সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ঢাকার সানভ্যালি হাটে ১৬ লাখ টাকা দাম চাওয়া গরু বিক্রি হলো ৭ লাখে

পাবনার ব্যাপারী বাহার আলী ঈদের আগের দিন ২৭ মে ২০২৬ আফতাবনগর সংলগ্ন সানভ্যালি বালুরমাঠের হাটে শুরুতে ১৬ লাখ টাকা দাম চাওয়া তাঁর বড় গরুটি ৭ লাখ টাকায় বিক্রি করেন; ১৫ লাখ চাওয়া অন্যটি তখনো অবিক্রীত ছিল।

ঢাকার সানভ্যালি হাটে ১৬ লাখ টাকা দাম চাওয়া গরু বিক্রি হলো ৭ লাখে
লাইভস্টক

ঢাকার আফতাবনগর সংলগ্ন সানভ্যালি বালুরমাঠে বসা অস্থায়ী পশুর হাটে ২০২৬ সালের ২৭ মে, বুধবার, ১৬ লাখ টাকা দাম চাওয়া একটি বড় গরু শেষ পর্যন্ত ৭ লাখ টাকায় বিক্রি হয়। গরুটি পাবনা থেকে এনেছিলেন ব্যাপারী বাহার আলী। জাগো নিউজ সেদিন সন্ধ্যায় জানায়, বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বড় গরুটি বিক্রি হয়েছে, কিন্তু তার সঙ্গে আনা অপেক্ষাকৃত একটু ছোট গরুটি তখনো বিক্রি হয়নি। শুরুতে সেটির দাম চাওয়া হয়েছিল ১৫ লাখ টাকা; তখন সাড়ে ৫ লাখ টাকা পেলেই সেটি ছেড়ে দিতে চাইছিলেন তিনি। পরদিন, ২৮ মে বৃহস্পতিবার, দেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার কথা ছিল।

জাগো নিউজের প্রতিবেদনে গরু দুটিকে ব্রাহমা জাতের বলা হয়েছে। বিক্রি হওয়া বড় গরুটি সাদা-কালো রঙের, আর অবিক্রীত গরুটি লাল রঙের। ব্যাপারীর হিসাবে বড় গরুটি থেকে প্রায় ২৫ মণ মাংস হবে, আর ছোটটি থেকে ২২ থেকে ২৩ মণ। হাটে দামের এই ওঠানামা নিয়ে তিনি বলেন, এবার বাজার খুব খারাপ, আর এত বড় গরু গ্রামে ফিরিয়ে নিলে লোকসান আরও বাড়বে।

হাটে আসা থেকে বিক্রি পর্যন্ত দামের ধাপ


জাগো নিউজের দুটি প্রতিবেদন মিলিয়ে দেখা যায়, বাহার আলী গরু দুটি নিয়ে সানভ্যালি বালুরমাঠের হাটে আসেন ২৩ মে, শনিবার। হাটে আসার শুরুর দিকে তিনি বড় গরুটির দাম হাঁকেন ১৬ লাখ টাকা, আর অপেক্ষাকৃত ছোটটির ১৫ লাখ টাকা। প্রথম দিন থেকেই গরু দুটি ঘিরে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। কেউ মোবাইলে ছবি তোলেন, কেউ দাঁড়িয়ে দাম শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিন দিন ধরে অনেকে ঘুরে ঘুরে গরু দুটি দেখেন, কিন্তু অনেকেই দাম জিজ্ঞেস করেই সরে যান।

বিক্রি না হওয়ায় ২৬ মে, মঙ্গলবার, তিনি দাম কমিয়ে বড়টির জন্য ১১ লাখ আর ছোটটির জন্য ১০ লাখ টাকা চান। সেদিন সন্ধ্যায় প্রকাশিত জাগো নিউজের আগের প্রতিবেদনে তিনি বলেন, কেউ দুটি গরু একসঙ্গে নিলে ২০ লাখ টাকার কাছাকাছি দিলেই ছেড়ে দেবেন। তাতেও ক্রেতা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত ২৭ মে, ঈদের আগের দিন, বড় গরুটি ৭ লাখ টাকায় একজনের কাছে বিক্রি করেন তিনি। ক্রেতার পরিচয় প্রতিবেদনে নেই।

