সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

পশ্চিমবঙ্গে গরু কেনাবেচায় কড়াকড়ি, ঈদের আগে বিপাকে হিন্দু খামারিরা

২০২৬ সালের ঈদুল আজহার আগে পশ্চিমবঙ্গে ১৯৫০ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের পর গরুর হাটে ক্রেতা কমে যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঘটকপুকুরের হিন্দু খামারিরা ঋণের চাপের কথা জানিয়ে ঈদের আগে কয়েক দিনের ছাড় চান।

পশ্চিমবঙ্গে গরু কেনাবেচায় কড়াকড়ি, ঈদের আগে বিপাকে হিন্দু খামারিরা
লাইভস্টক

২০২৬ সালের মে মাসে ঈদুল আজহার ঠিক আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গরু কেনাবেচা প্রায় থমকে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন রাজ্যের বহু হিন্দু খামারি ও পশু ব্যবসায়ী। রাজ্য সরকার ১৯৫০ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়ার পর হাটে ক্রেতা কমে যায়। ঈদের মৌসুমে বিক্রির জন্য সারা বছর ধরে পালন করা গরু বিক্রি করতে না পারলে ঋণের দায়ে বড় বিপদে পড়বেন বলে আশঙ্কার কথা জানান তাঁরা। ২৬ মে জাগো নিউজ ২৪ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ঘটকপুকুরের খামারিদের এই অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরে।

খামারিরা জানান, তাঁদের অনেকে সারা বছর এই অপেক্ষায় থাকেন যে ঈদের মৌসুমে গরু বিক্রি করে কিছুটা লাভ হবে। ২০২৬ সালের ৪ মে রাজ্যে প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার গঠিত হয়। এর কয়েক দিনের মধ্যে গরু ও মহিষ জবাইয়ের ওপর পুরোনো আইনের শর্তগুলো কড়াভাবে মানতে বলা হয়। খামারিদের অভিযোগ, এতে কোরবানির জন্য গরু কেনাবেচা আটকে গেছে, আর তাঁরা লোকসানের মুখে পড়েছেন।

ঘটকপুকুরের খামারিদের দাবি: ঈদের আগে কয়েক দিনের ছাড়


ঘটকপুকুরের হিন্দু গরু খামারিরা রাজ্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান, আগামী দু-তিন দিনের জন্য আইনটি কিছুটা শিথিল করা হোক। তাঁদের দাবি ছিল, বাড়িতে যে গরুগুলো রয়েছে, সেগুলো যেন এই ঈদে বিক্রি করা যায়। ঈদের পরে আইনটি স্থায়ীভাবে কার্যকর করা হোক, তাতে তাঁদের আপত্তি নেই বলেও জানান তাঁরা।

প্রতিবেদনে এক বয়স্ক নারী খামারি বলেন, নতুন সরকার আসার পর হঠাৎ করে এতটা কষ্ট দেওয়া উচিত হয়নি। তাঁর ভাষায়, "৩৫ বছর ধরে আমরা ব্যবসা করছি। এজন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা ধার নিতে হয়েছে। নতুন সরকারের উচিত ছিল নির্দিষ্ট একটা সময় দেওয়া। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে, তারা তো ছাড় দেবে না। তাছাড়া পরিবারের সদস্যরাও রয়েছে, তাদের কী হবে?"

আরেক গরু খামারি অরূপ দাস বলেন, এলাকায় মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ বাস করেন। তিনি বলেন, "হিন্দু-মুসলিম নিয়ে আমাদের কোনো অসুবিধা হয় না। এই সম্পর্কগুলো ভাঙছে রাজনৈতিক দল। এতদিন তো ভালোই ছিল, এই সরকার এসে সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। মানুষের কষ্ট কি তারা বুঝতে পারছে?"

