কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ সমীরণ বিশ্বাস ২০২৬ সালের ৩০ মে জাগো নিউজ ২৪-এর কৃষি ও প্রকৃতি বিভাগে প্রকাশিত এক লেখায় বাংলাদেশের কৃষিতে ‘কার্বন স্মার্ট কৃষি’ বা ‘কৃষিতে কার্বন প্রযুক্তি’ গ্রহণের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ, মাটির উর্বরতা কমে যাওয়া এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষি বড় সংকটের মুখে পড়েছে। এই অবস্থায় স্প্রে ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ভিত্তিক স্মার্ট মাটি বিশ্লেষণ একসঙ্গে ব্যবহার করলে কম খরচে, কম দূষণে বেশি ফসল ফলানো সম্ভব বলে তিনি লেখেন। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের কৃষিতেও এসব প্রযুক্তির ব্যবহার ধীরে ধীরে বাড়ছিল।
লেখকের ভাষায়, বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যম নয়; এটি পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই কৃষিকে আরও দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব হতে হবে। তাঁর প্রস্তাবিত চারটি প্রযুক্তি কী, আন্তর্জাতিক গবেষণা ও বাংলাদেশের সরকারি সংস্থার তথ্য এসব নিয়ে কী বলে, এবং মাঠে এগুলো ব্যবহারের পথে কী কী বাধা আছে, তা এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো।
কার্বন স্মার্ট কৃষি কী: লেখকের সংজ্ঞা ও এফএওর ধারণা
সমীরণ বিশ্বাস কার্বন স্মার্ট কৃষিকে এমন একটি আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে কৃষি থেকে কার্বন নিঃসরণ কমানো, প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা এবং উৎপাদন বাড়ানো একসঙ্গে করা হয়। তাঁর মতে, এটি শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, বরং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার একটি সমন্বিত রূপ। তিনি লেখেন, সাধারণ কৃষিতে অতিরিক্ত সার, কীটনাশক, সেচ ও জ্বালানি ব্যবহারের কারণে প্রচুর কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে ছড়ায়, আর এসব গ্যাস জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।
লেখক যে ধারণার কথা বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে তা মূলত ‘জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি’ (ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার) নামে পরিচিত। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ২০১০ সালে প্রকাশিত ‘ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার: পলিসিজ, প্র্যাকটিসেস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিং ফর ফুড সিকিউরিটি, অ্যাডাপটেশন অ্যান্ড মিটিগেশন’ শীর্ষক নথিতে এর সংজ্ঞা দেয়: এমন কৃষি, যা টেকসইভাবে উৎপাদনশীলতা ও সহনশীলতা (অভিযোজন) বাড়ায়, গ্রিনহাউস গ্যাস কমায় বা অপসারণ করে (প্রশমন) এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে। একই নথিতে এফএও জানায়, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও খাদ্যাভ্যাসের ধারা অনুযায়ী ২০৫০ সালের চাহিদা মেটাতে কৃষি উৎপাদন অন্তত ৭০ শতাংশ বাড়াতে হবে, আর জলবায়ু পরিবর্তন কিছু এলাকায় উৎপাদনশীলতা, উৎপাদনের স্থিতিশীলতা ও আয় কমিয়ে দিতে পারে।
