সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

শীতে পোলট্রি খামারের যত্ন: ব্রুডিং তাপমাত্রা, বায়ু চলাচল ও টিকা

শীতে মুরগির বাচ্চা গাদাগাদি করে মরছে? সপ্তাহ ধরে ব্রুডিং তাপমাত্রা, পলিথিনের বদলে চটের পর্দা, অ্যামোনিয়া নিয়ন্ত্রণ আর প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শে টিকা নিয়ে জেনে নিন কর্তৃপক্ষের তথ্য।

শীতে পোলট্রি খামারের যত্ন: ব্রুডিং তাপমাত্রা, বায়ু চলাচল ও টিকা
লাইভস্টক

খামারের এক কোণে গাদাগাদি করে থাকা এক দিনের বাচ্চা, শীত ঠেকাতে পলিথিনে মোড়া মুরগির ঘর, আর প্রতিদিন সকালে শ্বাসকষ্টে মরে পড়ে থাকা বাচ্চা: শীতকালে পোলট্রি খামারের এই সমস্যার কথাই আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক আগের এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছিলেন। সেখানে বলা হয়েছিল, শীতকালে বিশেষ যত্ন না নিলে ব্রয়লারের ওজন বাড়ার গতি কমে যায়, লেয়ার খামারে ডিমের সংখ্যা কমে এবং বাচ্চার মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। আর এ সময় মুরগির বাচ্চাকে সঠিক তাপমাত্রা দেওয়াই প্রধান সমস্যা।

এই প্রতিবেদন সেই পরামর্শগুলো রেখেই সেগুলো এ বিষয়ের কর্তৃপক্ষের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছে: কৃষকদের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কৃষি আবহাওয়া পরামর্শ বুলেটিন, যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার সম্প্রসারণ বিভাগের প্রকাশনা এবং জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া। এখানে জানা যাবে সপ্তাহ ধরে ব্রুডিং তাপমাত্রা কত রাখতে হয়, বাচ্চার আচরণ দেখে কীভাবে তাপ বোঝা যায়, মুক্ত বাতাস বন্ধ না করে কীভাবে ঘর ঢাকতে হয়, অ্যামোনিয়া ও কার্বন মনোক্সাইড কীভাবে জমে, আর টিকা নিয়ে সরকারি পরামর্শ কী বলে। ওষুধ বা অসুস্থ মুরগির প্রশ্নে পরামর্শ সব সময় একটাই: প্রাণিচিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

শীতে পোলট্রি খামার কেন ঝুঁকিতে পড়ে


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, বাংলাদেশে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতল ও শুষ্ক মৌসুম, আর জানুয়ারি সবচেয়ে ঠান্ডা মাস। জানুয়ারিতে গড় তাপমাত্রা উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে উপকূলীয় এলাকায় ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি পর্যন্ত থাকে। ডিসেম্বরের শেষ ও জানুয়ারির শুরুতে দেশের একেবারে উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব প্রান্তে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৪ থেকে ৭ ডিগ্রির মধ্যে নেমে আসে।

এমন রাতে সবচেয়ে কষ্টে থাকে বাচ্চা মুরগি। মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটির পোলট্রি বিজ্ঞানের ইমেরিটাস অধ্যাপক টম ডব্লিউ স্মিথ জুনিয়রের লেখা তথ্যপত্রে (ইনফরমেশন শিট ১৩৩৮) বলা হয়েছে, এক দিন বয়সী বাচ্চার শরীরের তাপমাত্রা পূর্ণবয়স্ক মুরগির চেয়ে প্রায় ৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট কম থাকে। প্রায় ৪ দিন বয়স থেকে এই তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে এবং ১০ দিনে সর্বোচ্চে পৌঁছায়। নিজের শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা গড়ে উঠতে বাচ্চার ২ থেকে ৪ সপ্তাহ লাগে। ততদিন তাপ জোগানোর দায়িত্ব খামারির। একই তথ্যপত্রে বলা হয়েছে, ভুলভাবে ব্রুডিং করা পোলট্রি ঝাঁকে পীড়নের (স্ট্রেস) সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর একটি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরও এই মৌসুমকে গুরুত্ব দেয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে জেলা ধরে প্রকাশিত অধিদপ্তরের কৃষি আবহাওয়া পরামর্শ বুলেটিনে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কৃষকদের সতর্ক করা হয়, ঠান্ডা ও কুয়াশায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছের বিশেষ যত্ন নিতে হবে।