ক্রেতাদের দিকেও ছিল একই অনিশ্চয়তা। করিম মোল্লা নামে এক মুসলিম ক্রেতা জানান, এবার তাঁরা গরু কোরবানি দেবেন না, কারণ আশপাশের সব গরুর হাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "সবাই বলছে, এসব নিয়ে তর্ক-বিতর্কে না যেতে। প্রতি বছর আমরা গরু কোরবানি দেই, এবার ছাগল কোরবানি দেবো।"

ঘটকপুকুর ও ভাঙড়: কলকাতার উপকণ্ঠের কৃষিপ্রধান জনপদ


ঘটকপুকুর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুর মহকুমার ভাঙড়-১ সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকের একটি বড় গ্রাম। ২০১১ সালের ভারতীয় জনশুমারিতে গ্রামটির জনসংখ্যা ছিল ৫,০৪৮। ভাঙড়-১ ব্লকের আয়তন ১৫৩.৬২ বর্গকিলোমিটার, ২০১১ সালে এর জনসংখ্যা ছিল ২,৪৯,১৭০। সেই জনশুমারি অনুযায়ী ব্লকের ৬৭.৩৮ শতাংশ মানুষ মুসলিম এবং ৩২.৩৮ শতাংশ হিন্দু। অর্থাৎ এখানে দুই সম্প্রদায় পাশাপাশি বাস করে, যা অরূপ দাসের কথাতেও উঠে এসেছে।

ভাঙড়-১ ব্লকে ধান প্রধান খাদ্যশস্য, আর পাট প্রধান অর্থকরী ফসল। আমন, আউশ ও বোরো ধানের পাশাপাশি এখানে গম, আলু, ডাল ও তেলবীজের চাষ হয়। পাশের ভাঙড়-২ ব্লকও বারুইপুর মহকুমার অংশ। এর আয়তন ১৬২.০৪ বর্গকিলোমিটার এবং ২০১১ সালে জনসংখ্যা ছিল ২,৪৬,৭০৮, যার সবাই গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা। এই ব্লকে মুসলিম ৭০.৪৯ শতাংশ ও হিন্দু ২৯.২৬ শতাংশ। এখানকার বামুনিয়া গ্রাম এবং পোলেরহাট ও বামনঘাটা পঞ্চায়েত এলাকার কথা ২০২৬ সালের মে মাসের গরু-সংকটের খবরে বারবার এসেছে।

ভাঙড় যে জেলায়, সেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার সদর আলিপুর। জেলার আয়তন ৯,৯৬০ বর্গকিলোমিটার, ২০১১ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ৮১,৬১,৯৬১ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে ঘনত্ব ৮১৯ জন। জেলার জনসংখ্যার ৬৩.২ শতাংশ হিন্দু ও ৩৫.৬ শতাংশ মুসলিম। জেলাটি পাঁচটি মহকুমা ও ২৯টি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে বিভক্ত। এর এক প্রান্তে কলকাতার শহুরে উপকণ্ঠ, অন্য প্রান্তে সুন্দরবনের নদীঘেরা প্রত্যন্ত গ্রাম। কৃষি, শিল্প ও মাছচাষ, তিনটিই এই জেলার অর্থনীতির বড় ভিত্তি।

গঙ্গা বদ্বীপের সুন্দরবন অঞ্চলের একটি দ্বীপে গোয়ালঘর ও গরু, ভারত। ছবি: Arne Hückelheim / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
গঙ্গা বদ্বীপের সুন্দরবন অঞ্চলের একটি দ্বীপে গোয়ালঘর ও গরু, ভারত। ছবি: Arne Hückelheim / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

১৩ মের সরকারি নির্দেশনায় কী ছিল


রাজ্যে সরকার গঠনের পর প্রথম দিকের পদক্ষেপগুলোর একটি হিসেবে ২০২৬ সালের ১৩ মে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০-এর বিধানগুলো কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। ভারতীয় সাময়িকী আউটলুক ও সংবাদ সাইট স্ক্রল জানায়, নির্দেশনা অনুযায়ী ষাঁড়, বলদ, গাভি, বাছুর ও মহিষ জবাইয়ের আগে 'জবাইয়ের উপযুক্ত' বলে সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক। পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সরকারি পশু চিকিৎসক যৌথভাবে এই সনদ দেবেন।