বিশ্বব্যাংক তাদের জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি বিষয়ক পাতায় (সর্বশেষ হালনাগাদ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি) এই পদ্ধতিকে ফসলি জমি, গবাদিপশু, বন ও মৎস্যসম্পদ মিলিয়ে ভূদৃশ্য ব্যবস্থাপনার একটি সমন্বিত পদ্ধতি বলে বর্ণনা করে, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের পরস্পর-জড়িত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে। সংস্থাটির মতে, এর তিনটি লক্ষ্য হলো উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, সহনশীলতা বাড়ানো এবং নিঃসরণ কমানো। এর আওতায় তারা জলবায়ু-সহনশীল ফসলের জাত, সংরক্ষণমূলক কৃষি, কৃষি-বনায়ন, নির্ভুল কৃষি (প্রিসিশন ফার্মিং), পানি ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত পশুপালনের কথা উল্লেখ করে। বিশ্বব্যাংক আরও জানায়, বৈশ্বিক কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থা মোট নিঃসরণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী হলেও জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ৪ শতাংশ পায় এবং তার মাত্র এক-পঞ্চমাংশ ক্ষুদ্র কৃষকের কাছে পৌঁছায়।
উইকিপিডিয়ার জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি নিবন্ধে এই ধারণার সমালোচনাও লিপিবদ্ধ আছে: কেউ কেউ একে বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ‘গ্রিনওয়াশিং’ বলে সমালোচনা করেছেন, আর কারা সত্যিই জলবায়ু-স্মার্ট, তা মাপার সর্বজনস্বীকৃত কোনো মানদণ্ড নেই বলেও মত এসেছে। ফলে কোনো প্রযুক্তি বা প্রকল্পকে ‘কার্বন স্মার্ট’ বলার আগে তা আসলে নিঃসরণ কমাচ্ছে কি না, তা মেপে দেখার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ থেকে যায়।
কৃষি থেকে কতটা গ্রিনহাউস গ্যাস আসে
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি) ২০১৯ সালে ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও ভূমি’ বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদনের নীতিনির্ধারকদের সারসংক্ষেপে জানায়, ২০০৭ থেকে ২০১৬ সময়কালে মানুষের কর্মকাণ্ড থেকে নিঃসৃত কার্বন ডাই অক্সাইডের প্রায় ১৩ শতাংশ, মিথেনের ৪৪ শতাংশ এবং নাইট্রাস অক্সাইডের ৮১ শতাংশ এসেছে কৃষি, বন ও অন্যান্য ভূমি ব্যবহার খাত থেকে। সব মিলিয়ে এই খাত বছরে প্রায় ১২ গিগাটন কার্বন ডাই অক্সাইড সমতুল্য গ্যাস ছেড়েছে, যা মানুষের মোট নিট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের ২৩ শতাংশ। খামারের আগে ও পরের কাজ, অর্থাৎ পুরো খাদ্য ব্যবস্থা হিসাবে ধরলে এই অংশ দাঁড়ায় ২১ থেকে ৩৭ শতাংশে।
লেখক অতিরিক্ত সার ব্যবহারের যে কথা বলেছেন, আইপিসিসির প্রতিবেদনেও তার সমর্থন মেলে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাটি থেকে মানুষের কারণে নাইট্রাস অক্সাইড নিঃসরণের প্রধান কারণ নাইট্রোজেন প্রয়োগ, বিশেষ করে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি প্রয়োগ বা ফসলের চাহিদার সময়ের সঙ্গে না মিলিয়ে প্রয়োগের অদক্ষতা। ২০০৭ থেকে ২০১৬ সময়ে ফসলি জমির মাটি বছরে প্রায় ৩০ লাখ টন নাইট্রাস অক্সাইড ছেড়েছে। মিথেনের ক্ষেত্রে আইপিসিসি জানায়, রোমন্থক পশু ও ধান চাষের বিস্তার বায়ুমণ্ডলে মিথেনের ঘনত্ব বাড়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
