চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার চরাঞ্চলে বাণিজ্যিক তরমুজ চাষ তিন বছরে কয়েক গুণ বেড়েছে। জাগো নিউজ ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ জানায়, উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাবে সে বছর ইছাখালী, মঘাদিয়া, মায়ানী ও সাহেরখালী ইউনিয়নে প্রায় ১২০০ একর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। ২০২২ সালে এই চাষ শুরু হয়েছিল ১৪৫ একরে। মৌসুমে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়, আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শত কোটি টাকার তরমুজ বাজারে যাবে বলে আশা করছিলেন কৃষকেরা।
মিরসরাই চট্টগ্রাম জেলার একটি উপজেলা। এর প্রধান নদী ফেনী, আর দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ চ্যানেল। উপকূলের এই চরেই তরমুজের আবাদ। তরমুজ (Citrullus lanatus) লাউ-কুমড়া গোত্রের লতানো গাছের ফল, যার রসাল মিষ্টি শাঁস সাধারণত গাঢ় লাল থেকে গোলাপি।
চার মৌসুমে আবাদ বেড়েছে কয়েক গুণ
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ১৪৫ একর, ২০২৩ সালে ১৭৫ একর এবং ২০২৪ সালে ৪৭৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল। ২০২৫ সালে তা দাঁড়ায় প্রায় ১২০০ একরে। মার্চের শেষে কিছু জমির ফল বাজারে আসতে শুরু করে, তবে পুরোদমে বিক্রি শুরু হতে আরও কিছুদিন বাকি ছিল।
যুগান্তর ২০২৫ সালের ২১ মার্চ কৃষি বিভাগের বরাতে একই চিত্র হেক্টরের হিসাবে দেয়: আগের বছর ১৯০ হেক্টর, সে বছর ৪৮০ হেক্টর। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় যুগান্তরকে জানান, প্রতি হেক্টরে ৩০ থেকে ৪০ টন ফলনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। মোট উৎপাদন নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা ছিল ২০ হাজার টন, যা এপ্রিল-মে নাগাদ বিক্রি হবে। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে তিনি বলেন, আবহাওয়া ও বাজারদর ভালো থাকলে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন হবে। দুই প্রতিবেদনে উৎপাদনের অনুমান এভাবে আলাদা ছিল। যুগান্তর জানায়, ভিক্টর সুগার, ওশেন সুগার, গোরি, বাংলালিংক, ব্যাকবেরিসহ কয়েকটি জাত ও স্থানীয় জাতের তরমুজ চাষ হয়েছে।

সুবর্ণচরের কৃষকেরা এলেন মিরসরাইয়ে
জাগো নিউজ জানায়, ২০২২ সালে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার সিরাজুল ইসলাম ইছাখালীতে প্রথম তরমুজ চাষ করেন। আগে রবি মৌসুমে এসব চরের বেশির ভাগ জমি খালি পড়ে থাকত। দোআঁশ মাটি দেখে তাঁরা প্রথমে মাটি পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করান, তারপর স্থানীয়দের কাছ থেকে তিন মাসের জন্য একরপ্রতি ১৫ হাজার টাকায় জমি বর্গা নিয়ে বীজ বোনেন। ফলন ভালো হওয়ায় পরের বছর আরও কয়েকজন চাষ শুরু করেন, এরপর তা চার ইউনিয়নে ছড়ায়। ২০২৫ সালে চাষ করেছেন প্রায় ১০০ কৃষক, যাঁরা সবাই নোয়াখালীর। খেতে কাজ করছিলেন প্রায় ২ হাজার শ্রমিক।
প্রথম আলো ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল জানিয়েছিল, সেই মৌসুমে উপজেলায় ১৯০ হেক্টরে তরমুজ চাষ হয়, যার ১৩০ হেক্টরই কাজীর তালুক চরে। কৃষি কর্মকর্তা তখন জানান, ওই চর থেকে প্রতিদিন গড়ে ২০ লাখ টাকার তরমুজ দেশের বিভিন্ন শহরে যাচ্ছে। একই প্রতিবেদনে স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, চরটি একটি শিল্পনগরের জন্য সরকার অধিগ্রহণ করেছে।
খরচ, লাভ আর পানির সংকট
চাষি আবু জাফর জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার আমি প্রায় ৬০ একর জমিতে তরমুজ আবাদ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে।’ ইসমাইল হোসেন সুমন জানান, পাঁচজন মিলে ৩৫ একরে চাষ করতে তাঁদের প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে; সব ঠিক থাকলে ১ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করছিলেন তাঁরা। সবার অবস্থা অবশ্য এক নয়। বেলাল হোসেনের ৮ একরের খেতের শ্রমিক সুমন বলেন, ‘আমরা এবার একটু দেরিতে চারা লাগিয়েছি। ফলন এখনো ছোট। পর্যাপ্ত পানি দিতে পারছি না।’
চাষি ইকবাল হোসেন জানান, এখানে চাষ ও বাজারজাতের সুবিধা আছে, তরমুজ আকারে বড় ও সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদাও আছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকারেরা সরাসরি খেত থেকে তরমুজ কিনতে আসতে শুরু করেছিলেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, ‘তরমুজ চাষে পরিশ্রম বেশি হলেও ৩ গুণ বেশি লাভ হয়।’


ছবি: Milli Tami / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, যুগান্তর, প্রথম আলো, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)