সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

৩৪ ব্যবসায়িক অংশীদারকে ‘বেস্ট বিজনেস পার্টনার অ্যাওয়ার্ড’ দিল আকিজ এগ্রো ফিড

আকিজ রিসোর্সের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আকিজ এগ্রো ফিড লিমিটেড ২০২৬ সালের ১১ এপ্রিল বনানীর এক অনুষ্ঠানে ৩৪ জন শীর্ষ ব্যবসায়িক অংশীদারকে সম্মাননা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যাত্রা শুরু করে তারা এখন ৬৭টি ফিড পণ্য বিক্রি করছে।

৩৪ ব্যবসায়িক অংশীদারকে ‘বেস্ট বিজনেস পার্টনার অ্যাওয়ার্ড’ দিল আকিজ এগ্রো ফিড
এগ্রোবিজ

দেশের শিল্পগোষ্ঠী আকিজ রিসোর্সের পশুখাদ্য উৎপাদনকারী অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আকিজ এগ্রো ফিড লিমিটেড ২০২৬ সালের ১১ এপ্রিল, শনিবার, রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের ৩৪ জন শীর্ষ ব্যবসায়িক অংশীদারকে সম্মাননা দিয়েছে। জাগো নিউজ ২৪ অনুষ্ঠানটিকে প্রতিষ্ঠানটির ‘বেস্ট বিজনেস পার্টনার অ্যাওয়ার্ড’ হিসেবে প্রকাশ করে। আকিজ রিসোর্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় অংশীদারদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আকিজ রিসোর্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শেখ জসিম উদ্দিন। গবাদিপশু, পোলট্রি ও মাছের খাদ্য তৈরিকারী প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাদের কার্যক্রম শুরু হয় এবং এখন এই তিন খাতে তারা মোট ৬৭টি পণ্য বিক্রি করছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো ১১ থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে তাদের করপোরেট সংবাদ পাতায় একই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

এই প্রতিবেদনে প্রথমে অনুষ্ঠানে কী বলা হয়েছে এবং যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি নিজের সম্পর্কে কী জানিয়েছে, তা তুলে ধরা হয়েছে। এরপর যে শিল্পে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে তার চিত্র দেওয়া হয়েছে: দেশের বাণিজ্যিক ফিডশিল্পের আকার, যে ভুট্টা ও সয়াবিন মিল দিয়ে ফিড তৈরি হয়, যে প্রাণিসম্পদ ও মাছের খামার এই ফিড কেনে এবং ২০১০ সালের যে আইনের অধীনে ফিড উৎপাদনকারীদের লাইসেন্স নিতে হয়। প্রতিষ্ঠানের নিজের সাফল্য নিয়ে যেসব তথ্য এসেছে, সেগুলো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও সাক্ষাৎকারে দেওয়া প্রতিষ্ঠানেরই দাবি; যেসব সংবাদপত্র এগুলো প্রকাশ করেছে, তারা আলাদাভাবে এসব যাচাই করেনি।

বনানীর অনুষ্ঠান


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যাত্রা শুরুর এক বছরের মধ্যেই আকিজ এগ্রো ফিড দেশের ফিডশিল্পে ‘এক অভূতপূর্ব নজির’ স্থাপন করেছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত এই শিল্পে একটি উল্লেখযোগ্য অবস্থান করে নিয়েছে। এগুলো প্রতিষ্ঠানের নিজের বর্ণনা; অনুষ্ঠানের কোনো প্রতিবেদনেই প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি, বাজার অংশীদারত্ব বা মুনাফার কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি।

অনুষ্ঠানে শেখ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের ব্যবসায়িক অংশীদারদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও বিশ্বাস আকিজ এগ্রো ফিডকে এই স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। এই পুরস্কার তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতির প্রতীক।’

