সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

শেষ হচ্ছে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা, মধ্যরাতে সাগরে নামবেন জেলেরা

পটুয়াখালীর উপকূলীয় সমুদ্রে মাছ আহরণে আরোপিত ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা আজ ১১ জুন মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। দীর্ঘ দুই মাস পর আবারও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন কলাপাড়া উপজেলার অর্ধলক্ষাধিক মৎস্যজীবী।

পটুয়াখালীর উপকূলীয় সমুদ্রে মাছ আহরণে আরোপিত ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা আজ ১১ জুন মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। দীর্ঘ দুই মাস পর আবারও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন কলাপাড়া উপজেলার অর্ধলক্ষাধিক মৎস্যজীবী।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য বন্দর এবং মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা গেছে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য। তবে একই সময়ে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে জেলেদের মনে কিছুটা উদ্বেগও কাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাছ বিক্রির জন্য ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হচ্ছে অবতরণ কেন্দ্রের ফ্লোর। গুছিয়ে ও মেরামত করে রাখা হচ্ছে দাঁড়িপাল্লা, প্রস্তুত করা হচ্ছে ককসেটসহ মাছ সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মাছের আড়তগুলো ধোয়ামোছা করার পাশাপাশি বরফ কলগুলোতে শুরু হয়েছে নতুন উদ্যমে বরফ উৎপাদনের কাজ।

এদিকে জেলেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন জাল, দড়ি ও মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ প্রস্তুত করতে। মাঝিরা ট্রলারের ইঞ্জিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শেষ মুহূর্তের মেরামত কাজ সম্পন্ন করছেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পেরোলেই গভীর সমুদ্রে যাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে অধিকাংশ ট্রলারের।

কলাপাড়ায় মোট ১৮ হাজার ৩০৯ জন নিবন্ধিত জেলেসহ অর্ধলক্ষাধিক মৎস্যজীবী রয়েছেন। ১৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞার সময় সাগরে মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় অধিকাংশ জেলে চরম অর্থকষ্টে পড়েন।

জেলে রহমান বিশ্বাস বলেন, সরকারি সহায়তা হিসেবে পাওয়া চাল এক মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। এরপর পরিবার চালাতে অনেককে ধার-দেনা ও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। অনেক নিবন্ধিত জেলের অভিযোগ, সরকারি সহায়তা বণ্টনে নানা অনিয়মের কারণে তারা প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারা স্বচ্ছ ও সঠিকভাবে খাদ্য সহায়তা বিতরণের দাবি জানান।

সমুদ্রগামী 'মা-বাবার দোয়া' ট্রলারের মাঝি আ. কুদ্দুস বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবার সমুদ্রে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যাত্রা করব। নিষেধাজ্ঞার সুফলে এবার প্রচুর মাছ পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।

'মায়ের দোয়া' ট্রলারের মালিক কামাল বেপারী বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে ট্রলার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়েছেন। তাই নতুন মৌসুমে ভালো মাছ ধরা পড়লে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

জেলেদের প্রত্যাশা, নিষেধাজ্ঞার কারণে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আগামীকাল থেকে সাগরে ব্যাপক পরিমাণ ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়বে। এতে জেলে, ট্রলার মালিক, আড়তদার, বরফকল মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

কলাপাড়া মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য বন্দরসহ উপজেলার বিভিন্ন আড়তে প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ আহরণ হয়েছিল। তবে চলতি অর্থবছরে সেই পরিমাণ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার ফলে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত হয়েছে বলে আমরা আশা করছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলেরা ভালো মাছ পাবেন। এতে উৎপাদন ঘাটতি অনেকটাই পূরণ হবে এবং জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা লাভের মুখ দেখতে পারবেন।

আসাদুজ্জামান মিরাজ/কেএইচকে/এমএস

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)