সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

বরিশালে মৌসুমের শুরুতে ইলিশের সংকট, পোর্ট রোড মোকামে দাম চড়া

২০২৬ সালের ২ জুন বরিশালের পোর্ট রোড মোকামে প্রায় ৬০ মণ ইলিশ এসেছিল, যেখানে ওই সময়ে হাজার মণ আসার কথা; এক কেজির ইলিশ বিক্রি হয় কেজিপ্রতি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায়। ব্যবসায়ীরা কম সরবরাহকে দায়ী করেন, কয়েকজন ক্রেতা সিন্ডিকেটের অভিযোগ তোলেন।

বরিশালে মৌসুমের শুরুতে ইলিশের সংকট, পোর্ট রোড মোকামে দাম চড়া
মৎস্য

২০২৬ সালের ইলিশ মৌসুমের একেবারে শুরুতে বরিশালে ইলিশের দেখা মিলছিল কম, আর বাজারে যে অল্প মাছ উঠছিল, তার দাম এতটাই চড়া ছিল যে নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে জাতীয় মাছ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। জাগো নিউজ ২৪-এর সেদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার সকালে বরিশাল নগরের পোর্ট রোড পাইকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে প্রায় ৬০ মণ ইলিশ এসেছিল, অথচ বছরের ওই সময়ে হাজার মণ ইলিশ আসার কথা। ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন, সরবরাহ কম বলে দাম বেড়েছে; কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করেছিলেন, ব্যবসায়ীরা জোট বেঁধে দাম বাড়িয়েছেন; আর কীর্তনখোলা নদীর জেলেরা জানিয়েছিলেন, তাঁরা ধারদেনা করে সংসার চালাচ্ছেন।

পোর্ট রোড পাইকারি বাজারে ইলিশের দর


জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেদিন সকালে পোর্ট রোডে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল প্রতি কেজি আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ, যাকে ব্যবসায়ীরা এলসি সাইজ বলেন, বিক্রি হচ্ছিল প্রতি কেজি ২ হাজার ৫০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ছিল ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৪০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা পত্রিকাটিকে জানান, এমন সময়ে মোকামের আড়তগুলো ইলিশে ভরপুর থাকার কথা, অথচ নদ-নদীতে ইলিশের দেখা নেই। সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।

পোর্ট রোড ইলিশ মোকামের লিয়া আড়তের স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন বলেন, নদীতে ইলিশ একদম কম। তাঁর ভাষ্য, গত কয়েক দিন ধরে মোকামে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ মণ ইলিশ এসেছে, অথচ এই সময়ে দুই থেকে তিন শ মণ ইলিশ পাওয়ার কথা।

মেসার্স দুলাল ফিশের ব্যবস্থাপক মো. রবিন বলেন, 'দুয়েক বছর আগেও ভরা মৌসুমে পোর্ট রোডের আড়তে দিনশেষে দুই হাজার মণ ইলিশ বেচাকেনা হতো। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য পুরোপুরি উল্টো। কয়েকদিন ধরে ৬০ মণের উপরে মাছ আসছে না। ফলে চাহিদা থাকলেও আশানুরূপ ইলিশ না থাকায় দাম বাড়ছে।'

পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মালিক সমিতির সাবেক অর্থ সম্পাদক ইয়ার হোসেন শিকদার জাগো নিউজকে জানান, তাঁদের মোট ১৭০টি আড়তে ভরা মৌসুমে আগে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ মণ ইলিশ আসত, বেচাবিক্রি কোটি কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেত। প্রতিবেদনের সময় তা নেমে এসেছিল দিনে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকায়।

কীর্তনখোলা নদীর তীরে বরিশাল নদীবন্দর। ছবি: Lonely Explorer / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
কীর্তনখোলা নদীর তীরে বরিশাল নদীবন্দর। ছবি: Lonely Explorer / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

ক্রেতাদের অভিযোগ, জেলেদের দেনা


ক্রেতারা জাগো নিউজকে বলেন, ইলিশের দাম আগের তুলনায় বেশি হওয়ায় তাঁদের অন্য মাছ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

