সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

ঢাকায় শীতের সবজির দাম আবারও বাড়তি, শীতকে দুষছেন ব্যবসায়ীরা

২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি ঢাকার কাঁচাবাজারে শীতের বেশির ভাগ সবজির দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছিল বলে জানায় জাগো নিউজ; টমেটো বিক্রি হচ্ছিল ১০০-১২০ টাকা কেজিতে। ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন, তীব্র শীতে কৃষকেরা ক্ষেত থেকে সবজি তুলতে পারছেন না।

ঢাকায় শীতের সবজির দাম আবারও বাড়তি, শীতকে দুষছেন ব্যবসায়ীরা
শাকসবজি

২০২৬ সালের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে রাজধানী ঢাকার কাঁচাবাজারে শীতের সবজির দাম আবারও বেড়েছিল। জাগো নিউজ ৯ জানুয়ারি, শুক্রবার জানায়, ভরা মৌসুমে শীতের সব সবজির সরবরাহ বাড়লেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়েছে। বছরের এই সময়ে যে টমেটোর দাম সাধারণত ক্রেতার নাগালের মধ্যে থাকে, সেই টমেটোই তখন বিক্রি হচ্ছিল কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকায়। দাম নিয়ে ক্রেতাদের অস্বস্তি কাটছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সেদিন জাগো নিউজের একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নাখালপাড়া, হাতিরপুল ও মিরপুর-১১ কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে সব জায়গাতেই সবজির দাম বাড়তি দেখতে পান। রাজধানীর খুচরা ব্যবসায়ীরা পত্রিকাটিকে বলেন, প্রচণ্ড শীতে কৃষকেরা ক্ষেত থেকে সবজি তুলতে পারছেন না; তাপমাত্রা বাড়লে সবজির দাম কমবে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর তখন জানিয়েছিল, কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং পরের পাঁচ দিনে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তীব্র শীতে জনজীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে।

৯ জানুয়ারি রাজধানীতে কোন সবজির কত দাম


দামের পরিবর্তন সবচেয়ে স্পষ্ট ছিল ফুলকপিতে। এক সপ্তাহ আগে মাঝারি আকারের যে ফুলকপি প্রতি পিস ১৫-২৫ টাকায় মিলেছিল, সেটি তখন বিক্রি হচ্ছিল ৩৫-৪০ টাকায়। মুলার দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে হয়েছিল ৪০ টাকা, আর বেগুন বিক্রি হচ্ছিল প্রতি কেজি ৬০ টাকায়। শিমের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৫০-৭০ টাকায়। আলুর দাম কিছুটা বেড়ে প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকা হয়েছিল। শালগম, পেঁপে ও ব্রকলি মিলছিল কেজিপ্রতি ৩০-৫০ টাকায়।

সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছিল টমেটোর দাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের এই সময়ে টমেটোর দাম ক্রেতার নাগালের মধ্যেই থাকে; অথচ বাজারে পাকা, কাঁচা ও আধাপাকা তিন ধরনের টমেটোই বিক্রি হচ্ছিল প্রতি কেজি ১০০-১২০ টাকায়। আগের সপ্তাহে পাকা টমেটো মিলেছিল ৮০ টাকায়। ঢ্যাঁড়স ও পটল বিক্রি হচ্ছিল কেজিপ্রতি ৯০-১২০ টাকায়।

তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি। জাগো নিউজ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখেছে, পেঁয়াজ, ডিম, মুরগিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম তখন স্বাভাবিক ছিল।

ঢাকায় বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা ফুলকপি, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তোলা। ছবি: NahidSultan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ঢাকায় বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা ফুলকপি, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তোলা। ছবি: NahidSultan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য: ঢাকার বাইরে থেকে সবজি আসছে কম


দাম বাড়ার জন্য ব্যবসায়ীরা আবহাওয়াকেই দায়ী করেছিলেন। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকার বাইরে থেকে সবজি আসছে কম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তীব্র শীতে কৃষকেরা ঘর থেকে বের হতে পারছেন না এবং ক্ষেত থেকে সময়মতো ও চাহিদা অনুযায়ী সবজি তুলতে পারছেন না; এর প্রভাব পড়েছে সবজির সরবরাহে।

