চট্টগ্রাম নগরীর বিমানবন্দর থেকে মোহরা পর্যন্ত সড়কের মিড আইল্যান্ড বা সড়কদ্বীপ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ ও সবুজ গাছে সাজানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। জাগো নিউজ ২৪ জানায়, ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই, বুধবার, তিনি আগ্রাবাদ থেকে লালখানবাজার সড়কে চসিকের বৃক্ষায়ন কাজ সরেজমিনে তদারকি করেন। এ সময় চসিকের বন ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন আলী জয় মেয়রকে নগরীর সার্বিক সবুজায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি জানান।
সড়কদ্বীপে কোন কোন গাছ
চসিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেওয়ানহাট থেকে বারিক বিল্ডিংয়ের মধ্যবর্তী সড়কদ্বীপে তখন ২৬ প্রজাতির ৬৫০০ চারা লাগানো হচ্ছিল। এর মধ্যে ছিল জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, কামিনী, কাঞ্চন, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ ও শিউলি; চসিকের ভাষ্যে এগুলোর মধ্যে প্রায় ১০টি প্রজাতি বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় জাতের গাছ। টাইগারপাস থেকে লালখানবাজার অংশে লাগানো হচ্ছিল পাতাবাহারসহ বিভিন্ন শোভাবর্ধক গাছ। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানবন্দর সড়কে এর আগেই বিভিন্ন ফুলগাছ লাগানো হয়েছে, আর চারাগুলোতে প্রতিদিন পানি দেওয়া ও আগাছা পরিষ্কারের মতো রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তালিকার কয়েকটি গাছ বাংলাদেশের মানুষের খুব চেনা। জারুল দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাতাঝরা গাছ; এর ফুল উজ্জ্বল গোলাপি থেকে হালকা বেগুনি রঙের। সোনালু ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গাছ; বসন্তের শেষ থেকে গ্রীষ্মের শুরুতে লম্বা ঝুলন্ত মঞ্জরিতে হলুদ ফুলে ডাল ভরে যায়, তাই উষ্ণ অঞ্চলে এটি শোভাবর্ধক গাছ হিসেবে ব্যাপকভাবে লাগানো হয়। শিউলির সুগন্ধি সাদা ফুলের মাঝখানটা কমলা-লাল; ফুল সন্ধ্যায় ফোটে, ভোরে ঝরে পড়ে।


নগরজুড়ে ১০ লাখ গাছের কর্মসূচি
তদারকির সময় মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় এগিয়ে আসে, তাহলে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’
মেয়রের বক্তব্য অনুযায়ী, এ লক্ষ্যের সঙ্গে মিল রেখে চসিকের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় পরিবেশের ভারসাম্য ফেরাতে নগরীতে ১০ লাখ গাছ রোপণ করা হচ্ছিল। পরিকল্পনা ছিল মোহরা থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সব মিড আইল্যান্ড ফুল ও সবুজে ভরিয়ে তোলা, আর সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নগরীর খালি জায়গা, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা।
কর্মসূচিটি তখন নতুন ছিল না। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, ২০২৬ সালের ৭ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে টাইগারপাসের বিন্নাঘাস প্রকল্প এলাকায় মাসব্যাপী বৃক্ষ পরিচর্যা কর্মসূচি উদ্বোধন করে মেয়র ১০ লাখ গাছ রোপণের কথা জানান। সেদিন তিনি কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সব মিড আইল্যান্ড ফুল ও সবুজে ভরিয়ে তোলার কথা বলেছিলেন এবং দেওয়ানহাট-বারিক বিল্ডিং সড়কদ্বীপের একই ২৬ প্রজাতি ও ৬৫০০ চারার তথ্য দিয়েছিলেন। ১৯ জুলাই বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক নিয়ে এক সভাতেও তিনি ১০ লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।

জাতীয় কর্মসূচি ও সড়কের প্রেক্ষাপট
মেয়র যে জাতীয় লক্ষ্যের কথা বলেন, সেটি সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি। ঢাকা ট্রিবিউন ও ইউএনবি জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ সালের ১৩ জুন কক্সবাজারের দুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জন চারা রোপণ করে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করেন; প্রথম ধাপে ৪৯ জেলার ১৪৯ উপজেলায় দেড় কোটি চারা লাগানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়। ৯ জুলাই তিনি ঢাকায় জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২৬ উদ্বোধন করেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর; এর আওতায় ৪১টি ওয়ার্ড। সড়কটির এক প্রান্তের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নগরীর পতেঙ্গা এলাকায়, জিইসি মোড় থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে; বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পরিচালিত এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
ছবি: Moheen Reeyad / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (২৯ জুলাই ২০২৬), বাসস (৭ জুন ও ১৯ জুলাই ২০২৬), ঢাকা টাইমস (৭ জুন ২০২৬), ঢাকা ট্রিবিউন ও ইউএনবি (১৩ জুন ২০২৬), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (৯ জুলাই ২০২৬), উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)