২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৬ চলার মধ্যেই অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজে প্রকাশিত হয় সার্ক কৃষি কেন্দ্রের (ফার্মগেট, ঢাকা) সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (ফিশারিজ) ড. মো. শরীফুল ইসলামের একটি কলাম। তাঁর যুক্তি, ইলিশের পোনা জাটকা ধরা বন্ধ করতে পারলেই বাংলাদেশের সাগর ও নদী আবার ইলিশে ভরে উঠবে। লেখার শিরোনাম তিনি নিয়েছিলেন সরকারের ঘোষিত সপ্তাহের প্রতিপাদ্য থেকে: "জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী"। সপ্তাহটি পালিত হয় ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল।
জাতীয় মাছের জন্য সময়টা ছিল কঠিন। ৬ এপ্রিল সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ মৎস্য অধিদপ্তরের যে হিসাব তুলে ধরেন, তাতে দেখা যায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন নেমে এসেছে ৫ লাখ টনে, যা আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। উৎপাদন বাড়ানোকে তিনি বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন। এই প্রতিবেদনে প্রথমে লেখকের যুক্তি, তারপর লেখাটি প্রকাশের দিন পর্যন্ত প্রযোজ্য আইন, পরিসংখ্যান ও গবেষণার তথ্য তুলে ধরা হলো।
ছোট্ট মাছ, বড় সম্ভাবনা: লেখকের যুক্তি
ড. শরীফুল ইসলাম লেখা শুরু করেন বাঙালির জীবনে ইলিশের জায়গা দিয়ে, পান্তা-ইলিশ থেকে উৎসবের আয়োজন পর্যন্ত। তাঁর মতে গর্বের এই প্রতীক আজ নানা চ্যালেঞ্জের মুখে। জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ তাঁর চোখে কেবল একটি কর্মসূচি নয়, বরং একযোগে সচেতনতা, আবেগ ও জাতীয় অঙ্গীকারের নাম; আর এখনই সময় দায়িত্ব নেওয়ার, জাটকা বাঁচিয়ে ইলিশ বাড়ানোর।
তাঁর মূল যুক্তি সরল। জাটকা ছোট মাছ, কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে আছে বিশাল সম্ভাবনা। যে ইলিশ পোনা আজ ধরা পড়ে না, তা অল্প সময়েই পূর্ণবয়স্ক ইলিশে পরিণত হয়; তাই তাঁর ভাষায়, একটি জাটকা ভবিষ্যতের অসংখ্য ইলিশের উৎস। আজ ধৈর্য ধরলে আগামীকাল নদী তা বহুগুণে ফিরিয়ে দেবে, লেখেন তিনি। এই কথার পক্ষে তিনি সাধারণভাবে গবেষণার উল্লেখ করেছেন, নির্দিষ্ট কোনো গবেষণার নাম দেননি।
তিনি মনে করিয়ে দেন, একসময় দেশে ইলিশ উৎপাদন নেমে গিয়েছিল প্রায় দুই লাখ টনে। পরের পুনরুদ্ধারের কৃতিত্ব তিনি দেন সঠিক পরিকল্পনাকে, বিশেষ করে জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করাকে। তাঁর ভাষায়, এই সাফল্য শিখিয়েছে যে জাটকা বাঁচানো মানেই ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা।
সরকারের হাতে থাকা উপায়গুলোর কথাও তিনি লেখেন: বছরের নির্দিষ্ট সময়ে জাটকা ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি নদী এলাকায় অভয়াশ্রম, যেখানে মাছ ধরা পুরোপুরি বন্ধ থাকে; নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের খাদ্য সহায়তা ও বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা; আর সপ্তাহজুড়ে নদীপাড়ে সচেতনতা কার্যক্রম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা ও গণমাধ্যমে প্রচার। সব কিছুর উদ্দেশ্য মানুষকে বোঝানো যে ছোট মাছ ছেড়ে দিলে বড় লাভ ফিরে আসে।
সমস্যাটিকে তিনি সহজ করে দেখাননি। তাঁর মতে দারিদ্র্য, বিকল্প আয়ের অভাব ও সচেতনতার ঘাটতির কারণে অনেক সময় জেলেরা নিষেধাজ্ঞা মানতে পারেন না, আর কিছু অসাধু চক্র গোপনে জাটকা কেনাবেচা চালিয়ে যায়। নদীদূষণ, নাব্যতা হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন ইলিশের প্রজননকে আরও ঝুঁকিতে ফেলছে। তাই শুধু আইন করলেই হবে না, দরকার মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন ও সম্মিলিত দায়িত্ববোধ, এই ছিল তাঁর যুক্তি।