বাংলাদেশে পোলট্রি খাত ও তরুণ খামারি


মূল প্রতিবেদনটি শুরু হয়েছিল পোলট্রির গুরুত্ব দিয়ে: আমিষের অভাব দূর করতে দেশে পোলট্রি পালনকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে, আর সরকার তরুণদের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও ঋণ দিয়ে পোলট্রি পালনে উৎসাহ দিচ্ছে। সরকারের এই ভূমিকার কথা নথিতেও আছে। বাংলাপিডিয়া জানায়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ১৯৮০ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮১ সালের মার্চে কাজ শুরু করে। অধিদপ্তরটি বেকার তরুণদের অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি পশুপালন, হাঁস-মুরগি পালন ও মাছ চাষে আবাসিক প্রশিক্ষণ দেয় এবং প্রশিক্ষিত তরুণদের ঋণসুবিধা দিয়েছে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অধিদপ্তর ৬০ লাখের বেশি তরুণকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যাদের ২২ লাখের বেশি আত্মকর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন।

খাতটি বেশ বড়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) ২০২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত "লাইভস্টক ইকোনমি অ্যাট আ গ্ল্যান্স ২০২৩-২০২৪" অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে মুরগি ছিল ৩,২৭৭.৭৭ লাখ এবং হাঁস ৬৮২.৬১ লাখ। ওই বছর ডিম উৎপাদন হয় ২,৩৭৪.৯৭ কোটি, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ২,৩৩৭.৬৩ কোটি। ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিশ্ব ডিম দিবস নিয়ে দ্য ডেইলি অবজারভারের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে মাথাপিছু বছরে প্রায় ১০৪টি ডিম খাওয়া হয়, যেখানে ন্যূনতম সুপারিশ ১৮০টি।

বাংলাদেশের একটি মুরগির খামারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মুরগি। ছবি: Tanvir Rahat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশের একটি মুরগির খামারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মুরগি। ছবি: Tanvir Rahat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সপ্তাহ ধরে ব্রুডিং তাপমাত্রা


ব্রুডিং মানে বাচ্চা নিজে শরীর গরম রাখতে শেখার আগ পর্যন্ত কৃত্রিম উৎস থেকে তাপ দিয়ে তাকে উষ্ণ রাখা। মূল প্রতিবেদনে সপ্তাহভিত্তিক একটি তালিকা দেওয়া হয়েছিল: প্রথম সপ্তাহে ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট, দ্বিতীয় সপ্তাহে ৯০, তৃতীয় সপ্তাহে ৮৫, চতুর্থ সপ্তাহে ৮০ এবং পঞ্চম সপ্তাহে ৮০ ডিগ্রি, আর পঞ্চম সপ্তাহে চিক গার্ড খুলে দিতে হবে।

মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটির ব্রুডিং তালিকা এর কাছাকাছি, এবং সেখানে গ্রীষ্ম ও শীতের পার্থক্যও দেখানো হয়েছে। ব্রুডারের বাইরের কিনারার নিচে, লিটারের প্রায় ১ ইঞ্চি ওপরে মাপা তাপমাত্রা হবে এ রকম:

