যুক্তরাষ্ট্রের খামারের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠই ছোট পারিবারিক খামার, কিন্তু দেশের কৃষি উৎপাদনে তাদের অংশ সামান্য। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (ইআরএস) ২০২৬ সালের ২৮ মে প্রকাশিত এক ‘চার্ট অব নোট’-এ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে দেশটির সব খামারের প্রায় ৮৬ শতাংশ ছিল ছোট পারিবারিক খামার। এই খামারগুলো দেশের কৃষিজমির ৪০ শতাংশ পরিচালনা করলেও মোট কৃষি উৎপাদনমূল্যের ১৭ শতাংশ জুগিয়েছে। অন্য প্রান্তে মোট খামারের মাত্র ৫ শতাংশ বড় আকারের পারিবারিক খামার উৎপাদনমূল্যের অর্ধেক, অর্থাৎ ৫০ শতাংশ দিয়েছে।
চার্টটি তৈরি করেছেন ইআরএসের অর্থনীতিবিদ ক্যাথরিন লেসি ও ক্যাথরিন লিম। এর তথ্য এসেছে সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদন ‘আমেরিকাস ফার্মস অ্যান্ড র্যাঞ্চেস অ্যাট আ গ্লান্স: ২০২৫ এডিশন’ (ইকোনমিক ইনফরমেশন বুলেটিন ইআইবি-২৯৯) থেকে, যা ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের লেখক ক্যাথরিন লেসি, কেট বিনজেন ফুলার, শ্যারন রাসজাপ স্কোরবিয়ানস্কি ও ক্যাথরিন লিম। এতে ২০২৪ পঞ্জিকাবর্ষের খামারগুলোর আকার, উৎপাদন, মুনাফা, ঋণ, সরকারি অর্থসহায়তা, কৃষক পরিবারের আয় ও সম্পদ, সরাসরি বিক্রি এবং জৈব জমির হিসাব দেওয়া হয়েছে।
আকারভেদে খামারের ভাগ: সংখ্যা, জমি ও উৎপাদন
ইআরএস খামারের আকার মাপে মোট নগদ খামার আয় (গ্রস ক্যাশ ফার্ম ইনকাম, সংক্ষেপে জিসিএফআই) দিয়ে। যে পারিবারিক খামারের বার্ষিক জিসিএফআই ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের কম, সেটি ছোট পারিবারিক খামার। ২০২৪ সালে এমন খামার ছিল মোট খামারের ৮৬ শতাংশ; তারা কৃষিজমির ৪০ শতাংশ চালিয়েছে আর উৎপাদনমূল্যের ১৭ শতাংশ দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শ্রেণিবিন্যাস চালুর পর থেকেই ছোট পারিবারিক খামার সবচেয়ে প্রচলিত খামারধরন হিসেবে রয়ে গেছে।
৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ ডলার জিসিএফআইয়ের মাঝারি পারিবারিক খামার ছিল মোট খামারের ৬ শতাংশ; কৃষিজমি ও উৎপাদনমূল্য দুটিতেই তাদের অংশ ১৮ শতাংশ করে। ১০ লাখ ডলার বা তার বেশি জিসিএফআইয়ের বড় আকারের পারিবারিক খামার সংখ্যায় ৫ শতাংশ হলেও কৃষিজমির ৩৩ শতাংশ চালিয়েছে এবং উৎপাদনমূল্যের ৫০ শতাংশ জুগিয়েছে।
চার্ট অব নোট অনুযায়ী, সব আকার মিলিয়ে ২০২৪ সালে পারিবারিক খামার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৯৭ শতাংশ খামার; তারা ৯১ শতাংশ কৃষিজমি পরিচালনা করেছে এবং উৎপাদনমূল্যের ৮৫ শতাংশ জুগিয়েছে। বাকি ৩ শতাংশ অপারিবারিক খামার। এগুলোর আকার, আয় ও মালিকানা কাঠামো নানা রকম; এর মধ্যে আছে অনাত্মীয়দের অংশীদারি, অপারিবারিক করপোরেশন এবং মালিকের সঙ্গে সম্পর্কহীন বেতনভুক্ত ব্যবস্থাপক পরিচালিত খামার। ২০২৪ সালে অপারিবারিক খামার উৎপাদনমূল্যের ১৪ শতাংশ জুগিয়েছে, যা ২০২৩ সালে ছিল ১৭ শতাংশ। ইআরএস জানিয়েছে, অপারিবারিক খামারের সংখ্যার অংশ ও উৎপাদনমূল্যের অংশ দুটিই ২০২৩ সালের চেয়ে কমেছে, আর ২০২৪ সালে এসব খামারের ২১ শতাংশের জিসিএফআই ছিল ১০ লাখ ডলার বা তার বেশি।