পোর্ট রোড পাইকারি বাজারে মাছ কিনতে আসা শাহিন বলেন, 'আগে যে ইলিশের কেজি ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা ছিল তা এখন ২২০০-২৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। মাছের সরবরাহ কমের অজুহাতে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হয়েছে। নিজেদের নদ-নদী বা সাগরের মাছ। এত বেশি দামের কোনো কারণ দেখছি না।' সিন্ডিকেটের এই অভিযোগ ক্রেতার নিজের। একই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ব্যবসায়ীরা চড়া দামের কারণ হিসেবে মাছের কম সরবরাহের কথা বলেছেন; অভিযোগটির সরাসরি কোনো জবাব প্রতিবেদনে ছিল না।

আরেক ক্রেতা সোহেল রানা জানান, এলাকার বাজার থেকে না কিনে একটু কম দামের আশায় তিনি পোর্ট রোডের পাইকারি বাজারে এসেছিলেন, কিন্তু সেখানেও খুচরা বাজারের মতো চড়া দামে মাছ বিক্রি হচ্ছিল। তবু তিনি ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ছোট চারটি ইলিশ তিন হাজার টাকায় কিনেছেন।

রাসেল সিকদার নামের এক ক্রেতা বলেন, ইলিশ কিনতে এসে দরদামে পোষাতে না পেরে তাঁকে পাঙাশ কিনতে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, ৫০০ গ্রাম আকারের ইলিশের কেজি তখন ১ হাজার ৮০০ টাকা, যা আগে ছিল ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। পাঙাশের দামও বেড়েছিল: যে পাঙাশ আগে ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত, তা তিনি কিনেছেন ২৮০ টাকায়।

জেলেদের দুর্ভোগ ছিল ভিন্ন রকম। নদীতে ইলিশ ধরতে আসা জেলে আসলাম বলেন, 'ইলিশও নেই, জাটকাও নেই। আপাতত ধার-দেনায় চলছি।' তবে বৃষ্টি হলে মাছ ধরা পড়বে বলে তিনি আশা করছিলেন। কীর্তনখোলা নদীর জেলে সগির বলেন, 'নিষেধাজ্ঞা মেনেই নদীতে নেমেছি। অথচ নদীতে ইলিশের দেখা নেই। এমন চলতে থাকলে জাল বেঁচে দেনা পরিশোধ করতে হবে।'

মৎস্য কর্মকর্তা ও গবেষকেরা যা বলেছিলেন


মৌসুমের শুরুতে ইলিশের এই সংকট নিয়ে বরিশাল মৎস্য কর্মকর্তা ড. হাদিউজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, 'জুন থেকে ইলিশের মৌসুম শুরু হলেও ভরা মৌসুম জুলাই থেকে শুরু হয়। বৃষ্টি হলেই সাগর থেকে নদীতে ইলিশ আসবে। কারণ এ বছর মার্চ-এপ্রিল এ দুই মাস ষষ্ঠ অভয়াশ্রমে কড়া নজর থাকায় জাটকা নিধন কমেছে। জাটকা রক্ষায় নদীতে ৩০ জুন পর্যন্ত এবং সাগরে ১১ জুন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। তবে ইলিশ ধরায় বাধা নেই।'

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত গবেষকেরা বলেন, সে বছর অভয়াশ্রমের জাটকার প্রায় ৯০ শতাংশ সাগরে পৌঁছেছে, আর এর সুফল মিলতে পারে মৌসুমের শেষ দিকে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ। তাঁদের মতে, সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ১১ জুন পর্যন্ত চলছে, তবে সময়সীমা আরেকটু বাড়লে জাটকা আরও বড় হতো এবং পুরো সুফল পাওয়া যেত।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, সে বছর এপ্রিলের শেষ নাগাদ ঝাঁকে ঝাঁকে চাপিলা আকৃতির জাটকা, অর্থাৎ ছোট ইলিশ, সাগরে চলে গেছে; আগের বছর জাটকার ঝাঁক সাগরে গিয়েছিল মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। তাঁর ভাষ্য, মৎস্য অধিদপ্তরের নজরদারির কারণে পাই জাল দিয়ে চাপিলা আকারের জাটকা বেশি ধরা যায়নি, ফলে নদীতে ৫ থেকে ৬ ইঞ্চি হয়ে সেগুলো সাগরে পৌঁছেছে। আগের বছরের তুলনায় ৯০ শতাংশ জাটকা সাগরে গেছে বলে তাঁদের ধারণা, আর এখন দরকার সাগরে সেগুলোকে বড় হতে দেওয়া।

