের কাঞ্চননগর জাতের ফল নাশপাতি আকারের। দেশে চাষ হওয়া অন্য জাতের মধ্যে আছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এফটিআইপি বাউ পেয়ারা সিরিজ এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বারি পেয়ারা ২ ও ৩।

পেয়ারাগাছ ২ থেকে ১০ মিটার উঁচু হয়, শিকড় থাকে মাটির কাছাকাছি। পাতার কক্ষে একটি করে বা ছোট গুচ্ছে ফুল আসে, মৌসুমে ২৫ থেকে ৪৫ দিন ফুল ফোটে, আর ফুল আসার চার থেকে পাঁচ মাস পর ফল তোলা যায়। চারা লাগানোর তিন থেকে চার বছর পর গাছ পুরো ফলন দেয়। বীজের চারায় মাতৃগাছের গুণ থাকে না এবং ফল আসতেও দেরি হয়, তাই সাধারণত গুটি কলম, জোড় কলম বা চোখ কলমে পেয়ারার বংশবিস্তার করা হয়। কাঁচা ফল সবুজ, পাকলে হলুদ হয়; কাঁচা ও পাকা দুইভাবেই পেয়ারা খাওয়া হয়।

পেয়ারা ভিটামিন সি ও পেকটিনের ভালো উৎস। ২০০৮ সালের একটি গবেষণার বরাতে বাংলাপিডিয়া বলছে, প্রতি ১০০ গ্রাম খাওয়ার উপযোগী অংশে প্রায় ২৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে, তবে জাত, মৌসুম ও পাকার মাত্রা অনুযায়ী পুষ্টিমান বদলায়। এই পেকটিনের কারণেই পেয়ারা জ্যাম ও জেলির উপযোগী; ফল থেকে জুস, আচার ও আইসক্রিমও তৈরি হয়।

মৌসুম ছোট। প্রথম আলোর হিসাবে জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত পেয়ারার মৌসুম, আর দ্য ডেইলি স্টার ২০১৯ সালে লিখেছিল, খাল যখন পানিতে ভরা থাকে সেই জুলাই থেকে অক্টোবর হাট দেখার সবচেয়ে ভালো সময়। এ অঞ্চলে পেয়ারা কীভাবে এল, তা নিয়ে স্থানীয় বিবরণ ভিন্ন: প্রথম আলো জানিয়েছিল, জনশ্রুতি আছে ভারতের বিহার রাজ্যের গয়া থেকে কেউ একজন একটি সুমিষ্ট পেয়ারা এনেছিলেন, সে কারণে স্থানীয়দের অনেকে পেয়ারাকে 'গৈয়া' বলেন; আর দ্য ডেইলি স্টার ২০২৫ সালে স্থানীয়দের বরাতে লিখেছিল, দুই শতাব্দীরও বেশি আগে এক কৃষক গয়া থেকে গাছটি এনেছিলেন।

চাষির দিন শুরু হয় ভোরের আগে। পেয়ারাচাষি অনুপম হালদার জাগো নিউজকে বলেন, 'আমার দশ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষ হয়। প্রতিবছর ভালো টাকায় পেয়ারা বিক্রি করি কিন্তু এ বছর পেয়ারা একটু কম হইছে। ফজরের আযানের পরে বাগানে যাইয়া পেয়ারা পারা শুরু করি। পেয়ারা পারতে অনেক সময় লাগে। পেয়ারা পারা শেষ হইলে নৌকায় কইরা বেচতে নিয়ে আসি।'

বৃষ্টির পর বরিশাল অঞ্চলে ফলভরা একটি পেয়ারাগাছ। ছবি: Shafiq ullah / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বৃষ্টির পর বরিশাল অঞ্চলে ফলভরা একটি পেয়ারাগাছ। ছবি: Shafiq ullah / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

খাল থেকে শহরে: পদ্মা সেতু ও পাইকারি বাণিজ্য


প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কয়েক বছর আগেও এখানকার পেয়ারাচাষিরা ন্যায্য দাম পেতেন না; পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এখানকার পেয়ারা ঢাকাসহ কয়েকটি বড় শহরে যেতে শুরু করে এবং নেছারাবাদের পেয়ারার চাহিদা বাড়ে। পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয় ২০২২ সালের ২৫ জুন। ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটির ওপরের তলায় চার লেনের সড়ক, নিচে রেলপথ; এটি মুন্সীগঞ্জের লৌহজংকে শরীয়তপুরের জাজিরার সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং তুলনামূলক কম উন্নত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে সড়ক ও রেলপথে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে জুড়েছে।