তাঁর সবচেয়ে জোরালো আহ্বান ছিল ক্রেতাদের প্রতি। ভোক্তার সিদ্ধান্তই বাজারকে প্রভাবিত করে; মানুষ জাটকা না কিনলে জাটকার বাজার নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে, লেখেন তিনি। পরিবারে, সমাজে ও শিশুদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে যে ছোট মাছ ধরলে ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়; আর জেলেদের জন্য টেকসই বিকল্প আয়ের সুযোগ তৈরি করতে হবে, যাতে নিষেধাজ্ঞার সময় তাঁরা জীবিকার সংকটে না পড়েন। তাঁর মতে ইলিশ কেবল অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, নদীর স্বাস্থ্যেরও সূচক: নদী বাঁচলে ইলিশ বাঁচবে, আর ইলিশ বাঁচলে এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকাও সুরক্ষিত থাকবে।

লেখক ও সার্ক কৃষি কেন্দ্র
ড. শরীফুল ইসলাম যেখানে কাজ করেন, সেই সার্ক কৃষি কেন্দ্র দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) একটি আঞ্চলিক কেন্দ্র। ১৯৮৮ সালে এটি সার্ক কৃষি তথ্য কেন্দ্র নামে প্রতিষ্ঠিত হয়, আর ২০০৭ সালে বর্তমান নাম পায়। এর সদর দপ্তর ঢাকার ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) কমপ্লেক্সে।
কেন্দ্রটি দক্ষিণ এশিয়ায় কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতে গবেষণা ও উন্নয়নে উৎসাহ দেয়। এর বিস্তৃত ম্যান্ডেট হলো কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণ ব্যবস্থা, জ্ঞান ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিনীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নকে শক্তিশালী করে সদস্য দেশগুলোকে খাদ্য ও কৃষির অভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় সহায়তা করা। এর আটটি সদস্য দেশ হলো আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।
কেন্দ্রের ছয়টি প্রধান কর্মক্ষেত্রের একটি মৎস্য; বাকিগুলো হলো ফসল, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, উদ্যানতত্ত্ব, প্রাণিসম্পদ এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও কর্মসূচি উন্নয়ন। এর উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে আছে সার্ক খাদ্য ব্যাংক, সার্ক বীজ ব্যাংক ও সার্ক বীজ ফোরাম।
ইলিশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি অভিন্ন সম্পদ, আঞ্চলিক কেন্দ্রের একজন মৎস্য বিশেষজ্ঞের এ বিষয়ে লেখার এটিও একটি কারণ। বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, বাংলাদেশের পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, কর্ণফুলী ও উপকূলীয় নদীগুলোর পাশাপাশি পাকিস্তানের সিন্ধু, ভারতের পূর্ব ও পশ্চিমের নদী এবং মিয়ানমারের ইরাবতীতেও ইলিশ পাওয়া যায়। দ্য ডেইলি স্টার ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল জানায়, ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম।
জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৬: দিনে দিনে যা হলো
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ইলিশসমৃদ্ধ ২০টি জেলায় সপ্তাহটি পালন করে। দ্য ডেইলি স্টারের তথ্যমতে, এতে ছিল তিন দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচার। ৬ এপ্রিলের সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী সবাইকে জাটকা আহরণ, কেনাবেচা ও মজুত থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, সপ্তাহজুড়ে সাগর থেকে বাজার পর্যন্ত নজরদারি চলবে।
একই সংবাদ সম্মেলনে আরেকটি সিদ্ধান্ত জানানো হয়: ইলিশ সংরক্ষণে ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রয়োজনে জেলেদের খাদ্যসহ বাড়তি সহায়তা দেওয়া হবে এবং সহায়তা বিতরণে অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না, জানায় ঢাকা টাইমস।
