সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

রমজানে পাবনায় ফলের দাম কেজিতে ৩০-৭০ টাকা বেশি, ইফতারে আপেল-মাল্টা বিলাসিতা

২০২৬ সালের রমজানের প্রথম সপ্তাহে পাবনা শহরে প্রতি কেজি ফলের দাম রোজার আগের তুলনায় ৩০ থেকে ৭০ টাকা বেশি ছিল; সবচেয়ে বেশি বেড়েছিল আপেল ও মাল্টার দাম, যা নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়।

রমজানে পাবনায় ফলের দাম কেজিতে ৩০-৭০ টাকা বেশি, ইফতারে আপেল-মাল্টা বিলাসিতা
ফল

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, রমজানের প্রায় এক সপ্তাহের মাথায়, পাবনা শহরের ক্রেতাদের রোজা শুরুর আগের তুলনায় প্রতি কেজি ফলে ৩০ থেকে ৭০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছিল। জাগো নিউজ ২৪ ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এ খবর দেয়। সবচেয়ে বেশি বেড়েছিল আপেল ও মাল্টার দাম। প্রতিবেদনের ভাষায়, নিম্ন আয়ের অনেক পরিবারের জন্য এক টুকরো আপেল বা মাল্টা দিয়ে ইফতার তখন প্রায় অসাধ্যের গল্প হয়ে উঠেছিল।

বাংলাদেশে ১৪৪৭ হিজরির রমজান মাস শুরু হয় ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার। বাসস জানায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় নিশ্চিত করা হয় যে নেত্রকোনা, সিরাজগঞ্জ ও কক্সবাজার জেলায় নতুন চাঁদ দেখা গেছে। বাংলাদেশে ইফতারের আয়োজনে ফল প্রায় নিয়মিত অনুষঙ্গ, আর প্রতি রমজানেই এর চাহিদা বাড়ে।

জাগো নিউজের প্রতিনিধি পাবনা শহরের ফলের দোকানগুলো ঘুরে ক্রেতা, বিক্রেতা এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সঙ্গে কথা বলেন। মাসের একেবারে শুরুতে দাম যে চূড়ায় উঠেছিল, তা থেকে কিছুটা কমলেও রমজানের আগের তুলনায় দাম তখনো বেশ চড়া ছিল। ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহ কমের অজুহাতে বিক্রেতারা দাম বাড়িয়েছেন; বিক্রেতারা বলেন, জেলায় যে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ফল সরবরাহ করেন, দাম ঠিক হয় তাঁদের হাতেই, আর তাঁদের নিজেদের বিক্রিও কমে গেছে।

রমজানের প্রথম সপ্তাহে পাবনা শহরে ফলের দাম


প্রতি কেজি লাল আপেল তখন বিক্রি হচ্ছিল ৩৮০ টাকায়। রমজানের আগের কয়েক দিন থেকে দ্বিতীয় রোজার শুরু পর্যন্ত এর দাম উঠেছিল ৪০০ টাকায়; রমজানের আগে ছিল ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা। অন্যান্য আমদানি করা ফলের দামেও একই চিত্র দেখা যায়। প্রতিবেদনে রমজানের আগের দামের পাশে যে দাম লেখা হয়েছিল:

  • ফুজি আপেল: প্রতি কেজি ৩৪০ টাকা, রমজানের আগে ছিল ৩০০ টাকা।
  • গালা আপেল: প্রতি কেজি ৪২০ টাকা, আর সবুজ আপেল ৪০০ টাকা; দুটির দামই একইভাবে বেড়েছিল।
  • কিনু কমলা: প্রতি কেজি ২৬০ টাকা, আগে ছিল ২২০ টাকা।
  • ম্যান্ডারিন কমলা: প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, আগে ছিল ৩২০ টাকা।
  • নাশপাতি: প্রতি কেজি ৪৪০ টাকা, আগে ছিল ৩৫০ টাকা।
  • মাল্টা: প্রতি কেজি ৩৪০ টাকা, আগে ছিল ৩০০ টাকা।
  • বেদানা (আনার): আকারভেদে প্রতি কেজি ৫২০ থেকে ৬১০ টাকা, আগে ছিল ৫০০ থেকে ৫৮০ টাকা; তারও আগে দাম ছিল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে।