একই প্রতিবেদনে বাহার আলী দাবি করেন, হাটে আসার শুরুর দিকে একজন ক্রেতা গরু দুটির জন্য ১৫ লাখ টাকা বলেছিলেন, কিন্তু সেই দাম পছন্দ না হওয়ায় তিনি রাজি হননি। ঢাকায় আনার আগে গ্রামে এক ব্যাপারী গরু দুটির দাম ১৬ লাখ টাকা বলেছিলেন বলেও তাঁর দাবি; সেই দামেও তিনি বিক্রি করেননি। ২৬ মের প্রতিবেদনে তিনি এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, এত কষ্ট করে বড় করেছেন বলে ভেবেছিলেন ঢাকায় আনলে হয়তো আরও ভালো দাম পাবেন। এই প্রস্তাবগুলো ব্যাপারীর নিজের দাবি; প্রতিবেদনে অন্য কোনো সূত্র থেকে তা যাচাই করা হয়নি।

দুটি গরুর পাশাপাশি তিনি আরও কয়েকটি ছোট গরু এনেছিলেন, যার বেশির ভাগই ২৭ মে বিকেল পর্যন্ত বিক্রি হয়নি বলে জানান তিনি।

ব্যাপারীর দাবি: ছয় বছরের লালন-পালন


বাহার আলী জাগো নিউজকে বলেন, গরু দুটি তাঁর নিজের গাভির বাছুর, এবং প্রায় ছয় বছর ধরে তিনি পরম যত্নে সেগুলো লালন-পালন করেছেন। তাঁর হিসাবে গ্রামে প্রতিদিন একটি গরুর খাবারের পেছনে এক হাজার টাকা খরচ হয়। খামারের খাবারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক খাবারই বেশি খাওয়ানো হয়েছে, এবং কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করেননি বলে তাঁর দাবি।

মাংসের হিসাবটিও ব্যাপারীর অনুমান। ২৬ মের প্রতিবেদনে হাটে আসা এক ক্রেতা বলেছিলেন, ব্যাপারী বড় গরুর মাংস ২৫ মণ হবে বলে দাবি করলেও তাঁর ধারণা মাংস আরও কম হবে। তিনি আরও বলেন, ১০ থেকে ১১ লাখ টাকা দিয়ে গরু কেনার সামর্থ্য খুব কম মানুষের আছে, আর সাধারণ মানুষের পক্ষে এমন গরু কেনা সম্ভব নয়। বাড্ডা থেকে আসা এক ব্যবসায়ী বলেন, গরু দুটি দেখতে খুব সুন্দর, তবে ১০ থেকে ১১ লাখ টাকা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে, এবং তাঁর মনে হচ্ছে দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে।

মণ উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী ওজনের একক। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, মোগল আমলের সংজ্ঞায় ৪০ সেরে এক মণ, আর ১৮৩৩ সালে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে প্রথম এর মান নির্দিষ্ট করা হয়। সময় ও এলাকাভেদে এর মান বদলেছে। হাটে বিক্রেতারা সাধারণত চোখের আন্দাজে গরুর মাংসের পরিমাণ মণে বলেন, তাই এই সংখ্যাগুলোকে মাপা ওজন নয়, অনুমান হিসেবেই পড়তে হবে।

"বাজার খুব খারাপ": লোকসান মেনে বিক্রির কারণ


কেন কম দামে বিক্রি করছেন, জানতে চাইলে বাহার আলী বলেন, বাজার খুব খারাপ। এত বড় গরু গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে গেলে আরও লোকসান হবে। তাছাড়া বড় গরু বেশি দিন রাখা যায় না, আর কোরবানির পর গরুর চাহিদাও কমে যাবে। তাই লোকসান মেনে নিয়েই তিনি কম দামে বিক্রির চেষ্টা করছেন।

তাঁর কথায়, শুধু বড় গরু নয়, ছোট ও মাঝারি গরুও এবার খুব কম বিক্রি হচ্ছে। যে মাঝারি আকারের গরু হাটের শুরুর দিকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই গরুর জন্য ক্রেতারা এখন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বলছেন বলে তিনি জানান।