নিঃসরণ কমানোর উপায় নিয়েও আইপিসিসি দিকনির্দেশনা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফসলি জমিতে অভিযোজন ও প্রশমন দুটোতেই সহায়ক চর্চার মধ্যে আছে মাটির জৈব পদার্থ বাড়ানো, ভূমিক্ষয় নিয়ন্ত্রণ, উন্নত সার ব্যবস্থাপনা, ধানক্ষেত ব্যবস্থাপনার মতো উন্নত ফসল ব্যবস্থাপনা এবং তাপ ও খরা সহনশীল জাত ব্যবহার। ফসল, পশুপালন ও কৃষি-বনায়ন থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে বছরে ২ দশমিক ৩ থেকে ৯ দশমিক ৬ গিগাটন কার্বন ডাই অক্সাইড সমতুল্য নিঃসরণ কমানোর কারিগরি সম্ভাবনা আছে বলে প্রতিবেদনটি অনুমান করে। টেকসই ভূমি ব্যবস্থাপনার উদাহরণ হিসেবে আইপিসিসি সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও নির্ভুল কৃষি ব্যবস্থার নামও উল্লেখ করে।
ধানক্ষেতের মিথেন ও বাংলাদেশে পরীক্ষিত দুটি পদ্ধতি
বাংলাদেশের কৃষির কেন্দ্রে রয়েছে ধান, আর ধানক্ষেত নিঃসরণের একটি বড় উৎস। এফএওর ২০১০ সালের নথিতে বলা হয়, প্রতিদিন প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ, অর্থাৎ বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী ভাত খায় এবং প্রতিবছর প্রায় ১৪ কোটি ৪০ লাখ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়। জলাবদ্ধ ও উষ্ণ মাটির কারণে ধানক্ষেত বড় মাত্রায় মিথেন ছাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, বছরের যে কয়েক মাস জমি পুরোপুরি পানিতে ডুবে থাকে, তখনই নিঃসরণ মূলত ঘটে; তাই সেচ ও সার প্রয়োগকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করলে নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে বলে নথিতে উল্লেখ আছে।
এর একটি উদাহরণ পর্যায়ক্রমে ভেজানো ও শুকানো বা ‘অল্টারনেট ওয়েটিং অ্যান্ড ড্রাইং’ (এডব্লিউডি) পদ্ধতি। এফএও জানায়, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিলে পানি সাশ্রয়ী এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে, এবং আইপিসিসির ২০০৬ সালের সংশোধিত পদ্ধতি অনুযায়ী এ ধরনের একাধিকবার জমি শুকানোর চর্চা সারাক্ষণ ডুবিয়ে রাখা ধানক্ষেতের তুলনায় মিথেন নিঃসরণ সম্ভাব্যভাবে ৪৮ শতাংশ কমায়। এতে একই সঙ্গে সেচের পানি কম লাগে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ে। উইকিপিডিয়ার বাংলাদেশের কৃষি নিবন্ধে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, পানির দক্ষ ব্যবহারের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) এডব্লিউডি পদ্ধতি চালু করেছে। নিবন্ধটি জানায়, এ পদ্ধতিতে সাধারণত পিভিসির একটি নল বসিয়ে জমির পানির গভীরতা দেখা হয়, আর বৃষ্টি কম থাকায় শুকনো মৌসুমের ধানে এটি বেশি উপযোগী।
দ্বিতীয় উদাহরণ গুটি ইউরিয়া বা ইউরিয়া ডিপ প্লেসমেন্ট (ইউডিপি)। এফএওর নথি অনুযায়ী, এ পদ্ধতিতে বড় দানা বা ছোট ব্রিকেট আকারের ইউরিয়া গাছের শিকড়ের কাছে মাটির নিচে রাখা হয়, যাতে তা পানির ওপরের স্তরে থেকে নষ্ট না হয়। বাংলাদেশে এই পদ্ধতিতে ইউরিয়ার ব্যবহার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সাশ্রয় হয়েছে এবং হেক্টরপ্রতি প্রায় এক টন ফলন বেড়েছে বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়। লেখক যে কম সারে বেশি ফলনের কথা বলেছেন, দেশের মাঠে এর একটি পরীক্ষিত রূপ এটি।

স্প্রে ড্রোন: লেখকের যুক্তি ও এফএওর মূল্যায়ন
