বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলায় গরিব কৃষকের মাঠের পাকা ধান স্বেচ্ছায় ও বিনা পারিশ্রমিকে কেটে ঘরে তুলে দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর, শনিবার দুপুরে উপজেলার চাঁদপাই এলাকায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ মো. শামীমুর রহমান শামীম। জাগো নিউজের মোংলা প্রতিনিধির প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।
ধান কাটার খরচ নিয়ে আয়োজকদের বক্তব্য
উদ্বোধনের সময় শামীমুর রহমান শামীম বলেন, বীজ তৈরি, হালচাষ, চারা রোপণ, সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ ধানের পরিচর্যায় কৃষকের অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়। মৌসুমের শেষে ধান কেটে ঘরে তুলতে দিনমজুরের মজুরি দিতেও তাঁদের হিমশিম খেতে হয়। তাঁর ভাষ্য, এ কারণেই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা এসব কৃষকের ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন, এতে কৃষকেরা উপকৃত হবেন।
তিনি জানান, মোংলার ৬টি ইউনিয়নের গরিব কৃষকদের পাকা ধান কাটার কাজ করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। কতজন কৃষক বা কত জমির ধান এ কর্মসূচিতে কাটা হবে, সে হিসাব প্রতিবেদনে ছিল না।

ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকট
ধান কাটার মৌসুমে খেতমজুরের ঘাটতি ও বাড়তি মজুরির কথা আগেও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। দ্য ডেইলি স্টারের ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে উত্তরাঞ্চলের কৃষকদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলা হয়, রিকশা চালানো ও পোশাক কারখানার মতো বিকল্প কাজের সুযোগ থাকায় শ্রমিকের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, ফলে মজুরি বাড়ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ সময়ে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা হলেও ধান কাটার ভরা মৌসুমে তা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় ওঠে।
একই প্রতিবেদনে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বেলাল উদ্দিন বলেন, একটি কম্বাইন হারভেস্টার প্রায় এক ঘণ্টায় এক একর জমির ধান কাটতে পারে।

মোংলা ও আমন মৌসুম
মোংলা বাগেরহাট জেলার একটি উপজেলা। এর উত্তরে রামপাল, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে দাকোপ উপজেলা; প্রধান নদী পশুর ও মোংলা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর এই উপজেলায়। মোংলা পৌরসভা ছাড়া উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন রয়েছে: বুড়িরডাঙ্গা, চাঁদপাই, চিলা, মিঠাখালী, সোনাইলতলা ও সুন্দরবন।
নভেম্বরের শেষ ভাগে মাঠে থাকা পাকা ধান সাধারণত আমন মৌসুমের। রোপা আমনের বীজ জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ে বীজতলায় বোনা হয়, শ্রাবণ-ভাদ্রে মূল জমিতে রোপণ করা হয় এবং অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে কাটা হয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ২০২৪ সালের জুনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, দেশের বার্ষিক ধান উৎপাদনের প্রায় ৩৫ শতাংশ আসে আমন মৌসুম থেকে, আর ২০২৪ সালের আমন রোপণ শুরু হয়েছিল মে মাসের শেষে।

ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য ডেইলি স্টার, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও জিআইইডব্লিউএস), উইকিপিডিয়া




মন্তব্য
(০)