প্রতিবেদনের প্রথম সারণির নোট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের খামারগুলো মোট ৮৮ কোটি ৪ লাখ একর জমি পরিচালনা করেছে, আর মোট উৎপাদনমূল্য ছিল ৫০০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এখানে পরিচালিত জমি মানে নিজের জমি, তার সঙ্গে ইজারা নেওয়া জমি, তা থেকে অন্যকে ইজারা দেওয়া জমি বাদ দিয়ে। উৎপাদনমূল্য হিসাব করা হয়েছে ২০২৪ সালে খামারের পাওয়া নগদ বিক্রির মোট মূল্য থেকে, যার মধ্যে যেকোনো বছরের উৎপাদনের বিক্রি এবং চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের বিক্রিও ধরা হয়েছে।

ছোট খামারের ভেতরের চার ধরন
ইআরএস ছোট পারিবারিক খামারকে প্রধান উৎপাদকের মূল পেশা অনুযায়ী আরও ভাগ করে। অবসরপ্রাপ্ত খামার হলো সেগুলো, যাদের প্রধান উৎপাদক কৃষিকাজ থেকে অবসর নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কিন্তু ছোট পরিসরে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। খামারবহির্ভূত পেশার খামারে প্রধান উৎপাদকের মূল পেশা কৃষি নয়। আর যাঁদের মূল পেশা কৃষি, তাঁদের খামার দুই ভাগে পড়ে: জিসিএফআই দেড় লাখ ডলারের কম হলে স্বল্প বিক্রির খামার, আর দেড় লাখ থেকে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯৯ ডলার হলে মাঝারি বিক্রির খামার। বড় আকারের পারিবারিক খামারও দুই ভাগে বিভক্ত: ১০ লাখ থেকে ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৯ ডলার জিসিএফআইয়ের বড় খামার এবং ৫০ লাখ ডলার বা তার বেশি জিসিএফআইয়ের অতি বড় খামার।
প্রতিবেদনের প্রথম সারণিতে ২০২৪ সালের প্রতিটি ধরনের খামারের সংখ্যা এবং খামার, পরিচালিত জমি ও উৎপাদনমূল্যে তাদের শতাংশ এভাবে দেওয়া আছে:
- অবসরপ্রাপ্ত খামার: ২,১৬,৮১১টি; খামারের ১১ দশমিক ৬ শতাংশ, জমির ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, উৎপাদনমূল্যের ১ দশমিক ১ শতাংশ।
- খামারবহির্ভূত পেশার খামার: ৭,৩০,৭০৪টি; খামারের ৩৯ দশমিক ০ শতাংশ, জমির ১২ দশমিক ৯ শতাংশ, উৎপাদনমূল্যের ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
- স্বল্প বিক্রির খামার: ৫,৭৯,১৫৮টি; খামারের ৩০ দশমিক ৯ শতাংশ, জমির ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ, উৎপাদনমূল্যের ৪ দশমিক ১ শতাংশ।
- মাঝারি বিক্রির খামার: ৯২,১০৭টি; খামারের ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, জমির ৮ দশমিক ৪ শতাংশ, উৎপাদনমূল্যের ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।
- মাঝারি পারিবারিক খামার: ১,১৩,৯৬৬টি; খামারের ৬ দশমিক ১ শতাংশ, জমির ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ, উৎপাদনমূল্যের ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ।