সমীরণ বিশ্বাস স্প্রে ড্রোনকে কৃষিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বর্ণনায়, এটি একটি উড়ন্ত যন্ত্র, যা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে জমিতে সার, কীটনাশক বা জৈব উপাদান ছিটাতে পারে। আগে কৃষককে মাঠে হেঁটে হেঁটে স্প্রে করতে হতো, এতে সময়, শ্রম ও খরচ বেশি লাগত এবং কৃষক সরাসরি বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসতেন। লেখকের মতে, ড্রোনে অল্প সময়ে বড় জমিতে স্প্রে করা যায়, প্রয়োজনমতো নির্দিষ্ট স্থানে ছিটানো যায়, রাসায়নিকের অপচয় ও কৃষকের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে, কম জ্বালানি লাগায় কার্বন নিঃসরণ কমে এবং জমিতে হাঁটতে না হওয়ায় ফসল নষ্ট হয় না।
এফএও ও আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) ২০১৮ সালে ব্যাংকক থেকে ‘ই-এগ্রিকালচার ইন অ্যাকশন: ড্রোনস ফর এগ্রিকালচার’ শীর্ষক একটি প্রকাশনা বের করে। এতে বলা হয়, ফসলে স্প্রে করার জন্য ড্রোন প্রযুক্তি প্রথম ব্যবহৃত হয় জাপানে, ১৯৮০-এর দশকে, যখন স্প্রে যন্ত্র ও কীটনাশকের ট্যাংকসহ চালকবিহীন হেলিকপ্টার দিয়ে মাঠে ছিটানো হতো। প্রকাশনাটি জানায়, আধুনিক স্প্রে ড্রোনের ট্যাংকে সাধারণত ১০ লিটারের বেশি তরল কীটনাশক ধরে এবং মিনিটে এক লিটারের বেশি ছিটাতে পারে, ফলে প্রায় ১০ মিনিটে এক হেক্টর জমি ঢেকে ফেলা যায়। জাপানের ইয়ামাহা আরম্যাক্স নামের রিমোট-নিয়ন্ত্রিত হেলিকপ্টার কৃষিতে স্প্রের কাজে ২০ লাখ ঘণ্টার বেশি উড়েছে এবং জাপানে প্রায় আড়াই হাজার এমন যন্ত্র বছরে ২৫ লাখ একরের বেশি জমিতে কাজ করে বলেও এতে উল্লেখ আছে।
তবে এফএও-আইটিইউর প্রকাশনা একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও দেয়: ড্রোনকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে স্প্রেকে ছবি তোলা, ছবি প্রক্রিয়াকরণ ও স্বয়ংক্রিয় বিশ্লেষণের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, যাতে শুধু আক্রান্ত জায়গা বা গাছে নির্ভুলভাবে ওষুধ পড়ে। এভাবে কাজ করলেই আক্রান্ত অংশে মাত্রা ঠিক হয় এবং পুরো এলাকায় রাসায়নিকের মোট ব্যবহার কমে। প্রকাশনাটি আরও জানায়, ইনফ্রারেড ও মাল্টিস্পেকট্রাল সেন্সরযুক্ত ড্রোন এনডিভিআই নামের উদ্ভিদ সূচকের মানচিত্র তৈরি করে চাপে থাকা গাছ শনাক্ত করতে পারে; সুস্থ পাতা বেশি নিয়ার-ইনফ্রারেড আলো প্রতিফলিত করে, পানির অভাব বা চাপে থাকা পাতা কম করে।
নিয়মকানুনের প্রশ্নও প্রকাশনায় এসেছে। এতে বলা হয়, অনেক দেশে ড্রোন থেকে কিছু ফেলা বেআইনি, আর ড্রোন থেকে স্প্রে করা ও বিপজ্জনক পণ্য বহন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত বা নিষিদ্ধ; গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা, বিমা ও দায়দায়িত্বের বিষয়গুলোও উড্ডয়নের আগে মীমাংসা করতে হয়। ফলে যেকোনো দেশে স্প্রে ড্রোন ব্যবহারের আগে সে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও বিধি জানা জরুরি। কোন ফসলে কোন বালাইনাশক কতটা দিতে হবে, সে বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: ‘ডা. চাষী’ ও ছবি দেখে রোগ শনাক্তের গবেষণা
