খুলনা বিভাগের জেলা বাগেরহাটে ২০২৬ সালের ১৩ মে, বুধবার সকালে সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে সংগ্রহ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন।
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ দিলোয়ার হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ এবং সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকির হোসেন। ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
জেলায় লক্ষ্য ৭ হাজার ৫১৩ টন ধান
চলতি বোরো মৌসুমে বাগেরহাট জেলা থেকে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণ ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে ৭ হাজার ৫১৩ টন ধান কেনার লক্ষ্য ঠিক করা হয়। প্রতিবেদনে সাতটি উপজেলার লক্ষ্যমাত্রা জানানো হয়:
- বাগেরহাট সদর: ১ হাজার ২১২ টন
- চিতলমারী: ১ হাজার ৩৬৩ টন
- মোরেলগঞ্জ: ৯৭০ টন
- ফকিরহাট: ৯৪৫ টন
- মোল্লাহাট: ৯০৮ টন
- কচুয়া: ৮৫৩ টন
- রামপাল: ৫৩২ টন
এর আগে ৭ মে মোল্লাহাট উপজেলা সংগ্রহ কমিটির সভায়ও উপজেলার জন্য ৯০৮ টন ধানের লক্ষ্য জানানো হয়েছিল বলে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানায়। একই সভায় উপজেলায় ১ হাজার ৩১৪ টন সিদ্ধ চাল কেনার লক্ষ্য এবং ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সংগ্রহের সময়সীমা জানানো হয়।
সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে হলে ধানের আর্দ্রতা সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ হতে হয়। জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, এবার তাঁরা শতভাগ ধান সংগ্রহ করতে চান; প্রান্তিক কৃষকেরা যাতে সহজে সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি আশা করেন কৃষকেরা ভোগান্তি ছাড়াই ধান বিক্রি করতে পারবেন।

সারাদেশে ৩ মে থেকে সংগ্রহ অভিযান
বাসসের ২২ এপ্রিল ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাদ্য মন্ত্রণালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ৩ মে থেকে সারাদেশে ধান এবং ১৫ মে থেকে চাল সংগ্রহ শুরু হবে, চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এবারের বোরো মৌসুমে সারাদেশে ৫ লাখ টন ধান, সাড়ে ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল, ১ লাখ টন আতপ চাল এবং ৫০ হাজার টন গম কেনার লক্ষ্য ঠিক করা হয়। দাম ধরা হয় প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা, আতপ চাল ৪৮ টাকা এবং গম ৩৬ টাকা।
পাশের খুলনা জেলার ডুমুরিয়ায় ৬ মে সংগ্রহ উদ্বোধনের খবরে দৈনিক বাংলা জানায়, কৃষকের অ্যাপে নিবন্ধিত কৃষকদের মধ্য থেকে লটারিতে বাছাই করা কৃষকেরা গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পান এবং ধানের দাম সরাসরি কৃষকের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। সমকালের ৫ মে ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে কৃষকেরা বলেন, ব্যাংক হিসাব খোলা, তালিকায় নাম তোলা আর নিজ খরচে গুদামে ধান পৌঁছে দেওয়ার মতো শর্ত তাঁদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

বোরো কেন দেশের প্রধান ধান
বোরো শুকনো মৌসুমের ধান, যা বাংলাদেশের মোট ধান উৎপাদনের সবচেয়ে বড় অংশ জোগায়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বিশ্ব খাদ্য তথ্য ও পূর্বাভাস ব্যবস্থার (জিআইইডব্লিউএস) ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়, বছরের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৫৫ শতাংশ আসে বোরো থেকে, আর এর কাটা শেষ হয় জুনে। ২০২৫ সালের বোরো মৌসুমে উৎপাদন রেকর্ড ৩ কোটি ১৭ লাখ টন হয়েছিল বলে সংস্থাটি অনুমান করে।
ছবি: Salauddin.hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দৈনিক বাংলা, সমকাল, এফএও জিআইইডব্লিউএস (বাংলাদেশ কান্ট্রি ব্রিফ), উইকিপিডিয়া




মন্তব্য
(০)