বরিশাল, কীর্তনখোলা ও ইলিশের বাণিজ্য


দেশের ইলিশ উপকূলের কেন্দ্রে বরিশাল। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, পুরোনো বাকেরগঞ্জ জেলা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৭৯৭ সালে, পরে এর নাম হয় বরিশাল। ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি বরিশাল বিভাগ গঠিত হয়, আর ২০০০ সালে বরিশাল পৌরসভা সিটি করপোরেশনে রূপ নেয়। বিভাগটির দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর; প্রধান নদীর মধ্যে আছে তেঁতুলিয়া, কীর্তনখোলা, বিষখালী, মেঘনা ও শাহবাজপুর চ্যানেল।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত জেলেদের নদী কীর্তনখোলা বরিশাল শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে, এটি বরিশাল নদী নামেও পরিচিত। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায়, আড়িয়াল খাঁর একটি শাখা হিসেবে বরিশাল জেলার সায়েস্তাবাদের কাছ থেকে এর শুরু, নদীটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। ব্রিটিশ আমলে এটি প্রায় এক কিলোমিটার চওড়া ছিল, কিন্তু চর পড়ে প্রস্থ কমে প্রায় আধা কিলোমিটারে নেমেছে; নদীর গভীরতা, পানিপ্রবাহ ও স্রোতও কমেছে।

পোর্ট রোডের আড়তে ইলিশ-সংকটের খবর এর আগেও এসেছে। ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল দ্য ডেইলি স্টার বাংলা জানায়, ঈদ ও পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে পোর্ট রোড পাইকারি বাজারে ইলিশের দাম প্রতি মণে লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। সেখানকার এক ব্যবসায়ী তখন বলেছিলেন, অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার কারণে দিনে ১০০ থেকে ১৫০ মণ ইলিশ আসছে, অথচ চাহিদা হাজার মণের; বড় আকারের বাছাই করা ইলিশ পাঠানো হচ্ছিল ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন শহরে। বরিশাল জেলা মৎস্য বিভাগ তখন জানিয়েছিল, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল বরিশালসহ বিভিন্ন জেলার পাঁচটি অভয়াশ্রমে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ।

একই পত্রিকা ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জানায়, পোর্ট রোডে ৬০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ গড়ে প্রতি কেজি ১ হাজার ৭০০ টাকা, এক কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৯০০ টাকা এবং এর চেয়ে বড় ইলিশ ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল।

আগের মৌসুমের শুরুটাও ভালো ছিল না। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট জানায়, দেশের সবচেয়ে বড় ইলিশ আহরণের কেন্দ্র বরিশাল বিভাগে ২০২৫ সালের জুনে উৎপাদন ২১ হাজার ৮১৭ টন থেকে নেমে আসে ১৪ হাজার ৪৯৬ টনে; জুলাইয়ে উৎপাদন হয় ১০ হাজার ৮৭৬ টন, আগের বছর যা ছিল ১৫ হাজার ৪৭০ টন। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানায়, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি হয়েছিল, বরিশাল বিভাগে রেকর্ড হয় ৮৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টি, আর সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে জেলেরা সাগরে যেতে পারেননি। বরিশাল মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মেঘনা, পায়রা, বলেশ্বর, বিষখালী, আন্ধারমানিক, তেঁতুলিয়া, সুগন্ধা ও গজারিয়া নদীর অন্তত ২০টি স্থানে ইলিশের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল।