  • ১ থেকে ৭ দিন: গ্রীষ্মে ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট, শীতে ৯৫ ডিগ্রি।
  • ৮ থেকে ১৪ দিন: গ্রীষ্মে ৮৫, শীতে ৯০ ডিগ্রি।
  • ১৫ থেকে ২১ দিন: গ্রীষ্মে ৮০, শীতে ৮৫ ডিগ্রি।
  • ২২ থেকে ২৮ দিন: গ্রীষ্মে ৭৫, শীতে ৮০ ডিগ্রি।
  • ২৯ থেকে ৩৫ দিন: গ্রীষ্মে ৭০, শীতে ৭৫ ডিগ্রি।
  • ৩৬ দিন থেকে বাজারজাত পর্যন্ত: ৭০ ডিগ্রি।

এই তালিকায় প্রতি সপ্তাহে তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট করে কমানো হয়। তথ্যপত্র অনুযায়ী, ৫ সপ্তাহ বয়সে ঘরের তাপমাত্রা ৭০ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকলে বাচ্চা নিজেই শরীরের তাপ ধরে রাখতে পারে। তাই পঞ্চম সপ্তাহের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকালীন মান ৭৫ ডিগ্রি, মূল প্রতিবেদনে দেওয়া ৮০ ডিগ্রি নয়।

তথ্যপত্রে আরও কয়েকটি কাজের পরামর্শ আছে। বাচ্চা আসার ২৪ ঘণ্টা আগে ব্রুডার চালু করে দেখে নিতে হবে সেটি ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তারপর তাপমাত্রা ঠিক করতে হবে। ঠান্ডা মাসে তালিকার বেশি, অর্থাৎ শীতকালীন তাপমাত্রা ব্যবহার করতে হবে, কারণ বেশির ভাগ মুরগির ঘর এতটা আঁটসাঁট নয় যে শীতে সারাক্ষণ একই তাপমাত্রা ধরে রাখা যায়। পীড়ন বা টিকার প্রতিক্রিয়ার সময় বাচ্চা সেরে না ওঠা পর্যন্ত সুপারিশকৃত তাপমাত্রার চেয়ে প্রায় ৫ ডিগ্রি বেশি তাপ দিতে হবে। তথ্যপত্রে এ-ও সতর্ক করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে ব্রুডিংয়ে সবচেয়ে বেশি যে ভুল দেখা যায় তা কম তাপ নয়, বরং অতিরিক্ত তাপ; তাই থার্মোস্ট্যাট ও থার্মোমিটার ঠিক মাপ দিচ্ছে কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সদ্য ফোটা মুরগির বাচ্চা। ছবি: gunthercox / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সদ্য ফোটা মুরগির বাচ্চা। ছবি: gunthercox / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

বাচ্চার আচরণ দেখে তাপ বোঝা


থার্মোমিটার কাজে লাগে, তবে বাচ্চারাই সবচেয়ে ভালো সংকেত দেয়। মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটির তথ্যপত্রে লক্ষণগুলো বলা হয়েছে। বাচ্চারা স্বস্তির মৃদু ডাক দিলে এবং ব্রুডারের চারপাশে ও নিচে সমানভাবে ছড়িয়ে থাকলে বুঝতে হবে পরিবেশ আরামদায়ক। তাপমাত্রা খুব কম হলে বাচ্চারা তীক্ষ্ণ স্বরে ডাকে এবং ব্রুডারের নিচে গাদাগাদি করে জড়ো হয়। ব্রুডারের এক পাশে ডাকাডাকি করে জড়ো হলে বুঝতে হবে ঠান্ডা বাতাস ঢুকছে। আর বাচ্চারা ব্রুডার থেকে দূরে সরে গিয়ে হাঁপালে ও ঝিমালে বুঝতে হবে তাপ বেশি।