তুলনামূলক কম দামি ফলের মধ্যে প্রতি কেজি আনারস বিক্রি হচ্ছিল ৭০ টাকায় আর চলতি মৌসুমের তরমুজ ৮০ টাকায়। রমজানের শুরুতে ‘জান্নাত’ তরমুজ বিক্রি হয়েছিল কেজি ১০০ টাকায়। দ্বিতীয় রোজা পর্যন্ত যে বরই (কুল) কেজি ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, তা নেমে আসে ১০০ টাকায়। প্রতি হালি (চারটি) কলা বিক্রি হচ্ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকায়।

রোজা ভাঙার প্রথাগত খাবার খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছিল প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রমজানের এক সপ্তাহ আগে থেকে প্রথম রোজা পর্যন্ত এসব খেজুর বিক্রি হয়েছিল ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দরে।

ব্যতিক্রম ছিল আঙুর; এর দাম কমেছিল। সাধারণ বা সবুজ আঙুর প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছিল ৪০০ থেকে ৪২০ টাকায়, আগে ছিল ৪৫০ টাকা। লাল আঙুর ৬০০ টাকা থেকে নেমে ৫৫০ টাকা আর কালো আঙুর ৬০০ টাকা থেকে নেমে ৫৬০ টাকা হয়েছিল।

রমজানের শুরুকে ঘিরে যেভাবে দাম বেড়েছিল


প্রতিবেদন অনুযায়ী, রমজানের সপ্তাহ দুয়েক আগে বিভিন্ন ফলের দাম কিছুটা কম ছিল; রমজান শুরুর আগের সপ্তাহ থেকে বাজারে উত্তাপ বাড়তে থাকে। সবচেয়ে বেশি দাম বাড়ে রমজানের দুদিন আগে থেকে দ্বিতীয় রোজা পর্যন্ত, যখন প্রতি কেজি ফলের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়ে যায়। এরপর দাম কিছুটা কমে, তবু রমজানের আগের তুলনায় ক্রেতাদের ৩০ থেকে ৭০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছিল।

একই দিনগুলোতে রাজধানীর বাজারেও প্রায় একই চিত্র পেয়েছিলেন সাংবাদিকেরা। রমজানের প্রথম দিন, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ঢাকা ট্রিবিউন পুরান ঢাকার ফলের দোকানে প্রতি কেজি কালো আঙুর ৬০০ টাকা, সবুজ আঙুর ৪২০ টাকা, সাদা আপেল ৪২০ টাকা, লাল আপেল ৪০০ টাকা, কমলা ৩৬০ টাকা, নাশপাতি ৪৫০ টাকা এবং মাল্টা ৩৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখে। দাম জানতে চাওয়া কয়েকজন ক্রেতা বলেন, প্রথম দিনেই যদি দাম এত চড়া হয়, কয়েক দিনের মধ্যে হয়তো ফল কেনার সাধ্যই থাকবে না। পুরান ঢাকার ফল ব্যবসায়ী সাত্তার দাবি করেন, পাইকারিতে প্রতি কেজি ফলের দাম ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে; তাঁর ভাষায়, তাঁদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাঁরা নিজেরা দাম বাড়াচ্ছেন না।

দুদিন পর, ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার, ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, রাজধানীর বাজারে কোনো কোনো ফলের দাম কেজিতে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। জাতভেদে আপেল বিক্রি হচ্ছিল প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৪৪০ টাকায়, কমলা ৩৫০ টাকায়, বেদানা ৫৬০ টাকায়, নাশপাতি ৪৪০ টাকায়, মাল্টা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়, আঙুর ৪৫০ টাকায় এবং খেজুর ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। দেশি ফলের মধ্যে বরই প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং পেয়ারা ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা; তরমুজ বাজারে কমই দেখা যাচ্ছিল, দাম ছিল কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর পত্রিকাটিকে বলেন, দাম ঠিক হয় পাইকারি বাজারে, আর বেশি দামে কিনে লোকসানে বিক্রি করা যায় না। বনশ্রীর বাসিন্দা সেলিম বলেন, ফল এখন নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে; তাঁর ভাষায়, কর্তৃপক্ষ সকালে ব্যবসায়ীদের জরিমানা করে, কিন্তু বিকেল হতেই পরিস্থিতি আগের মতো হয়ে যায়।

কুমিল্লার একটি রাস্তায় ফল বিক্রি করছেন এক বিক্রেতা। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
কুমিল্লার একটি রাস্তায় ফল বিক্রি করছেন এক বিক্রেতা। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