বরিশালের কীর্তনখোলা নদী। ছবি: শাহাদাত সায়েম / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
বরিশালের কীর্তনখোলা নদী। ছবি: শাহাদাত সায়েম / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

ইলিশ ও জাটকা: মাছটির জীবনচক্র


ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। বাংলাপিডিয়া একে হেরিং-জাতীয় মাছের পরিবার ক্লুপিডির টেনুয়ালোসা গণের সদস্য হিসেবে বর্ণনা করেছে; এর দেহ বেশ চাপা, রং ধাতব রুপালি। ইলিশ ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে, তবে সাধারণত ৩৫ থেকে ৪০ সেন্টিমিটারের মাছই বেশি পাওয়া যায়; বড় একটি ইলিশের ওজন প্রায় আড়াই কেজি। স্ত্রী ইলিশ দ্রুত বাড়ে এবং সাধারণত পুরুষের চেয়ে বড় হয়; মাছটি এক থেকে দুই বছরে প্রজননক্ষম হয়। ইলিশের প্রধান খাদ্য প্ল্যাংকটন।

ইলিশ অ্যানাড্রোমাস বা সাগর থেকে নদীতে উজানে গিয়ে ডিম ছাড়া মাছ: প্রাপ্তবয়স্ক ইলিশ ডিম ছাড়তে সাগর থেকে নদীর মিঠা পানিতে আসে, ডিম পানিতে ভেসে থাকে, পোনা নদীর খাতে বড় হয়ে খাবার ও বৃদ্ধির জন্য সাগরে নেমে যায়, পরে প্রজননক্ষম হয়ে আবার নদীতে ফেরে। বড় একটি স্ত্রী ইলিশ ২০ লাখ পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি-মার্চে ইলিশের ছোট একটি প্রজনন মৌসুম এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে প্রধান প্রজনন মৌসুম; জেলেরা মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত উজানে আসা বড় ইলিশ এবং ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ছোট ইলিশ ধরেন।

ছোট ইলিশকে বলা হয় জাটকা। ২০২৬ সালে চালু বিধি অনুযায়ী ২৫ সেন্টিমিটারের ছোট যেকোনো ইলিশ জাটকা, আর ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তা ধরা, পরিবহন, বিক্রি বা মজুত নিষিদ্ধ ছিল। চাঁদপুরের মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনিসুর রহমান ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, একটি জাটকার কমপক্ষে ৫০০ গ্রামের বড় ইলিশে পরিণত হতে এক বছরের বেশি সময় লাগে, তাই বড় ইলিশের জন্য জেলেকে কমপক্ষে দুই বছর অপেক্ষা করতে হয়; বড় ইলিশ পেতে হলে অবৈধ জাল ধ্বংস করতে হবে এবং অভয়াশ্রমকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে হবে।

২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল প্রথম আলোতে প্রকাশিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, একটি জাটকা এক বছর বাঁচলে তার আকার ১১ দশমিক ৮১ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়, আর একটি ইলিশ পাঁচ থেকে সাত বছর বাঁচলে ২২ দশমিক ৬৮ ইঞ্চি পর্যন্ত বড় হতে পারে। গবেষণায় বলা হয়, ইলিশের খাদ্যতালিকায় ২৭ প্রজাতির উদ্ভিদকণা ও ১২ প্রজাতির প্রাণিকণা রয়েছে, আর মেঘনা নদীতে এসব প্ল্যাংকটনের পরিমাণ ৬৮ শতাংশ কমেছে, যার বড় কারণ নদীদূষণ।