লেখক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কৃষকের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সহায়ক হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর লেখায় ‘ডা. চাষী’ নামের একটি স্মার্ট কৃষি প্ল্যাটফর্মের উদাহরণ দেওয়া হয়, যা তাঁর ভাষায় কৃষকদের রোগ শনাক্তকরণ, আবহাওয়ার তথ্য, সার ব্যবস্থাপনা ও ফসলের পরিচর্যায় সহায়তা করছিল। লেখক জানান, এআই প্রযুক্তি মোবাইল অ্যাপ, ছবি বিশ্লেষণ, তথ্য সংগ্রহ ও মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে কাজ করে; কৃষক ফসলের ছবি তুলে দিলে এআই দ্রুত রোগ শনাক্ত করে সমাধান দিতে পারে। এর ফলে রোগ দ্রুত ধরা পড়ে, সময়মতো পরামর্শ মেলে, অতিরিক্ত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমে এবং খরচ, শ্রম ও দূষণ কমে বলে তিনি মত দেন। তরুণ কৃষক ও কৃষি উদ্যোক্তারা ডিজিটাল কৃষির প্রতি আগ্রহী হচ্ছিলেন এবং এ ধরনের এআই ভিত্তিক উদ্যোগ দেশের কৃষিকে নতুন উচ্চতায় নিতে পারে বলেও তিনি লেখেন।
ছবি দেখে ফসলের রোগ শনাক্তের এই ধারণা নিয়ে পিয়ার-রিভিউড গবেষণা আছে। ২০১৬ সালে ফ্রন্টিয়ার্স ইন প্ল্যান্ট সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত শারদা মোহান্তি, ডেভিড হিউজ ও মার্সেল সালাথের একটি গবেষণায় প্ল্যান্টভিলেজ প্রকল্পের ৫৪ হাজার ৩০৬টি সুস্থ ও রোগাক্রান্ত পাতার ছবি দিয়ে একটি ডিপ লার্নিং মডেলকে ১৪টি ফসল ও ২৬টি রোগ চিনতে শেখানো হয়। পরীক্ষায় মডেলটি ৯৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ নির্ভুলতা দেখায়, অর্থাৎ প্রতি এক হাজার ছবির ৯৯৩টিতে ফসল ও রোগ সঠিকভাবে শনাক্ত করে। গবেষকেরা লেখেন, মডেল প্রশিক্ষণে কয়েক ঘণ্টা লাগলেও একটি ছবি শ্রেণিবিন্যাস করতে এক সেকেন্ডেরও কম সময় লাগে, তাই এটি স্মার্টফোনে চালানো সম্ভব।
একই গবেষণা এর সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট করে। প্রশিক্ষণের ছবির চেয়ে ভিন্ন পরিবেশে তোলা ছবিতে পরীক্ষা করলে মডেলের নির্ভুলতা কমে মাত্র ৩১ শতাংশের কিছু বেশি হয়। গবেষকেরা জোর দিয়ে বলেন, এই পদ্ধতি রোগ নির্ণয়ের প্রচলিত ব্যবস্থার বিকল্প নয়, সম্পূরক; শুধু উপসর্গ দেখে নির্ণয়ের চেয়ে গবেষণাগারের পরীক্ষা সবসময় বেশি নির্ভরযোগ্য, আর প্রাথমিক পর্যায়ে চোখে দেখে রোগ চেনা প্রায়ই কঠিন। ফলে অ্যাপের পরামর্শকে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়াই বিচক্ষণতা।
এফএওর ২০১৯ সালের ‘ডিজিটাল টেকনোলজিস ইন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল এরিয়াস’ শীর্ষক ব্রিফিং পেপারেও বলা হয়, এআই প্রযুক্তি সম্পদের ব্যবহার উন্নত করতে, পূর্বাভাসমূলক মডেলের মাধ্যমে আগাম সিদ্ধান্ত নিতে এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালু রাখতে সাহায্য করতে পারে; কৃষক মাঠ হেঁটে না দেখে উপগ্রহ বা ড্রোনের তথ্য দিয়ে খামারের অবস্থা জানতে পারেন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও দেশের কৃষি আবহাওয়া তথ্য সেবা
সমীরণ বিশ্বাস লেখেন, বাংলাদেশের কৃষি অনেকাংশে আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল; অনিয়মিত বৃষ্টি, খরা, ঘূর্ণিঝড় বা অতিরিক্ত তাপমাত্রা কৃষিতে বড় ক্ষতি করে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে কৃষক আগেই জানতে পারেন কখন বৃষ্টি হবে, কখন সেচ দিতে হবে, কখন কীটনাশক প্রয়োগ উপযোগী এবং ঝড় বা বন্যার আশঙ্কা আছে কি না। তাঁর মতে, এতে অপ্রয়োজনীয় সেচ ও কীটনাশকের অপচয় কমে, ফসলহানির ঝুঁকি কমে, পানি ও জ্বালানি সাশ্রয় হয় এবং কৃষকের আর্থিক ক্ষতি কমে।