আফসোস করে তিনি বলেন, গরু দুটি খুব কষ্ট করে বড় করেছেন, ভেবেছিলেন ঢাকায় আনলে ভালো দাম পাবেন। কিন্তু ঢাকায় এনে লাভ তো দূরের কথা, এখন অনেক লোকসান হয়ে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, শুধু তিনি একা নন, এবার বেশির ভাগ ব্যাপারীই ঢাকায় গরু এনে লোকসানের মুখে পড়েছেন। এটি তাঁর নিজের মূল্যায়ন।

ঈদের আগের সপ্তাহে ঢাকার হাটের চিত্র


বাহার আলীর অভিজ্ঞতা সেই সপ্তাহে ঢাকার অন্য হাটের খবরের সঙ্গেও মেলে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বাংলা সংস্করণ ২৫ মে জানায়, ২৪ মে রাজধানীর তেজগাঁও, কমলাপুর, পোস্তগোলা ও ভাটারার হাট ঘুরে দেখা গেছে, দেশের নানা এলাকা থেকে ট্রাকে ট্রাকে গরু আসছে, কিন্তু তীব্র গরমে ক্রেতা কম। বিক্রেতারা বলেন, অনেকে শুধু দরদাম করেই ফিরে যাচ্ছেন। গরম থেকে বাঁচাতে পশুর গায়ে পাইপ দিয়ে পানি ঢালা হচ্ছিল, কেউ তালপাখা দিয়ে বাতাস করছিলেন, কেউ গরুর পাশে ছোট চার্জার ফ্যান বসিয়েছিলেন।

একই প্রতিবেদনে বিক্রেতাদের হাঁকা দামের একটি ধারণা দেওয়া হয়। দুই থেকে আড়াই মণ মাংস হবে, এমন গরুর দাম চাওয়া হচ্ছিল ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা; আড়াই থেকে চার মণের গরুর দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা; চার থেকে ছয় মণের গরুর ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা; আর ছয় মণের বেশি ওজনের গরুর জন্য তিন লাখ টাকার বেশি। খামারিরা দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ভুসি, খৈল ও খড়সহ গোখাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কথা বলেন। তেজগাঁওয়ের হাটে পাবনা থেকে গরু আনা এক খামারি জানান, তাঁদের গরুকে ঘাস খাওয়ানোর সুযোগ কম, ফিড বেশি খাওয়ানো হয়; বেশি গরমে গরুর শরীর দ্রুত গরম হয়ে যায়, হাঁপাতে থাকে, এমনকি হিট স্ট্রোকও হয়, তাই সারাক্ষণ পানি দিতে ও বাতাস করতে হচ্ছে।

এরপর আবহাওয়া বদলায়। জাগো নিউজ ২৬ মে রাতে জানায়, আগের দিন সোমবার দুপুরে রাজধানীতে বৃষ্টি নামলে হাটের পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে পড়ে। যাত্রাবাড়ীর কাজলা ও শনির আখড়া হাটে কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও গোড়ালি পর্যন্ত কাদায় আটকে পড়েন ব্যাপারীরা, আর ক্রেতারা দূর থেকেই দাম জিজ্ঞেস করে সরে যান। সেখানে কয়েকজন ব্যাপারী অভিযোগ করেন, হাটের ইজারাদাররা বৃষ্টির পানি সরানোর কার্যকর ব্যবস্থা রাখেননি; প্রতিবেদনে ইজারাদারদের কোনো বক্তব্য ছিল না। বিক্রেতারা দাবি করেন, গোখাদ্যের দাম এক বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, সঙ্গে পরিবহন ও শ্রমের খরচ যোগ হয়েছে। জামালপুর থেকে আসা এক ব্যাপারী জানান, একটি গরু তিনি ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় কিনেছেন, অথচ ঢাকায় ক্রেতারা সেটির দাম বলছেন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, আর গাড়িভাড়া পড়েছে গরুপ্রতি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা।

বাংলাদেশের একটি কোরবানির পশুর হাটে বিক্রির জন্য রাখা গরু, ২০২৪ সালের জুনে তোলা প্রেক্ষাপটের ছবি। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশের একটি কোরবানির পশুর হাটে বিক্রির জন্য রাখা গরু, ২০২৪ সালের জুনে তোলা প্রেক্ষাপটের ছবি। ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কেন বড় গরুর ক্রেতা কম