রাজধানীর অন্যান্য বাজারের খুচরা বিক্রেতারাও একই কথা বলেছিলেন: শীতের কারণে কৃষকেরা মাঠে নামতে পারছেন না, তাপমাত্রা বাড়লে দাম কমে আসবে। এগুলো ছিল পত্রিকাটির কাছে দেওয়া ব্যবসায়ীদের ব্যাখ্যা; সেই সপ্তাহে পাইকারি বাজারে কী পরিমাণ সবজি এসেছিল, তার কোনো হিসাব প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।

ক্রেতারা যা বলেছিলেন


নাখালপাড়া বাজারের ক্রেতা আল আমিন পত্রিকাটিকে বলেন, সবজির দাম কিছুটা বাড়তি; তাঁর ধারণা, রোজা শুরুর আগে দাম আরও বাড়বে। আরেক ক্রেতা বলেন, এই মৌসুমে পাকা টমেটোর দাম সাধারণত কেজিপ্রতি ৪০-৫০ টাকা থাকে, কিন্তু তখন তা বিক্রি হচ্ছিল দ্বিগুণ দামে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা বলছেন তীব্র শীতে টমেটো পাকছে না, "আবার খবরে দেখি কৃষক দাম পায় না"।

সেই সপ্তাহে মাঠপর্যায়ে কৃষকেরা কী দাম পাচ্ছিলেন, প্রতিবেদনে তা ছিল না। তাই কৃষকের আয় আর শহরের ক্রেতার খরচের মধ্যে যে ব্যবধানের কথা ওই ক্রেতা বলেছিলেন, প্রতিবেদন থেকে তা মাপা যায় না।

টমেটো ও অন্যান্য শীতের ফসলে ঠান্ডার প্রভাব


বাংলাদেশে টমেটো শীতকালীন ফসল। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া টমেটোকে সোলানেসি গোত্রের উদ্ভিদ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যার আদি নিবাস গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আমেরিকা। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৩০ দিন বয়সী চারা সাধারণত নভেম্বর ও ডিসেম্বরে রোপণ করা হয় এবং ৮০ থেকে ৯০ দিনে ফসল তোলার উপযোগী হয়। জ্ঞানকোষটি জানায়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) টমেটোর বেশ কয়েকটি জাত উদ্ভাবন করেছে; এর মধ্যে বারি টমেটো-৪, বারি টমেটো-৫, চৈতী, লালিমা ও অনুপমা গরম মৌসুমেও চাষ করা যায়।

দেশে টমেটোর উৎপাদন বড় পরিসরের। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫ সালের জুনে প্রকাশিত ইয়ারবুক অব এগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২৪-এ জানিয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে ৭৭ হাজার একর জমিতে ৪ লাখ ৯১ হাজার টন টমেটো উৎপাদিত হয়েছে। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ৪ লাখ ৬৯ হাজার টন এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪ লাখ ৪২ হাজার টন।

কম তাপমাত্রা টমেটো গাছের কয়েকটি ধাপে প্রভাব ফেলে। টমেটো ও মরিচ ফসলে চরম তাপমাত্রার প্রভাব নিয়ে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের সরকারের নির্দেশিকা, যা ২০২২ সালে প্রকাশিত ও ২০২৪ সালে হালনাগাদ করা হয়, বলছে: ফুল ফোটার সময় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে পরাগায়ন ব্যাহত হতে পারে এবং ফলে ক্যাটফেসিং নামে একধরনের বিকৃতি দেখা দিতে পারে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১০ ডিগ্রির নিচে ফল ধরা কমে যায়, আর ফল ধরার জন্য সবচেয়ে উপযোগী তাপমাত্রা ১৮.৫ থেকে ২৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দীর্ঘ সময় ১৫.৫ ডিগ্রির নিচে থাকা গাছের ফুল কয়েক সপ্তাহ ফুটে থাকলেও তা থেকে ফল না-ও হতে পারে। এ ছাড়া টমেটো ফল ১৪ দিনের বেশি ১০ ডিগ্রিতে কিংবা ছয় থেকে আট দিনের বেশি ৫ ডিগ্রিতে থাকলে শীতজনিত ক্ষতির (চিলিং ইনজুরি) শিকার হতে পারে।