- বড় পারিবারিক খামার: ৭৮,০২০টি; খামারের ৪ দশমিক ২ শতাংশ, জমির ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ, উৎপাদনমূল্যের ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ।
- অতি বড় পারিবারিক খামার: ৮,৭৮৮টি; খামারের শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ, জমির ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, উৎপাদনমূল্যের ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ।
- অপারিবারিক খামার: ৫২,৭৬৭টি; খামারের ২ দশমিক ৮ শতাংশ, জমির ৮ দশমিক ৯ শতাংশ, উৎপাদনমূল্যের ১৪ দশমিক ২ শতাংশ।
সারণিতে সব খামারের মোট সংখ্যা দেখানো হয়েছে ১৮,৭২,৩২১। ইআরএস নোটে জানিয়েছে, শতাংশগুলো পূর্ণসংখ্যায় আনার কারণে যোগফল ১০০ নাও হতে পারে এবং চার্টে দেখানো পূর্ণসংখ্যার মানের সঙ্গে হুবহু না-ও মিলতে পারে। তালিকাটি দেখায়, অতি বড় খামার সংখ্যায় এক শতাংশেরও কম হলেও উৎপাদনমূল্যের ১৯ দশমিক ৮ শতাংশের জোগানদাতা, আর সবচেয়ে বড় দল খামারবহির্ভূত পেশার খামারগুলো উৎপাদনমূল্যের অল্প অংশ দেয়।
খামার কাকে বলে, শ্রেণিবিন্যাস কীভাবে হয়
ইউএসডিএ ১৯৭০-এর দশক থেকে খামারের সংজ্ঞা হিসেবে ধরে আসছে এমন যেকোনো স্থান, যেখানে কোনো বছরে অন্তত এক হাজার ডলারের কৃষিপণ্য উৎপাদিত ও বিক্রি হয়েছে, বা স্বাভাবিক অবস্থায় হতো, অথবা যেখানে সরকারি অর্থসহায়তা ও বিক্রি মিলিয়ে এক হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। এই সীমা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি। এক হাজার ডলারের কম বিক্রির কোনো জায়গা স্বাভাবিকভাবে ন্যূনতম পরিমাণ উৎপাদন ও বিক্রি করতে পারত কি না, তা বোঝার জন্য ইউএসডিএ ফসলের একর ও পশুর সংখ্যা বিবেচনা করে।
খামারগুলোকে মিল থাকা দলে সাজাতে ইআরএস একটি ‘ফার্ম টাইপোলজি’ বা খামার শ্রেণিবিন্যাস তৈরি করেছে, যা সর্বশেষ হালনাগাদ হয় ২০১৩ সালে। শ্রেণিবিন্যাসের প্রথম ধাপে পারিবারিক ও অপারিবারিক খামার আলাদা করা হয়। পারিবারিক খামার সেটি, যার ব্যবসার সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা একজন উৎপাদক এবং রক্ত, বিবাহ বা দত্তক সূত্রে তাঁর আত্মীয়দের হাতে, এমনকি সেই আত্মীয়রা একই পরিবারে না থাকলেও। কোনো উৎপাদক ও তাঁর আত্মীয়রা মিলে ব্যবসার সংখ্যাগরিষ্ঠ, অর্থাৎ ৫০ শতাংশ মালিকানা না রাখলে খামারটি অপারিবারিক।
জিসিএফআই খামারের রাজস্বের একটি পরিমাপ। এতে ফসল ও পশুসম্পদ বিক্রি, সরকারি অর্থসহায়তা, খামারসংশ্লিষ্ট অন্যান্য আয় এবং চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন থেকে পাওয়া ফি ধরা হয়। ইআইবি-২৯৯ প্রতিবেদনের তথ্য এসেছে অ্যাগ্রিকালচারাল রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সার্ভে (এআরএমএস) থেকে। এটি ইউএসডিএর ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস (এনএএসএস) ও ইআরএস যৌথভাবে প্রতিবছর পরিচালনা করে। ২০২৪ সালের জরিপে মোট নমুনা ছিল প্রায় ১৮,২৫০টি খামার।
কোন পণ্যে কোন খামারের অংশ বেশি