৭ এপ্রিল বিকেলে চাঁদপুর সদরের মোলহেডে সপ্তাহের উদ্বোধন হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের খবরে মন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত হয়: "বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে মেনে চলার মাধ্যমে জাটকা নিধন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।" তিনি জেলে থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সবাইকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জাটকা রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। জেলেদের উদ্দেশে বলেন, অন্তত দুই মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকলে ছোট ইলিশ বড় ও ভারী হবে, তাতে পরে তাঁদেরই বেশি লাভ হবে।
বাসস জানায়, চাঁদপুরের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের সদস্য এবং স্থানীয় জেলেরা।
৮ এপ্রিল ঢাকায় বিএআরসি মিলনায়তনে "ইলিশ গবেষণা: অর্জিত সাফল্য, জাটকা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ করণীয়" শীর্ষক কর্মশালা হয়। মন্ত্রী বিজ্ঞানীদের প্রতি ইলিশের ডিম থেকে সঠিকভাবে পোনা ফুটিয়ে জাটকার সংখ্যা বাড়ানোর গবেষণায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান, তবে মাছের স্বাভাবিক স্বাদ ও গুণ অক্ষুণ্ণ রেখে। জেলেদের বলেন, জাল তাঁদের, নদীও তাঁদের; তাই জাটকা ধরা বন্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে তাঁরা সরকারকে কার্যকর প্রস্তাব দিতে পারেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফআরআইয়ের ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম।
একই কর্মশালায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য এবং বিশ্বের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ইলিশ এ দেশে উৎপাদিত হয়। বাসসের খবর অনুযায়ী তিনি জানান, আগের দুই মাসে ৪০ হাজার জেলে পরিবারের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছেছে; প্রতিটি পরিবার পেয়েছে ৮০ কেজি চাল, ১২ কেজি আটা, ১০ লিটার তেল, ৪ কেজি চিনি, ৮ কেজি ডাল ও ১৬ কেজি আলু, সব মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার টাকার পণ্য। তাঁর দাবি, জেলেরা আগে কখনো এত সহায়তা পাননি।

জাটকা কী, আর ২০২৬ সালের এপ্রিলে কোন আইন বলবৎ ছিল
আইনে জাটকা মানে ২৫ সেন্টিমিটারের চেয়ে ছোট ইলিশ। কলামে উল্লিখিত ২৩ সেন্টিমিটার ছিল আগের সীমা: ২০২৩ সালের এপ্রিলে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ শুরুর সময় মন্ত্রণালয় জানায়, জাটকার দৈর্ঘ্যসীমা ২৩ থেকে বাড়িয়ে ২৫ সেন্টিমিটার (৯ থেকে ১০ ইঞ্চি) করা হয়েছে এবং জাটকা ধরার নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়ে নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত আট মাস করা হয়েছে, জানায় দৈনিক ইনকিলাব।
২০২৫-২৬ মৌসুমে দেশজুড়ে আট মাসের এই নিষেধাজ্ঞা শুরু হয় ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর, চলার কথা ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। এ সময় জাটকা আহরণ, পরিবহন, বাজারজাত, কেনাবেচা ও মজুত নিষিদ্ধ। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের খবর অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় ২০২৫ সালে সংশোধিত মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ অধ্যাদেশ এবং মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৮৫ অনুযায়ী; শাস্তি সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।