আকিজ এগ্রো ফিড লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম হাবিব উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের আগামীর লক্ষ্য দেশের খামারি সমাজকে স্বাবলম্বী করা, উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ করা এবং আকিজ এগ্রো ফিডকে লাইভস্টক শিল্পে একটি বিশ্বস্ত নাম হিসেবে তুলে ধরা। সেই সঙ্গে আমাদের ব্যবসায়িক অংশীদারদেরও নিজ নিজ ব্যবসার ধারাবাহিকতা ও উৎকর্ষ বজায় রাখতে অনুপ্রাণিত করা।’

অনুষ্ঠানে আকিজ রিসোর্সের চিফ পিপল অফিসার মো. আফসার উদ্দিন, চিফ বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার মোহাম্মদ তৌফিক হাসান এবং গ্রুপের কনজিউমার মার্কেট ক্লাস্টারের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার সাবিহা ইয়াসমিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, অংশীদারদের স্বীকৃতি দেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক দৃঢ় করার জন্যই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়, এবং তাদের সঙ্গে একটি টেকসই ও প্রসারিত অংশীদারিত্বের পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৩৪ জন অংশীদারের নাম, পুরস্কারের শ্রেণি বা তারা কোন কোন জেলার, তা জানানো হয়নি; প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদনেও তাদের তালিকা নেই। ফিডের ব্যবসায় একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক অংশীদার মূলত সেই ডিলার ও পরিবেশকেরা, যারা পাইকারি পরিমাণে ফিড কিনে খামারিদের কাছে বিক্রি করেন; নিচে যেমন দেখা যাবে, আকিজ এগ্রো ফিডের নিজের বক্তব্যেও বারবার ডিলারদেরই তাদের নির্ভরতার অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যেভাবে যাত্রা শুরু করে আকিজ এগ্রো ফিড


দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সেদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২১ ডিসেম্বর ঢাকার র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে পণ্যের ক্যাটালগ উন্মোচনের মধ্য দিয়ে আকিজ এগ্রো ফিডকে বাজারে আনা হয়। এই আয়োজনের স্লোগান ছিল ‘রেজাল্ট হিট’, এবং পত্রিকাটির ভাষায় সেখানে কয়েক শ ব্যবসায়িক অংশীদারসহ কৃষি খাতের বিভিন্ন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা উন্নত ইউরোপীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে, যা ‘মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই’ কাজ করে; প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে এই প্রযুক্তিকে জার্মান বলা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) মহাপরিচালক মো. রেয়াজুল হক। পশুখাদ্য উৎপাদনকারীদের লাইসেন্স এই সরকারি দপ্তরই দেয়। তিনি ডিলারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একে অন্যকে দোষারোপ না করে একসঙ্গে কাজ করার এবং খামারি ও কৃষি উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিয়ে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। আকিজ রিসোর্সের চেয়ারম্যান ফারিয়া হোসেন বলেন, পণ্যের মানের প্রশ্নে আকিজ সব সময় আপসহীন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যাত্রা শুরুর অষ্টম মাসে তাদের এক মাসের বিক্রি ১০ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানের এই ঘোষণার ভিত্তিতে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ৭ সেপ্টেম্বর এবং প্রথম আলো ১০ সেপ্টেম্বর খবরটি প্রকাশ করে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে আনুষ্ঠানিক যাত্রার তারিখ বলা হয় ২০২৪ সালের ২১ ডিসেম্বর। একই ঘোষণায় হাবিব উল্লাহ বলেন, তাদের বিক্রয়, টেকনিক্যাল সার্ভিস এবং খামারিবান্ধব কর্মপদ্ধতি খামারি ও ডিলারদের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, এবং তারা খামারপর্যায়ে ফিড কনভারশন, গ্রোথ ও কনসিস্ট্যান্সির সুনির্দিষ্ট ফলাফল নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ফারিয়া হোসেন বলেন, এই সাফল্য তাদের ডিলার এবং প্রথম দিন থেকে যেসব কৃষক তাদের ওপর আস্থা রেখেছেন, তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য অনুযায়ী তাদের পণ্যের মধ্যে রয়েছে ব্রয়লার, লেয়ার ও সোনালি বা দেশি মুরগির খাদ্য, দুগ্ধ ও মাংস উৎপাদনকারী গবাদিপশুর খাদ্য এবং মাছের খাদ্য। ওয়েবসাইটে মাছের খাদ্যের মধ্যে ভাসমান ও ডুবন্ত ফিড এবং চিংড়ির ফিডের কথা বলা হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে দেওয়া ৬৭টি পণ্যের হিসাবটি প্রতিষ্ঠানের নিজের।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের ঘোষণা এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলের অনুষ্ঠান, দুই সময়েই ফিড প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে ছিলেন হাবিব উল্লাহ। তাঁর নিয়োগের ঘোষণায় আকিজ রিসোর্স জানায়, তিনি এর আগে ইসলাম গ্রুপের এগ্রো ডিভিশনের নির্বাহী পরিচালক (অপারেশনস) ছিলেন এবং পূর্বাণী গ্রুপে ঊর্ধ্বতন পদে কাজ করেছেন; নেতৃত্বের কাজে তাঁর দুই দশকের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে।

