ইটভাটায় কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপসয়েল) পোড়ানো বন্ধ করতে খাল খননের উদ্বৃত্ত মাটি বৈধ ইটভাটায় কাঁচামাল হিসেবে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বরাতে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিনাজপুর টিভি এ খবর দিয়েছে।
পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, এ বছর একটি পাইলট প্রকল্প শুরু হচ্ছে, পরে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। খাল খনন হবে যেসব এলাকায়, সেখানকার জেলা প্রশাসকদের বৈধ ভাটার মালিকদের এ প্রক্রিয়ায় আনতে বলা হয়েছে, আর খননের মাটি নির্ধারিত ভাটায় পৌঁছে দেওয়া হবে। দেশব্যাপী খাল খনন অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরের শুরুতে শুরু হতে পারে। ইটভাটা মালিক সমিতিকে ভাটার তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে, পাশাপাশি পোড়া ইটের বদলে কংক্রিট ব্লকের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে।
স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদারের হিসাবে, দেশের প্রায় আট হাজার ইটভাটায় কৃষিজমির টপসয়েল ও তার নিচের মাটি ব্যবহার হচ্ছে। একবার টপসয়েল কেটে নিলে তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে ১৫ থেকে ২০ বছর লাগে, ফলন কমে আর জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তিনি মনে করিয়ে দেন, ব্লক ইটের জন্য ২০১৯ ও ২০২৫ সালে পরিপত্র জারি হলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, টপসয়েলেই জৈব পদার্থ সবচেয়ে বেশি; তা কেটে নিলে জমিতে আবার ফসল ফলাতে বাড়তি সার ও কীটনাশক লাগে, তাতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়ে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির জানান, কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন-২০২৬ অনুযায়ী বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কৃষিজমির মাটি কাটা নিষিদ্ধ, তবু তাৎক্ষণিক লাভের আশায় অনেক কৃষক ভাটায় মাটি বিক্রি করেন। প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মাটি ব্যবস্থাপনায় একটি জাতীয় নীতিমালা দরকার বলে মনে করেন তিনি। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৩ অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি কাটলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান আছে।
প্রতিবেদন: জাতীয় ডেস্ক, দিনাজপুর টিভি
ছবি: Dolon Prova / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)