একই খবরে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মৎস্য অধিদপ্তর জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করে। ২০২৩ সালের সপ্তাহ উদ্বোধনের সময় মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নিষেধাজ্ঞার সময় উপকূল, নদী, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, মাছের বাজার ও আড়তে অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
জাটকা রক্ষা চলে আরও কয়েকটি নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিকতায়। একই মৌসুমের শুরুতে ২০২৫ সালের ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর চলে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫, প্রজননের ভরা মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। ওয়ার্ল্ডফিশ জানায়, ইকোফিশ প্রকল্প থেকে আসা নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মা ইলিশ ধরার এই নিষেধাজ্ঞা ১১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২২ দিন করা হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলে এর সঙ্গে যোগ হয় ৬ এপ্রিল ঘোষিত, ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সাগরে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা।
বাংলাপিডিয়া জানায়, ইলিশের পোনা ধরা পড়ে ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসে, অর্থাৎ জাটকা নিষেধাজ্ঞা ও অভয়াশ্রম বন্ধের মাসগুলোতেই। ১৯৯২-৯৪ সালে বিএফআরআইয়ের এক জরিপের হিসাবে, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মৌসুমে বছরে প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টন জাটকা ধরা পড়ত, আর তার অর্ধেকের বেশি ধরা হতো মেঘনায়।
জাটকা থেকে যেভাবে ইলিশ হয়
ইলিশের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha; এটি হেরিং গোত্রের (ক্লুপেইডি) মাছ এবং বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় এর দেহ বেশ চাপা ও রুপালি, দৈর্ঘ্যে ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে; সাধারণত ৩৫ থেকে ৪০ সেন্টিমিটারের মাছ দেখা যায়, আর বড় মাছের ওজন হয় প্রায় আড়াই কেজি। স্ত্রী মাছ দ্রুত বাড়ে এবং সাধারণত পুরুষের চেয়ে বড় হয়; ইলিশ এক থেকে দুই বছরে প্রজননক্ষম হয়।
ইলিশ অ্যানাড্রোমাস মাছ: পূর্ণবয়স্ক মাছ সাগরে থাকে এবং ডিম ছাড়তে নদী বেয়ে মিঠা পানিতে উঠে আসে। ফিশবেসের তথ্যমতে, ইলিশ উপকূলীয় পানিতে ঝাঁক বেঁধে চলে এবং নদীতে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উজানে যেতে পারে, সাধারণত ৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার; ব্যারাজ কখনো কখনো এই চলাচলে বাধা দেয়। এটি মূলত পানি ছেঁকে প্ল্যাংকটন খায়; খাদ্যতালিকায় আছে নীলাভ-সবুজ শৈবাল, ডায়াটম, কোপেপোড ও রোটিফার।
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, একটি বড় স্ত্রী ইলিশ ২০ লাখ পর্যন্ত ভাসমান ডিম ছাড়তে পারে। সারা বছরই কমবেশি প্রজনন হয়; ছোট মৌসুম ফেব্রুয়ারি-মার্চে, প্রধান মৌসুম সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে, মূলত পদ্মা, যমুনা ও মেঘনার উজানে। পোনা কয়েক সপ্তাহ নদীর খাতে বড় হয়; ডিম ফোটার ছয় থেকে দশ সপ্তাহে এরা ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার হয়, তারপর খাবারের খোঁজে সাগরে নেমে যায় এবং পূর্ণবয়স্ক হয়ে আবার নদীতে ফেরে। অর্থাৎ জাটকা হলো সাগরের পথে থাকা মাছ; এ কারণেই যে নদী-অংশে এরা থাকে, সেগুলো সংরক্ষিত।