এই নির্দেশিকা লেখা হয়েছে কানাডার চাষিদের জন্য, বাংলাদেশের জন্য নয়; টমেটো না পাকার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট দাবির সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক নেই। এটি কেবল দেখায় যে দীর্ঘ সময়ের ঠান্ডা এই ফসলের জন্য একটি স্বীকৃত চাপ।

বাংলাদেশে উৎপাদিত টমেটো, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তোলা। ছবি: Jubair Bin Iqbal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশে উৎপাদিত টমেটো, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তোলা। ছবি: Jubair Bin Iqbal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সেই সপ্তাহে মাঠে শীত ও কুয়াশা


ব্যবসায়ীরা যে শীতের কথা বলছিলেন, তার প্রভাব তখন সারা দেশের মাঠেই পড়ছিল। একই দিন সকালে, বাজারদরের প্রতিবেদনের কিছু আগে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে জাগো নিউজ জানায়, আগের সপ্তাহজুড়ে নওগাঁর তাপমাত্রা ছিল ৬ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে, আর ৭ জানুয়ারি নওগাঁর বদলগাছীতে শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। ১ জানুয়ারি আবহাওয়া অফিসের মাসব্যাপী পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, জানুয়ারিতে দেশে একাধিক শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে।

আবহাওয়া অফিস সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ভিত্তিতে শৈত্যপ্রবাহের মাত্রা নির্ধারণ করে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড যে শ্রেণিবিভাগ প্রকাশ করেছিল, সে অনুযায়ী তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ এবং ৬ ডিগ্রির নিচে নামলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ধরা হয়।

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি বাংলাদেশের সবচেয়ে শীতল মাস; এ মাসে গড় তাপমাত্রা উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে উপকূলীয় এলাকায় ২০-২১ ডিগ্রি পর্যন্ত থাকে। ডিসেম্বরের শেষ ও জানুয়ারির শুরুতে দেশের একেবারে উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব প্রান্তে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৪ থেকে ৭ ডিগ্রির মধ্যে নেমে আসে। জ্ঞানকোষটি নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারিকে শীতল ও শুষ্ক মৌসুম হিসেবে গণ্য করে, যখন বছরের মোট বৃষ্টিপাতের মাত্র ২ থেকে ৪ শতাংশ হয়।

কৃষি নিয়ে ওই প্রতিবেদনে কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলেন, দীর্ঘ সময় কম তাপমাত্রা ও কুয়াশা থাকলে প্রায় সব রবি শস্যে রোগবালাই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে; এতে ফলন যেমন কমে, তেমনি গুণগত মানও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের এক কৃষক পত্রিকাটিকে জানান, তাঁর শিমগাছে ছড়া ধরে থাকছে না; প্রতি ছড়ায় শিম হয়েছে চার-পাঁচটি, যেখানে অন্য বছর হতো ১৫-২০টি।

ওই প্রতিবেদনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) যে হিসাব দেওয়া হয়, তাতে বোঝা যায় মাঠে তখন কতটা ফসল ছিল। সেই মৌসুমে ৪ দশমিক ৬৭ লাখ হেক্টর জমিতে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৮৭ শতাংশ জমিতে রোপণ শেষ হয়েছিল। চলমান আবহাওয়ায় আলুর লেট ব্লাইট রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় অধিদপ্তর সতর্কতামূলক পরামর্শ জারি করেছিল। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা তিন দিন সূর্যের দেখা না মিললে আলুতে লেট ব্লাইট রোগ দেখা দেয় এবং এ রোগে আলুগাছ দ্রুত মরে যেতে পারে। বোরো ধানের বীজতলার জন্য নির্ধারিত ২ দশমিক ৪৮ লাখ হেক্টরের প্রায় ৭০ শতাংশে বীজতলা তৈরি হয়েছিল, আর বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) এগ্রোমেট ল্যাব সতর্ক করে জানায়, অতিরিক্ত ঠান্ডায় বীজতলায় চারা পোড়া রোগ ও থ্রিপস পোকার আক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পত্রিকাটিকে বলেন, ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ থেকে বীজতলা বাঁচাতে কৃষকদের পলিথিনে মুড়িয়ে রাখা ও রাতে পানিতে ডুবিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, সেই সঙ্গে তীব্র শীতের মধ্যে বোরো রোপণ না করারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের একজন অধ্যাপক বলেন, তখন বেশির ভাগ রবি শস্যের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ (ফরমেশন) চলছিল; এ সময়ে রোগের আক্রমণ হলে ফলন ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে।