সনদ পাওয়া যাবে কেবল দুই ধরনের পশুর জন্য। প্রথমত, যে পশুর বয়স ১৪ বছরের বেশি এবং যেটি কাজ বা প্রজননের অনুপযুক্ত। দ্বিতীয়ত, বয়স, আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা দুরারোগ্য রোগের কারণে যে পশু স্থায়ীভাবে কাজ বা প্রজননে অক্ষম হয়ে পড়েছে। জবাই করা যাবে কেবল পৌরসভার কসাইখানা বা নির্ধারিত স্থানে; খোলা প্রকাশ্য স্থানে জবাই নিষিদ্ধ। নির্দেশনা কার্যকরে পরিদর্শনে যাওয়া কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়া যাবে না বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

নিউজগ্রামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কসাই ও মাংস ব্যবসায়ীদের বৈধ লাইসেন্স রাখতে হবে এবং বাজারে বিক্রি হওয়া মাংসে সরকারি সনদ থাকতে হবে। আইন ভাঙলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে, আর অপরাধগুলো আমলযোগ্য। আউটলুক জানায়, কলকাতা পৌর করপোরেশন শহরে পাঁচটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানা চিহ্নিত করে এবং মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে বৈধ কসাইখানায় জবাইয়ের সরকারি সিলমোহর বাধ্যতামূলক করা হয়।

স্বরাজ্য পত্রিকা ১৪ মে জানায়, সরকার এই নির্দেশনার ভিত্তি হিসেবে ১৯৫০ সালের আইন এবং কলকাতা হাইকোর্টের ২০১৮ সালের একটি আদেশের কথা উল্লেখ করেছে। আউটলুকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত হাইকোর্টে একাধিক মামলায় আবেদনকারীরা আইনটি কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জানিয়েছিলেন, আর ২০২৩ সালের এক রায়ে বড় উৎসবের আগে 'ভিজিল্যান্স টিম' গঠন ও গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশ আসে। আইনজীবী অর্ক মৈত্র আউটলুককে বলেন, আইনটি ব্যক্তিগত ও প্রকাশ্য জায়গার মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না; ফলে নিজের বাড়িতে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে জবাইও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

হাটে ক্রেতা নেই, খামারিদের ঘাড়ে ঋণ


নির্দেশনা জারির সময় ঈদ ছিল মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ফেডারেলের বরাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ১৯ মে জানায়, এই পদক্ষেপে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমের মতো জেলার ক্ষুদ্র খামারিদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এসব এলাকায় বহু খামারি প্রতি বছর ঈদের মৌসুমে বয়স্ক বা দুধ দেওয়া বন্ধ করা গরু বিক্রি করেন এবং সেই টাকায় নতুন গবাদিপশু কেনেন।

ভাঙড়ের বামনঘাটা এলাকার এক খামারি দ্য ফেডারেলকে বলেন, "গবাদি পশুর অর্থনীতি সম্পর্কে সরকারের কোনো ধারণাই নেই।" তাঁর হিসাবে প্রতিটি পশুর পেছনে দিনে ২০০ থেকে ৩০০ রুপি খরচ হয়, আর একটি গরু সাধারণত ১৪ বছর পর্যন্ত বাঁচেই না। বামুনিয়া গ্রামের আরেক খামারি জানান, এই ব্যবসার জন্য তাঁরা প্রায় ১৫ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছেন। দুধ দেওয়া বন্ধ করা গরুকে ছয়-সাত মাস ভালোভাবে খাইয়ে ঈদের হাটের জন্য তৈরি করা হয়। তিনি বলেন, "এখন ভয়ে কেউ গরু কিনতে আসছে না।" একই গ্রামের আরেকজন জানান, তাঁর প্রায় ২০টি গরু বিক্রির জন্য তৈরি ছিল, আর যাঁরা অগ্রিম টাকা দিয়েছিলেন, তাঁরা এখন টাকা ফেরত চাইছেন। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বয়স, আকার ও শারীরিক অবস্থাভেদে ঈদের জন্য তৈরি একেকটি গরু ২ লাখ থেকে ৫ লাখ রুপিতে বিক্রি হতে পারত।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনের বরাতে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা ২১ মে জানায়, যে পোলেরহাট গরুর হাটে সাধারণত দিনে প্রায় ২,০০০ গরু কেনাবেচা হয়, সেখানে তখন দেখা যাচ্ছিল মাত্র ২০ থেকে ২৫টি গরু। কয়েক দিনের মধ্যে কলকাতায় গরুর মাংসের দাম প্রতি কেজি ২৮০ রুপি থেকে বেড়ে ৬০০ রুপিতে ওঠে, আর ট্যাংরার সরকারি কসাইখানা দুই দিন বন্ধ থাকে। এক খামারি জানান, ১০টি গরুর মধ্যে ৯টি বিক্রি করে ঋণ শোধের আশায় তিনি ৫ লাখ রুপি ধার করেছিলেন; এখন শুধু গোখাদ্যেই তাঁর দিনে ৫০০ রুপি খরচ হচ্ছে। ২২টি গরু ও ৭ লাখ রুপি ঋণ থাকা আরেক খামারি বলেন, তাঁরা দুধ সরবরাহকারী খামারি, আর হঠাৎ করে ১৯৫০ সালের যে আইন সামনে এল, তার কথা তিনি আগে কখনো শোনেননি।