ফিশবেসের হিসাবে ইলিশ প্রথম প্রজননক্ষম হয় গড়ে ৩১.৩ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যে, যা জাটকার ২৫ সেন্টিমিটারের আইনি সীমার চেয়ে বেশ বড়। আইইউসিএনের লাল তালিকায় ২০১৩ সালের জানুয়ারির মূল্যায়নে প্রজাতিটি "ন্যূনতম উদ্বেগ" শ্রেণিতে আছে। ২০১৭ সালের আগস্টে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর জামদানি শাড়ির পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে ইলিশের নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।
মেঘনা, পদ্মা ও শাখানদীতে ছয়টি অভয়াশ্রম
জাটকার প্রধান বিচরণ ও বেড়ে ওঠার এলাকাগুলোকে বাংলাদেশ ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে সংরক্ষণ করে। ২০১৮ সালের জুনে ষষ্ঠ অভয়াশ্রম ঘোষণার সময় ঢাকা ট্রিবিউন এগুলোর তালিকা দেয় এভাবে:
- চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা, ১০০ কিলোমিটার;
- ভোলায় মেঘনা মোহনার শাহবাজপুর চ্যানেল, ৯০ কিলোমিটার;
- ভোলার তেঁতুলিয়া নদী, ১০০ কিলোমিটার;
- পটুয়াখালীর আন্ধারমানিক নদী, ৪০ কিলোমিটার;
- শরীয়তপুরে নিম্ন পদ্মা, ২০ কিলোমিটার;
- বরিশালের হিজলা থেকে মেহেন্দিগঞ্জ পর্যন্ত মেঘনা, ২০১৮ সালের জুনে ঘোষিত ষষ্ঠ অভয়াশ্রম।
বন্ধের মাসগুলোতে অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকে। ঢাকা ট্রিবিউনের তথ্যমতে, আন্ধারমানিক ছাড়া সব অভয়াশ্রমে বছরের প্রথম নিষেধাজ্ঞা চলে মার্চ-এপ্রিলে, আর আন্ধারমানিকে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি। জাগো নিউজ ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল জানায়, চাঁদপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, শরীয়তপুর ও বরিশাল মিলিয়ে মোট ৪৩২ কিলোমিটার এলাকা অভয়াশ্রম ঘোষিত, তবে সেখানে উদ্ধৃত গবেষকদের মতে অভয়াশ্রমেও মাছ নিরাপদ নয়।
মাঠে অভয়াশ্রমের নিষেধাজ্ঞা কীভাবে চলে, তার উদাহরণ ২০২৫ সালের চাঁদপুর অংশ। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জানায়, মতলবের ষাটনল থেকে রামগতির আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটারে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল মাছ ধরা নিষিদ্ধ, সঙ্গে ইলিশ কেনাবেচা ও মজুতও নিষিদ্ধ। লক্ষ্মীপুরে জেলে ছিলেন ৩৮ হাজার ৮৭৫ জন, যাঁদের ২৮ হাজার ৩৪৪ জনের খাদ্য সহায়তা পাওয়ার কথা; জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেল্লাল হোসেন জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ইলিশের পরিসংখ্যান
৬ এপ্রিল মন্ত্রী মৎস্য অধিদপ্তরের যে হিসাব তুলে ধরেন, জাগো নিউজের ৯ ও ১১ এপ্রিল ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী তাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোর উৎপাদন ছিল এমন:
- ২০১৭-১৮: ৫ লাখ ১৭ হাজার টন;
- ২০১৮-১৯: ৫ লাখ ৩২ হাজার টন;
- ২০১৯-২০: ৫ লাখ ৫০ হাজার টন;
- ২০২০-২১: ৫ লাখ ৬৫ হাজার টন;
- ২০২১-২২: ৫ লাখ ৬৬ হাজার টন;
- ২০২২-২৩: ৫ লাখ ৭১ হাজার টন, সর্বোচ্চ;
- ২০২৩-২৪: ৫ লাখ ২৯ হাজার টন;
- ২০২৪-২৫: ৫ লাখ টন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের পর সর্বনিম্ন।
ফলে কলামে উল্লিখিত বছরে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টনের হিসাবটি সর্বশেষ সরকারি তথ্য নয়, বরং চলতি দশকের শুরুর ভালো বছরগুলোর চিত্র। লেখক যে আগের নিম্ন উৎপাদনের কথা বলেছেন, তারও নথি আছে: ২০২৩ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মৎস্যমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানান, ২০০২-০৩ অর্থবছরে উৎপাদন নেমে গিয়েছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার টনে, ২০০৮-০৯ সালে তা হয় ২ লাখ ৯৮ হাজার টন এবং ২০২২-২৩ সালে ৫ লাখ ৭১ হাজার টন, জানায় দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