ক্রেতারা বলছেন, ফল নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে


পাবনার ক্রেতারা জাগো নিউজকে বলেন, আমদানি করা ফলের দাম সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা দেশি ফলের দিকে ঝুঁকছেন, কিন্তু সেখানেও স্বস্তি নেই, কারণ দেশি বা আমদানি সব ফলের দামই চড়া। ইফতার বা সাধারণ প্রয়োজনেও ফলে হাত দেওয়ার অবস্থা নেই বলে জানান তাঁরা। সুযোগ বুঝে বিক্রেতাদের দাম বাড়ানোয় লাগাম টানতে বাজার তদারকি জোরদারের দাবি করেন ক্রেতারা।

শহরের ফলের দোকানে ফল কিনতে আসা হাফিজা হাসান বলেন, সারা দিন রোজা রাখার পর শরীরে ভিটামিনসহ প্রয়োজনীয় উপাদানের জন্য ইফতারে কিছু ফল রাখা উচিত। সে জন্য তিনি দোকানে দোকানে ঘুরে দেখছিলেন, কিন্তু যে দাম, তাতে কোনোটাতেই হাত দেওয়ার অবস্থা ছিল না। আপাতত নাগালের মধ্যে ছিল বরই ও পেয়ারা, যদিও তাঁর মতে সেগুলোর দামও তুলনামূলকভাবে বেশি। কিনতে তো হবেই, তাই বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে কয়েকটা আপেল ও মাল্টা নেবেন বলে জানান তিনি।

আরেক ক্রেতা রাইসুল বলেন, রোজার আগের সপ্তাহ থেকে ফলের দাম বাড়তে শুরু করে, আর রোজা শুরুর আগের দুদিন ও প্রথম রোজায় সব ফলের দাম ব্যাপক বাড়ানো হয়; কোনো কোনো ফলে ১০০ টাকা পর্যন্ত। তাঁর অভিযোগ, সরবরাহ কমের অজুহাতে বিক্রেতারা এই কারসাজি করেন, আর প্রশাসনকে দেখাতে অনেক দোকানদার মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে রাখলেও তার চেয়ে বেশি দাম হাঁকেন। তাঁর মতে, এভাবেই বাজার সাধারণ ক্রেতা, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

রিকশাচালক মতিন এবং পাবনার স্থানীয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে লেবার পদে চাকরি করা আজমত শেখ জানান, সবজি, তরিতরকারিসহ নিত্যপণ্য কিনতেই তাঁদের ঘাম ছুটে যাচ্ছিল; এটা নিলে সেটা নেওয়া যায় না। সেখানে ফল তাঁদের জন্য বড় রকমের বিলাসিতা। একটা আপেল কিনতে গেলে ৫০ থেকে ৬০ টাকা গুনতে হয়। তাঁরা বলেন, রিকশার ভাড়া ও চার্জের খরচ বাদ দিয়ে একজন রিকশাচালকের দিনে সর্বোচ্চ আয় তখন ৪০০ টাকা, আর চাকরির বেতন অনুযায়ী দিনে আয় ৫০০ টাকার মতো। এ আয়ে চাইলেও ফল দিয়ে ইফতার করার সুযোগ নেই।

বিক্রেতারা দেখাচ্ছেন পাইকারি সরবরাহ আর পচে যাওয়ার ক্ষতি


ফল বিক্রেতারা অবশ্য ভিন্ন কথা বলেন। বিসমিল্লাহ ফল ভান্ডারের ফজলু বলেন, রমজানের কয়েক দিন আগে থেকে শুরু পর্যন্ত দাম একটু বাড়তি ছিল, তার তুলনায় পরে কিছুটা কমেছে। তাঁর দাবি, তাঁরা মূল্য তালিকা টাঙিয়ে বিক্রি করেন এবং অতিরিক্ত দাম নেন না।