মাছচাষিদের কাছে বিক্রি হওয়া কারখানায় তৈরি পিলেট আকারের মাছের খাদ্য; প্রতীকী ছবি। ছবি: Narek75 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মাছচাষিদের কাছে বিক্রি হওয়া কারখানায় তৈরি পিলেট আকারের মাছের খাদ্য; প্রতীকী ছবি। ছবি: Narek75 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

পুরস্কারের পেছনে ডিলার ও বিক্রয়কর্মীরা


এপ্রিলের অনুষ্ঠানটি ছিল ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় স্বীকৃতি অনুষ্ঠান। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের একটি হোটেলে আকিজ এগ্রো ফিডের দুই দিনের বার্ষিক বিক্রয় সম্মেলন ‘সুপার হিট সেলস মিট’ শুরু হয়, যেখানে সারা দেশ থেকে প্রায় ২৫০ জন বিক্রয় প্রতিনিধি অংশ নেন। ফারিয়া হোসেন ও শেখ জসিম উদ্দিন সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

বিক্রয়কর্মীদের উদ্দেশে ফারিয়া হোসেন বলেন, তাদের অবিচল প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রমের কারণেই আকিজ এগ্রো ফিড স্বল্প সময়ে শক্ত অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে। শেখ জসিম উদ্দিন বলেন, তারা শুধু পণ্য বিক্রি করেননি, খামারিদের আস্থা অর্জন করেছেন, সম্পর্ক গড়েছেন এবং আকিজ এগ্রো ফিডকে একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। আগের বছরের কাজের জন্য বিভিন্ন শ্রেণিতে সেরা বিক্রয়কর্মীদের পুরস্কার দেওয়া হয়, এবং সম্মেলনে বিক্রয় কৌশল, বাজার সম্প্রসারণ ও গ্রাহকসেবা নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ফেব্রুয়ারির সম্মেলনে পুরস্কার পান প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিক্রয়কর্মীরা; এপ্রিলের অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত হন সেই বাইরের ব্যবসায়ীরা, যারা প্রতিষ্ঠানের ফিড বিক্রি করেন। হাবিব উল্লাহর নিয়োগের ঘোষণায় আকিজ রিসোর্স তাঁর অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছিল ‘ডিলার, খামারি ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আরও দৃঢ় অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা’।