এই কাজের জন্য দেশে সরকারি একটি ব্যবস্থা আগে থেকেই ছিল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য সেবা’ (বামিস) পোর্টালের পটভূমি অংশে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর প্রথম সারিতে থাকলেও আবহাওয়া, নদ-নদীর পানি ও আগাম সতর্কবার্তা কৃষকের কাছে পৌঁছানোয় বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল। ২০১২ সালে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এ বিষয়ে একটি কারিগরি সেমিনার আয়োজন করে, যেখানে বিশেষজ্ঞরা তিনটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করেন: আবহাওয়াবিদ ও কৃষিবিদদের সমন্বয়ে পর্যবেক্ষণ ও মৌসুমি পূর্বাভাসের মান বাড়ানো, পরামর্শ দ্রুত তৃণমূলে পৌঁছানোর বিতরণ ব্যবস্থা গড়া এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে তা কাজে লাগানো।
বামিসের তথ্য অনুযায়ী, এ লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ২০১৭ সালে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে নিয়ে ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অ্যান্ড ক্লাইমেট সার্ভিসেস রিজিওনাল প্রজেক্ট’ অনুমোদিত হয়। এর অংশ হিসেবে ডিএই ‘কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করে, যার মেয়াদ ছিল ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন। এই প্রকল্পে তৈরি বামিস পোর্টালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়া তথ্য এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদ-নদীর তথ্য একটি কারিগরি কমিটির মাধ্যমে যাচাই ও অনুবাদ করে কৃষকের উপযোগী করে দেওয়া হয়।
পোর্টালটির বিবরণে বলা হয়েছে, এখানে ৬৪ জেলার জন্য সপ্তাহে দুই দিন এবং জাতীয় পর্যায়ের জন্য সপ্তাহে এক দিন কৃষি আবহাওয়া বুলেটিন হালনাগাদ করা হয়। এ ছাড়া ফসলের আবহাওয়া সংবেদনশীলতা, আবহাওয়ার সঙ্গে রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণের সম্পর্ক ও নিয়ন্ত্রণের উপায়, ফসল আবহাওয়া পঞ্জিকা, চরম আবহাওয়ার তথ্য এবং গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছের জন্য বিশেষ কৃষি আবহাওয়া পরামর্শও পোর্টালটিতে রাখা হয়। এফএওর ২০১৯ সালের ব্রিফিং পেপারও বলে, আবহাওয়াভিত্তিক সময়োপযোগী কৃষি পরামর্শ কৃষককে বালাইয়ের আক্রমণ, ফসলহানি ও জলবায়ুর পরিবর্তনের পূর্বাভাস পেয়ে আগাম ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করতে পারে।

আইওটি ভিত্তিক মাটি বিশ্লেষণ ও সারের সঠিক মাত্রা
লেখকের মতে, মাটির স্বাস্থ্য কৃষির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু অনেক সময় কৃষক না বুঝে অতিরিক্ত সার দেন, এতে মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয় এবং পরিবেশ দূষণ বাড়ে। তিনি লেখেন, আইওটি ভিত্তিক স্মার্ট মাটি বিশ্লেষণে সেন্সরের মাধ্যমে মাটির আর্দ্রতা, অম্লতা-ক্ষারত্ব (পিএইচ), পুষ্টি উপাদান ও তাপমাত্রা মাপা যায়। এতে মাটির প্রকৃত চাহিদা জানা যায়, সঠিক পরিমাণ সার দেওয়া সম্ভব হয়, অতিরিক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার কমে, উর্বরতা বজায় থাকে, পানি সাশ্রয় হয় এবং উৎপাদন বাড়ে বলে তাঁর মত।