নিউ পাবনা ফল ভান্ডারের রাফিদ ইসলাম বলেন, দাম বৃদ্ধির ভোগান্তি শুধু ক্রেতাদের নয়, বিক্রেতাদেরও; দাম বেশি হলে বেচাবিক্রি কমে যায়। তাঁরাও চান দাম সহনীয় থাকুক, যাতে সবাই এসে ফল কিনতে পারেন, কিন্তু বিষয়টি তাঁদের হাতে থাকে না বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফল বিক্রেতা পাবনায় ফল পৌঁছানোর পথটি ব্যাখ্যা করেন। তাঁর ভাষ্যে, পাবনার ফলের বাজার নির্ভর করে ঢাকা, সিরাজগঞ্জ ও নাটোরের ফল ব্যবসায়ীদের ওপর। তাঁদের কাছ থেকে স্থানীয় আমদানিকারকেরা ফল আনেন, পরে তা দোকানে দোকানে ছড়িয়ে পড়ে; সবচেয়ে বেশি ফল আসে ঢাকা থেকে। ফলে তাঁরা যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন, বাজার সেদিকেই যায়। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কিছু আমদানিকারকেরও সমস্যা আছে, কারণ শহরের বাইরে বেড়া উপজেলার কাশিনাথপুর বা অন্যান্য উপজেলায় দাম পাবনা শহরের তুলনায় কিছুটা কম।

শহরের মায়ের দোয়া ফল ভান্ডারের মঞ্জু জানান, অন্যান্য রমজানের তুলনায় এবার বেচাবিক্রি কম। তাঁর ব্যাখ্যা, রমজানে ফলের চাহিদা বাড়ে কিন্তু সরবরাহ কমে, তাই এ সময় দাম একটু বাড়ে, এতে দোকানিদের কিছু করার থাকে না। ফলভেদে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা লাভই তাঁদের সর্বোচ্চ চাওয়া, কারণ ফল পচনশীল, আর আসার পথেই প্রতি কার্টনে ২ থেকে ৩ কেজি নষ্ট হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান ও আইনের বিধান


জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনার সহকারী পরিচালক মাহমুদ হাসান রনি বলেন, রমজানের বাড়তি চাহিদাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে অনেক ফল ব্যবসায়ী বাজার অস্থির করে তোলেন, এতে ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়েন। তিনি জানান, এটি লাঘবে রমজানের শুরু থেকেই তাঁর কার্যালয় নিয়মিত বাজার তদারকি করছে; অতিরিক্ত দাম রাখা বা অসংগতি পেলেই জরিমানা ও অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বুধবারও হাজিরহাটসহ বিভিন্ন জায়গায় ফলের দোকানে অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি; ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার ক্ষেত্রে ভোক্তার অধিকার রক্ষায় অধিদপ্তর সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে।

অধিদপ্তরটি গঠিত হয়েছে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ২৬ নং আইন, ৬ এপ্রিল ২০০৯) অনুযায়ী। আইনের ১৮ ধারায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নামে একটি অধিদপ্তরের বিধান রাখা হয়েছে, যা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কার্যক্রমে সহায়তা দেবে এবং পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে।

পাবনার ক্রেতাদের অভিযোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত আইনের দুটি ধারা। ৩৮ ধারা অনুযায়ী, কোনো আইন বা বিধি দ্বারা আরোপিত বাধ্যবাধকতা অমান্য করে কেউ দোকান বা প্রতিষ্ঠানের সহজে দৃশ্যমান স্থানে পণ্যের মূল্যের তালিকা লটকিয়ে প্রদর্শন না করলে অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড, অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। ৪০ ধারা অনুযায়ী, কোনো আইন বা বিধির অধীন নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে কোনো পণ্য, ওষুধ বা সেবা বিক্রি বা বিক্রির প্রস্তাব করলেও একই সর্বোচ্চ দণ্ড প্রযোজ্য।

আইনটি সাধারণ ক্রেতাকেও ভূমিকা দিয়েছে। ৭৬ ধারা অনুযায়ী, যে কোনো ব্যক্তি, যিনি একজন ভোক্তা বা ভোক্তা হতে পারেন, ভোক্তা-অধিকারবিরোধী কাজের বিষয়ে মহাপরিচালক বা তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। কর্তৃপক্ষ অভিযোগ পাওয়ার পর অনতিবিলম্বে তা অনুসন্ধান বা তদন্ত করবে, আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিকে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা করা যাবে; আদায় হওয়া জরিমানার ২৫ শতাংশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগকারীকে দেওয়া হবে।