২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল, বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবসে প্রকাশিত প্রথম আলোর এক সাক্ষাৎকারে শেখ জসিম উদ্দিন ফিডের বস্তার বাইরে প্রতিষ্ঠানটি কী দেয় বলে দাবি করে, তার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, খামারিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সঠিক পুষ্টিজ্ঞান এবং খরচ ও লাভের হিসাবের অভাব; এ জন্য তারা নিয়মিত সেমিনার ও মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ করেন, আর তাদের টেকনিক্যাল সার্ভিস টিম খামারিদের ফিড ব্যবস্থাপনা, রোগপ্রতিরোধ, পরিবেশ ও হাউজিং বিষয়ে পরামর্শ দেয়। তিনি জানান, ভালো ‘ফিড কনভারশন রেশিও’ বজায় রেখে তারা ফিড তৈরি করেন, যাতে খামারির খরচ কমে। ফিড কনভারশন রেশিও হলো একটি প্রাণীর এক একক ওজন বাড়াতে কতটা খাদ্য লাগে তার হিসাব।

প্রায় ১৫০টি নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের ফিডশিল্প


শিল্পটির আকার নিয়ে সাম্প্রতিক সবচেয়ে ভালো প্রকাশ্য হিসাব দিয়েছে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের দপ্তর। অনুষ্ঠানের চার দিন আগে, ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল তারিখের ‘গ্রেইন অ্যান্ড ফিড অ্যানুয়াল’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফিআব) ও বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) তথ্য অনুযায়ী দেশের প্রায় ১৫০টি নিবন্ধিত ফিড কোম্পানি মিলে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ টন বাণিজ্যিক ফিড উৎপাদন করে। এর বাইরে বহু অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান আরও আনুমানিক ৫ লাখ টন ফিড তৈরি করে। মোট উৎপাদিত ফিডের প্রায় ৭০ শতাংশ পোলট্রি ফিড; বাকিটা মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্য।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়, পোলট্রি, মৎস্যচাষ ও গবাদিপশু খাতের সম্প্রসারণের ফলে দেশে ফিডের উৎপাদন বেড়েছে, আর সেই কারণেই আমদানি করা ভুট্টার চাহিদাও জোরালো রয়েছে।

আকিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এক বছর আগে নিজের হিসাব দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রথম আলোর সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রতিবছর ৬৫ থেকে ৭০ লাখ মেট্রিক টন ফিড ব্যবহৃত হয়, যার ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ দেশেই উৎপাদিত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল বণিক বার্তায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি বছরে একই পরিমাণ চাহিদার কথা বলেন, তবে জানান এর ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ দেশীয় উৎপাদনে পূরণ হচ্ছে, এবং দেশে ২৫০টির বেশি নিবন্ধিত ও ৮৩টি অনিবন্ধিত ফিড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাঁর এই সংখ্যা ২০২৬ সালে ইউএসডিএর উদ্ধৃত ফিআব ও বিপিআইসিসির হিসাবের সঙ্গে মেলে না।

বণিক বার্তার সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের দৃষ্টিতে শিল্পের প্রধান সমস্যাগুলো তুলে ধরেন: কাঁচামালের বড় অংশ, বিশেষ করে সয়াবিন মিল এবং ভিটামিন ও মিনারেল জাতীয় উপাদান এখনো আমদানি করতে হয়, আর ডলার সংকট ও এলসি জটিলতায় কাঁচামাল সংগ্রহের সময় ও খরচ দুটিই বেড়েছে; তাঁর ভাষায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে বাজারে নিম্নমানের ফিড থাকায় খামারিদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে; এবং অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারি এখনো মানসম্পন্ন ফিডের গুরুত্ব পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি। তিনি ফিডশিল্পের জন্য প্রণোদনা, নিম্নমানের ফিড নিয়ন্ত্রণে একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক সংস্থা, গবেষণায় বেশি বিনিয়োগ এবং খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের দাবি জানান। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে তিনি ফিডের কাঁচামালে শুল্ক ও ভ্যাট ছাড়, স্মার্ট ফার্মিং সরঞ্জামে কর রেয়াত এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা চান। তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটি ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ভিত্তিক একটি স্মার্ট ফার্মিং প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যেখানে সেন্সরের মাধ্যমে খামারের তাপমাত্রা, খাদ্যগ্রহণ ও প্রাণীর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা হবে।