দৈনিক ইত্তেফাক ২৫ মে ভাঙড়ের কয়েকজন হিন্দু গরু ব্যবসায়ীর কথা তুলে ধরে। একজন জানান, সব জমি-জায়গা আর সোনা বন্ধক রেখে ঋণ নিয়ে তিনি ব্যবসা চালান; যাঁরা গরু কিনেছিলেন, তাঁরা এখন গরু নিতে চাইছেন না, টাকা ফেরত চাইছেন। আরেকজন বলেন, "অন্তত এবারটা ছাড় দিত। তারপর ব্যবসা ছেড়ে দিতাম।" প্রতিবেদনটি জানায়, খামারি ছাড়াও খড়-ভুসি সরবরাহকারী, পশু চিকিৎসক, চামড়া ব্যবসায়ী এবং ছুরি-বটি তৈরির কারিগরদের মতো বহু দরিদ্র পরিবারের জীবিকাও এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল।

দ্য মূকনায়ক ১৯ মে জানায়, আইনি জটিলতার ভয়ে মুসলিম ক্রেতারা গরু কেনা থেকে বিরত থাকায় মৌসুমি বেচাকেনার চক্রটি ভেঙে পড়ে। স্থানীয় হাটে শত শত গরু অবিক্রীত থেকে যায় এবং কলকাতার কিছু প্রতিষ্ঠানে গরুর মাংসের ঘাটতি দেখা দেয়। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, সমালোচকেরা এই সময় নির্বাচনকে মুসলিমদের ধর্মীয় চর্চাকে লক্ষ্য করে নেওয়া রাজনৈতিক পদক্ষেপ বলে অভিযোগ করেন, অন্যদিকে বিজেপি সমর্থকেরা একে পশুকল্যাণ ও গোরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রয়োগ হিসেবে দেখেন।

ঈদুল আজহার আগে বাংলাদেশের একটি কোরবানির পশুর হাট; প্রতিবেদনের পটভূমি হিসেবে ব্যবহৃত, পশ্চিমবঙ্গের হাট নয়। ছবি: Md Sallim Mondal Rajon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঈদুল আজহার আগে বাংলাদেশের একটি কোরবানির পশুর হাট; প্রতিবেদনের পটভূমি হিসেবে ব্যবহৃত, পশ্চিমবঙ্গের হাট নয়। ছবি: Md Sallim Mondal Rajon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

আদালতে মামলা ও সরকারের অবস্থান


নির্দেশনার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক রিট আবেদন জমা পড়ে। স্ক্রলের তথ্য অনুযায়ী, কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) লিবারেশন তাদের আবেদনে এই পদক্ষেপকে মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং গরু ব্যবসায় যুক্ত কৃষকদের জীবিকার ওপর 'আঘাত' বলে অভিযোগ করে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক আখরুজ্জামান এবং মুসলিম সংগঠন ও গরু ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকটি সংগঠনও আবেদন করে। তাদের যুক্তি ছিল, রাজ্য সরকার আইনের ১২ ধারায় ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ছাড় না দেওয়ায় ঈদে কোরবানি কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে আরেকটি আবেদনে নির্দেশনাটি আরও কঠোর করতে দুটি শর্ত যোগ করার আর্জি জানানো হয়।