আমদানি করা ফল কেন দামি: এলসি মার্জিন ও শুল্ক


পাবনার ক্রেতাদের যে ফলগুলোর দাম সবচেয়ে বেশি ভাবিয়েছিল, যেমন আপেল, কমলা, মাল্টা, নাশপাতি, আঙুর ও বেদানা, সেগুলোর বেশির ভাগই আমদানি করা। জাগো নিউজের প্রতিবেদনের এক দিন আগে দ্য ডেইলি স্টার খতিয়ে দেখে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমলেও আমদানি করা ফল কেন এত দামি। পত্রিকাটির ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ফল আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খুলতে আমদানিকারকদের তখনো ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন দিতে হচ্ছিল; অর্থাৎ এলসি খোলার সময়ই চালানের পুরো মূল্য নগদে জমা দিতে হচ্ছিল। পত্রিকাটি জানায়, ২০২২ সালের আগে ব্যাংকগুলো গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্ক বিবেচনায় মার্জিন ঠিক করত, আর ফল আমদানিকারকেরা মূল্যের একাংশ আগে দিয়ে বাকিটা পরে পরিশোধ করতে পারতেন।

দ্রুত কমতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের মুখে ২০২২ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আমদানি নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে এই ১০০ শতাংশ মার্জিন চালু হয়। পত্রিকাটির মতে, এতে ফল আমদানি কমেছে, কিন্তু খুচরা দামও বেড়েছে। প্রতিবেদনে দামের তুলনাও দেওয়া হয়: প্রতি কেজি কমলা তখন ৩৩০ টাকা পর্যন্ত, যেখানে ২০২২ সালে মার্জিন বাড়ানোর আগে ছিল প্রায় ১৮০ টাকা; আপেল প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৪০০ টাকা, ২০২২ সালে ছিল ২২০ থেকে ২৮০ টাকা; আঙুর ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা, আগে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা; আর ট্যানজারিন প্রায় ৩২০ টাকা, আগে ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নুরুদ্দিন আহমেদ পত্রিকাটিকে বলেন, এই মার্জিন বৈধ ব্যবসায়ীদের ওপর বড় আর্থিক বোঝা চাপিয়েছে, অনেক ছোট ব্যবসায়ী বাজার থেকে ছিটকে পড়েছেন এবং চালানের পরিমাণ কমেছে; ফলকে বিলাসপণ্য হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করাও অযৌক্তিক। পত্রিকাটি উল্লেখ করে, মোটরগাড়ি, সোনা ও সোনার গয়না, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের মতো আমদানিতেও একই ১০০ শতাংশ মার্জিন প্রযোজ্য। কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান মত দেন, বিশেষ করে রমজানের আগে আমদানি করা ফলের এলসি মার্জিন ও শুল্ক প্রত্যাহার করা উচিত। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফাহমিদা খাতুন বলেন, রিজার্ভ এখনো সীমিত, তাই যেকোনো শিথিলতা ধাপে ধাপে এবং প্রতিটি পণ্য সতর্কভাবে বিবেচনা করে হওয়া উচিত। ব্যাংকাররা এ বিষয়ে বিভক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, রমজান ঘিরে খেজুর আমদানির নিয়ম শিথিল করা হয়েছে, তবে অন্যান্য ফলে বিধিনিষেধ বহাল; বৈদেশিক মুদ্রাবাজার আরও স্থিতিশীল হলে ফল আমদানির মার্জিনের শর্তও তুলে নেওয়া হবে।

শুল্কও খরচ বাড়িয়েছিল। দ্য ডেইলি স্টার ২০২৩ সালের শুরুর দিকে জানায়, ডলার সংকটের মধ্যে আমদানি নিরুৎসাহিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২২ সালের মে মাসে ফল আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৩ শতাংশ করে। ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি এনবিআর আঙুর, আপেল ও তরমুজসহ কিছু তাজা ফলের সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করে; কয়েক দিন পর পত্রিকাটি জানায়, ঢাকার খুচরা বিক্রেতারা তখন প্রতি কেজি আপেল, কমলা, আঙুর, মাল্টা ও তরমুজে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি নিচ্ছিলেন। ওই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বরে ফল আমদানির এলসি খোলা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮.৫ শতাংশ কমে ১০৭ মিলিয়ন ডলারে নেমেছিল।

২০২৬ সালের রমজানের আগে সরকার শুধু খেজুরের শুল্ক কমিয়েছিল। ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫-এর প্রজ্ঞাপনে খেজুর আমদানির কাস্টমস শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বহাল থাকবে; রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখাই এর লক্ষ্য। এনবিআর আরও জানায়, আগের বাজেটে খেজুরসহ সব ধরনের ফল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, এবং খেজুর ও ফল আমদানিতে অগ্রিম আয়করে ৫০ শতাংশ ছাড় বহাল রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ২০২৪ সালের নভেম্বরে হিসাব দিয়েছিল, দেশে বছরে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টন খেজুরের চাহিদা, যার ৫০ থেকে ৬০ হাজার টনই খাওয়া হয় শুধু রমজানে।

