সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

কলাপাড়ায় কৃষকের নজর কেড়েছে ব্র্যাকের সৌরচালিত ভ্রাম্যমাণ সেচপাম্প

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার নীলগঞ্জে শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য ব্র্যাক সোলার প্যানেলচালিত ভ্রাম্যমাণ সেচপাম্প তৈরি করেছে; ২০২৫ সালের মে মাসে জানা যায়, পুকুর, খাল বা জলাধারের পাড়ে বসিয়ে চালানো যায় এমন এই পাম্প স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়েছে।

কলাপাড়ায় কৃষকের নজর কেড়েছে ব্র্যাকের সৌরচালিত ভ্রাম্যমাণ সেচপাম্প
মৎস্য

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ এলাকার কৃষকদের জন্য সৌরশক্তিতে চলা একটি ভ্রাম্যমাণ সেচপাম্প তৈরি করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। জাগো নিউজ ২৪ ২০২৫ সালের ৪ মে জানায়, শুষ্ক মৌসুমে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য তৈরি এই পাম্প এমনভাবে বানানো যে সহজেই যে কোনো জায়গায় বসিয়ে পুকুর, খাল কিংবা জলাধার থেকে সৌরবিদ্যুতে পানি তুলে জমিতে দেওয়া যায়। এরই মধ্যে স্থানীয় কৃষকদের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আকারভেদে এমন একটি সেচপাম্প তৈরিতে ৭ থেকে ৯ লাখ টাকা খরচ হতে পারে।

কলাপাড়া পটুয়াখালী জেলার উপকূলীয় একটি উপজেলা, আয়তন ৪৯১ দশমিক ৮৯ বর্গকিলোমিটার। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী এখানে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯৩ জন মানুষের বাস। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের একটি নীলগঞ্জ; আন্ধারমানিক, নীলগঞ্জ ও ধানখালী এখানকার প্রধান নদী। সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটাও এই উপজেলায়।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

চালক ও কৃষকের অভিজ্ঞতা


সেচপাম্পটির চালক মো. সজিব জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি এখন প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পাম্প চালাই। যারা পানি নেন, তারা খুশি। তাদের খরচ কমেছে, আমারও কিছু আয় হচ্ছে।’ পাম্পটি একটি অটোরিকশায় বসানো। সজিব জানান, সেচের কাজ না থাকলে তিনি এই অটোরিকশাতেই যাত্রী ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য পরিবহন করেন; মৌসুমের শুরুতে সার ও বীজ আনা-নেওয়ার জন্যও কৃষকেরা তাকে ডাকেন।

স্থানীয় কৃষক নিতাই চন্দ্র বলেন, ‘জমিতে সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হলে সজিবকে (সেচপাম্পের চালক) ফোন দিলেই সে তার পাম্প নিয়ে পৌঁছে যায়। খালের পাড়ে কিংবা পুকুর পাড়ে মেশিন বসিয়ে দিলে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পানি উঠতে থাকে। এখানে যেমন ব্যয় কম হয়, তেমনি পরিবহনসহ অন্যান্য বিষয়ে ঝামেলা নেই।’

শেরপুরে ধানখেতে পানি পৌঁছে দেওয়া একটি সরু নালা। ছবি: Ayman Nakib Badhan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
শেরপুরে ধানখেতে পানি পৌঁছে দেওয়া একটি সরু নালা। ছবি: Ayman Nakib Badhan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ব্র্যাকের ভ্রাম্যমাণ সৌর সেচব্যবস্থা


ব্র্যাকের ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রোগ্রামের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার তৌসিফ আহমেদ কুরাইশি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষকরা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। এই সৌরচালিত সেচ প্রযুক্তি শুধু তাদের কৃষিকাজ সহজ করছে না বরং খরচ কমিয়ে আয়ের নতুন পথ তৈরি করছে।’ তিনি জানান, ধাপে ধাপে প্রযুক্তিটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে ব্র্যাক।

এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে ব্র্যাকের ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রোগ্রামের কর্মকর্তাদের লেখা এক নিবন্ধে এই ব্যবস্থার বিবরণ দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, ব্র্যাকের অ্যাডাপটেশন ক্লিনিক প্রকল্প পটুয়াখালী, জামালপুর ও সাতক্ষীরায় মোট চারটি ভ্রাম্যমাণ সৌর সেচব্যবস্থা দিয়ে কৃষকদের সেচ দিয়েছে। প্রতিটিতে রয়েছে ৩ দশমিক ৩ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল, ৩ কিলোওয়াটের হাইব্রিড এমপিপিটি নিয়ন্ত্রক এবং ৩ হর্সপাওয়ারের সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প, পাইপের ব্যাস ৩ ইঞ্চি। বহনযোগ্য হওয়ায় এক মৌসুমে পাম্পটি পাঁচ-ছয়টি জায়গায় ব্যবহার করা যায়, প্রতিটি জায়গায় অন্তত ১৮ থেকে ২০ জন কৃষক এর সুবিধা পান। একজন কৃষককে বেছে নিয়ে পাম্প চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়; তিনি প্রচলিত সেচের খরচের মোটামুটি ৩০ শতাংশ ভাড়ায় সেচ দেন।

ঢাকার মহাখালীতে ব্র্যাকের প্রধান কার্যালয় ব্র্যাক সেন্টার। ছবি: ANKAN / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকার মহাখালীতে ব্র্যাকের প্রধান কার্যালয় ব্র্যাক সেন্টার। ছবি: ANKAN / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ডিজেলনির্ভর সেচ ও সৌর পাম্প


বাংলাদেশে সেচের বড় অংশ তখনো ডিজেলচালিত পাম্পে হতো। পরিবেশবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মোঙ্গাবে ২০২৪ সালের মে মাসে জানায়, দেশের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের ১ দশমিক ৬ শতাংশ আসে ডিজেল পাম্প থেকে, আর কৃষির মোট খরচের ৪৩ শতাংশ যায় সেচে। ইডকল তত দিনে দেশে ২ হাজার ২২৬টি সৌর সেচপাম্প বসিয়েছিল এবং সরকারের পরিকল্পনা ছিল ৪৫ হাজার সৌর পাম্প দিয়ে ২ লাখ ডিজেল পাম্পের জায়গা নেওয়া। একই প্রতিবেদনে কৃষকেরা অভিযোগ করেন, রাতে বা কুয়াশাচ্ছন্ন দিনে সৌর পাম্প চলে না বলে তারা সময়মতো পানি পান না। খাল ও পুকুরের পাড়ে সরিয়ে নেওয়া যায় বলে একটি ভ্রাম্যমাণ পাম্প এক মৌসুমে একাধিক জায়গার কৃষকের কাজে লাগে।

ছবি: বিদ্যুৎ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, মোঙ্গাবে, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)