২১ মে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশনাটি স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানায়। আইনি সংবাদ সাইট লাইভ ল জানায়, আদালত বলেছে ১৩ মের নির্দেশনা হাইকোর্টের আগের নির্দেশেরই বাস্তবায়ন। ৭৬ বছর ধরে চালু একটি আইনের সাংবিধানিক বৈধতার পক্ষে অনুমান কাজ করে বলেও আদালত মন্তব্য করে। একই সঙ্গে বেঞ্চ বলেছে, রাজ্যজুড়ে সনদ দেওয়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং জবাইয়ের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা রাজ্যের জন্য বৈধ হবে। কোনো ঘাটতি পাওয়া গেলে তা দ্রুত দূর করা হবে বলে আদালত আশা প্রকাশ করে।

প্রকাশ্য স্থানে জবাই নিষিদ্ধ এবং গরু কোরবানি ইসলামের ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নয়, এই দুটি শর্ত নির্দেশনায় যোগ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে রাজ্যকে নির্দেশ দেয় আদালত। এ ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের আগের রায়ের কথা উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি আদালত রাজ্য সরকারকে আদেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে বলে, ঈদ উপলক্ষে আইনের ১২ ধারায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে কি না। রাজ্যও আদালতে স্বীকার করে যে ১২ ধারা ধর্মীয় উদ্দেশ্যে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা সরকারকে দেয়।

সরকারি দলের পক্ষে বিজেপির সাংসদ রাহুল সিনহা এই প্রয়োগকে 'মহৎ উদ্দেশ্য' বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন, বৃহত্তর কল্যাণের জন্য কিছু কঠিন মানিয়ে নেওয়া প্রয়োজন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাতে জানায়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিঙ্গলগঞ্জে গবাদিপশুবোঝাই একটি গাড়ি আটকে বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়ক রেখা পাত্র বলেন, "আমাদের সরকার নির্দেশ দিয়েছে, ১৪ বছরের কম বয়সী গরু জবাইয়ের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে।" জবাইয়ের যোগ্যতা প্রমাণে তিনি গরুর 'জন্মসনদ' চাইলে বিতর্ক আরও বাড়ে।

এর মধ্যেই ২৩ মে রাজ্যের অর্থ দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি দুই দিন থেকে কমিয়ে এক দিন করা হয়। নিউজগ্রাম জানায়, আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ঘোষিত ২৬ ও ২৭ মের ছুটি বাতিল করে কেবল ২৮ মে ছুটি রাখা হয়। এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা বলেন, সরকারের বার্তা হলো, অতিরিক্ত ছুটির সংস্কৃতির কারণে সরকারি কাজ ও জনসেবা যেন ব্যাহত না হয়।

কলকাতায় কলকাতা হাইকোর্টের ভবন। ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
কলকাতায় কলকাতা হাইকোর্টের ভবন। ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলের প্রতিক্রিয়া


বিরোধী দলগুলো সরকারের নীতির সমালোচনা করে। দ্য ফেডারেলের বরাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানায়, ভাঙড়ের ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী দাবি করেন, গবাদিপশু পালনের সঙ্গে জড়িত মানুষের ৮০ শতাংশই অমুসলিম। তাঁর যুক্তি, কোরবানির জন্য মুসলিমদের হাতে ছাগল বা অন্য পশুর বিকল্প আছে, কিন্তু খামারিরা প্রতিটি গরুর পেছনে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার রুপি বিনিয়োগ করেছেন। তিনি সরকারকে আইনের ১২ ধারা প্রয়োগের আহ্বান জানান।

সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম অভিযোগ করেন, গোরক্ষার নামে 'অতি-উৎসাহী' সমর্থকদের গরু বাজেয়াপ্ত করা, হাটে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি রাজ্যজুড়ে ভীতি ছড়াচ্ছে। কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে বলেন, নির্দেশনাটি মুর্শিদাবাদের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলায় বিভ্রান্তি, ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)-এর সাধারণ সম্পাদক প্রভাস ঘোষ বলেন, এই বিধিনিষেধ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ধর্মীয় রীতি কার্যত বন্ধ করে দেবে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নওশাদ সিদ্দিকী ও অধীর চৌধুরী ধাপে ধাপে প্রয়োগ এবং আগে অবকাঠামো তৈরির আহ্বান জানান।

মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের একটি অংশ ভিন্ন পথে সমাধানের কথা বলেন। ইত্তেফাক জানায়, কলকাতার নাখোদা মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ শফিক কাসেমি বলেন, "দয়া করে গরু কুরবানি করবেন না। গরুর মাংসও খাবেন না।" ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীও একই আহ্বান জানান। তাঁদের যুক্তি ছিল, গরুর বিক্রেতারা মূলত হিন্দু, ফলে মুসলিমরা গরু না কিনলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে হিন্দু খামারিদেরই। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা জানায়, ইমাম শফিক কাসেমি বিধিনিষেধ আরোপের আগে সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার আহ্বানও জানান। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলেমরা মুসলিমদের আইন মেনে চলার এবং প্রয়োজনে গরুর বদলে ছাগল বা ভেড়া কোরবানির পরামর্শ দেন।

মানবাধিকারকর্মী কিরীটী রায় দ্য ফেডারেলকে বলেন, "গরুর হাতবদল ও পুনর্ব্যবহার বাংলার দুগ্ধ অর্থনীতিতে গভীরভাবে প্রোথিত।" তাঁর মতে, ক্ষুদ্র খামারিদের কাছে বয়স্ক গরু বিক্রি অর্থনৈতিক চক্রেরই একটি অংশ, যা সংসারের আয় সচল রাখে এবং নতুন পশুতে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়। পুনর্বাসনের কোনো পরিকল্পনা ছাড়া এই কঠোর নিয়ম প্রয়োগে নিম্ন আয়ের গ্রামীণ হিন্দু সম্প্রদায়ই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

১৯৫০ সালের আইন কী বলে


পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ তফসিলে উল্লিখিত পশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, প্রচলিত অন্য কোনো আইন বা প্রথা যা-ই বলুক, সনদ ছাড়া কেউ এসব পশু জবাই করতে পারবেন না। পৌরসভার প্রধান ও সরকারি পশু চিকিৎসক যৌথ স্বাক্ষরে তখনই সনদ দিতে পারেন, যখন দুজনই মনে করেন পশুটির বয়স ১৪ বছরের বেশি এবং সেটি কাজ বা প্রজননের অনুপযুক্ত, অথবা বয়স, আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা দুরারোগ্য রোগে স্থায়ীভাবে অক্ষম। দুজনের মতভেদ হলে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ভেটেরিনারি কর্মকর্তার কাছে যায়। সনদ না পেলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি প্রত্যাখ্যানের খবর পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করতে পারেন।

আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, সনদপ্রাপ্ত পশুও কেবল নির্ধারিত স্থানে জবাই করা যাবে। ৭ ধারায় শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান আছে। আর ১২ ধারায় বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশে এবং প্রয়োজনীয় শর্ত সাপেক্ষে ধর্মীয়, চিকিৎসা বা গবেষণার উদ্দেশ্যে যেকোনো পশু জবাইকে এই আইনের আওতা থেকে ছাড় দিতে পারে। ২০২৬ সালের বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল এই ১২ ধারাই।

এই ধারা নিয়ে আগেও আদালতে লড়াই হয়েছে। একসময় রাজ্য সরকার বকরি ঈদে সুস্থ গরু জবাইয়ে ১২ ধারায় ছাড় দিয়েছিল। ২৭ জন নাগরিক কলকাতা হাইকোর্টে এর বিরুদ্ধে রিট করলে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রায় দেয়, বকরি ঈদে গরু জবাই মুসলিমদের ধর্মের আবশ্যিক অংশ নয়, তাই এমন ছাড় ১২ ধারার আওতার বাইরে। ১৯৯৪ সালের ১৬ নভেম্বর বিচারপতি কুলদীপ সিং, বি এল হানসারিয়া ও এস বি মজুমদারের বেঞ্চ 'স্টেট অব ওয়েস্ট বেঙ্গল বনাম আশুতোষ লাহিড়ী' মামলায় সেই রায় বহাল রাখে। সুপ্রিম কোর্ট বলে, বকরি ঈদে গরু জবাই আবশ্যিক নয়, ঐচ্ছিক; তাই সংবিধানের ২৫(১) অনুচ্ছেদের সুরক্ষা এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