শীতকালীন বায়ু চলাচল নিয়ে মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটি এক্সটেনশনের ২০২৪ সালের প্রকাশনায় (পাবলিকেশন ২৮০৪) আরামে থাকা বাচ্চার লক্ষণ এভাবে দেওয়া হয়েছে: পুরো ঘরে সমানভাবে ছড়িয়ে থাকে, শব্দ শান্ত ও একটানা থাকে, জোরে চেঁচামেচি থাকে না, আর মোটামুটি এক-তৃতীয়াংশ খায়, এক-তৃতীয়াংশ পানি পান করে এবং এক-তৃতীয়াংশ বিশ্রাম নেয়। প্রকাশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রথম দুই সপ্তাহ ঘরটি খামারির কাছে বেশ গরম মনে হওয়াই উচিত, কারণ সেটিই বাচ্চার জন্য ঠিক।

তাপ কম হলে কী ঘটে, মূল প্রতিবেদনে তা বলা হয়েছিল: বাচ্চারা এক জায়গায় গাদাগাদি করে থাকে, বিশেষ করে রাতে, আর নিচে চাপা পড়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে অনেক বাচ্চা মারা যায়। সেখানে পরামর্শ ছিল ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং মাঝে মাঝে বাচ্চাগুলোকে আলতো করে নাড়িয়ে দেওয়া, যাতে তারা অনেকক্ষণ গাদাগাদি করে না থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপত্রে দিনে কয়েকবার, বিশেষ করে সন্ধ্যায়, বাচ্চার অবস্থা দেখে প্রয়োজনমতো তাপ বাড়ানো-কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পর্দা, চিক গার্ড ও তাপের উৎস


মূল প্রতিবেদনের প্রধান ব্যবহারিক পরামর্শ ছিল ঘর ঢাকা নিয়ে। সেখানে বলা হয়েছিল, ঘরে ছালা বা চটের পর্দা ঝোলাতে হবে, তাপমাত্রা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চটের পর্দা দুই ভাঁজ করে সেলাই করে ঝোলাতে হবে, আর তীব্র শীতে চিক গার্ডের চারদিকে ও ওপরে মশারির মতো করে চটের পর্দা ঝোলানো যায়। তাপের জন্য ব্রুডার বক্সে বাল্ব, রিফ্লেক্টরসহ নিচু করে ঝোলানো কিছু বাড়তি বাল্ব, যা প্রয়োজনমতো জ্বালানো যায়, এবং লোডশেডিং ও তীব্র শীতে চিক গার্ডের চারপাশে কেরোসিনের স্টোভ জ্বালানোর কথা বলা হয়েছিল, তবে এমন স্টোভ, যার আগুন নীলাভ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২০২০ সালের জানুয়ারির কৃষি আবহাওয়া পরামর্শেও একই ধরনের কথা আছে: মুরগির ঘর পরিষ্কার ও শুকনো রেখে ঠান্ডাজনিত ক্ষতি থেকে মুরগি রক্ষা করতে হবে, লিটার হিসেবে শুকনো ধানের খড় ব্যবহার করতে হবে, রাতে ঘরের পাশগুলো মোটা কাপড় দিয়ে ঢেকে দিতে হবে, বাচ্চাকে যথাযথ তাপমাত্রায় রাখতে কৃত্রিম ব্রুডিং দিতে হবে, এবং খাঁচা পলিথিন দিয়ে ঢাকা যাবে না।

চিক গার্ড কীভাবে কাজ করবে, মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটির তথ্যপত্রে তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রতিটি ব্রুডারের কিনারা থেকে ৩ থেকে ৪ ফুট দূরে ১৮ ইঞ্চি উঁচু নিরেট চিক গার্ড বসানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এটি মেঝে বরাবর ঠান্ডা বাতাস ঠেকায় এবং বাচ্চাদের তাপের কাছে রাখে। প্রতিদিন গার্ড একটু করে বড় করতে হবে, সব মিলিয়ে জায়গা প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে, যতদিন না ৭ থেকে ১৪ দিন পর এর আর দরকার থাকে না। ঢেউখেলানো কার্ডবোর্ড দিয়ে ভালো গার্ড হয়, যা নোংরা হলে ফেলে দেওয়া যায়।