ধরা পড়া ইলিশের আকারও ছোট হচ্ছিল। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা জানায়, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উপলক্ষে ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনারে বিএফআরআইয়ের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলমের উপস্থাপনায় দেখা যায়, ইলিশের গড় দৈর্ঘ্য ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ৩৫ দশমিক ৭ সেন্টিমিটার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৭ সেন্টিমিটার এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩৭ দশমিক ২ সেন্টিমিটার; এরপর তা কমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৬ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৪ দশমিক ৭ সেন্টিমিটারে দাঁড়ায়। সবচেয়ে বড় ইলিশ পাওয়া যায় কক্সবাজার অঞ্চলে, গড় দৈর্ঘ্য ৩৮ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার ও গড় ওজন ৭৮০ গ্রাম; সবচেয়ে ছোট রাজশাহী অঞ্চলে, গড় দৈর্ঘ্য ২৯ সেন্টিমিটার ও গড় ওজন ৩৪০ গ্রাম। এর কারণ হিসেবে তিনি অতিরিক্ত মাছ ধরা, জাটকা নিধন, পরিবেশগত পরিবর্তন, পানির গুণমান কমে যাওয়া ও নদীতে খাদ্যের অভাবের কথা বলেন।

বাংলাদেশের একটি নদীতে জাল টেনে ইলিশ ধরছেন জেলেরা; প্রতীকী ছবি, ২০২৬ সালের জুনে বরিশালের আহরণের নয়। ছবি: Jotiii / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
বাংলাদেশের একটি নদীতে জাল টেনে ইলিশ ধরছেন জেলেরা; প্রতীকী ছবি, ২০২৬ সালের জুনে বরিশালের আহরণের নয়। ছবি: Jotiii / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

টানা দুই বছর কমেছে ইলিশের উৎপাদন


পোর্ট রোডের এই সংকট এসেছিল দেশে টানা দুই বছর ইলিশ আহরণ কমার পর। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রথম আলো ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল জানায়, এক দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ইলিশ আহরণ দাঁড়িয়েছিল ৫ লাখ ৭১ হাজার টনে, আর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৫ লাখ ২৯ হাজার টনে, অর্থাৎ ৪২ হাজার টন কম। ২০০১ সালে ইলিশ আহরণ হয়েছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৫৯৩ টন, আর ২০১৩ সাল পর্যন্ত তা সোয়া ৩ লাখ টনের ওপরে ওঠেনি। বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ সালের ৫ লাখ ১৭ হাজার টন থেকে আহরণ বেড়ে ২০২১-২২ সালে ৫ লাখ ৬৬ হাজার টনে উঠেছিল।

বিএফআরআইয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু কাওসার দিদার পত্রিকাটিকে বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলেরা নদী ও সাগরে যেতে পারেননি, ইলিশের প্রধান তিনটি মাইগ্রেশন পয়েন্ট মেঘনা-তেঁতুলিয়া, পায়রা-বিষখালী ও সুন্দরবন অঞ্চলে নাব্যতার সংকট প্রকট হয়েছে, আর বাংলাদেশ ইলিশ আহরণের সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী নদীর গভীরতা কমে যাওয়া, দূষণ এবং রাবনাবাদ ও পায়রা-বিষখালী-বলেশ্বর মোহনায় নির্মিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথা উল্লেখ করেন।

২০২৬ সালের এপ্রিলেও এই পতন থামেনি। প্রথম আলো ২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইলিশ আহরণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ টনে, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের চেয়ে ৭১ হাজার টন কম। ২০২১ সালের জুলাইয়ে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প শুরুর সময় বছরে উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার টন।

আগের সরকারি হিসাবেও মাছটির গুরুত্ব স্পষ্ট। ফিশারিজ স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিপোর্ট অব বাংলাদেশ ২০১৬-১৭ উদ্ধৃত করে ঢাকা ট্রিবিউন ২০১৮ সালের জুনে জানায়, দেশে বছরে ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪১৭ টন ইলিশ উৎপাদিত হয়, যার প্রায় ৬৫ শতাংশ আসে সামুদ্রিক উৎস থেকে; দেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ ইলিশ, যা জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমান; আর প্রায় পাঁচ লাখ জেলে সরাসরি এবং আরও প্রায় ২০ লাখ মানুষ পরোক্ষভাবে ইলিশের ওপর জীবিকার জন্য নির্ভরশীল।