ডিম, মুরগি ও মাংসের দাম ছিল স্থির


ডিম ও মাংসের দামে তখন কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের সপ্তাহের মতোই প্রতি ডজন ফার্মের বাদামি ডিম বিক্রি হচ্ছিল ১০৫-১১০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকা, আর সোনালি জাতের মুরগি কেনা যাচ্ছিল কেজিপ্রতি ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায়। প্রতি কেজি গরুর মাংস মিলছিল ৭৫০-৮০০ টাকায়।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ চাহিদার চেয়ে বেশি ডিম ও মাংস উৎপাদন করে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস) ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বিবিএসের সাময়িক হিসাবের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা লাইভস্টক ইকোনমি অ্যাট আ গ্লান্স ২০২৪-২৫-এ জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিম উৎপাদিত হয়েছে ২ হাজার ৪৪০ দশমিক ৬৫ কোটি, যেখানে জনপ্রতি বছরে ১০৪টি ধরে চাহিদা ১ হাজার ৮৫০ দশমিক ১৬ কোটি। একই সময়ে মাংস উৎপাদন ছিল ৮৯ দশমিক ৫৪ লাখ টন, আর জনপ্রতি দৈনিক ১২০ গ্রাম ধরে চাহিদা ৭৭ দশমিক ৯২ লাখ টন।

দামের তালিকার দুই ধরনের মুরগির একটি, সোনালি, একটি সংকর জাতের মুরগি। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের লেখা এবং লাইভস্টক রিসার্চ ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট সাময়িকীতে ২০১৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, রোড আইল্যান্ড রেড মোরগ ও ফাউমি মুরগির সংকরায়ণে গ্রামের মানুষের জন্য সোনালি জাতটি উদ্ভাবন করা হয়। গবেষণাপত্রটি জানায়, ২০১০ সালে এফএও বর্ণিত বাংলাদেশ পোলট্রি মডেলে ক্ষুদ্র খামারিরা ডিম উৎপাদনের জন্য সংকর সোনালি মুরগি পালন করেন।

মাছের দাম এবং এসব মাছ কোথা থেকে আসে


মাছের বাজারে প্রতি কেজি পাঙাশ বিক্রি হচ্ছিল ১৭০-২০০ টাকায়, পাবদা ৪০০-৫৩০ টাকায় এবং কই ২৫০-৩৫০ টাকায়। প্রতি কেজি রুই ৩২০-৪২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৮০ টাকা, কাতলা ৩৪০-৪৪০ টাকা এবং শিং ৩৪০-৬৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

এসব মাছের বেশির ভাগই চাষের মাছ। মৎস্য অধিদপ্তর (ডিওএফ) ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ইয়ারবুক অব ফিশারিজ স্ট্যাটিসটিকস অব বাংলাদেশ ২০২৩-২৪-এ জানিয়েছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে মোট মাছ উৎপাদিত হয়েছে ৫০ দশমিক ১৮ লাখ টন, যার ৫৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ এসেছে চাষ থেকে। পুকুরে উৎপাদনের ভিত্তিতে শীর্ষ আটটি প্রজাতি হিসেবে বর্ষপঞ্জিটি পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই, সিলভার কার্প, মৃগেল, কাতলা, কমন কার্প ও কইয়ের নাম উল্লেখ করেছে।

বর্ষপঞ্জির অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের প্রজাতিভিত্তিক সারণি অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রুই উৎপাদিত হয়েছে ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৩৬ টন, তেলাপিয়া ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৮ টন, পাঙাশ ৪ লাখ ১৮ হাজার ৬২৯ টন, কাতলা ৩ লাখ ১৯ হাজার ১৭৮ টন এবং কই ৭৯ হাজার ৯১৩ টন; শিং ও মাগুর একসঙ্গে গুনে ১ লাখ ১২ হাজার ৬৬৩ টন। পাঙাশের মধ্যে ৪ লাখ ৪ হাজার ৯৬৩ টন এসেছে পুকুর থেকে। মৎস্য অধিদপ্তর আরও জানায়, কই, শিং, মাগুর, পাবদা, গুলশা ও মলার মতো মূল্যবান ও পুষ্টিসমৃদ্ধ দেশি প্রজাতির চাষ কৃষকদের বিশেষ মনোযোগ পেয়েছে।