বাংলাদেশে ইফতারের জন্য সাজানো তাজা ফল (প্রতীকী ছবি)। ছবি: RashidulDhaka / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
বাংলাদেশে ইফতারের জন্য সাজানো তাজা ফল (প্রতীকী ছবি)। ছবি: RashidulDhaka / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

পাবনার নিজস্ব ফল আর বাজারে ফল আসার পথ


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের পাবনা জেলার আয়তন ২ হাজার ৩৭৬.১৩ বর্গকিলোমিটার; জেলাটির অবস্থান পদ্মা ও যমুনা নদীর মাঝে। পাবনার ফল বিক্রেতারা যে তিন জেলা থেকে ফল কেনার কথা বলেছেন, তার দুটি, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ, জেলার উত্তর সীমানায়। ১৮৩২ সালে গঠিত এ জেলায় উপজেলা নয়টি। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ২৫ লাখ ২৩ হাজার ১৭৯, আর প্রধান আয়ের উৎস হিসেবে কৃষির হিস্যা ছিল ৫৩.৭৫ শতাংশ।

জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বরই ও পেয়ারা ছাড়া পাবনায় কোনো ফলেরই আবাদ হয় না। বাংলাপিডিয়ার উপজেলাভিত্তিক বিবরণ অবশ্য সাধারণভাবে এ কথা সমর্থন করে না: সেখানে পাবনা সদর উপজেলার প্রধান ফল হিসেবে আম, কলা, লিচু, পেঁপে ও লেবু; ঈশ্বরদীতে আম, কাঁঠাল, লিচু, পেঁপে, লেবু, কুল, তাল ও বেল; আর বেড়ায় আম, কালোজাম, পেয়ারা ও কলার নাম রয়েছে। তবে এগুলোর বেশির ভাগই গ্রীষ্মের ফল। বাংলাপিডিয়া জানায়, দেশে উৎপাদিত ফলের প্রায় ৫৪ শতাংশ সংগ্রহ ও বাজারজাত হয় বৈশাখ থেকে শ্রাবণ, এই চার মাসে; বাকিটা আসে অন্য আট মাসে। ফেব্রুয়ারির শেষে, যখন এ প্রতিবেদন লেখা হয়, পাবনার দোকানে দেশি ফল বলতে মূলত ছিল বরই ও পেয়ারা, বাকি প্রায় সব ফলই আসছিল বাইরে থেকে।

বাংলাপিডিয়া আরও জানায়, ঈশ্বরদী উপজেলায় রয়েছে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, ডাল গবেষণা কেন্দ্র এবং দেশের একমাত্র ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্রের মতো বড় কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ভোক্তা অধিদপ্তর যেখানে অভিযান চালিয়েছিল, সেই হাজিরহাট বাজার পাবনা সদর উপজেলার উল্লেখযোগ্য হাটবাজারের একটি; আর এক বিক্রেতা যে কাশিনাথপুরে দাম কম বলে জানিয়েছেন, তা বেড়া উপজেলায়, যে উপজেলার নদীর মধ্যে রয়েছে পদ্মা ও যমুনা।

পাবনার দামের তালিকার শীর্ষে থাকা ফলগুলোর বেশির ভাগ বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষই হয় না। বাংলাপিডিয়া কমলা, আপেল, বেদানা, আঙুর, খেজুর ও ম্যান্ডারিনকে দেশের সাধারণ আমদানি করা ফল হিসেবে উল্লেখ করেছে, এবং জানিয়েছে, কিছু জায়গায় আঙুর ছাড়া বাংলাদেশে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ফলের চাষ সফল হয়নি; কমলা চাষ হয় কেবল সিলেটের সীমিত এলাকায় এবং রাঙামাটির সাজেক ও বান্দরবানের রুমার দুর্গম এলাকায়। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে ফল আমদানিকারকদের সংগঠনের অফিস সচিব দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, দেশের ফলের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ মেটে দেশি উৎপাদনে, বাকিটা আমদানিতে; একই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারিতে ১৫৭.৩৮ মিলিয়ন ডলারের ফল আমদানির হিসাব ছিল।