ঈদের আগের সপ্তাহের প্রতিবেদনগুলোতে একটি কথা বারবার এসেছে: ক্রেতারা ছোট ও মাঝারি গরু বেশি খুঁজছেন। ২৬ মে সানভ্যালি বালুরমাঠের হাটে আসা কয়েকজন ক্রেতা জাগো নিউজকে বলেন, এবার বড় গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ কম, বাজারেও বড় গরু কম এসেছে, আর যে কয়টি এসেছে সেগুলোর দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে। হাটের অন্য ব্যাপারীরাও বলেন, এ বছর বড় গরুর চাহিদা কম, মানুষ ছোট ও মাঝারি গরুর দরদাম বেশি করছে, তবে পরিবহন খরচ ও খাবারের দাম বাড়ায় দাম আগের চেয়ে একটু বেশি।

বাংলা ট্রিবিউন ২২ মে জানায়, বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নিলয় হোসেন কয়েক দিন আগে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এবার বড় গরুর চাহিদা কমে গেছে। খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় বড় খামারিরা বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন, এবং অনেকে লোকসানের আশঙ্কায় খামার গুটিয়ে নেওয়ার কথাও ভাবছেন। একই প্রতিবেদনে ঢাকার উত্তরখানের এক খামারি বলেন, তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়েছে, অথচ পশুর দাম গত বছরের কাছাকাছি; ছোট গরুর চাহিদা বেশি থাকায় সেগুলোর দাম তুলনামূলক বেশি, আর বড় গরুর দাম তুলনামূলক কম।

পাবনার হাটেও একই চিত্র দেখা গেছে। দৈনিক দেশ রূপান্তর ২৬ মে দুপুরে জানায়, জেলার হাটগুলোতে বিশালাকৃতির পশুর চেয়ে মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি, ফলে ছোট ও মাঝারি পশুর দাম তুলনামূলক কিছুটা চড়া।

এমন প্রবণতা আগের বছরেও দেখা গিয়েছিল। ২০২৪ সালের ১৬ জুন, ঈদের আগের দিন, প্রথম আলো উত্তরার দিয়াবাড়ি হাট থেকে জানায়, হাটের বেশির ভাগ জায়গা ফাঁকা হয়ে গেলেও শুধু আকারে বড় গরুগুলো অবিক্রীত রয়ে গেছে। ক্রেতারা এক লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকার মধ্যে বেশি গরু কিনছিলেন বলে ব্যবসায়ীরা জানান। সেখানে পাবনার এক খামারি প্রায় ১৮ মণ ওজনের একটি গরুর জন্য ৬ লাখ টাকা চাইলেও ক্রেতারা বলছিলেন ৩ লাখ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। ওই খামারি বলেছিলেন, আগে জানলে বড় গরু এত দূর থেকে কষ্ট করে হাটে আনতেন না, খামার থেকেই বিক্রি করে দিতেন।

চাহিদার চেয়ে বেশি পশু: সরকারি হিসাব


প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশে কোরবানিযোগ্য পশু ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি, আর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২১ মে এই হিসাব উল্লেখ করে জানায়, চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। পত্রিকাটির ২৫ মের প্রতিবেদনে একই সংখ্যা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বাংলা ট্রিবিউনের ২২ মের প্রতিবেদনে অধিদপ্তরের হিসাবের বিস্তারিত ভাগ দেওয়া হয়: প্রস্তুত পশুর মধ্যে গরু-মহিষ ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি, ছাগল-ভেড়া ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি এবং অন্যান্য প্রজাতির পশু ৫ হাজার ৬৫৫টি। প্রতিবেদনে আগের তিন বছরের প্রবণতাও তুলে ধরা হয়: ২০২৩ সালে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ পশুর বিপরীতে কোরবানি হয়েছিল প্রায় ১ কোটি, ২০২৪ সালে ১ কোটি ২১ লাখের বিপরীতে প্রায় ৯৫ লাখ, আর ২০২৫ সালে ১ কোটি ২৪ লাখের বিপরীতে প্রায় ৯০ লাখ। অর্থাৎ পশুর উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও কোরবানির সংখ্যা তুলনামূলক স্থির ছিল।