ঢাকার কারওয়ান বাজারে গামলা নিয়ে মাছ বিক্রেতারা, ২০১৬ সালের আগস্টে তোলা। ছবি: mohigan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ঢাকার কারওয়ান বাজারে গামলা নিয়ে মাছ বিক্রেতারা, ২০১৬ সালের আগস্টে তোলা। ছবি: mohigan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

দেশে শীতের সবজির উৎপাদন কতটা


প্রতিবেদনে যেসব সবজির কথা এসেছে, সেগুলো দেশে বড় পরিসরে চাষ হয়। বিবিএসের বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ লাখ ৭০ হাজার একর জমিতে মোট ৩৯ লাখ ৫৪ হাজার টন শীতকালীন সবজি উৎপাদিত হয়েছে; ২০২২-২৩ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩৬ লাখ ৬৮ হাজার টন এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার টন। জাগো নিউজের দামের তালিকায় থাকা ফসলগুলোর মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রবি মৌসুমের বেগুন ৮৬ হাজার একরে ৪ লাখ ৮৫ হাজার টন, ফুলকপি ৫৮ হাজার একরে ৪ লাখ ৩০ হাজার টন, মুলা ৬৬ হাজার একরে ৩ লাখ ৭৬ হাজার টন, শিম ৬৩ হাজার একরে ২ লাখ ২৬ হাজার টন এবং শালগম ৩ হাজার একরে ১০ হাজার টন উৎপাদিত হয়েছে।

তালিকার সবচেয়ে দামি দুটি সবজি, ঢ্যাঁড়স ও পটল, বিবিএসের একই সারণিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি হিসেবে গণ্য। সারণি অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঢ্যাঁড়স উৎপাদিত হয়েছে ৯৯ হাজার টন এবং পটল ১ লাখ ৩১ হাজার টন। বাংলাপিডিয়াও জানায়, ঢ্যাঁড়স দেশের প্রায় সব অঞ্চলে গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে চাষ হয়।

বাংলাপিডিয়া বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, বেগুন, মুলা, শিম ও লাউকে বাংলাদেশের প্রধান শীতকালীন সবজি হিসেবে উল্লেখ করেছে। জ্ঞানকোষটির তথ্যমতে, ফুলকপি শীতকালীন ফসল; ৩০ দিন বয়সী চারা অক্টোবর-নভেম্বরে রোপণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী, আর দেশে আগাম, মধ্য মৌসুমি ও নাবি জাতের ফুলকপি চাষ হয়। মুলা সাধারণত শীতকালীন ফসল, তবে গ্রীষ্মেও কিছুটা চাষ করা যায়। বেগুন অক্টোবর-নভেম্বরে রোপণ করা হয় এবং ৯০ থেকে ১০০ দিনে তোলার উপযোগী হয়। অনুকূল পরিবেশের কারণে কিছু সবজির চাষ নির্দিষ্ট এলাকায় কেন্দ্রীভূত; বাংলাপিডিয়া বগুড়ার পটল, চট্টগ্রামের শিম, টাঙ্গাইলের আগাম ফুলকপি এবং যশোর ও নবাবগঞ্জের টমেটোর কথা উল্লেখ করেছে।

ঢাকার বাজারে যে আলুর দাম কিছুটা বেড়েছিল, বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী সেটি শীতকালে দেশের সব জেলায় ব্যাপকভাবে চাষ হয়। বেশির ভাগ জাতের আলু ফেব্রুয়ারি-মার্চে তোলা হয়, তবে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় কৃষকেরা আগাম ফসল তোলার জন্য অক্টোবরেই আলু রোপণ করেন।