তাপের উৎস কত উঁচুতে থাকবে, তা উষ্ণতা ও নিরাপত্তা দুটোর জন্যই জরুরি। তথ্যপত্রে প্রস্তুতকারকের সুপারিশ করা উচ্চতায় ব্রুডার রাখতে এবং বাচ্চার পিঠের ওপরে অন্তত ৫ থেকে ৬ ইঞ্চি ফাঁকা রাখতে বলা হয়েছে: বেশি উঁচুতে রাখলে জ্বালানি বেশি খরচ হয়, আর বেশি নিচুতে রাখলে লিটারে আগুন ধরে বাচ্চা পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। দেয়াল দিয়ে তাপ বেরিয়ে যাওয়া ও ঠান্ডা বাতাস কমাতে ব্রুডার ঘরের মাঝামাঝি রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

মূল প্রতিবেদনে বৈদ্যুতিক বাল্বের ব্রুডারের চেয়ে গ্যাস ব্রুডারকে বেশি বিজ্ঞানসম্মত বলা হয়েছিল। যুক্তি ছিল, বাল্বের তাপের সঙ্গে আলোও ছড়ায়, ফলে মুরগির ঘরে আলোর কর্মসূচি ঠিকমতো মানা যায় না; বিশেষ করে শীতে বৈদ্যুতিক ব্রুডারের পাশাপাশি গ্যাস ব্রুডার ব্যবহার করলে আলো ও তাপ দুটোই প্রয়োজনমতো ঠিক রাখা যায়। তবে যেকোনো বার্নার পরিষ্কার রাখা জরুরি, পরের অংশে তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

মুক্ত বাতাস, অ্যামোনিয়া ও কার্বন মনোক্সাইড


শীত ঠেকাতে ঘর পুরোপুরি বন্ধ করে দিলে আরেক বিপদ আসে। মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পলিথিন বা মোটা কাপড়ের পর্দায় ঘরে মুক্ত বাতাস, বিশেষ করে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়, অ্যামোনিয়া গ্যাস বাড়ে, ফলে শ্বাসকষ্ট, মুখমণ্ডল ফুলে যাওয়াসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয় এবং প্রতিদিন বাচ্চা মারা যায়।

ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া কোঅপারেটিভ এক্সটেনশনের ২০০৩ সালের জানুয়ারির একটি পরামর্শপত্রে, যা লিখেছেন এক্সটেনশন পোলট্রি বিজ্ঞানী ব্রায়ান ডি. ফেয়ারচাইল্ড, ঘরের বাতাসে কী থাকে তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাতাসের মান ভালো রাখা মানে যথেষ্ট অক্সিজেন জোগানো এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ও অ্যামোনিয়া কম রাখা। ব্রয়লারের ঘরে সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া উত্ত্যক্তকারী গ্যাস অ্যামোনিয়া। লিটারে উষ্ণতা ও আর্দ্রতা পেয়ে জীবাণুরা বিষ্ঠার ইউরিক অ্যাসিড ভেঙে অ্যামোনিয়া তৈরি করে। এর ফলে শ্বাসনালিতে জ্বালা, ধীর বৃদ্ধি, খাদ্য রূপান্তরের হার কমে যাওয়া, অন্ধত্ব (কেরাটোকনজাংটিভাইটিস), শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। দীর্ঘ সময় থাকলে প্রতি মিলিয়নে ৩০ ভাগ (৩০ পিপিএম) অ্যামোনিয়াও বাচ্চার ক্ষতি করতে পারে; পরামর্শপত্রে অ্যামোনিয়া ২৫ পিপিএমের নিচে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটির ২০২৪ সালের প্রকাশনায় যোগ করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় মাত্র ২০ পিপিএম অ্যামোনিয়ায় থাকলেও মুরগির স্বাস্থ্য ও উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, আর ৪৫ থেকে ১০০ পিপিএম অ্যামোনিয়ায় ১২ ঘণ্টা থাকলেই চোখের ক্ষতি হতে পারে। প্রকাশনাটি সতর্ক করেছে, বছরের পর বছর মুরগির মধ্যে কাজ করা খামারিরা গন্ধে অভ্যস্ত হয়ে যান এবং ৫০ পিপিএমের কম অ্যামোনিয়া আর টের পান না, তাই নাক দিয়ে শুঁকে বিচার করা নির্ভরযোগ্য নয়।

