বিশ্বব্যাংক ২০২৬ সালের ১০ মার্চ পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোর কৃষি খাতের উন্নয়নে ২১৫.৯ মিলিয়ন ডলারের (প্রায় ১১৮.৭ বিলিয়ন সিএফএ ফ্রাঁ) একটি প্রকল্প অনুমোদন করে। রাজধানী ওয়াগাদুগু থেকে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘বুরকিনা ফাসো কৃষি রূপান্তর প্রকল্প’ খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেসরকারি খাতের বিকাশে দেশটির জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
প্রকল্পে কী থাকছে
নতুন প্রকল্পটি ধান ও ভুট্টাসহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কৃষি মূল্যশৃঙ্খলের বিকাশে মনোযোগ দেবে। এর তিনটি মূল দিক হলো উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং বাজারে আরও ভালো প্রবেশাধিকার। পাশাপাশি অর্থায়নের যে সীমাবদ্ধতা বেসরকারি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি গ্রহণকে আটকে রাখে, তা দূর করতেও প্রকল্পটি কাজ করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নারী ও তরুণদের অন্তর্ভুক্তিতে বিশেষ নজর দেওয়া হবে, যাতে কৃষি মূল্যশৃঙ্খলে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়ে এবং গ্রামীণ এলাকায় টেকসই কর্মসংস্থান তৈরি হয়।
বুরকিনা ফাসোয় বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ম্যানেজার হামুদ আবদেল ওয়েদুদ কামিল বলেন, ‘কৃষি এখনো বুরকিনা ফাসোর অর্থনীতির একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ এবং খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতার একটি মূল চাবিকাঠি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি খাতের রূপান্তরে বুরকিনা ফাসোকে সহায়তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে।’

কোথায় বাস্তবায়ন হবে
প্রকল্পটি জাতীয় কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি খাত ও বিকেন্দ্রীকৃত অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে বাস্তবায়িত হবে এবং দেশের সতেরোটি অঞ্চলের চারটিতে চলবে। বিজ্ঞপ্তিতে অঞ্চলগুলোর নাম দেওয়া হয়নি। এগুলো বাছাই করা হয়েছে কৃষি সম্ভাবনা, ধান ও ভুট্টার মতো অগ্রাধিকার মূল্যশৃঙ্খলের উপস্থিতি এবং বিশ্বব্যাংক-অর্থায়িত কৃষি সহনশীলতা ও প্রতিযোগিতা প্রকল্পের (পিআরইসিএ) আওতায় চলমান কাজ সম্প্রসারণের সুযোগ বিবেচনায়।
পিআরইসিএ প্রকল্পের ২০১৯ সালের ৯ আগস্টের মূল্যায়ন নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটির জন্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) ৪৪.০ মিলিয়ন ইউরোর (৫০.০ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ) ঋণ এবং ১৩১.৮ মিলিয়ন ইউরোর (১৫০.০ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ) একটি স্কেল-আপ সুবিধা ঋণ প্রস্তাব করা হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল প্রকল্প এলাকায় নির্বাচিত মূল্যশৃঙ্খলে ক্ষুদ্র উৎপাদক এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষি-উদ্যোক্তাদের উৎপাদনশীলতা ও বাজারে প্রবেশ বাড়ানো।

বুরকিনা ফাসোর কৃষির বাস্তবতা
বুরকিনা ফাসো পশ্চিম আফ্রিকার একটি স্থলবেষ্টিত দেশ; এর উত্তর-পশ্চিমে মালি, উত্তর-পূর্বে নাইজার, দক্ষিণ-পূর্বে বেনিন, দক্ষিণে টোগো ও ঘানা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে আইভরি কোস্ট। পিআরইসিএর ২০১৯ সালের মূল্যায়ন নথিতে বিশ্বব্যাংক লিখেছিল, কৃষি ও পশুপালনে দেশটির শ্রমশক্তির প্রায় ৮৬ শতাংশ নিয়োজিত এবং এটিই দরিদ্রতম মানুষের আয়ের প্রধান উৎস। জোয়ার, বাজরা ও ভুট্টার মতো বেশির ভাগ শস্য বৃষ্টিনির্ভর এবং ফলন কম; ধান, পেঁয়াজ ও টমেটো চাষ হয় সেচের আওতায় বা নিচু জমিতে।
একই নথিতে বলা হয়, বাজারে বিক্রির আগে মাত্র প্রায় ১২ শতাংশ কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত হয়, আর বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের মাত্র ৮ শতাংশ যায় কৃষি খাতে, যার ৪.২ শতাংশ তুলা চাষের অর্থায়নে। জামানতের অভাব ও মূল্যশৃঙ্খলের দুর্বল সংগঠনকে ক্ষুদ্র কৃষকের ঋণ পাওয়ার পথে বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ২০২৫ সালের ১৯ জুনের দেশভিত্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বুরকিনা ফাসোর মোট দানাশস্য উৎপাদন সরকারি হিসাবে ৬.১ মিলিয়ন টন, যা গড়ের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। দেশটির প্রধান দানাশস্যের মধ্যে রয়েছে ভুট্টা, জোয়ার, বাজরা, ধান ও ফোনিও। তবে চলমান সংঘাত খাদ্য নিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ছবি: Africa Rice Center / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বিশ্বব্যাংক, বিশ্বব্যাংক (পিআরইসিএ প্রকল্প মূল্যায়ন নথি, ২০১৯), এফএও জিআইইডব্লিউএস, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)