কারওয়ান বাজার এবং দুই সপ্তাহ আগের বাজার


প্রতিবেদকের ঘুরে দেখা প্রথম বাজার কারওয়ান বাজার ঢাকার ফার্মগেট এলাকার কাছে একটি পাইকারি বাজার। বাংলাপিডিয়া জানায়, এখানে মাছ, সবজি ও চালের পাইকারি ব্যবসার জন্য আলাদা ব্লক রয়েছে; সারা দেশ থেকে মাছ, সবজি ও অন্যান্য পণ্য এখানে আসে এবং প্রতি রাতে শত শত ট্রাক বাজারের দোকানগুলোতে পণ্য নিয়ে আসে। এখানকার ব্যবসায়ীরা ঢাকা শহর ও আশপাশের বিভিন্ন মাঝারি ও ছোট বাজারে সবজি, মাছ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সরবরাহ করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রধান কার্যালয়ও কারওয়ান বাজারে। বাংলাপিডিয়া টিসিবির কাজের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও দামের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা এবং ডিলারদের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে চিনি, ডাল, সয়াবিন তেল ও ছোলা বিক্রির কথা উল্লেখ করেছে।

জাগো নিউজের এই প্রতিবেদনের দুই সপ্তাহ আগে ঢাকার বাজারের চিত্র ছিল ভিন্ন। ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বাজারদরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, সরবরাহ বাড়ায় তখন শীতের বেশির ভাগ সবজি কেজিপ্রতি ২০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। টমেটোর দাম তখন ছিল কেজিপ্রতি প্রায় ৮০ টাকা, যা তার আগের সপ্তাহে ছিল ১০০-১২০ টাকা; শনির আখড়ায় ফুলকপি বিক্রি হচ্ছিল প্রতি পিস ২০ টাকায়, আর বিচিওয়ালা শিমের দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকা থেকে নেমে ৫০ টাকায় এসেছিল। ব্যবসায়ীরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, সে বছর উৎপাদন বেশি হওয়ায় পুরোনো আলুর দাম কমেছে। একই প্রতিবেদনে টিসিবির তথ্য উদ্ধৃত করে ঢাকায় দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৬০-১৪০ টাকা বলা হয়।

ছবি: Yahya / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (ইয়ারবুক অব এগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২৪), মৎস্য অধিদপ্তর (ইয়ারবুক অব ফিশারিজ স্ট্যাটিসটিকস অব বাংলাদেশ ২০২৩-২৪), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (লাইভস্টক ইকোনমি অ্যাট আ গ্লান্স ২০২৪-২৫), অন্টারিও প্রাদেশিক সরকার (কানাডা), লাইভস্টক রিসার্চ ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট, বাংলাপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

শাকসবজি

সম্পর্কিত খবর

শাকসবজি

কুয়াশায় শিকড় খাওয়ানোর প্রযুক্তিতে রোগমুক্ত আলুবীজ উৎপাদনের পরীক্ষা ইংল্যান্ডে

স্টার্টআপ এয়ারপনিক্স ও ডাইসন ফার্মিং ডেফরার অর্থায়নে দুই বছরের এক পরীক্ষা শুরু করেছে: কুয়াশাভিত্তিক পদ্ধতিতে বর্তমান খরচের অর্ধেকেরও কমে ইংল্যান্ডে রোগমুক্ত প্রথম প্রজন্মের আলুবীজ উৎপাদন সম্ভব কি না।

AgNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

মাশরুমের গাঁজন প্রযুক্তিতে টফুর বর্জ্য হলো প্রোটিনসমৃদ্ধ সুস্বাদু উপাদান

সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা সয়া দুধ ও টফুর অবশিষ্ট ওকারা ঝিনুক মাশরুমের মাইসেলিয়াম দিয়ে গাঁজন করে এর প্রোটিন প্রায় ২৮ থেকে ৩০ শতাংশে তুলেছেন, বাড়িয়েছেন উমামি স্বাদ।

Green Queen১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

মাদারগঞ্জে ৬০ হেক্টরে আগাম শসা, দুই হাজার টন উৎপাদনের আশা

জামালপুরের মাদারগঞ্জে এবার প্রায় ৬০ হেক্টরে আগাম শসার আবাদ হয়েছে, উৎপাদন হতে পারে প্রায় দুই হাজার টন; পাইকারি বাজারে কেজি ৩০-৪০ টাকা, বিঘায় খরচ ১৫-২০ হাজার আর বিক্রি ৩০-৪০ হাজার টাকা।

ডেইলি বাংলাদেশ১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)