সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ভারতীয় গরুর আধিপত্য নেই, দেশিতেই লাভের আশা খামারিদের

আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাদেই পবিত্র ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে হাটে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। খামারিরা বলছেন, আগের তুলনায় এবার উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। তবে ভারতীয় গরুর আধিপত্য নেই। তাই বাজারে চাহিদা থাকবে দেশি গরুর। ফলে ভালো দাম পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী খামারিরা।

আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাদেই পবিত্র ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে হাটে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। খামারিরা বলছেন, আগের তুলনায় এবার উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। তবে ভারতীয় গরুর আধিপত্য নেই। তাই বাজারে চাহিদা থাকবে দেশি গরুর। ফলে ভালো দাম পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী খামারিরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, এবার রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে মোট চার লাখ ৬৩ হাজার ১১টি পশু। এর মধ্যে গরু এক লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি, মহিষ তিন হাজার ৪২৫টি, ছাগল তিন লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি এবং ভেড়া ৪৩ হাজার ৪০৬টি। জেলায় কোরবানি পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি। সে হিসেবে চাহিদার তুলনায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু বেশি রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অতিরিক্ত পশু রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে। শুধু রাজশাহী জেলা নয়, পুরো বিভাগজুড়েই পশুর সরবরাহ আশাব্যঞ্জক।

'এবার রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে মোট চার লাখ ৬৩ হাজার ১১টি পশু। এর মধ্যে গরু এক লাখ ৪ হাজার ৮৪১টি, মহিষ তিন হাজার ৪২৫টি, ছাগল তিন লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি এবং ভেড়া ৪৩ হাজার ৪০৬টি। জেলায় কোরবানি পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭১ হাজার ৫৮টি। সে হিসেবে চাহিদার তুলনায় ৯১ হাজার ৯৫৩টি পশু বেশি রয়েছে'

বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগে প্রায় ৪৩ লাখ পশু প্রস্তুত রয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ। ফলে কোরবানির পশু সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

জমে উঠতে শুরু করেছে রাজশাহীর পশুর হাট/ছবি-জাগো নিউজ

একসময় সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের হাটগুলোতে ভারতীয় গরুর আধিপত্য ছিল। তবে সীমান্তে কঠোর নজরদারির কারণে গত কয়েক বছরে সেই প্রবণতা বন্ধ হয়েছে। এতে স্থানীয়ভাবে গবাদিপশু পালনে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় প্রতি উপজেলাতেই গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিক খামার। এতে একদিকে স্বনির্ভরতা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানও হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগজুড়ে তিন শতাধিক কোরবানির হাট বসানোর প্রস্তুতি প্রায় শেষ। কিছু এলাকায় বেচাকেনা শুরু হয়েছে। তবে ঈদের কয়েক দিন আগে এসব হাটে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ভিড়ে জমজমাট বেচাকেনা শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

কোরবানির পশুর হাটে দেশি গরুর আধিপত্য/ছবি-জাগো নিউজ

গোদাগাড়ী উপজেলার খামারি আব্দুল মালেক জানান, তিনি আগেভাগেই দেশীয় পদ্ধতিতে পশু লালন-পালন শুরু করেন। যদিও উৎপাদন খরচ বেড়েছে, তবুও ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

আরও পড়ুন: বরিশালে কোরবানির হাট কাঁপাবে 'লাল মিয়া'কক্সবাজারে কুমির ঘিরে সম্ভাবনা, রপ্তানির জন্য অপেক্ষাপশু বেচাকেনায় শত বছরের পুরোনো প্রথা বদলে দিচ্ছে 'লাইভ ওয়েট'নেই সেই ধানের গোলা

তানোর উপজেলার সুজন আলী বলেন, ‌'ছয় মাস আগে পরিকল্পনা করে গরু পালন শুরু করি। প্রথমে খাদ্যের দাম নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ ছিল। বর্তমানে পশুগুলো ভালোভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাবো বলে আশা করছি।'

প্রায় এক বছর ধরে পরিকল্পনা করে গরু ও ছাগল পালন করছেন পবা উপজেলার খামারি রফিকুল ইসলাম। নিজস্ব খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে পশু লালন-পালন করেছেন। তবে এবছর গো-খাদ্য ও ওষুধের দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেশি পড়েছে। তারপরও তিনি আশা করছেন, কোরবানির বাজারে পশুর ভালো চাহিদা থাকবে। ফলে দামও পাওয়া যাবে ভালো।

