কৃষিতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল থেকে নারীদের পিছিয়ে রাখা আর্থিক বাধা দূর করতে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ দরকার বলে মনে করেন গ্লোবাল এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটি প্রোগ্রাম (জিএএফএসপি)-এর প্রধান শোভা শেঠি (Shobha Shetty)। সায়েন্স ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক বা সাইডেভ ডট নেটের রুথ ডগলাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কৃষি উপদেষ্টা শেঠি বলেন, ডিজিটাল সুবিধার প্রশ্নে নারীদের প্রায়ই শুধু সংখ্যা হিসেবে দেখা হয়। তাঁর মতে, কতজন নারীর কাছে পৌঁছানো গেল তা না বলে দেখতে হবে ডিজিটাল কৃষিতে বিনিয়োগ সত্যিই বেশি নারীর কাজে লাগছে কি না। ১৫ অক্টোবর রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সদর দপ্তরে বিশ্ব খাদ্য ফোরামের ফাঁকে এক অনুষ্ঠানের আগে তিনি এসব কথা বলেন।
শেঠি উদাহরণ দেন ইথিওপিয়ায় বিশ্বব্যাংকের আফ্রিকা জেন্ডার ইনোভেশন ল্যাবের এক পরীক্ষার, যেখানে জামানতের বদলে মনোমিতিক পরীক্ষার ভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের ঋণযোগ্যতা যাচাই করা হয়। তিন বছরে প্রস্তাব পাওয়া নারীদের ৮৯ শতাংশ আনুষ্ঠানিক ঋণ নেন, তুলনামূলক দলে যা ছিল ৪২ শতাংশ। উগান্ডায় মোবাইল মানি অ্যাকাউন্টে ঋণ পাওয়া নারীদের মুনাফা নগদে ঋণ পাওয়াদের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি হয়েছে, কারণ টাকার ওপর তাঁদের নিয়ন্ত্রণ বেশি ছিল।
শেঠির মতে, নারীর জন্য কৃষি অর্থায়ন কাজ করাতে হলে ভালো তথ্যের সঙ্গে সাশ্রয়ী পণ্য, ফসলের আয়ের সঙ্গে মিলিয়ে কিস্তি এবং নারীর নিয়ন্ত্রণে থাকা লেনদেনের পথ যুক্ত করতে হবে। তিনি বাংলাদেশে জিএএফএসপি-সমর্থিত একটি প্রকল্পের কথা বলেন, যেখানে একটি স্থানীয় আলু সমবায়ের সদস্যরা হিসাব, আর্থিক রেকর্ড ও বিনিয়োগ পরিকল্পনার জন্য এফএওর ‘রুরালইনভেস্ট’ ডিজিটাল টুল ব্যবহার করছেন। সেখানে নারীরা সমবায়ের হিসাবের দায়িত্ব নিয়েছেন, এতে সমবায়ে তাঁদের অবস্থান শক্ত হয়েছে এবং নতুন কাজের সুযোগ খুলেছে।
২০১০ সাল থেকে জিএএফএসপি নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে ৩০০টির বেশি প্রকল্পে প্রায় ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। তাদের নতুন বিজনেস ইনভেস্টমেন্ট ফাইন্যান্সিং ট্র্যাকে আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে প্রাথমিক ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বিনিয়োগ ইথিওপিয়া, উগান্ডা, তানজানিয়া, মালাউই ও জাম্বিয়ায় ২০ কোটি ডলার পর্যন্ত ঋণ টানবে বলে আশা করা হচ্ছে; রুয়ান্ডার ক্ষুদ্র কৃষকদের ২ কোটি ১০ লাখ ডলারের প্যাকেজে দেওয়া হয়েছে ৬০ লাখ ডলার। উন্নয়ন সহায়তায় কঠোর কাটছাঁটের পর বেসরকারি ও সরকারি পুঁজি জোগাড় করা জরুরি বলে মনে করেন শেঠি।
ছবি: Hridoye Mati O Manush / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: SciDev.Net




মন্তব্য
(০)