প্রথম আলো ২০২৪ সালে জানিয়েছিল, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর থেকে পেয়ারাবাগানে পর্যটক বেড়েছে। পত্রিকাটি যাতায়াতের পথও দিয়েছিল: ঢাকা থেকে নৌ ও সড়কপথে বরিশাল ও ঝালকাঠি; বরিশাল থেকে সড়কপথে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে আটঘর কুড়িয়ানা, বরিশাল নগরের বটতলা থেকে ডিজেলচালিত 'ম্যাজিক গাড়ি'তে যাওয়া যায়; আর আটঘর কুড়িয়ানা ও ভীমরুলির মধ্যে খাল ধরে ট্রলার বা নৌকায় যাতায়াত।

আগের প্রতিবেদনগুলো দেখায়, মৌসুমের সঙ্গে দাম কতটা ওঠানামা করে। ২০১৯ সালে এক স্থানীয় পেয়ারাচাষি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, একসময় ভরা মৌসুমে কেজিপ্রতি আধা টাকায় পেয়ারা বিক্রি হতো, অথচ তখন পর্যটকদের কাছে অন্তত ৮ থেকে ১৫ টাকা কেজি পাওয়া যাচ্ছিল। ২০২৫ সালের আগস্টে পত্রিকাটি জানায়, মৌসুমের শুরুতে কেজিপ্রতি দাম ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কিন্তু ভরা মৌসুমে তা ২ থেকে ৩ টাকায় নেমে যায়; এক কৃষক বলেছিলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা তখন মণপ্রতি ৮০০ টাকা দিচ্ছিলেন, তবে শিগগিরই দাম পড়ে যাবে। দাম এভাবে পড়ে যাওয়ার জন্য চাষিরা দীর্ঘদিন ধরে ফল সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকাকে দায়ী করে আসছেন।

কৃষির হাট থেকে পর্যটনকেন্দ্র


প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রতিবছর পেয়ারার মৌসুমে ছোট ছোট ডিঙিকে ঘিরে কোটি কোটি টাকার অর্থনীতি চলে, আর হাটটি এখন কেবল কেনাবেচার জায়গা নয়। মৌসুমে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের ভিড়ে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। হাটকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন পার্ক ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে উঠেছে, পর্যটকেরা নৌকা ও ট্রলার ভাড়া করে বাগান ঘুরে দেখেন। এতে এলাকায় টাকা এসেছে, স্থানীয় বেকার তরুণদের কাজের সুযোগও তৈরি হয়েছে।

হাটকে কেন্দ্র করে হোটেল ও রেস্তোরাঁও গড়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভীমরুলিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভাবীর হোটেল নামে একটি খাবারের হোটেল, যেখানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুরা সরষে ইলিশ, ইলিশ ভর্তা, চিংড়ি ভুনা, হাঁসের মাংসসহ নানা পদ খান।

দর্শনার্থীরা সমস্যার কথাও বলেছিলেন। তাঁরা পত্রিকাটিকে জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা, মানসম্মত গেস্ট হাউস ও রেস্তোরাঁসহ নানা বিষয়ে নজর বাড়ানো দরকার, এবং উপজেলা প্রশাসনের সঠিক নজরদারিতে পর্যটনকেন্দ্রটি আরও উন্নত হতে পারে। পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার কিঞ্জাল বলেন, 'প্রতিবছর পেয়ারার মৌসুমে ভাসমান পেয়ারার হাট দেখতে আসি। আমার কাছে এ হাট দেখতে অনেক ভালো লাগে। কী আর বলবো, দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়। ছোট ছোট নৌকায় করে খালের ভেতর দিয়ে পেয়ারাগুলো যখন নিয়ে আসে, অসাধারণ লাগে। এরকম সৌন্দর্য আর কোথাও দেখা যায় না। তবে স্থানীয় প্রশাসন যদি পর্যটকের কথা মাথায় রেখে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গেস্ট হাউস এবং রেস্টুরেন্ট সহ অন্যান্য বিষয়ে নজর দেয়, তাহলে আরও বেশি পর্যটক হবে।'