ইআরএসের হিসাবে ২০২৪ সালে অনেক পণ্যেই বড় আকারের পারিবারিক খামার এগিয়ে ছিল। গরুর মাংসের উৎপাদনমূল্যের ৫২ শতাংশ, দানাশস্য ও সয়াবিনের ৫১ শতাংশ, তুলার ৫২ শতাংশ, দুগ্ধের ৭৩ শতাংশ এবং বিশেষ ফসলের ৫৮ শতাংশ এসেছে এসব খামার থেকে। হাঁস-মুরগি ও ডিমে তাদের অংশ ছিল ২১ শতাংশ, খড় বা পশুখাদ্যের ঘাসে (হে) ২৪ শতাংশ এবং শূকরে ৩৯ শতাংশ। এখানে দানাশস্য বলতে বার্লি, ভুট্টা, ধান, সরগাম, গম ও ওট বোঝানো হয়েছে; বিশেষ ফসলের মধ্যে আছে তাজা বা শুকনো ফল, বাদাম, সবজি, ডাল এবং নার্সারি ফসল।
ছোট পারিবারিক খামার হে উৎপাদনমূল্যের ৫১ শতাংশ এবং হাঁস-মুরগি ও ডিমের ৩৫ শতাংশ দিয়েছে। প্রতিবেদনের ব্যাখ্যায়, এই দুই খাত ছোট জমিতে উপযোগী এবং হাঁস-মুরগি ও ডিম উৎপাদনে চুক্তিভিত্তিক কাঠামো থাকায় ছোট খামারের পক্ষে এগুলোতে ঢোকা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। গরুর মাংসে ছোট খামারের অংশ ২৪ শতাংশ এবং শূকরে ২২ শতাংশ, তবে দুগ্ধে মাত্র ৪ শতাংশ এবং বিশেষ ফসলে ৬ শতাংশ।
মাঝারি পারিবারিক খামারের অংশ বিভিন্ন পণ্যে ৬ থেকে ৩২ শতাংশের মধ্যে ছিল; শূকরে ৩২ শতাংশ, হাঁস-মুরগি ও ডিমে ২৭ শতাংশ এবং দানাশস্য ও সয়াবিনে ২৫ শতাংশ। অপারিবারিক খামার বিশেষ ফসলের উৎপাদনমূল্যের ৩০ শতাংশ দিয়েছে, যা কোনো পণ্যশ্রেণিতে এই দলের সর্বোচ্চ অংশ; অন্য খাতে তাদের অংশ ৬ থেকে ১৮ শতাংশ। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে হাঁস-মুরগি ও ডিম উৎপাদনের বেশি অংশ বড় পারিবারিক খামারে সরে গেছে, আর তুলায় বড় খামারের অংশ কমে মাঝারি খামারের অংশ বেড়েছে।

মুনাফার হার, আর্থিক ঝুঁকি ও ঋণ
খামারের আর্থিক অবস্থা বোঝাতে ইআরএস অপারেটিং প্রফিট মার্জিন (ওপিএম) ব্যবহার করে, অর্থাৎ মোট আয়ের কত অংশ মুনাফা। ওপিএম ২৫ শতাংশের বেশি হলে কম ঝুঁকি, ১০ থেকে ২৫ শতাংশ হলে মাঝারি ঝুঁকি এবং ১০ শতাংশের কম হলে উচ্চ ঝুঁকি। ২০২৪ সালে অবসরপ্রাপ্ত খামারের ৬২ শতাংশ, খামারবহির্ভূত পেশার খামারের ৭৫ শতাংশ, স্বল্প বিক্রির খামারের ৮২ শতাংশ এবং মাঝারি বিক্রির খামারের ৫৭ শতাংশ উচ্চ ঝুঁকির স্তরে ছিল। সব খামার মিলিয়ে ৭১ শতাংশ উচ্চ ঝুঁকিতে ছিল, যা ২০২৩ সালে ছিল ৬৯ শতাংশ।
আকার বাড়ার সঙ্গে মুনাফার হারও বেড়েছে। অতি বড় পারিবারিক খামার ছিল আর্থিকভাবে সবচেয়ে সহনশীল দল; এদের সম্মিলিত ৭৬ শতাংশ কম ও মাঝারি ঝুঁকির স্তরে ছিল। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে মাঝারি পারিবারিক খামারের বেশি অংশ উচ্চ ঝুঁকিতে পড়েছে। অপারিবারিক খামারের ২৫ শতাংশ কম ঝুঁকিতে, ১৪ শতাংশ মাঝারি ঝুঁকিতে এবং ৫৯ শতাংশ উচ্চ ঝুঁকিতে ছিল।