ফিডের প্রধান উপাদান ভুট্টা


ইউএসডিএর ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আয়তন ও উৎপাদন দুই দিক থেকেই ধানের পর ভুট্টা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দানাশস্য, এবং মোট ফলনের প্রায় ৯০ শতাংশই যায় ফিডশিল্পে; বাকিটা স্টার্চ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। মোট উৎপাদনের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে শীতকালীন ভুট্টা থেকে, যা নভেম্বর-ডিসেম্বরে বোনা হয় এবং মার্চ-এপ্রিলে কাটা হয়। গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা লাগানো হয় মার্চ-এপ্রিলে, কাটা হয় আগস্ট-সেপ্টেম্বরে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সর্বশেষ ফসল প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইউএসডিএর দপ্তর ২০২৫-২৬ বিপণন বছরে ভুট্টার আবাদ ৬ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর এবং উৎপাদন ৫৮ লাখ টন হবে বলে হিসাব করে, আর ২০২৬-২৭ সালের জন্য ৬ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর ও ৫৯ লাখ টনের পূর্বাভাস দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, উৎপাদন খরচের তিন গুণ লাভ হওয়ায় এবং একই মৌসুমে বোরো ধান ও সবজির তুলনায় উপকরণ খরচ কম হওয়ায় কৃষকেরা ভুট্টার দিকে ঝুঁকছেন। প্রধান উৎপাদনকারী জেলাগুলো উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে, যেমন লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও বগুড়া; এর সঙ্গে জামালপুর, চুয়াডাঙ্গা, নাটোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ। উপকূলীয় জেলাগুলোতে এবং নদীতীর ও চরের জমিতেও ভুট্টার চাষ ছড়িয়ে পড়ছে।

দেশের উৎপাদনে চাহিদা মেটে না। প্রতিবেদনে ২০২৫-২৬ সালে ভুট্টা আমদানি ১৮ লাখ টন হবে বলে হিসাব করা হয়, যা আগের বছরের চেয়ে ২৭ দশমিক ২ শতাংশ বেশি; ফিডশিল্পের সম্প্রসারণ ও বিশ্ববাজারে কম দাম এর কারণ। বিপণন বছরের প্রথম ১০ মাসে বাংলাদেশ প্রায় ১৫ লাখ টন ভুট্টা আমদানি করে, যার বেশির ভাগ এসেছে ব্রাজিল, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভুট্টা আমদানির ৭৮ শতাংশ এসেছে ব্রাজিল থেকে, আর ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১১ শতাংশ করে। দীর্ঘদিনের বড় সরবরাহকারী ভারত ২০২৪ সাল থেকে জৈব জ্বালানিতে বেশি ভুট্টা ব্যবহার করায় তাদের রপ্তানিযোগ্য উদ্বৃত্ত কমে গেছে।

ক্রেতা ফিড কোম্পানিগুলোই। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের পর প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা কেনে বাংলাদেশের তিনটি ফিড কোম্পানি; প্রায় ৬০ হাজার টনের সেই চালান ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়, এবং পরে ফিড কোম্পানিগুলোর একটি কনসোর্টিয়াম আরও দুটি চালান আনে। সরকার ভুট্টা সংগ্রহ বা মজুত করে না বলে ফিড মিলগুলো নিজেদের সাইলোতে ভুট্টা সংরক্ষণ করে। ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ছাড়া ভুট্টা আমদানিতে কোনো শুল্ক নেই; ফিডশিল্পকে সহায়তা দিতে সরকার ভুট্টার ওপর থেকে সব শুল্ক তুলে নিয়েছে। ২০২৫-২৬ সালে খাদ্য ও অবশিষ্ট ব্যবহারে ভুট্টার পরিমাণ ৭১ লাখ টন ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশের একটি ভুট্টাখেত; দেশের ভুট্টার বেশির ভাগই যায় পশুখাদ্যে। ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বাংলাদেশের একটি ভুট্টাখেত; দেশের ভুট্টার বেশির ভাগই যায় পশুখাদ্যে। ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সয়াবিন মিল ও অন্যান্য উপাদান


ইউএসডিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোলট্রি ফিডের প্রধান কাঁচামাল ভুট্টা, আর মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্যে ভুট্টার সঙ্গে সয়াবিন মিল বেশি ব্যবহৃত হয়। ফিডশিল্পের সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বাণিজ্যিক পোলট্রি ফিডে ভুট্টার অংশ ৫০ থেকে ৬৫ শতাংশ বলা হয়েছে। অন্যান্য প্রচলিত উপাদানের মধ্যে আছে ফিশ মিল, ডিস্টিলার্স ড্রায়েড গ্রেইনস উইথ সলিউবলস (ডিডিজিএস), এক্সট্রুডেড ফুল-ফ্যাট সয়াবিন, খুদ চাল, রাইস পলিশ, রেপসিড ও সরিষার খৈল, কর্ন গ্লুটেন মিল, চুনাপাথরের দানা ও তেলমুক্ত চালের কুঁড়া। কিছু ফিড মিল প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ গমের আটা ব্যবহার করে, কেউ কেউ গমের ভুসি। পোলট্রি, দুগ্ধ ও মৎস্য খাতের গ্রাহকদের পুষ্টি চাহিদা অনুযায়ী কোম্পানিগুলো ফর্মুলা তৈরি করে, আর উপাদানের দাম ও প্রাপ্যতা অনুযায়ী অনুপাত বদলায়।

সয়াবিন থেকে তেল বের করে নেওয়ার পর যে প্রোটিনসমৃদ্ধ অংশ থাকে, সেটিই সয়াবিন মিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাসমান মাছের খাদ্যে এটি প্রোটিনের প্রধান উৎস, আর মৎস্যশিল্প ক্রমেই বেশি সয়াবিন মিল ও ডিডিজিএসযুক্ত খাদ্যের ওপর নির্ভর করছে।

২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রথম আলোর সাক্ষাৎকারে শেখ জসিম উদ্দিন বলেন, সয়াবিন মিল, প্রিমিক্স ও এনজাইম জাতীয় উপাদান এখনো বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, এবং বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি, ডলার সংকট ও এলসি জটিলতা সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায়। তিনি জানান, কাঁচামালের মান ধারাবাহিক রাখতে তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ‘মাদার ভেসেল’ ব্যবহার করে দেশি ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করেন।

সয়াবিন মিল, অনেক পশু ও মাছের খাদ্যের প্রধান প্রোটিন উপাদান; যুক্তরাষ্ট্রে তোলা প্রতীকী ছবি। ছবি: United Soybean Board / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সয়াবিন মিল, অনেক পশু ও মাছের খাদ্যের প্রধান প্রোটিন উপাদান; যুক্তরাষ্ট্রে তোলা প্রতীকী ছবি। ছবি: United Soybean Board / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

যে প্রাণিসম্পদ ও মাছের খামার এই ফিড কেনে


ফিডশিল্প যে প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য কাজ করে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর প্রতিবছর তার হিসাব প্রকাশ করে। অধিদপ্তরের ‘লাইভস্টক ইকোনমি অ্যাট আ গ্ল্যান্স ২০২৩-২০২৪’ অনুযায়ী স্থির মূল্যে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এই খাতের অবদান ১ দশমিক ৮০ শতাংশ, প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১৫ শতাংশ, আর কৃষি জিডিপিতে অংশ ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। চলতি মূল্যে খাতটির জিডিপির পরিমাণ ৮২ হাজার ১৪ কোটি টাকা। অধিদপ্তরের হিসাবে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানে এই খাতের অংশ ২০ শতাংশ এবং আংশিক কর্মসংস্থানে ৫০ শতাংশ। ডিএলএসের তথ্যের বরাতে ইউএসডিএর ২০২৬ সালের এপ্রিলের প্রতিবেদনে জিডিপিতে খাতটির অবদান ১ দশমিক ৮১ শতাংশ, কৃষি জিডিপিতে ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ বলা হয়েছে।