অর্থনীতিতে ইলিশের অবদানের হিসাব উৎসভেদে ভিন্ন। দ্য ডেইলি স্টারের খবর অনুযায়ী, মন্ত্রী ৬ এপ্রিল বলেন, বিশ্বের মোট ইলিশের ৮০ শতাংশের বেশি আসে বাংলাদেশের নদী, মোহনা ও উপকূলীয় জলসীমা থেকে; দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ৯.৭৯ শতাংশ এবং জিডিপিতে প্রায় ১ শতাংশ; প্রায় ৬ লাখ মানুষ সরাসরি ইলিশ আহরণে যুক্ত, আর আরও ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ পরিবহন, বিপণন, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির কাজে জড়িত। কলামে বিশ্ব উৎপাদনে বাংলাদেশের অংশ ৭৫ শতাংশের বেশি এবং জাতীয় মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অংশ প্রায় ১২ শতাংশ বলা হয়েছিল; ওয়ার্ল্ডফিশও ২০২৫ সালের এপ্রিলে দেশের মোট মাছ আহরণে ইলিশের অংশ ১২ শতাংশ বলে উল্লেখ করে, খাতটির বার্ষিক মূল্য ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি এবং এর ওপর ২৫ লাখ মানুষ নির্ভরশীল বলে জানায়।
উৎপাদন কমার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল এক বছর আগেই। ২০২৫ সালের এপ্রিলে দ্য ডেইলি স্টার মৎস্য অধিদপ্তর ও বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য দপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, ২০২৩-২৪ মৌসুমের আহরণ সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪২ হাজার টন কম। সে বছর পহেলা বৈশাখের আগে বরিশালে প্রায় ৫০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার ১০০ টাকায়, আর এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি ৩ হাজার টাকার বেশি দামে।

লেখকের তোলা চাপগুলো, গবেষকদের বর্ণনায়
কলামে দারিদ্র্য, অবৈধ কেনাবেচা, দূষণ, পলি জমা ও জলবায়ু পরিবর্তনকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। লেখাটি প্রকাশের আগেই বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা একই চাপগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছিলেন। দ্য ডেইলি স্টারের ২০২৫ সালের এপ্রিলের প্রতিবেদনে চাঁদপুরে বিএফআরআইয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আবু কাওসার দিদার বলেন, টেকসইভাবে কতটা ইলিশ আহরণ করা যায় তার একটা সীমা আছে, এবং সেই সীমা পেরিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ইলিশ পাঁচ মিটারের বেশি গভীর পানি পছন্দ করে, কিন্তু অনেক বিচরণপথে গভীরতা নেমে এসেছে দুই-তিন মিটারে।
একই প্রতিবেদনে বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য দপ্তরের উপপরিচালক নরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস নজরদারির সীমাবদ্ধতার কথা বলেন: নদী ও মোহনাজুড়ে শত শত কিলোমিটার পাহারা দেওয়া প্রায় অসম্ভব। প্রতিবেদনে হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও ভোলাকে প্রধান প্রজনন এলাকা এবং মেঘনা-তেঁতুলিয়া, পায়রা-বিষখালী ও সুন্দরবন অঞ্চলকে ইলিশের প্রধান চলাচলপথ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
জাগো নিউজ ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল জানায়, মৎস্য অধিদপ্তরের এক জরিপে ১৭টি স্থানে ডুবোচর ও চরের কারণে ইলিশের চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার তথ্য মিলেছে, যার ১৪টিই মেঘনায়। অধিদপ্তরের "ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা" প্রকল্পের এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, সাত বছর আগে একটি ইলিশের গড় ওজন ছিল ৫০০-৫৫০ গ্রাম, এখন তা ৩০০-৩৫০ গ্রামে নেমেছে। প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্লাহর ভাষ্য, সূক্ষ্ম কারেন্ট জাল ও বড় চরঘেরা জালে জাটকাসহ সব আকারের ইলিশ প্রজননের আগেই ধরা পড়ছে।