২০২৬ সালের আগেই বহু বছর ধরে এখানে পর্যটন বাড়ছিল। দ্য ডেইলি স্টার ২০১৯ সালের আগস্টে জানিয়েছিল, ভীমরুলি ও আটঘর কুড়িয়ানার ২০০ বছরের পুরোনো হাট দুটি ৩০টি গ্রামজুড়ে ছড়ানো বাগানের ভেতর দিয়ে খালের জালে যুক্ত, ভাসমান হাট দুপুরের দিকে ভাঙে, আর শুক্রবারে কয়েক শ নৌকাভর্তি দর্শনার্থীতে খাল ভরে যায়। প্রথম আলো ২০২৪ সালে লিখেছিল, আটঘর থেকে ভীমরুলি যাওয়ার নৌপথের পাশে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কয়েকটি 'পেয়ারা পার্ক' ও পিকনিক স্পট গড়ে উঠেছে, বিভিন্ন সময়ে ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতেরা বাগান ঘুরে গেছেন, আর স্থানীয় লোকজন পর্যটকদের খালে প্লাস্টিক ও চিপসের প্যাকেট না ফেলার আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসক তখন পত্রিকাটিকে বলেছিলেন, আটঘরে একটি চারতলা অতিথিশালা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে, পর্যটকদের জন্য দুটি ওয়াশরুম করা হয়েছে, আর বাগানের ভেতরের ছোট খালগুলো খননের পরিকল্পনা আছে।

২০২৫ সালে স্থানীয় একটি ট্যুর অপারেটর সমিতির সম্পাদক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার দর্শনার্থী আসেন; পত্রিকাটির হিসাবে ভীমরুলিতে তখন ৮ থেকে ১০টি ভাসমান হোটেল, ১০০টির বেশি ট্রলার এবং ২০ থেকে ২৫টি পর্যটক নৌকা ছিল, নৌকার ভাড়া ঘণ্টায় প্রায় ৩০০ টাকা আর ট্রলারের ৫০০ টাকা। একই প্রতিবেদনে এক ট্যুর অপারেটর অভিযোগ করেছিলেন, উচ্চ শব্দের গানবাজনায় খালের শান্ত পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

আটঘর কুড়িয়ানা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে পাশের ঝালকাঠি জেলার ভীমরুলি ভাসমান পেয়ারার হাটে নৌকা। ছবি: Lonely Explorer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
আটঘর কুড়িয়ানা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে পাশের ঝালকাঠি জেলার ভীমরুলি ভাসমান পেয়ারার হাটে নৌকা। ছবি: Lonely Explorer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

হাটের পেছনের নৌকা


নৌকা ছাড়া এই বাণিজ্যের কিছুই চলে না, আর আটঘরে নৌকারও নিজস্ব হাট আছে। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে জানিয়েছিল, স্থানীয়দের ভাষ্যে শতবর্ষী একটি ডিঙিনৌকার হাট প্রতি শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আটঘর কুড়িয়ানা খালে বসে, এবং এটি দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় নৌকার হাট হিসেবে পরিচিত। পত্রিকাটি লিখেছিল, বরিশাল, পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে যাতায়াত ও মালামাল পরিবহনে নৌকা এখনো জনপ্রিয়; খালের তীরে পেয়ারা ও আমড়ার বাগান, ফল তুলতে ও বইতে নৌকা লাগে, জেলেদেরও নৌকা দরকার, আর প্রায় প্রতিটি পরিবারেরই নিজস্ব নৌকা আছে।

আশপাশের চামি, ডুবি, একতাসহ কয়েকটি গ্রামের কয়েক শ পরিবার নৌকা তৈরি করে। ২০২২ সালের ওই হাটে আকারভেদে একেকটি নৌকা ২ হাজার ২০০ থেকে ১০ হাজার টাকায় এবং বৈঠা ১৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল; একজন কারিগর জানিয়েছিলেন, প্রতি হাটে সাধারণত ৫০ থেকে ৬০টি নৌকা বিক্রি হয়, পেয়ারার মৌসুমে শতাধিক। তিন জেলার নৌকা ব্যবসায়ীরা কিনতে আসেন, আর আটঘর কুড়িয়ানা ও ভীমরুলির ভাসমান পেয়ারার হাট দেখতে আসা পর্যটকেরাও নৌকার হাট ঘুরে যান।