এরও আগে ১৯৫৮ সালে 'মোহাম্মদ হানিফ কোরেশি বনাম বিহার রাজ্য' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, ইসলামি গ্রন্থে গরু জবাই বাধ্যতামূলক করা হয়নি এবং ছাগল বা উটের মতো বিকল্প পশু কোরবানি গ্রহণযোগ্য। ভারতের সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে গাভি, বাছুর এবং অন্যান্য দুধেল ও ভারবাহী পশু জবাই নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে, আর রাজ্য তালিকার ১৫ নম্বর বিষয় অনুযায়ী পশুসম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নের আইন প্রণয়নের এখতিয়ার রাজ্যগুলোর। ২০০৫ সালে 'স্টেট অব গুজরাট বনাম মির্জাপুর মোতি কুরেশি' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যগুলোর গরু জবাইবিরোধী আইনের সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখে। দেশের বেশির ভাগ রাজ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ বা সীমিত হলেও পশ্চিমবঙ্গ সেই রাজ্যগুলোর মধ্যে ছিল, যেখানে শর্তসাপেক্ষে জবাইয়ের অনুমতি রয়েছে।

আইনটির প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও আদালতে প্রশ্ন ওঠে। ইন্ডিয়াটুমরোর ২৩ মের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দেন, দীর্ঘদিন প্রয়োগ না হওয়ায় ৭৬ বছরের পুরোনো আইনটি কার্যকারিতা হারিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আইনটির মূল যুক্তি ছিল চাষের কাজে পশুশক্তি রক্ষা করা; কিন্তু যান্ত্রিক চাষ বেড়েছে, আর বেশি দুধ দেওয়া সংকর জাতের গরু ৭ থেকে ৮ বছর বয়সেই অনুৎপাদনশীল হয়ে পড়ে, ১৪ বছরে নয়।

পশ্চিমবঙ্গের গবাদিপশু ও গ্রামীণ অর্থনীতি


সংখ্যার হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের সবচেয়ে বেশি গরুর রাজ্য। ২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত ২০তম পশুসম্পদ শুমারি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ গরু ছিল, যা উত্তর প্রদেশ ও মধ্য প্রদেশকে ছাড়িয়ে দেশে সর্বোচ্চ। ২০১২ সালের শুমারির তুলনায় রাজ্যে গরুর সংখ্যা বেড়েছিল ১৫ শতাংশ, যা ছিল দেশের সর্বোচ্চ বৃদ্ধি; মোট পশুসম্পদও বেড়েছিল ২৩ শতাংশ, সেটিও সর্বোচ্চ।

একই শুমারিতে সারা ভারতে মোট পশুসম্পদ দাঁড়ায় ৫৩ কোটি ৫৭ লাখ ৮০ হাজার, যা ২০১২ সালের চেয়ে ৪.৬ শতাংশ বেশি। দেশে গরুর সংখ্যা ছিল ১৯ কোটি ২৪ লাখ ৯০ হাজার, যা আগের শুমারির চেয়ে ০.৮ শতাংশ বেশি। সংকর ও বিদেশি জাতের গরু বেড়েছিল ২৭ শতাংশ, অথচ দেশি জাতের গরু কমেছিল ৬ শতাংশ। দেশের মোট গরুর প্রায় ৭৫ শতাংশ গাভি। ২০১৮-১৯ সালে ভারতের মোট দুধ উৎপাদনের প্রায় ২৮ শতাংশ এসেছিল সংকর জাতের পশু থেকে। এই হিসাবেই বোঝা যায়, পশ্চিমবঙ্গে কেন গাভি পালন ও বয়স্ক গরু বিক্রি গ্রামীণ পরিবারের আয়ের বড় উৎস।