'আগের বছরের মতো এবারও দেশীয় পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ হবে। অতিরিক্ত পশু দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা গেলে খামারিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। খামারিরা লাভবান হলে তারা গরু পালনে আরও ব্যাপক উৎসাহী হবেন'

বাগমারা উপজেলার খামারি আকলিমা আক্তার জানান, ছোট আকারের পশুর চাহিদা বেশি থাকায় তিনি গরুর পাশাপাশি ছাগল ও ভেড়া পালন করেছেন। ঈদে এসব পশু বাজারে তুলবেন।

এবার রাজশাহীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে মোট চার লাখ ৬৩ হাজার ১১টি পশু/ছবি-জাগো নিউজ

দেশীয় গরু উৎপাদনে ভারতীয় আধিপত্য অনেকটাই কমে আসবে মনে করেন নগরীর মোহনপুর এলাকার গরু খামারি রুবেল হোসেন।

আরও পড়ুন:সজিনা ফুল থেকে মধু উৎপাদনে ৪ তরুণের সফলতাহাঁস-মুরগির খামারে অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ প্রয়োগ, স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কাপোকা চাষে ভাগ্যবদল শিমুলের, মাসে আয় ২ লাখ

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‌'দেশের মধ্যেই গরু পালন হলে একদিকে যেমন দেশ স্বাবলম্বী হবে, অন্যদিকে ভারতীয় আধিপত্য অনেকটাই কমে যাবে। কেননা প্রতিবছর কোরবানির ঈদ এলেই আমরা ভারতের দিকে তাকিয়ে থাকি। সরকার যদি গরু খামারিদের দিকে একটু বিশেষ নজর দেয়, তাহলে দেশেই ব্যাপক গরু উৎপাদন সম্ভব।'

রাজশাহী বিভাগজুড়ে তিন শতাধিক কোরবানির হাট বসানোর প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে/ছবি-জাগো নিউজ

স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব বলে জানান রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ পরিচালক ড. আনন্দ কুমার অধিকারী।

তিনি বলেন, 'হাটগুলোতে ভেটেরিনারি সেবা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহের জন্য খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।'

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতোয়ার রহমান বলেন, 'আগের বছরের মতো এবারও দেশীয় পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ হবে। অতিরিক্ত পশু দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা গেলে খামারিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। খামারিরা লাভবান হলে তারা গরু পালনে আরও ব্যাপক উৎসাহী হবেন।'

মনির হোসেন মাহিন/এসআর/জেআইএম

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সৌরপ্যানেলের নিচে ভেড়া চরালে বাড়ে মৌমাছি, তবে সংখ্যা রাখতে হবে কম

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌরখামারে হেক্টরপ্রতি দুটি ভেড়া চরালে ঘাস কাটার তুলনায় উপকারী পোকা ৩৮ শতাংশ বাড়ে। খামারিদের জন্য ভেড়ার পাল পরিকল্পনার একটি সহায়ক টুলও তৈরি করেছেন গবেষকেরা।

Farms.com১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

প্রোটিনের চাহিদায় বদলে গেল কানাডার দুধের বাজার, মাখনের উদ্বৃত্ত শেষ

দুগ্ধজাত প্রোটিনের চাহিদা বাড়ায় পাঁচ বছরের মধ্যে কানাডার দুধের বাজারে মাখনচর্বির কাঠামোগত উদ্বৃত্ত মিটে গেছে, দুধের দাম নির্ধারণেও এসেছে পরিবর্তন।

Manitoba Co-operator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিকি হেক্টরে ওটের বীজ চাষ, ইথিওপিয়ার এক কৃষকের পারিবারিক ব্যবসা

ইথিওপিয়ার এক ক্ষুদ্র কৃষক মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে বীজের জন্য ওট চাষ করে প্রথম ফসল ৪৫ হাজার বির্রে বিক্রি করেন এবং পরের বছর চাষ বাড়ান। আইএলআরআইয়ের পশুখাদ্যের বীজকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের অংশ এটি।

ILRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)