এফএওর ২০১৯ সালের ব্রিফিং পেপারে নির্ভুল কৃষিকে ইন্টারনেট অব থিংসের কৃষিক্ষেত্রে প্রয়োগের একটি উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়, রোপণ ও সার প্রয়োগের সময় দিকনির্দেশক ব্যবস্থা (গাইডেন্স সিস্টেম) ব্যবহারে বীজ, সার ও ট্রাক্টরের জ্বালানি সাশ্রয় হতে পারে এবং মাঠে কাজের সময় কমে; পরিবর্তনশীল মাত্রায় প্রয়োগের প্রযুক্তি (ভেরিয়েবল রেট টেকনোলজি) ও ড্রোন পানি ও কীটনাশকের ব্যবহার এবং শ্রম ও সম্পদের খরচ কমাতে পারে। এফএও-আইটিইউর ড্রোন প্রকাশনাও জানায়, নির্ভুল কৃষি সেন্সরের তথ্য ও ছবিকে তাৎক্ষণিক বিশ্লেষণের সঙ্গে মিলিয়ে মাঠের ভেতরের ভিন্নতা মানচিত্রে তুলে আনে; এভাবে মাটির স্বাস্থ্য যাচাই, সেচের সময়সূচি পরিকল্পনা ও ফলনের অনুমান করা যায়।
সঠিক মাত্রায় সার দেওয়ার পরিবেশগত গুরুত্ব আইপিসিসির তথ্যেই স্পষ্ট: মাটি থেকে নাইট্রাস অক্সাইড নিঃসরণের প্রধান কারণ অতিরিক্ত বা অসময়ে নাইট্রোজেন প্রয়োগ। এফএওর ২০১০ সালের নথিও বলে, মাটির উর্বরতা ও জৈব পদার্থের ব্যবস্থাপনা এবং পুষ্টি উপাদানের দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে তুলনামূলক কম সারে বেশি উৎপাদন সম্ভব। সেন্সর এই হিসাবের একটি উপায়, তবে কোন জমিতে কোন সার কতটা দিতে হবে, সে বিষয়ে মাটি পরীক্ষার ফল ও উপজেলা কৃষি অফিসের সুপারিশই কৃষকের প্রধান ভরসা।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট: জলবায়ুর চাপ ও কৃষির গুরুত্ব
সমীরণ বিশ্বাস লেখেন, বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর দেশ, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টি, খরা ও বন্যা, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। এসব মোকাবিলায় কার্বন স্মার্ট কৃষি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি শুধু উৎপাদন বাড়াবে না, পরিবেশ সংরক্ষণেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে তাঁর মত।
উইকিপিডিয়ার বাংলাদেশের কৃষি নিবন্ধ অনুযায়ী, কৃষি দেশের সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থানের খাত; ২০১৭ সালে এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৪ দশমিক ২ শতাংশ ছিল এবং প্রায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ শ্রমশক্তিকে কাজ দিত, আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে কৃষির অবদান ছিল জিডিপির ১২ শতাংশের বেশি। নিবন্ধটি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনের বরাতে জানায়, ধানের অঙ্গজ, প্রজনন ও পাকার পর্যায়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এক ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে আমন উৎপাদন কমে যায় এবং উপকূলীয় এলাকায় পানির লবণাক্ততা ধান উৎপাদনকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বাড়লে দেশ তার ১২ থেকে ১৬ শতাংশ ভূমি হারাবে।
অভিযোজনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) বিআর ১১, বিআর ২৩, ব্রি ধান ২৮, ব্রি ধান ৪১, ব্রি ধান ৪৭, ব্রি ধান ৫৩ ও ব্রি ধান ৫৪-এর মতো লবণসহিষ্ণু জাত চালু করেছে বলে নিবন্ধে উল্লেখ আছে। সহনশীল জাত, ফসল বৈচিত্র্য, শস্যবিন্যাসে পরিবর্তন, মিশ্র চাষ, উন্নত সেচ, মাটি সংরক্ষণ ও কৃষি-বনায়নের মতো অভিযোজন ব্যবস্থাও দেশে প্রচলিত বলে এতে বলা হয়। লেখকের প্রস্তাবিত ডিজিটাল প্রযুক্তিগুলো এই প্রচলিত ব্যবস্থার পাশে নতুন সংযোজন।