অধিদপ্তরের একই সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে দুধ উৎপাদন হয়েছে ১৫০ দশমিক ৪৪ লাখ মেট্রিক টন, যেখানে চাহিদা ১৫৮ দশমিক ৭৮ লাখ মেট্রিক টন; মাংস ৯২ দশমিক ২৫ লাখ মেট্রিক টন, চাহিদা ৭৬ দশমিক ২১ লাখ মেট্রিক টন; আর ডিম ২ হাজার ৩৭৪ দশমিক ৯৭ কোটি, চাহিদা ১ হাজার ৮০৯ দশমিক ৬০ কোটি। অধিদপ্তর জনপ্রতি দৈনিক ২৫০ মিলিলিটার দুধ ও ১২০ গ্রাম মাংস এবং বছরে ১০৪টি ডিমের প্রয়োজন ধরে চাহিদা হিসাব করে; জনপ্রতি প্রাপ্যতা দেখানো হয়েছে দৈনিক ২৩৪ দশমিক ৪৫ মিলিলিটার দুধ ও ১৪৩ দশমিক ৭৭ গ্রাম মাংস এবং বছরে ১৩৫ দশমিক ০৯টি ডিম।

এসব প্রাণীর বেশির ভাগই ছোট খামারে। ইউএসডিএর প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষুদ্র খামারিরা সাধারণত এক থেকে পাঁচটি প্রাণী পালন করেন; পোলট্রি এই খাতের সবচেয়ে বাণিজ্যিক অংশ, যদিও গ্রামের অনেক পরিবার এখনো বাড়ির উঠানে মুরগি ও হাঁস পালে; আর দেশের বেশির ভাগ মাংস ও দুধ আসে লাখো ক্ষুদ্র খামারির কাছ থেকে। প্রতিবেদন অনুযায়ী দুগ্ধ খাতে বাণিজ্যিক দানাদার খাদ্যের ব্যবহার সীমিত, কারণ বেশির ভাগ ক্ষুদ্র ও মাঝারি গবাদিপশুর খামার নিজেদের তৈরি খাদ্য খাওয়াতে পছন্দ করে; দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এক গবেষণায় দেখা গেছে, জরিপ করা দুগ্ধ খামারের অর্ধেক নিজেরাই খাদ্য মিশিয়ে নেয়। অনেক স্থানীয় লেয়ার খামারও ভুট্টা ও প্রিমিক্স দিয়ে নিজেরা খাদ্য তৈরি করে, যা বাণিজ্যিক ফিডের হিসাবে ধরা হয় না।

আরেকটি বড় বাজার মাছচাষ। প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের ৫০ লাখের বেশি পরিবারের জীবিকা মৎস্যচাষ, আর অনেক চাষি নিয়ন্ত্রিত খাদ্য প্রয়োগ, উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা ও মাঝারি ঘনত্বে পোনা মজুতের আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে চলে গেছেন; চাষ করা মাছের মধ্যে প্রধান কার্প ও তেলাপিয়া।

বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) একটি দুগ্ধ খামার। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) একটি দুগ্ধ খামার। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ফিড উৎপাদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য আইন


বাংলাদেশে ফিড উৎপাদনকারী ও বিক্রেতারা মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০-এর অধীনে কাজ করেন। আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া কেউ মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, আমদানি, রপ্তানি, বিপণন, বিক্রয় ও বিতরণ করতে পারবেন না; অর্থাৎ লাইসেন্সের শর্ত কেবল উৎপাদন নয়, বিক্রি ও বিতরণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ৫ ধারা অনুযায়ী মৎস্যখাদ্যের লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং পশুখাদ্যের ক্ষেত্রে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অথবা তাঁদের ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। লাইসেন্সের মেয়াদ এক বছর, এবং তা নবায়ন করতে হয় (৭ ধারা)।