কার্বন মনোক্সাইড কম দেখা যায়, কিন্তু বেশি প্রাণঘাতী। জর্জিয়ার পরামর্শপত্রে বলা হয়েছে, নিয়মিত পরিষ্কার ও মেরামত না করা ব্রুডার বা হিটার ঠিকমতো জ্বলে না এবং এই গ্যাস তৈরি করতে পারে। ২০০ পিপিএমের নিচে বাচ্চারা ঝিমিয়ে পড়ে, তবে বাতাস ভালো হলে দ্রুত সেরে ওঠে; ৬০০ থেকে ১,০০০ পিপিএমে পায়ের আঙুল ঠোকরানো, হাঁ করে শ্বাস নেওয়া ও ডায়রিয়া দেখা যেতে পারে; আর ১,৫০০ পিপিএমের বেশি হলে দেড় ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যু হতে পারে। ব্রুডার বা হিটারে হলুদ শিখা ঠিকমতো না জ্বলার লক্ষণ হতে পারে, তখন সেটি পরিষ্কার করতে হবে। নীলাভ আগুনের স্টোভ ব্যবহার নিয়ে মূল প্রতিবেদনের পরামর্শ এ কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। মুরগি ও বার্নার থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডও জমতে পারে, আর বাতাস চলাচলহীন ঘরে দীর্ঘ সময় কাটালে মানুষেরও বমিভাব ও মাথাব্যথা হতে পারে।

সমাধান হলো ঘর একেবারে বন্ধ না করে অল্প অল্প করে নিয়মিত বাতাস বদলানো। জর্জিয়ার পরামর্শপত্র অনুযায়ী, শীতে ন্যূনতম বায়ু চলাচল দুইভাবে সাহায্য করে: লিটার থেকে আর্দ্রতা সরিয়ে অ্যামোনিয়া তৈরিকারী জীবাণুর বৃদ্ধি ধীর করে, আর বাতাসে জমে থাকা অ্যামোনিয়া বের করে টাটকা বাতাস আনে। মিসিসিপি স্টেট যোগ করেছে, জ্বালানি বাঁচাতে চাইলেও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ও মুরগির স্বাস্থ্যের জন্য ন্যূনতম বায়ু চলাচল সব সময় বজায় রাখতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের লুলিংয়ে একটি মুরগির ঘরে ব্রয়লার মুরগি দেখছেন একজন খামারি। ছবি: USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের লুলিংয়ে একটি মুরগির ঘরে ব্রয়লার মুরগি দেখছেন একজন খামারি। ছবি: USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

শীতে লিটার, পানি, খাবার ও আলো


অ্যামোনিয়ার বিরুদ্ধে খামারির সবচেয়ে বড় সুরক্ষা শুকনো লিটার। মিসিসিপি স্টেটের ২০২৪ সালের প্রকাশনায় অতিরিক্ত আর্দ্রতাকে শীতে মুরগির ঘরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলা হয়েছে, কারণ এতে লিটার ভিজে যায় এবং অ্যামোনিয়া বাড়ে। প্রতিটি মুরগি যে পানি পান করে তার মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ শরীরে রাখে; বাকিটা শ্বাস ও বিষ্ঠার মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। পানির পাত্র থেকে পড়া পানি ও জ্বালানি পোড়ানো থেকেও আর্দ্রতা যোগ হয়: প্রকাশনা অনুযায়ী, প্রতি গ্যালন প্রোপেন পোড়ালে ৬.৮ পাউন্ড পানি তৈরি হয়।

ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার মাইকেল জারিক ২০২১ সালের লিটারের আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণবিষয়ক উপস্থাপনায় একই কথা বলেছেন: একটি মুরগি প্রতি পাউন্ড খাবারের বিপরীতে মোটামুটি ১.৮ পাউন্ড পানি পান করে, আর মুরগি প্রতিদিন ঘরে যে পানি যোগ করে তা বের করা না গেলে সময়ের সঙ্গে লিটার ভিজে যায়, যার ফল অতিরিক্ত অ্যামোনিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, পায়ের ক্ষত ও উৎপাদন কমে যাওয়া। মিসিসিপি স্টেটের প্রকাশনায় শীতের রোদেলা উষ্ণ দিনে বেশি বাতাস চলাচল করিয়ে ঘর শুকিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

খাবার ও পানির জন্য মিসিসিপি স্টেটের ব্রুডিং তথ্যপত্রে প্রতি ১০০ বাচ্চার জন্য অন্তত দুটি ১ গ্যালনের পানির পাত্র এবং দুটি ১২ ইঞ্চি বা ১৮ ইঞ্চির খাবার পাত্র রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো ব্রুডারের চারপাশে গাড়ির চাকার স্পোকের মতো সাজাতে হবে, যাতে প্রতিটি পাত্রের কিছু অংশ সব সময় আরামদায়ক তাপের মধ্যে থাকে; সব পাত্র ব্রুডারের ঠিক নিচে রাখা যাবে না। কয়েকটি ঢাকনা বা ডিমের ট্রেতে খাবার ছিটিয়ে দিলে বাচ্চারা তাড়াতাড়ি খেতে শেখে।

শীতে লেয়ারের জন্য আলোও গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২০২০ সালের জানুয়ারির পরামর্শে সন্ধ্যার পর ১ থেকে ২ ঘণ্টা বাল্বের আলো দেওয়ার কথা বলা হয়েছে; এতে ডিম উৎপাদন বাড়ে এবং রোগের আশঙ্কা কমে বলে বুলেটিনে উল্লেখ আছে। মূল প্রতিবেদনে ব্রুডিংয়ের প্রথম ১০ থেকে ১৫ দিন খাবার পানিতে ইলেকট্রোলাইট দেওয়ার পরামর্শও ছিল; আমাদের দেখা কোনো সম্প্রসারণ কর্তৃপক্ষ এর মাত্রা দেয়নি বলে এখানে পরিমাণটি বাদ রাখা হয়েছে। পানিতে কিছু মেশানোর আগে প্রাণিচিকিৎসক বা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শ নিন।

শীতে টিকা ও রোগ প্রতিরোধ


বাংলাপিডিয়া রানীক্ষেত নামে পরিচিত নিউক্যাসল রোগকে গ্রামীণ বাংলাদেশে বেশ প্রচলিত এবং মুরগির মৃত্যুর প্রধান কারণ বলেছে; গামবোরো, ফাউল পক্স ও ফাউল কলেরাকেও প্রধান পোলট্রি রোগের মধ্যে উল্লেখ করেছে। মিসিসিপি স্টেটের ২০২৪ সালের প্রকাশনায় ১৯৬৪ সালের একটি গবেষণার উল্লেখ আছে, যার বিষয় মুরগির ওপর অ্যামোনিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব, নিউক্যাসল রোগের ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধক্ষমতার ওপর প্রভাবসহ। পরিষ্কার বাতাস আর রোগ প্রতিরোধ যে একসঙ্গে চলে, এটি তারই মনে করিয়ে দেয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২০২০ সালের জানুয়ারির কৃষি আবহাওয়া পরামর্শে মারাত্মক পোলট্রি রোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত টিকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে: এক সপ্তাহ বয়সী বাচ্চাকে রানীক্ষেত রোগের টিকা (আরডিএফ১) এবং দুই সপ্তাহ বয়সে গামবোরো রোগের টিকা, স্থানীয় প্রাণিচিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে। তাই নির্দিষ্ট খামারের টিকার সূচি প্রাণিচিকিৎসক বা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা উচিত। মিসিসিপি স্টেটের তথ্যপত্র তাপের সঙ্গে একটি যোগসূত্রও দেখিয়েছে: পীড়ন বা টিকার প্রতিক্রিয়ার সময় বাচ্চা সেরে না ওঠা পর্যন্ত ব্রুডারের তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বাড়িয়ে দিতে হবে।