প্রযুক্তি ব্যবহারের বাধা
লেখক নিজেই স্বীকার করেন, কার্বন স্মার্ট কৃষি সম্ভাবনাময় হলেও এর পথে বাধা আছে: প্রযুক্তি সম্পর্কে কৃষকের সীমিত জ্ঞান, উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ, গ্রামে ইন্টারনেটের সীমাবদ্ধতা, প্রশিক্ষণের অভাব এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির স্বল্পতা। তাঁর মতে, সরকার, কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি উদ্যোগ একসঙ্গে কাজ করলে এসব সমস্যা ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব।
এফএওর ২০১৯ সালের ব্রিফিং পেপার এসব বাধার বৈশ্বিক চিত্র দেয়। এতে বলা হয়, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বিশ্বে ১০০ কোটি নতুন মোবাইল গ্রাহক যুক্ত হলেও তখনো ৩৮০ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের বাইরে ছিলেন, যাঁদের বড় অংশ গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকায় থাকেন। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মাত্র প্রায় এক-তৃতীয়াংশ থ্রিজি নেটওয়ার্কের আওতায় ছিলেন। স্বল্পোন্নত দেশে স্মার্টফোন কেনার প্রধান বাধা সামর্থ্য; সেখানে একটি সাধারণ মোবাইল ব্রডব্যান্ড প্যাকেজের খরচ গড়ে মাথাপিছু জাতীয় আয়ের ৬০ শতাংশের বেশি বলে আইটিইউর ২০১৭ সালের তথ্যের বরাতে প্রকাশনাটি জানায়। এফএও সতর্ক করে, ডিজিটাল কৃষির সুফল অসমভাবে বণ্টিত হলে দেশগুলোর মধ্যে ও ভেতরে ‘ডিজিটাল বৈষম্য’ বাড়তে পারে।
ড্রোনের ক্ষেত্রে এফএও-আইটিইউর প্রকাশনা আরেকটি চ্যালেঞ্জের কথা বলে: উন্নত ছবি বিশ্লেষণে বিপুল তথ্য জমা হয়, এক সেন্টিমিটার রেজোলিউশনে এক বর্গকিলোমিটার এলাকার জন্য ১৪০ গিগাবাইট পর্যন্ত তথ্য তৈরি হতে পারে, যা সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা পরিকল্পনা দাবি করে। এফএওর ২০১০ সালের নথিও বলে, ক্ষুদ্র কৃষককে জলবায়ু-স্মার্ট কৃষিতে যেতে প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সহায়তা লাগবে, জলবায়ু-স্মার্ট তথ্য বড় পরিসরে বহু কৃষকের কাছে পৌঁছাতে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়াতে হবে, এবং তথ্য ও জ্ঞানের ঘাটতি পূরণ এবং উপযোগী জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রয়োজন।
লেখক তাঁর লেখা শেষ করেন এই মত দিয়ে যে কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যম নয়, মানুষের জীবন, পরিবেশ ও সভ্যতার ভিত্তি; স্প্রে ড্রোন, এআই, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও আইওটি মাটি বিশ্লেষণের সঠিক প্রয়োগ হলে কম কার্বন নিঃসরণ, মাটির স্বাস্থ্যের উন্নতি, পানির সাশ্রয় ও বেশি উৎপাদন একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব।
ছবি: Vis M / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ), জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি), বিশ্বব্যাংক, ফ্রন্টিয়ার্স ইন প্ল্যান্ট সায়েন্স, বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য সেবা (বামিস), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উইকিপিডিয়া




মন্তব্য
(০)