জীববৈচিত্র্য ও জনস্বাস্থ্য নীতিতে প্রাণিকল্যাণকে অন্তর্ভুক্ত করতে সরকারগুলোকে আহ্বান জানিয়ে নতুন একটি নীতি নির্দেশিকা উন্মোচন হয়েছে ২১ অক্টোবর, আর্মেনিয়ার ইয়েরেভানে চলা জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্য সনদের ১৭তম সম্মেলনে (কপ১৭), জানিয়েছেন ডাউন টু আর্থের হিমাংশু নিতনাওয়ারে।
অ্যানিমেলস ফর বায়োডাইভারসিটি অ্যান্ড হেলথ নামের নির্দেশিকাটি জীববৈচিত্র্য ও স্বাস্থ্যবিষয়ক বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনাকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেয়। এর উদ্যোক্তাদের মতে, জীববৈচিত্র্য হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাণী থেকে মানুষে ছড়ানো রোগ আর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধের (এএমআর) পেছনে অভিন্ন কারণ আছে: বন্যপ্রাণী কীভাবে ধরা, কেনাবেচা ও পালন হয়, আর খামারের প্রাণী কীভাবে পালা হয়, তা রোগজীবাণু ছড়ানো ও এএমআরের ঝুঁকি ঠিক করে। তাঁরা এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুর বিস্তার আর ২০৫০ সালের মধ্যে সরাসরি এএমআরে ১৯ লাখ ১০ হাজার মৃত্যুর পূর্বাভাসের কথা বলেছেন।
খামারের প্রাণীর জন্য নির্দেশিকার সুপারিশ, উচ্চ ঝুঁকির আবদ্ধ পালনব্যবস্থা ধাপে ধাপে তুলে দেওয়া এবং স্থানীয় পরিবেশে খাপ খাওয়া, জিনগতভাবে বৈচিত্র্যময় দেশি জাত সংরক্ষণ। বন্যপ্রাণীর ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিষ্ঠুরভাবে ধরা, পরিবহন ও বাণিজ্য নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, আর শহরে গাছ ও বন্যপ্রাণী চলাচলের করিডর বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
উদাহরণ হিসেবে এসেছে কলম্বিয়ার মেদেয়িনের ৩০টি সবুজ করিডর, যা শহরের গড় তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি কমিয়েছে; বেলজিয়ামের ২০০৯ সালের পোষা স্তন্যপায়ীর অনুমোদিত তালিকা; ২০২৩ সালে ৫৪ হাজারের বেশি বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা দেওয়া ব্রাজিলের পুনর্বাসন কেন্দ্র; আর জার্মানির খাদ্য নির্দেশিকা। প্রাণিকল্যাণকে স্বীকৃতি দেওয়া ওয়ান হেলথ কাঠামোর জন্য উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশ ও ক্যামেরুনকে।
ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর অ্যানিমেলসের জুয়েল ওমোলো বলেন, প্রাণীর স্বাস্থ্য ও কল্যাণ জীববৈচিত্র্য আর মানুষ ও পৃথিবীর স্বাস্থ্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। একই সময়ে প্রকাশিত স্টেট অব বায়োডাইভারসিটি অ্যাকশন প্রতিবেদন সতর্ক করেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ স্থল ও সমুদ্র সংরক্ষণের লক্ষ্য থেকে বিশ্ব পিছিয়ে আছে।
ছবি: Bill Boaden / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)