বাচ্চার শ্বাসকষ্ট, মুখ ফোলা, ডায়রিয়া বা হঠাৎ মৃত্যু দেখা দিলে আন্দাজে চিকিৎসা করবেন না: প্রাণিচিকিৎসক বা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে ডাকুন, যিনি খামার দেখে চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।

আফগানিস্তানে একজন প্রাণিচিকিৎসক একটি মুরগিকে টিকা দিচ্ছেন। ছবি: Ben Barber, USAID / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
আফগানিস্তানে একজন প্রাণিচিকিৎসক একটি মুরগিকে টিকা দিচ্ছেন। ছবি: Ben Barber, USAID / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

ছবি: USDA NRCS Texas / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

সূত্র: দ্য এগ্রো নিউজ (নিজস্ব প্রতিবেদক), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (কৃষি আবহাওয়া পরামর্শ বুলেটিন, জানুয়ারি ২০২০), মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটি এক্সটেনশন (ইনফরমেশন শিট ১৩৩৮; পাবলিকেশন ২৮০৪, ২০২৪), ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়া কোঅপারেটিভ এক্সটেনশন (ব্রয়লার টিপ, জানুয়ারি ২০০৩; মাইকেল জারিক, লিটার আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, ২০২১), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (লাইভস্টক ইকোনমি অ্যাট আ গ্ল্যান্স ২০২৩-২০২৪), দ্য ডেইলি অবজারভার (১১ অক্টোবর ২০২৪), বাংলাপিডিয়া (জলবায়ু, পোলট্রি, যুব উন্নয়ন)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সৌরপ্যানেলের নিচে ভেড়া চরালে বাড়ে মৌমাছি, তবে সংখ্যা রাখতে হবে কম

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌরখামারে হেক্টরপ্রতি দুটি ভেড়া চরালে ঘাস কাটার তুলনায় উপকারী পোকা ৩৮ শতাংশ বাড়ে। খামারিদের জন্য ভেড়ার পাল পরিকল্পনার একটি সহায়ক টুলও তৈরি করেছেন গবেষকেরা।

Farms.com১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

প্রোটিনের চাহিদায় বদলে গেল কানাডার দুধের বাজার, মাখনের উদ্বৃত্ত শেষ

দুগ্ধজাত প্রোটিনের চাহিদা বাড়ায় পাঁচ বছরের মধ্যে কানাডার দুধের বাজারে মাখনচর্বির কাঠামোগত উদ্বৃত্ত মিটে গেছে, দুধের দাম নির্ধারণেও এসেছে পরিবর্তন।

Manitoba Co-operator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিকি হেক্টরে ওটের বীজ চাষ, ইথিওপিয়ার এক কৃষকের পারিবারিক ব্যবসা

ইথিওপিয়ার এক ক্ষুদ্র কৃষক মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে বীজের জন্য ওট চাষ করে প্রথম ফসল ৪৫ হাজার বির্রে বিক্রি করেন এবং পরের বছর চাষ বাড়ান। আইএলআরআইয়ের পশুখাদ্যের বীজকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের অংশ এটি।

ILRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)