২০২৬ সালের ২৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প একটি ঘোষণাপত্রে সই করে নির্দিষ্ট কিছু আমদানি করা ফসফেট সারের ওপর কাউন্টারভেইলিং শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। ভর্তুকি পাওয়া বিদেশি পণ্যের আমদানির বিরুদ্ধে যে পাল্টা শুল্ক বসানো হয়, তাকেই কাউন্টারভেইলিং শুল্ক বলে। একই দিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এই সাময়িক স্থগিতাদেশে ফসফেট সারের সরবরাহ ও প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং কৃষির অন্যতম বড় উৎপাদন খরচ কমবে, আগামী বপন মৌসুমগুলোর আগে সরবরাহও স্থিতিশীল থাকবে।
ইউএসডিএর প্রাক্কলনে সাশ্রয় ও দাম
ইউএসডিএর তখনকার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাড়তি সরবরাহ মার্কিন বাজারে ঢুকলে ফসফেট সারের খরচ কমে কৃষকদের বছরে আনুমানিক ১৮২ কোটি ডলার সাশ্রয় হতে পারে। বিভাগের প্রত্যাশা ছিল, ফসফেট সারের দাম প্রায় ২২ শতাংশ কমবে এবং এর সুফল পাবে দেশজুড়ে ৯ কোটি ৭০ লাখ একর আবাদি জমির ১ লাখের বেশি খামার। এসব সংখ্যা ইউএসডিএর নিজস্ব প্রাক্কলন। কোন কোন দেশের পণ্য এই স্থগিতাদেশের আওতায় পড়ছে, বিজ্ঞপ্তিতে তা বলা হয়নি।
কৃষিমন্ত্রী ব্রুক এল. রলিন্স বলেন, জোনস অ্যাক্টের ছাড় থেকে শুরু করে পণ্যবাহী যানের চালকদের কর্মঘণ্টার নিয়মে (আওয়ারস অব সার্ভিস) আরও নমনীয় ছাড় পর্যন্ত সার নিয়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলোতে তাঁরা স্বল্পমেয়াদি সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার দিকে নজর দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, "আজকের ঘোষণা এই গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের ওপর নির্ভরশীল উৎপাদকদের তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেবে।" তিনিও দাম আনুমানিক ২২ শতাংশ কমা এবং বছরে ১৮২ কোটি ডলার সাশ্রয়ের কথা বলেন।
উপমন্ত্রী (ডেপুটি সেক্রেটারি) স্টিফেন আলেকজান্ডার ভেডেন বলেন, এই পদক্ষেপ "শরৎকালীন সার প্রয়োগ মৌসুমে প্রবেশের মুখে আমেরিকার উৎপাদকদের তাৎক্ষণিক স্বস্তির পাশাপাশি সরবরাহের একটি স্থিতিশীল উৎস দেবে"। তিনি জানান, দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোসহ কৃষকদের সার পাওয়া নিশ্চিত করার উদ্যোগে বিভাগ সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

কোন শুল্ক, কী তার পটভূমি
ফসফেট সারে যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্টারভেইলিং শুল্কের শুরু ২০২১ সালে। সে বছরের ৩১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশন (আইটিসি) সিদ্ধান্ত দেয় যে মরক্কো ও রাশিয়া থেকে ভর্তুকিপ্রাপ্ত ফসফেট সার আমদানিতে দেশীয় শিল্প উল্লেখযোগ্য ক্ষতির শিকার হচ্ছে। এর ভিত্তিতে বাণিজ্য বিভাগ ২০২১ সালের ৭ এপ্রিল দুই দেশের ফসফেট সারের ওপর কাউন্টারভেইলিং শুল্ক আদেশ জারি করে।
পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ায় আদেশ দুটি তখন পর্যালোচনার মধ্যে ছিল। ২০২৬ সালের ৫ জুন আইটিসি সিদ্ধান্ত নেয়, আদেশ প্রত্যাহার করলে ক্ষতি আবার ফিরে আসার আশঙ্কা আছে কি না, তা যাচাইয়ে মরক্কো ও রাশিয়া দুই দেশের ক্ষেত্রেই পূর্ণাঙ্গ পঞ্চবার্ষিক পর্যালোচনা চালানো হবে। কমিশন জানায়, পর্যালোচনার সময়সূচি পরে ঘোষণা করা হবে।

সার সরবরাহ নিয়ে ধারাবাহিক পদক্ষেপ
ইউএসডিএ জানায়, এই স্থগিতাদেশ সার নিয়ে প্রশাসনের একগুচ্ছ পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা। এর মধ্যে ছিল ফসফেট ও পটাশকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (ক্রিটিক্যাল মিনারেল) ঘোষণা, কৃষি উপকরণে প্রতিযোগিতাবিরোধী চর্চা মোকাবিলায় ইউএসডিএ ও বিচার বিভাগের সমঝোতা স্মারক, দেশে বড় সার কারখানা প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নিতে ফেডারেল সংস্থাগুলোর কাজ এবং সারের বাজার ও উপকরণ নিয়ে কাজের জন্য ইউএসডিএতে একজন কৃষি অর্থনীতিবিদের আলাদা পদ তৈরি। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের (ইউএসজিএস) তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খনিজের চূড়ান্ত তালিকায় পটাশ ও ফসফেট শিলা যুক্ত হয়।
ইউএসজিএসের ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির খনিজ সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচটি কোম্পানি ফ্লোরিডা, আইডাহো, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ইউটাহর ১০টি খনি থেকে আনুমানিক ২ কোটি টন বাজারযোগ্য ফসফেট শিলা উৎপাদন করে। এর ৯৫ শতাংশের বেশি যায় ফসফরিক অ্যাসিড তৈরিতে, যা থেকে ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) ও মনো-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (এমএপি) সার এবং পশুখাদ্যের সম্পূরক তৈরি হয়। সংস্থাটি জানায়, ফ্লোরিডার উৎপাদকেরা কমতে থাকা মজুত ও আকরিকে ফসফরাসের কম মাত্রার সমস্যায় পড়ায় আমদানি বেড়েছে। বিশ্বে ফসফেট শিলা উৎপাদনে চীনের পরই মরক্কোর অবস্থান, আর বিশ্বের আনুমানিক ৭ হাজার ৩০০ কোটি টন মজুতের ৫ হাজার কোটি টনই মরক্কোর। ইউএসজিএসের ভাষায়, কৃষিতে ফসফরাসের কোনো বিকল্প নেই।

ছবি: সুয়শ দ্বিবেদী / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
সূত্র: ইউএসডিএ, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ (ফেডারেল রেজিস্টার), যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশন, ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে





মন্তব্য
(০)