চাঁদপুরে মা ইলিশ রক্ষার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার অভিযোগে ২৪ জেলেকে আটক করেছিল নৌপুলিশ। ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর শনিবার রাত দেড়টা থেকে ভোর পর্যন্ত মেঘনা নদীতে নৌপুলিশের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স এই অভিযান চালায়। সেদিন দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নৌপুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ আহম্মেদ।
মেঘনা ও পদ্মায় রাতের অভিযান
ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, অভিযানে মেঘনা ও পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে টহল দেওয়া হয়। চাঁদপুর নৌ থানায় ৫টি মামলায় ২১ জন এবং হরিনাঘাট নৌপুলিশ ফাঁড়িতে ২টি মামলায় ৩ জনকে নৌকা ও জালসহ আটক করা হয়। তাঁর ভাষায়, তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন ছিল। আটক জেলেদের কারও সাজা বা জরিমানার সিদ্ধান্ত সেদিনের প্রতিবেদনে ছিল না।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন নৌপুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস) প্রবীর কুমার রায়। উপস্থিত ছিলেন নৌপুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পি দত্ত রনি, চাঁদপুর সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক এবং কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশন ও নৌপুলিশের অন্য সদস্যরা।
অভিযান শেষে প্রবীর কুমার রায় বলেন, সরকার ঘোষিত ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে নৌপুলিশ তৎপর রয়েছে। নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ, মৎস্য অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, "আমাদের লক্ষ্য মা ইলিশ রক্ষা করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই ইলিশ সম্পদ নিশ্চিত করা।"

৪ থেকে ২৫ অক্টোবরের নিষেধাজ্ঞা
২০২৫ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন দেশজুড়ে ইলিশ ধরা, পরিবহন, বাজারজাত ও মজুত নিষিদ্ধ করে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত জানান। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমের বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই সময় বেছে নেওয়া হয়, যাতে মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারে। মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী ৩ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে মৎস্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করার কথা জানানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের সহায়তায় ৩৭ জেলার ১৬৫ উপজেলার ৬ লাখ ২০ হাজার ১৪০টি জেলে পরিবারকে ভিজিএফ কর্মসূচিতে পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার ঘোষণা ছিল।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) গবেষণার বরাতে ডেইলি স্টার জানায়, ২০২৪ সালের নিষেধাজ্ঞার সময় ৫২.৫ শতাংশ মা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়তে পেরেছিল এবং এতে আনুমানিক ৪৪.২৫ বিলিয়ন জাটকা ইলিশের সংখ্যায় যোগ হয়েছিল।

চাঁদপুর ও ইলিশের অভয়াশ্রম
চাঁদপুর চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলা, যা পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত। ইলিশের বিপুল উৎপাদন ও বেচাকেনার জন্য জেলাটি ইলিশের বাড়ি নামে পরিচিত। লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকা ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষিত।
ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এই মাছ উপকূলের সাগরে ঝাঁক বেঁধে থাকে এবং ডিম ছাড়তে নদীর উজানে উঠে আসে। প্রজননের সময় তাই নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

ছবি: Nurunnaby Chowdhury (Hasive) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, চাঁদপুর টাইমস, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, প্রথম আলো, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)