ব্রাজিলের কৃষকেরা সাধারণত মার্কিন কৃষকদের চেয়ে একরপ্রতি কম খরচে ভুট্টা ও সয়াবিন উৎপাদন করেন, তবে ফলন ও পরিচালন দক্ষতায় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা আছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থার (ইআরএস) নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ফার্মস ডটকম। ২০২৫/২৬ বিপণন বছরে বিশ্বের সয়াবিন রপ্তানির প্রায় ৮৩ শতাংশ ও ভুট্টা রপ্তানির ৫৮ শতাংশ এসেছে এই দুই দেশ থেকে।
গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের হার্টল্যান্ড অঞ্চলের সঙ্গে সয়াবিন ও দ্বিতীয় মৌসুমের ভুট্টার প্রধান অঞ্চল ব্রাজিলের মাতো গ্রোসোর তুলনা করা হয়েছে, সঙ্গে দুই দেশের জাতীয় তথ্য। সয়াবিনে মোট খরচ ব্রাজিলে একরপ্রতি গড়ে ৫৫৮ দশমিক ৯৭ ডলার, যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫৬ দশমিক ১৬ ডলার। ভুট্টায় ব্যবধান আরও বড়: মাতো গ্রোসোতে ৪২০ দশমিক ৫৭ ডলার, হার্টল্যান্ডে ৯৫১ দশমিক ৮২ ডলার। জমির কম দাম এবং একই জমিতে বছরে দুই ফসল, যাতে স্থায়ী খরচ দুই ফসলে ভাগ হয়ে যায়, ব্রাজিলের সুবিধার বড় কারণ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টার ফলন ব্রাজিলের প্রায় দ্বিগুণ; ফলে বুশেলপ্রতি মার্কিন ভুট্টার মোট খরচ মাতো গ্রোসোর চেয়ে বেশি হলেও ব্রাজিলের জাতীয় গড়ের কাছাকাছি। মার্কিন সয়াবিন চাষিদের একর ও বুশেলপ্রতি পরিচালন খরচ কম, যদিও জমির মতো উপরি খরচে মোট খরচ বেশি। মাতো গ্রোসোতে পরিচালন খরচের প্রায় ৩৫ শতাংশ সার ও ৩৪ শতাংশ বালাইনাশক, হার্টল্যান্ডে যথাক্রমে প্রায় ২৩ ও ২২ শতাংশ; সেখানে বীজের অংশ বেশি। ব্রাজিলের সাফরিনিয়া ভুট্টা আগের সয়াবিন ফসলের রেখে যাওয়া নাইট্রোজেনের সুবিধা পায়, আবার সেরাদো অঞ্চলের ক্ষয়প্রাপ্ত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় মাটিতে সয়াবিনে বেশি সার লাগে।
লাভ নির্ভর করে ফসল ও হিসাবের ধরনের ওপর: ভুট্টায় মোট অর্থনৈতিক খরচের ওপর মাতো গ্রোসোর আয় হার্টল্যান্ডের চেয়ে বেশি, তবে জাতীয় পর্যায়ে মার্কিন ভুট্টার আয় ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে যায়। উত্তরের রপ্তানি বন্দর পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নে ব্রাজিলের পরিবহন খরচও কমেছে। গবেষকদের উপসংহার, প্রতিযোগিতা এখন দামের পাশাপাশি জমির খরচ, মুদ্রা ও চাষপদ্ধতির ওপর নির্ভর করছে, তাই মার্কিন চাষিদের ফলনের সুবিধা ধরে রাখতে ও উপরি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
ছবি: Coordenação-Geral de Observação da Terra/INPE / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ফার্মস ডটকম




মন্তব্য
(০)