অধিদপ্তরের হিসাবে বিভাগভেদে সরবরাহেও বড় পার্থক্য ছিল। ঢাকা বিভাগে সম্ভাব্য চাহিদা ২১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৬৯টি হলেও প্রাপ্যতা ছিল ১৪ লাখ ৪৩ হাজার ৯৪২টি; চট্টগ্রামেও প্রায় ৫০ হাজার পশুর ঘাটতির তথ্য ছিল। অন্যদিকে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগে বড় উদ্বৃত্ত ছিল, শুধু রাজশাহী বিভাগেই চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৯ লাখ বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়। এ কারণে রাজধানীর বাজারের বড় অংশ উত্তরাঞ্চল থেকে আসবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। পাবনা রাজশাহী বিভাগেরই জেলা। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (খামার) মো. শরিফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এ বছরও পশুর কোনো সংকট নেই।

হাটের সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে দুই রকম হিসাব ছিল। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২১ মে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানায়, সারা দেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি পশুর হাট বসবে, তার মধ্যে রাজধানীতে ২৪টি: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১২টি অস্থায়ী হাট, এবং গাবতলীর স্থায়ী হাট। বাংলা ট্রিবিউন ২২ মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাতে লেখে, রাজধানীতে উত্তর সিটিতে ১৬টি ও দক্ষিণ সিটিতে ১১টি মিলিয়ে ২৭টি হাট নির্ধারণ করা হয়েছে, এবং এসব হাটে ২০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে। দুই সিটি করপোরেশন জানিয়েছিল, হাটগুলোতে পাঁচ দিন কেনাবেচা চলবে। সরকার সীমান্ত এলাকায় পশুর হাট বসানোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

পাবনা: উদ্বৃত্ত পশুর জেলা


পাবনা বাংলাদেশের পশ্চিম-মধ্যাঞ্চলের একটি জেলা, যা রাজশাহী বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব সীমানা তৈরি করেছে। জেলার দক্ষিণে পদ্মা আর পূর্ব সীমানা ধরে যমুনা বয়ে গেছে। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী জেলায় ৭ লাখ ৪৩ হাজার ৫৫৮টি খানায় ২৯ লাখ ৯ হাজার ৬২৪ জন মানুষ বাস করেন।

কোরবানির পশুর জোগানে জেলাটি বড় উদ্বৃত্তের এলাকা। দেশ রূপান্তরের ২৬ মের প্রতিবেদনে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহুরুল ইসলাম জানান, ছোট-বড় খামার ও সাধারণ গৃহস্থ মিলিয়ে এবার জেলায় মোট ৬ লাখ ৫৩ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছিল। স্থানীয় চাহিদা ছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বাকি প্রায় ৩ লাখের বেশি উদ্বৃত্ত পশু ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার হাটে পাঠানো হচ্ছিল। জেলার অনুমোদিত ২৫টি হাটে অসুস্থ পশুর তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য ২৫টি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্বে ছিল।

একই প্রতিবেদনে পাবনার প্রধান হাটগুলোর নামও আসে: শহরতলির হাজিরহাট, আতাইকুলার পুষ্পপাড়া হাট, ঈশ্বরদীর অরণখোলা হাট, সাঁথিয়ার করমজা হাট, ভাঙ্গুড়ার শরৎনগর হাট, চাটমোহরের অমৃতকুন্ডা এবং বেড়ার চতুর হাট। জেলার এক খামারি পত্রিকাটিকে বলেন, ঘাস, ভুসি ও খৈলসহ সব ধরনের গোখাদ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে, ফলে গত বছরের তুলনায় এবার পশু লালন-পালনের খরচ অনেক বেশি। হাটে আসা এক ক্রেতার অভিজ্ঞতা ছিল, গত বছর যে আকারের গরু ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এবার তা কিনতে ১ লাখ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা লাগছে।

ঢাকা ট্রিবিউনের ২০২৪ সালের একটি ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনে পাবনার নাম আরেকভাবে এসেছে: পাবনার গরু, রেড চিটাগাং ও মুন্সীগঞ্জের গরুকে দেশের স্থানীয় জাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যেগুলো মূলত মাংসের জন্য পালন করা হয়। বাহার আলীর গরু দুটি অবশ্য এই স্থানীয় জাতের নয়; প্রতিবেদনে সেগুলোকে ব্রাহমা জাতের বলা হয়েছে।

বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) দুগ্ধ খামার, ২০১৬ সালে তোলা। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) দুগ্ধ খামার, ২০১৬ সালে তোলা। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ব্রাহমা জাত এবং বাংলাদেশে এর নিয়ন্ত্রণ


ব্রাহমা বা আমেরিকান ব্রাহমা মাংসের জন্য পালিত একটি গরুর জাত। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৮৮৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত গরু থেকে এই জাত তৈরি করা হয়; এর পূর্বসূরিদের মধ্যে প্রধানত গির, গুজেরা ও নেলোর জাত ছিল, যেগুলো বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাজ্য, ভারত ও ব্রাজিল থেকে আনা হয়েছিল। জাতটি তাপ, রোদ ও আর্দ্রতা ভালোভাবে সহ্য করতে পারে এবং পরজীবীর বিরুদ্ধে এর প্রতিরোধক্ষমতা ভালো। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বহু দেশে এটি রপ্তানি হয়েছে, এবং অস্ট্রেলিয়ায় এটিই সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি গরুর জাত।

বাংলাদেশে ব্রাহমা নিয়ে সরকারি উদ্যোগের ইতিহাস ছোট নয়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২১ সালের জুলাইয়ে জানায়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ২০০৮ সালে বিফ ক্যাটল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় পরীক্ষামূলকভাবে ব্রাহমা গরু উৎপাদন শুরু করে, এবং প্রকল্পটি ২০১৭ সাল পর্যন্ত চলে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পাইলট হিসেবে তিন বছর ১১টি উপজেলায় ব্রাহমার সিমেন দিয়ে কৃত্রিম প্রজনন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই বছর বয়সী একটি দেশি গরু থেকে সর্বোচ্চ ২০০ কেজি মাংস পাওয়া গেলে একই বয়সী ব্রাহমা গরু থেকে ৬০০ থেকে ৮০০ কেজি মাংস পাওয়া যায়।

দ্রুত বাড়ে বলে খামারিদের মধ্যে জাতটির প্রতি আগ্রহ বাড়ে, এবং প্রকল্পের বাইরেও এলোমেলোভাবে কৃত্রিম প্রজনন শুরু হয়, যা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দেশি গাভিকে ব্রাহমার সিমেন দিয়ে প্রজননের ফলে জন্মানো গাভি থেকে দুধ পাওয়া যায় না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়; এতে দুধ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে অধিদপ্তর ব্রাহমা গরুর উৎপাদন ও আমদানি, ব্রাহমা ষাঁড়ের সিমেন আমদানি এবং এর কৃত্রিম প্রজনন বন্ধ করে। অধিদপ্তরের ভাষ্য ছিল, বেসরকারি পর্যায়ে কৃত্রিম প্রজননের জাতীয় নীতির মাধ্যমে ব্রাহমা আমদানি নিষিদ্ধ, তবে সরকারের অনুমতি নিয়ে গবেষণার জন্য আমদানি করা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাসে ২০০৮ সালের টেক্সাস স্টেট ফেয়ারে প্রদর্শিত ব্রাহমা গরু। ছবি: Andreas Praefcke / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাসে ২০০৮ সালের টেক্সাস স্টেট ফেয়ারে প্রদর্শিত ব্রাহমা গরু। ছবি: Andreas Praefcke / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

ঢাকা ট্রিবিউন ২০২৪ সালের ৫ জুলাই এ বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, প্রযুক্তিগতভাবে বাংলাদেশে ব্রাহমা গরু নিষিদ্ধ নয়, তবে যেকোনো গবাদিপশু আমদানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং এর জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগে। কর্মকর্তাদের ধারণা, ব্রাহমার আমদানি ও প্রজনন দেশের দুগ্ধ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অধিদপ্তরের কৃত্রিম প্রজনন দপ্তরের পরিচালক ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী পত্রিকাটিকে বলেন, বর্তমান প্রজনন নীতিতে ব্রাহমা অন্তর্ভুক্ত নেই, তাই ব্রাহমার প্রজনন প্রশ্নসাপেক্ষ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৬ সালের সংশোধিত কৃত্রিম প্রজনন নীতিতে মাংস উৎপাদন বাড়াতে স্থানীয় জাতের সঙ্গে ব্রাহমার অর্ধাঅর্ধি সংকরায়ণের পরীক্ষার কথা থাকলেও কোন স্থানীয় জাতের সঙ্গে তা করা হবে, সে প্রশ্নের মীমাংসা হয়নি, এবং নীতি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে ব্রাহমার সিমেন উৎপাদন বা বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়নি।