অন্যদিকে ইলিশের প্রাক্কলিত ডিম উৎপাদন এক দশকে বেড়েছিল। ২০২৬ সালের এপ্রিলের ওই সেমিনারে বিএফআরআইয়ের উপস্থাপনা অনুযায়ী, ২০১৫ সালে প্রাক্কলিত ডিম উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭২০ কেজি, যা বেড়ে ২০২১ সালে ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৩১৪ কেজি, ২০২৩ সালে ৮ লাখ ৫ হাজার ৫১৫ কেজি এবং ২০২৪ সালে ৮ লাখ ১১ হাজার ৭১১ কেজিতে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালের জন্য একটি হিসাবে ৮ লাখ ৮৪ হাজার ৮০২ কেজি এবং অন্য হিসাবে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৫৬৪ কেজি পাওয়া যায়; গবেষকেরা এই মিশ্র প্রবণতার জন্য বড় ও প্রজননক্ষম মাছের সংখ্যা কমে যাওয়াকে দায়ী করেন।

২০২৬ সালে চালু নিষেধাজ্ঞা ও অভয়াশ্রম


বরিশালের প্রতিবেদনটি লেখার সময় তিন ধরনের বিধিনিষেধ চালু ছিল। প্রথমটি জাটকা ধরার নিষেধাজ্ঞা। বণিক বার্তা নিষেধাজ্ঞা শুরুর সময় জানায়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ২৫ সেন্টিমিটারের ছোট ইলিশ ধরা, পরিবহন, বাজারজাত, বিক্রি ও মজুত নিষিদ্ধ করেছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৮৫ অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান ছিল; জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও র‍্যাবকে সঙ্গে নিয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের এটি কার্যকর করার কথা। এর আগে ২০২৫ সালের ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চালিয়েছিল।

দ্বিতীয়টি সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। ঢাকা ট্রিবিউন ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল জানায়, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা ১৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে ১১ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে। শুধু ভোলা জেলাতেই সাত উপজেলার ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন নিবন্ধিত জেলের প্রত্যেকের নিষেধাজ্ঞার শুরুতে ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল পাওয়ার কথা ছিল। ২০২৫ সালেও একই সময়ে, ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত, এই নিষেধাজ্ঞা চলেছিল।

তৃতীয়টি অভয়াশ্রম। ঢাকা ট্রিবিউন ২০১৮ সালের জুনে জানায়, আন্ধারমানিক নদী ছাড়া সব ইলিশ অভয়াশ্রমে মার্চ-এপ্রিলে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে, আর আন্ধারমানিকে নিষেধাজ্ঞা থাকে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি। অভয়াশ্রমগুলোর মধ্যে আছে চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনার ১০০ কিলোমিটার, ভোলার শাহবাজপুর চ্যানেলের ৯০ কিলোমিটার ও তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার, পটুয়াখালীর আন্ধারমানিক নদীর ৪০ কিলোমিটার এবং শরীয়তপুর জেলায় নিম্ন পদ্মার ২০ কিলোমিটার। ২০১৮ সালে ঘোষিত ষষ্ঠ অভয়াশ্রমটি বরিশাল জেলায়: হিজলা থেকে মেহেন্দীগঞ্জ পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৮৩ কিলোমিটার এলাকা; প্রথম আলো ২০২২ সালে একে হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও বরিশাল সদর উপজেলার ৮২ কিলোমিটার এলাকা হিসেবে উল্লেখ করে।

সাগরেও ইলিশ রক্ষায় নিঝুম দ্বীপ ও নাফ নদীসহ ছয়টি এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে বলে ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রথম আলোকে জানান ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক; তবে সেগুলো কার্যকরভাবে রক্ষা করা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভোলায় মেঘনা নদীর কাছে জেলেদের মাছ ধরার নৌকা। ছবি: Toushik.hamid / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
ভোলায় মেঘনা নদীর কাছে জেলেদের মাছ ধরার নৌকা। ছবি: Toushik.hamid / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প