বরই ও পেয়ারা: মৌসুমের দেশি ফল


পাবনার ক্রেতারা যে দুটি দেশি ফলকে তখনো নাগালের মধ্যে বলেছিলেন, দুটিই বাংলাদেশে সুপরিচিত। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায়, বরই বা কুল মাঝারি আকারের পত্রঝরা গাছের ছোট ফল, ওজন ১০ থেকে ৭০ গ্রাম; অন্য ফলের অমৌসুমে এটি পাওয়া যায় এবং সংগ্রহ করা হয় ফেব্রুয়ারি-মার্চে। এ কারণেই রমজানের প্রথম দিনগুলোতে পাবনার বাজারে বরই ছিল, দ্বিতীয় রোজা পর্যন্ত কেজি ১৫০ টাকায় আর এক সপ্তাহ পরে ১০০ টাকায়।

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, পেয়ারা এসেছে ক্রান্তীয় আমেরিকা থেকে, আর এখন বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামের বাগানে এর চাষ হয়। পেয়ারা ভিটামিন সি-এর বড় উৎস: বিশ্বকোষটি প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যোপযোগী অংশে ২৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি-এর হিসাব দিয়েছে, তবে জাত, মৌসুম ও পরিপক্বতাভেদে পুষ্টিমান ভিন্ন হয় বলেও উল্লেখ করেছে। পেয়ারার প্রধান ফুল আসে গ্রীষ্মে, কিন্তু সেচের ব্যবস্থা থাকলে জানুয়ারি থেকে মার্চের অমৌসুমেও গাছে ফুল আসতে পারে। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ঢাকা ট্রিবিউন পেয়ারা বিক্রি হতে দেখে কেজি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়।

কুল বা বরই (Ziziphus mauritiana), যা ফেব্রুয়ারি-মার্চে সংগ্রহ করা হয় (প্রতীকী ছবি)। ছবি: Ton Rulkens / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ২.০)
কুল বা বরই (Ziziphus mauritiana), যা ফেব্রুয়ারি-মার্চে সংগ্রহ করা হয় (প্রতীকী ছবি)। ছবি: Ton Rulkens / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ২.০)

ইফতারে ফল আর পুষ্টির ঘাটতি


ইফতারে ফল রাখা উচিত বলে হাফিজা হাসান যে কথা বলেছেন, তা সাধারণ খাদ্য-পরামর্শের সঙ্গেই মেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যকর খাদ্যবিষয়ক তথ্যপত্রে (২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি হালনাগাদ) বলা হয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সী প্রত্যেকের দিনে অন্তত ৪০০ গ্রাম ফল ও শাকসবজি খাওয়ার লক্ষ্য রাখা উচিত, আর স্বাস্থ্যকর খাদ্য সব ধরনের অপুষ্টি এবং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। কোনো রোগ বা শারীরিক জটিলতা থাকলে রোজার সময় খাদ্যতালিকা নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ এ মাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে। বাংলাপিডিয়া জানায়, সুস্থ জীবনের জন্য প্রত্যেকের দিনে অন্তত ৮৫ গ্রাম ফল খাওয়া উচিত, কিন্তু দেশের মানুষ গড়ে খায় মাত্র ৩৫ গ্রামের মতো, আর এই বণ্টনও অসম: ধনীরা বেশি খান, অনেক দরিদ্র মানুষ একেবারেই পান না। বিশ্বকোষটি আরও জানায়, কৃষকেরা অনেক সময় ভোক্তার দেওয়া দামের অর্ধেকও পান না, মধ্যস্বত্বভোগীরা বিপণন মুনাফা হিসেবে অর্ধেকের বেশি নিয়ে যান, আর সঠিক সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে প্রতিবছর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ফল পচে যায়।

মতিন ও আজমত শেখের মতো পরিবারগুলোর জন্য, যেখানে একটি আপেলের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা আর দিনের আয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, ২০২৬ সালের রমজানে আমদানি করা ফল ইফতারে বিলাসিতা হয়ে উঠেছিল; তুলনামূলক সস্তা দেশি বরই ও পেয়ারাই ছিল তখনো নাগালের মধ্যে থাকা ফল।

ছবি: কুউ পুলক / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাসস, ঢাকা ট্রিবিউন, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ (বাংলাদেশ আইন সংকলন), বাংলাপিডিয়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)