হিমাগার ও জেলি কারখানার দাবি


স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা জাগো নিউজকে বলেছিলেন, পেয়ারার জেলি কারখানা ও হিমাগার হলে হাট আরও সমৃদ্ধ হবে, পেয়ারার মান ঠিক থাকবে এবং চাষিরা ন্যায্য দাম পাবেন। পেয়ারাচাষি অনুপম হালদার বলেন, 'সরকার যদি আমাগো একটা কোল্ড স্টোরেজ, আরেকটা জেলিকারখানা কইরা দিত তাহলে আমরা আরও বেশি দাম পাইতাম।' সংরক্ষণের বিষয়ে একমত ছিলেন ডিএইর উপপরিচালকও: 'এখানে কৃষকদের জন্য একটি মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হলে পেয়ারা সংরক্ষণ করা যাবে। এতে কৃষকরা ন্যায্য বাজার মূল্য পাবে।'

দাবিটি নতুন নয়। ২০২৫ সালে ভীমরুলি ও নেছারাবাদ এলাকার চাষিরা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, অপচয় কমাতে ও দাম স্থিতিশীল রাখতে তাঁরা হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা চান। পত্রিকাটি জানায়, পেয়ারা দ্রুত পেকে যায় এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই বলে অনেক কৃষক আমড়া ও লেবুর দিকে ঝুঁকছেন, পুরোনো পেয়ারাবাগানকে মিশ্র বাগানে রূপ দিচ্ছেন। ডিএইর একজন অতিরিক্ত পরিচালক পত্রিকাটিকে বলেছিলেন, অধিদপ্তর বারির একটি জাত চাষে উৎসাহ দিচ্ছে, যদিও কৃষকেরা স্থানীয় পেয়ারাই পছন্দ করেন, এবং জ্যাম ও জেলি প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রকল্পের পরিকল্পনা চলছে।

এ ধরনের প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য পেয়ারা উপযোগী ফল: বাংলাপিডিয়া পেয়ারা থেকে তৈরি পণ্যের মধ্যে জ্যাম, জেলি, জুস, আচার ও আইসক্রিমের কথা বলেছে এবং জানিয়েছে, বেশি পেকটিন থাকার কারণেই জেলি জমাট বাঁধে। এফটিআইপি বাউ পেয়ারা ৬ নামের একটি জাত বেশি পেকটিনের জন্যই জ্যাম ও জেলি তৈরির উদ্দেশ্যে হাওয়াই থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।

হাট ঘিরে প্রশাসনের পরিকল্পনা


নেছারাবাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত জাগো নিউজকে বলেন, 'নেছারাবাদ উপজেলার ভাসমান পেয়ারার বাজারকে কেন্দ্র করে আমরা একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। এই বিজ্ঞপ্তিতে পর্যটক ও স্থানীয় সহ সবার যা যা করণীয় সে সম্পর্কে আমরা অবহিত করেছি।'

তিনি আরও বলেন, 'উপজেলার পুরো পর্যটন ব্যবস্থা নিয়ে আমরা একটি পরিকল্পনা করেছি। কীভাবে এই পর্যটন কেন্দ্রকে আরও সুন্দর করা যায়। পর্যটন ব্যবস্থাপনা কমিটি রয়েছে। এ কমিটির মাধ্যমে কীভাবে পর্যটকদের থাকা-খাওয়া এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, এ ব্যাপারেও চিন্তা করা হচ্ছে। এছাড়াও কীভাবে বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা যায়, সে বিষয়েও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।'

ছবি: Muktar Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (২৯ জুলাই ২০২৬), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (পিরোজপুর), বাংলাপিডিয়া (এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ), প্রথম আলো (২ সেপ্টেম্বর ২০২৪), দ্য ডেইলি স্টার (২৮ আগস্ট ২০১৯ ও ১ আগস্ট ২০২৫), দ্য ডেইলি স্টার বাংলা (১১ সেপ্টেম্বর ২০২২)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)