এই নিয়ন্ত্রণ সত্ত্বেও খামারিদের কাছে কিছু ব্রাহমা গরু থেকে গেছে বলে ২০২১ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে গরু দুটির বংশপরিচয় বা প্রজননের কোনো কাগজপত্রের উল্লেখ নেই; জাতের পরিচয় প্রতিবেদনের বর্ণনা অনুযায়ীই দেওয়া হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের নাভাসোটার একটি খামারে লাল রঙের একটি ব্রাহমা গাভি। ছবি: Oniongirl / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের নাভাসোটার একটি খামারে লাল রঙের একটি ব্রাহমা গাভি। ছবি: Oniongirl / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

ঈদুল আজহা ও কোরবানির হাট


ঈদুল আজহা ইসলামের দুটি প্রধান উৎসবের একটি, যা ইসলামি বর্ষপঞ্জির শেষ মাস জিলহজের ১০ তারিখে পালিত হয়। ঈদের নামাজের পর সামর্থ্যবান মুসলিমরা পশু কোরবানি দেন; ইসলামি ঐতিহ্যে এটি আল্লাহর আদেশে নিজের ছেলেকে উৎসর্গ করতে হজরত ইবরাহিমের (আ.) প্রস্তুতির স্মরণ। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২১ মের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশে ঈদ ছিল ২৮ মে।

বাংলাদেশে উৎসবটি কোরবানির ঈদ বা বকরি ঈদ নামেও পরিচিত। জিলহজ মাসের শুরু থেকেই সারা দেশে অস্থায়ী পশুর হাট বসতে থাকে। উইকিপিডিয়ায় উদ্ধৃত অনুমান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর ঈদুল আজহায় প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ পশু কোরবানি হয়। এই বিশাল চাহিদার বড় অংশ মেটাতে উত্তরাঞ্চলসহ উদ্বৃত্ত জেলাগুলো থেকে ব্যাপারী ও খামারিরা ট্রাকে করে পশু নিয়ে আসেন ঢাকার হাটে, যেমন এসেছিলেন পাবনার বাহার আলী। হাটে দাম ঠিক হয় শেষ কয়েক দিনের দরদামে; ২৩ মে ঢাকায় পৌঁছে চার দিনের মাথায় দাম অর্ধেকের নিচে নামিয়ে তিনি তাঁর বড় গরুটি বিক্রি করেন।

ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (বাংলা), বাংলা ট্রিবিউন, দৈনিক দেশ রূপান্তর, প্রথম আলো, ঢাকা ট্রিবিউন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সৌরপ্যানেলের নিচে ভেড়া চরালে বাড়ে মৌমাছি, তবে সংখ্যা রাখতে হবে কম

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌরখামারে হেক্টরপ্রতি দুটি ভেড়া চরালে ঘাস কাটার তুলনায় উপকারী পোকা ৩৮ শতাংশ বাড়ে। খামারিদের জন্য ভেড়ার পাল পরিকল্পনার একটি সহায়ক টুলও তৈরি করেছেন গবেষকেরা।

Farms.com১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

প্রোটিনের চাহিদায় বদলে গেল কানাডার দুধের বাজার, মাখনের উদ্বৃত্ত শেষ

দুগ্ধজাত প্রোটিনের চাহিদা বাড়ায় পাঁচ বছরের মধ্যে কানাডার দুধের বাজারে মাখনচর্বির কাঠামোগত উদ্বৃত্ত মিটে গেছে, দুধের দাম নির্ধারণেও এসেছে পরিবর্তন।

Manitoba Co-operator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিকি হেক্টরে ওটের বীজ চাষ, ইথিওপিয়ার এক কৃষকের পারিবারিক ব্যবসা

ইথিওপিয়ার এক ক্ষুদ্র কৃষক মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে বীজের জন্য ওট চাষ করে প্রথম ফসল ৪৫ হাজার বির্রে বিক্রি করেন এবং পরের বছর চাষ বাড়ান। আইএলআরআইয়ের পশুখাদ্যের বীজকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের অংশ এটি।

ILRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)