আইন অনুযায়ী সরকার বিধি দ্বারা ফিডের বিভিন্ন উপাদানের আদর্শমাত্রা নির্ধারণ করবে, এবং বাণিজ্যিক উৎপাদনে তা মানা বাধ্যতামূলক; ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় আদর্শমাত্রা না পাওয়া গেলে, কিংবা পুষ্টিবিরোধী বা ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেলে উৎপাদনকারীর লাইসেন্স বাতিল করা যাবে (১০ ধারা)। মান যাচাইয়ের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাজারজাতকরণের যেকোনো পর্যায়ে উৎপাদক, আমদানিকারক বা বিক্রেতার কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে পারেন (১১ ধারা), এবং কারখানা, মজুতের স্থান, যানবাহন ও বিক্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করতে পারেন (১৫ ধারা)। ক্ষতিকর বা ভেজাল প্রমাণিত ফিড বাজেয়াপ্ত ও বিনষ্ট করা যাবে (১৬ ধারা)।

১৩ ধারা অনুযায়ী অনুমোদিত পাত্র বা প্যাকেটে বায়ুনিরোধক অবস্থায় মোড়কজাত না হলে এবং মোড়কে নিচের তথ্যগুলো না থাকলে কোনো ফিড বাজারজাত করা যাবে না:

  • প্রস্তুতকারকের নাম ও যে দেশে প্রস্তুত সেই দেশের নাম;
  • সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও নিবন্ধন নম্বর;
  • ফিডের প্রকৃত ওজন;
  • বিভিন্ন খাদ্য উপকরণ ও পুষ্টি উপাদানের নাম এবং শতকরা হার;
  • লট নম্বর বা শনাক্তকরণের অন্য উপায়;
  • উৎপাদিত পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ কোড;
  • কোন জাতের মাছ বা পশুর খাদ্য, তার উল্লেখ;
  • উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ।

১৪ ধারায় মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিক, গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড ও কীটনাশকসহ অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই আইনের অধীনে অপরাধের শাস্তি অনূর্ধ্ব এক বছরের কারাদণ্ড, অনূর্ধ্ব ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড (২০ ধারা)। অপরাধগুলো অ-আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য, এবং মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো আদালত মামলা বিচারার্থে গ্রহণ করবে না (১৮ ও ১৯ ধারা)।

ছবি: Khaleq / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, বণিক বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস (গ্রেইন অ্যান্ড ফিড অ্যানুয়াল, বাংলাদেশ, এপ্রিল ২০২৬), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ আইন (মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০), আকিজ রিসোর্স

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ইংল্যান্ডে যবের ফলন ১৪ বছরে সর্বনিম্ন, গম সামান্য বেশি

যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার প্রাথমিক হিসাবে ইংল্যান্ডে যব উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টন হয়েছে, গম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন; গমের তুলনায় পশুখাদ্যের যব বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।

Farmers Weekly১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

নিজস্ব কারখানা ছেড়ে চুক্তিভিত্তিক ও যৌথ কারখানায় ঝুঁকছে উদ্ভিজ্জ মাংস

চাহিদা অনিশ্চিত থাকায় উদ্ভিজ্জ মাংসের ব্র্যান্ডগুলো নিজস্ব কারখানার বদলে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন, যৌথ অবকাঠামো ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের পুরোনো যন্ত্রপাতির দিকে ঝুঁকছে বলে জানিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

FoodNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

সারের দাম দেখার প্ল্যাটফর্ম ক্লিয়ারকস্টে বিনিয়োগ, সালফার সংকটে কমছে ফসফরাস

কৃষকদের সারের দাম ও চালান দেখার এবং সরবরাহ চুক্তির সুযোগ দেওয়া কানাডার স্টার্টআপ ক্লিয়ারকস্ট সিরিজ এ তহবিল পেয়েছে; ২০২৭ সালের শুরুতে উত্তর আমেরিকাজুড়ে নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু করবে তারা।

AgNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)