একই প্রতিবেদনে বিএফআরআইয়ের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, পলি জমা, নাব্যতা হ্রাস, অসময়ের বৃষ্টি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, শিল্পবর্জ্য, কীটনাশক ও প্লাস্টিক মিলে ইলিশের ক্ষতি করছে; একটি ইলিশ সাত বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে, কিন্তু তিন-চার বছরের বেশি বয়সী মাছ এখন প্রায় পাওয়াই যায় না। বিএফআরআইয়ের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, মোহনায় ডুবোচরের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে, যা মা ইলিশের উজানে যাওয়ার পথ আটকে দিচ্ছে।
এর কিছু চাপ পুরোনো। বাংলাপিডিয়া জানায়, ১৯৭২ সালের দিকে পর্যন্ত ইলিশ আহরণ হতো মূলত পদ্মা, মেঘনা, করতোয়া, রূপসা, শিবসা ও পায়রার উজানে; পরে তা ভাটি ও উপকূলীয় এলাকায় কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। এই পরিবর্তনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ফারাক্কা ব্যারাজের কারণে গঙ্গার প্রবাহ কমা ও পলি জমা, জাটকা অতিরিক্ত আহরণ, চলাচলপথ বিঘ্নিত হওয়া, আবাসস্থল নষ্ট হওয়া, দূষণ এবং পানি উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলেদের সহায়তা এবং ক্রেতার ভূমিকা
জেলেদের বিকল্প আয়ের যে দাবি লেখক তুলেছেন, তার নীতিগত ইতিহাস দীর্ঘ। ২০২৩ সালের এপ্রিলে মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে জাটকা মৌসুমে ২০ জেলার ৯৭টি উপজেলায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ৮৬৯টি জেলে পরিবারকে ভিজিএফের চাল দেওয়া হয়েছে; প্রতিটি পরিবার চার মাস ধরে মাসে ৪০ কেজি করে পেয়েছে, মোট ৫৭ হাজার ৭৩৯ টন, জানায় দৈনিক ইনকিলাব। ২০২৫ সালের অভয়াশ্রম বন্ধের সময়ও লক্ষ্মীপুরের জেলেদের একই ভিজিএফ কর্মসূচিতে খাদ্য সহায়তা পাওয়ার কথা ছিল।
জেলেদের নিজেদের কথাতেই বোঝা যায়, নিষেধাজ্ঞা মানা কেন কঠিন। দ্য ডেইলি স্টারের ২০২৫ সালের এপ্রিলের প্রতিবেদনে ভোলা সদরের জেলে আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, আগের বছর যে ইলিশ ধরেছিলেন তাতে দেনাও শোধ হয়নি। কুয়াকাটার জেলে ইব্রাহিম মাঝি বলেন, প্রতি ট্রিপে দুই লাখ টাকার বেশি খরচ করে তাঁরা গভীর দেনায় ডুবে গেছেন।
সহায়তা ও স্থানীয় নজরদারি একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তার প্রমাণ মেলে সরকারের সঙ্গে ওয়ার্ল্ডফিশের পরিচালিত ইকোফিশ প্রকল্পে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ওয়ার্ল্ডফিশ জানায়, স্থানীয়ভাবে গঠিত ইলিশ সংরক্ষণ দল নিয়ম মানাতে কাজ করেছে, আর জেলেরা পেয়েছেন বিকল্প জীবিকার সহায়তা; ইলিশ আহরণ বছরে ১০ থেকে ১১ শতাংশ বেড়েছে এবং ধরা মাছের গড় আকার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে; প্রকল্প এলাকায় পরিবারের আয় বেড়েছে ৮৬.১৯ শতাংশ, তুলনামূলক এলাকায় ৫২.৬৬ শতাংশ, আর বিনিয়োগে ফেরত ৩২.৮ শতাংশ। একই কাজের ধারাবাহিকতায় ঘোষিত হয় ৩ হাজার ১৮৮ বর্গকিলোমিটারের নিঝুম দ্বীপ সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা।
কলামে যে ক্রেতার দিকটিতে জোর দেওয়া হয়েছে, আইনও তা ধরে: জাটকা নিষেধাজ্ঞা শুধু আহরণে নয়, পোনা ইলিশ কেনাবেচা, পরিবহন ও মজুতেও প্রযোজ্য। সপ্তাহ শুরুর আগে ৬ এপ্রিল মন্ত্রীর আহ্বানও ছিল একই মানুষদের প্রতি: জাটকা আহরণ, কেনাবেচা ও মজুত থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
ছবি: Nahid Sultan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য ডেইলি স্টার, ঢাকা টাইমস, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, দৈনিক ইনকিলাব, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা ট্রিবিউন, ওয়ার্ল্ডফিশ, বাংলাপিডিয়া, ফিশবেস, সার্ক কৃষি কেন্দ্র, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)