ইন্ডিয়াটুমরোর প্রতিবেদনে উদ্ধৃত হিসাব অনুযায়ী, এই কড়াকড়ির প্রভাব পড়তে পারে ৪ থেকে ৫ কোটি মানুষের ওপর, আর ঝুঁকিতে পড়ে বছরে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার কোটি রুপির গোমাংস ও চামড়া খাত। প্রতিবেদনটির হিসাবে রাজ্যে ২০ থেকে ২৫ লাখ দুগ্ধখামারি পরিবার, কলকাতা লেদার কমপ্লেক্সে ৫ লাখ শ্রমিক এবং পরিবহন, কসাই ও সংশ্লিষ্ট কাজে আরও ১০ লাখ মানুষ যুক্ত। একই প্রতিবেদন জানায়, ভারতের রপ্তানি করা চামড়াজাত পণ্যের ৫০ শতাংশ পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হয় এবং দেশের মাংস সরবরাহের ১২.৬২ শতাংশ আসে এই রাজ্য থেকে। এসব হিসাব সরকারি নয়, প্রতিবেদনটির নিজস্ব প্রাক্কলন।

ইত্তেফাক জানায়, দুধ উৎপাদনকারীরাও চিন্তিত ছিলেন, কারণ বয়স্ক গরু বিক্রি করতে না পারলে প্রতিটি গরু পালনের মাসিক খরচ বহন করা কঠিন হবে। বিশ্লেষকদের উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি লেখে, পশ্চিমবঙ্গে কোরবানির গরুর বাজার কয়েক হাজার কোটি টাকার, যার সঙ্গে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ জড়িত। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, 'ঘোষ' পদবি ঐতিহ্যগতভাবে গোয়ালা ও সদগোপ সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত, যাঁদের জীবিকা দুগ্ধখামার ও গবাদিপশু পালনের ওপর নির্ভরশীল। ভাঙড়ের যে খামারিদের কথা মে মাসের খবরগুলোতে উঠে আসে, তাঁদের অনেকেই এই সম্প্রদায়ের।

ঘটকপুকুরের খামারিরা ঠিক এই চক্রের কথাই বলেছিলেন: সারা বছর গরু পালন, ঈদের মৌসুমে বিক্রি, সেই টাকায় ঋণ শোধ ও নতুন পশু কেনা। ২৬ মে, রাজ্যে ঈদের সরকারি ছুটির দুই দিন আগে, তাঁদের দাবি ছিল কেবল এই একবারের জন্য কয়েক দিনের সুযোগ।

ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (দ্য ফেডারেলের বরাতে), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলা (দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বরাতে), দৈনিক ইত্তেফাক, আউটলুক, স্ক্রল, লাইভ ল, নিউজগ্রাম, স্বরাজ্য, দ্য মূকনায়ক, ইন্ডিয়াটুমরো, পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ (অ্যানিমেল লিগ্যাল অ্যান্ড হিস্টোরিক্যাল সেন্টার), ২০তম পশুসম্পদ শুমারি (স্ট্যাটিস্টা, দৃষ্টি আইএএস), উইকিপিডিয়া (ভাঙড়-১, ভাঙড়-২, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ভারতে গরু জবাই), রেকর্ড অব ল

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সৌরপ্যানেলের নিচে ভেড়া চরালে বাড়ে মৌমাছি, তবে সংখ্যা রাখতে হবে কম

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌরখামারে হেক্টরপ্রতি দুটি ভেড়া চরালে ঘাস কাটার তুলনায় উপকারী পোকা ৩৮ শতাংশ বাড়ে। খামারিদের জন্য ভেড়ার পাল পরিকল্পনার একটি সহায়ক টুলও তৈরি করেছেন গবেষকেরা।

Farms.com১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

প্রোটিনের চাহিদায় বদলে গেল কানাডার দুধের বাজার, মাখনের উদ্বৃত্ত শেষ

দুগ্ধজাত প্রোটিনের চাহিদা বাড়ায় পাঁচ বছরের মধ্যে কানাডার দুধের বাজারে মাখনচর্বির কাঠামোগত উদ্বৃত্ত মিটে গেছে, দুধের দাম নির্ধারণেও এসেছে পরিবর্তন।

Manitoba Co-operator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিকি হেক্টরে ওটের বীজ চাষ, ইথিওপিয়ার এক কৃষকের পারিবারিক ব্যবসা

ইথিওপিয়ার এক ক্ষুদ্র কৃষক মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে বীজের জন্য ওট চাষ করে প্রথম ফসল ৪৫ হাজার বির্রে বিক্রি করেন এবং পরের বছর চাষ বাড়ান। আইএলআরআইয়ের পশুখাদ্যের বীজকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের অংশ এটি।

ILRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)