যে প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছিলেন, সেটি বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদপ্তর। প্রথম আলোর ২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি ২২৯ কোটি টাকার এই প্রকল্প শুরু হয় ২০২১ সালের জুলাইয়ে, আর ওই প্রতিবেদনের দুই মাস পর এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন, অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো, জাটকা ও মা ইলিশ আহরণকারী ৩০ হাজার জেলে পরিবারের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জেলেদের মধ্যে জাল বিতরণ এবং প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরি। প্রথম আলো লিখেছে, জেলে পরিবারকে সহায়তার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ আছে।

প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, জাটকা সংরক্ষণ, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও খাদ্যসহায়তা শুরুর পর ইলিশের উৎপাদন বেড়েছিল, কিন্তু সংরক্ষণ কার্যক্রম ছিল নদীকেন্দ্রিক, সাগরে কোনো কার্যক্রম নেই। তাঁর দাবি, সাগরে ইলিশের অতিরিক্ত আহরণ হচ্ছে, অন্যদিকে নদীতে নাব্যতা সংকট বেড়েছে এবং ইলিশের যাত্রাপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ৪০ মিটারের কম গভীরতায় মাছ ধরা ২৮ হাজার আর্টিসানাল ট্রলার এবং ২৬৮টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলার সমুদ্রে মাছ ধরে।

২০২৫ সালের আগস্টে একই কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টার বাংলাকে বলেছিলেন, নদীতে ইলিশ আসার জন্য কিছু শর্ত পূরণ হতে হয়: মিষ্টি পানি, স্রোত, অন্তত ১০ মিটার গভীরতা আর কমপক্ষে ৫০০ মিটার প্রস্থ। এমন পরিবেশ না পেলে ইলিশ অন্যত্র চলে যায়, দেশের সীমানা পেরিয়ে মিয়ানমার কিংবা ভারতেও চলে যায় বলে তিনি জানান।

বরিশালের বাইরে ইলিশের দাম


বরিশালের চড়া দাম ছিল দেশজুড়ে দাম বাড়ার অংশ। প্রথম আলো ২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাব উদ্ধৃত করে জানায়, ঢাকার বাজারভেদে ৪০০ থেকে ৯০০ গ্রাম আকারের ইলিশের প্রতি কেজির দাম দেড় হাজার থেকে তিন হাজার টাকা, যা আগের বছরের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি। ২০২০ সালে ইলিশের সারা বছরের গড় দাম ছিল প্রতি কেজি ৭০১ টাকা, আর তখন বাজারে বড় পাঙাশের কেজি ছিল ২৫০ টাকা।

২০২৫ সালের আগস্টে দ্য ডেইলি স্টার বাংলা জানিয়েছিল, ঢাকার বাজারে ছোট ইলিশ প্রতি কেজি ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, মাঝারি ইলিশ ১ হাজার ৮৫০ থেকে ২ হাজার টাকা এবং বড় ইলিশ ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানায়, ২০২৩ সালের তুলনায় ইলিশের দাম বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ পত্রিকার খবরের বরাতে জানায়, ২০১০ সালে ইলিশের কেজি ছিল ৪১৭ টাকা, ২০১৯ সালে ৭৮৯ টাকা, আর ২০২৫ সালে তা পৌঁছায় সাড়ে তিন হাজার টাকায়।

ছবি: Rezowan / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (২ জুন ২০২৬), প্রথম আলো (১৩ এপ্রিল ২০২৫, ১৩ এপ্রিল ২০২৬; ইংরেজি সংস্করণ ১ মার্চ ২০২২), দ্য ডেইলি স্টার বাংলা (১০ এপ্রিল ২০২৪, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২১ আগস্ট ২০২৫, ৯ এপ্রিল ২০২৬), ঢাকা ট্রিবিউন (২৫ জুন ২০১৮, ১৫ এপ্রিল ২০২৬), বণিক বার্তা (নভেম্বর ২০২৫), বাংলাপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)