সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে লাভের কারণে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পাবদা মাছের চাষ

২০১৬ সালে দুজন চাষি দিয়ে শুরু হয়ে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ঝিনাইদহের মহেশপুরে পাবদাচাষির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০ জনে; আগের মৌসুমে উৎপাদন ছিল ১৫০ মেট্রিক টনের বেশি।

ঝিনাইদহের মহেশপুরে লাভের কারণে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পাবদা মাছের চাষ
মৎস্য

খরচের তুলনায় লাভ ভালো হওয়ায় ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় পাবদা মাছের চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বলে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে জাগো নিউজ জানায়। উপজেলায় ২০১৬ সালে মাত্র দুজন চাষি পাবদা চাষ শুরু করেছিলেন; তখন পাবদাচাষির সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৩০ জনে। আগের মৌসুমে উপজেলায় ১৫০ মেট্রিক টনের বেশি পাবদা উৎপাদিত হয়েছিল, আর পরের মৌসুমে উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করেছিল মৎস্য বিভাগ।

মহেশপুর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে খুলনা বিভাগের ঝিনাইদহ জেলার একটি সীমান্তবর্তী উপজেলা। এর আয়তন ৪১৭.৮৫ বর্গকিলোমিটার, উত্তরে ও পশ্চিমে ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলা। উপজেলার প্রধান নদী কপোতাক্ষ। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে এখানকার জনসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩২ হাজার ৫১৪।

যশোরের কেশবপুরে কপোতাক্ষ নদ; এই নদই মহেশপুর উপজেলার প্রধান নদী। ছবি: Reaid Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
যশোরের কেশবপুরে কপোতাক্ষ নদ; এই নদই মহেশপুর উপজেলার প্রধান নদী। ছবি: Reaid Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

পোনা থেকে বাজারের মাছ: চাষের পদ্ধতি


চাষিরা ময়মনসিংহের বিভিন্ন বেসরকারি হ্যাচারি থেকে পাবদার পোনা সংগ্রহ করে আনেন। পুকুরে সেগুলোকে মিশ্র ও দানাদার খাবার খাইয়ে বড় করা হয়। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, সাধারণত মার্চের শুরুতে পুকুরে পোনা ছাড়া হয় এবং ছয় মাস পর থেকে মাছ ধরার উপযোগী হয়।

পানির পরিবেশ ঠিক রাখতে পাবদার সঙ্গে পুকুরে অন্য জাতের মাছও রাখা হয়, যাকে চাষিরা মিশ্র চাষ বলেন। খামারি আব্বাস জানান, মাছের গঠন ঠিক রাখতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দানাদার খাবার ব্যবহার করা হয়। আরেক খামারি জানান, মৎস্য বিভাগ তাঁদের নানাভাবে প্রশিক্ষণ দেয় এবং কোনো সমস্যা দেখা দিলে কর্মকর্তারা এসে পুকুরের পানি পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।

বাংলাদেশের গাইবান্ধার একটি গ্রামীণ পুকুর। এমন পুকুরেই দেশে পাবদাসহ নানা মাছের চাষ হয়। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বাংলাদেশের গাইবান্ধার একটি গ্রামীণ পুকুর। এমন পুকুরেই দেশে পাবদাসহ নানা মাছের চাষ হয়। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

খরচ, লাভ ও পুকুরপাড়ে বিক্রি


প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণত এক বিঘা আয়তনের একটি পুকুরে দেড় লাখ টাকা খরচ করে প্রায় ৩ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করা যেত। পুকুরপাড় থেকেই পাবদা বিক্রি হচ্ছিল গড়ে কেজিপ্রতি ৩৩০ টাকায়।

চাষিদের কাছে বিক্রির সুবিধাই ছিল বড় আকর্ষণ। আব্বাস জানান, দেড় শ কিংবা দুই শ মণ, যে পরিমাণ মাছই ধরা হোক, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা বড় পাইকারেরা পুকুরপাড় থেকেই কিনে নিয়ে যান। লেখাপড়া শেষ করে বাবার সঙ্গে পাবদা চাষ করা রাজু জানান, সে বছর তিনি প্রায় আড়াই লাখ টাকার পাবদা বিক্রির আশা করছিলেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের মতে, কৃষির অন্য যেকোনো খাতের তুলনায় পাবদা চাষ লাভজনক। তিনি জানান, মৎস্য বিভাগ খামারিদের নিয়মিত উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি বিক্রিতেও সহযোগিতা করছিল। মহেশপুরে উৎপাদিত পাবদা ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে ভারতে পাঠানো হতো, আর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারেও এর চাহিদা ছিল বেশি।

পাবদা মাছ কেমন


পাবদা (বৈজ্ঞানিক নাম Ompok pabda) সিলুরিডি গোত্রের একটি দেশি ক্যাটফিশ। মৎস্যবিষয়ক তথ্যভান্ডার ফিশবেস জানায়, এটি সর্বোচ্চ ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয় এবং স্বচ্ছ ও ঘোলা দুই ধরনের পানির নদী, খাল, পুকুর ও হ্রদে বাস করে। বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে মাছটি পাওয়া যায়। এর শরীর লম্বাটে, মাথা বড়, মুখ চওড়া এবং মুখে একজোড়া শুঁড় থাকে।

প্রকৃতি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন ২০০৯ সালের মূল্যায়নে পাবদাকে ‘প্রায় সংকটাপন্ন’ শ্রেণিতে রাখে। বাংলাদেশের গবেষকেরা একে বিপন্ন দেশি মাছ হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০১২ সালে নর্থ আমেরিকান জার্নাল অব অ্যাকোয়াকালচারে প্রকাশিত এক গবেষণায় পাবদার শুক্রাণু হিমায়িত করে সংরক্ষণের পদ্ধতি তৈরি করা হয় এবং প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিক হ্যাচারিতে ছড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। মহেশপুরের চাষিরাও হ্যাচারির পোনার ওপরই নির্ভর করেন।

পাবদা মাছ। ছবি: JIBON / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
পাবদা মাছ। ছবি: JIBON / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ফিশবেস, আইইউসিএন লাল তালিকা (Ompok pabda, ২০০৯), নর্থ আমেরিকান জার্নাল অব অ্যাকোয়াকালচার (সরদার ও অন্যান্য, ২০১২), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)