ঋণের ক্ষেত্রেও আকারভেদে পার্থক্য স্পষ্ট। ২০২৪ সালের শেষে মাঝারি পারিবারিক খামারের ৬৬ শতাংশ, বড় খামারের ৭৮ শতাংশ এবং অতি বড় খামারের ৭৮ শতাংশের খামারঋণ ছিল; অবসরপ্রাপ্ত, খামারবহির্ভূত পেশা ও স্বল্প বিক্রির খামারে এই হার ২৩ শতাংশের কম। ঋণ আছে এমন অতি বড় খামারের গড় ঋণ ছিল ৩৯ লাখ ডলার, তবে তাদের ঋণ ও জিসিএফআইয়ের অনুপাত মাত্র শূন্য দশমিক ৪, অর্থাৎ গড়ে আয় ঋণের চেয়ে বেশি। বড় খামারের গড় ঋণ ১৬ লাখ ডলার এবং অনুপাত ১ দশমিক ০। ছোট খামারের ঋণের অঙ্ক কম হলেও অনুপাত বেশি; অবসরপ্রাপ্ত, খামারবহির্ভূত পেশা ও স্বল্প বিক্রির খামারের গড় ঋণ ছিল ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ থেকে ২ লাখ ১১ হাজার ৬০০ ডলার, আর প্রতিবেদনের উপসংহার অনুযায়ী খামারবহির্ভূত পেশার খামারে অনুপাত ১৬ দশমিক ৯ এবং স্বল্প বিক্রির খামারে ৯ দশমিক ৩। মাঝারি বিক্রির খামারের ৫৩ শতাংশের ঋণ ছিল, গড়ে ৪ লাখ ৬০ হাজার ৬০০ ডলার, অনুপাত ১ দশমিক ৯। অপারিবারিক খামারের ২৬ শতাংশের ঋণ ছিল, গড়ে ১৭ লাখ ডলার, অনুপাত ১ দশমিক ৬।
সরকারি অর্থসহায়তা ও শস্যবিমা কার ঘরে
২০২৪ সালে সরকারি কৃষি কর্মসূচির মোট অর্থের ৪৬ শতাংশ পেয়েছে ছোট পারিবারিক খামার। বড় আকারের পারিবারিক খামার পেয়েছে ২৭ শতাংশ, মাঝারি খামার ১৭ শতাংশ এবং অপারিবারিক খামার ১০ শতাংশ। ছোট খামারের এই বড় অংশের মূল উৎস কনজারভেশন রিজার্ভ প্রোগ্রাম (সিআরপি), যার অর্থের ৭৩ শতাংশ গেছে ছোট খামারে। ইউএসডিএর ন্যাচারাল রিসোর্সেস কনজারভেশন সার্ভিসের অর্থের ৪৩ শতাংশও পেয়েছে তারা।
অন্যদিকে পণ্যদাম বা রাজস্ব কমে গেলে সহায়তা দেওয়া ‘কাউন্টারসাইক্লিক্যাল’ ধরনের অর্থ, যার মধ্যে আছে অ্যাগ্রিকালচার রিস্ক কভারেজ (এআরসি) ও প্রাইস লস কভারেজ (পিএলসি) কর্মসূচি, তার ৪৬ শতাংশ পেয়েছে বড় আকারের পারিবারিক খামার এবং ২০ শতাংশ ছোট খামার। ইআরএসের ব্যাখ্যা, এসব অর্থ পণ্য কর্মসূচি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বলে যেসব খামারে যোগ্য পণ্যের উৎপাদন বেশি, তারাই বেশি অর্থ পায়।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ শতাংশ খামার কেন্দ্রীয় শস্যবিমা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। সারিফসল, যেমন তুলা, ভুট্টা, সয়াবিন, গম, চিনাবাদাম, ধান বা সরগাম উৎপাদকদের মধ্যে অংশগ্রহণ ছিল ৬২ শতাংশ; বিশেষ ফসলের খামারে ১৯ শতাংশ এবং পশুসম্পদ খামারে ১২ শতাংশ। বড় পারিবারিক খামার বিমায় অংশগ্রহণকারীদের ১৮ শতাংশ হলেও ক্ষতিপূরণের ৪৫ শতাংশ পেয়েছে; মাঝারি খামার অংশগ্রহণকারীদের ২৪ শতাংশ ও ক্ষতিপূরণের ২২ শতাংশ। খামারবহির্ভূত পেশার ছোট খামার অংশগ্রহণকারীদের ১৮ শতাংশ হলেও ক্ষতিপূরণ পেয়েছে মাত্র ৩ শতাংশ। অপারিবারিক খামার অংশগ্রহণকারীদের ৫ শতাংশ ও ক্ষতিপূরণের ১০ শতাংশ পেয়েছে, যা ২০২৩ সালে ছিল যথাক্রমে ৭ ও ১৮ শতাংশ।
কৃষক পরিবারের আয় কম, সম্পদ বেশি
ইআরএস শুধু পারিবারিক খামারের প্রধান উৎপাদকের পরিবারের আয় ও সম্পদ হিসাব করে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পারিবারিক আয়ের মধ্যমা ছিল ৮৩,৭৩০ ডলার। অবসরপ্রাপ্ত খামারের ৫৯ শতাংশ, খামারবহির্ভূত পেশার খামারের ২৫ শতাংশ, স্বল্প বিক্রির খামারের ৬৫ শতাংশ এবং মাঝারি বিক্রির খামারের ৩৪ শতাংশ পরিবারের আয় এই মধ্যমার নিচে ছিল। সব পারিবারিক খামার মিলিয়ে ৪২ শতাংশ পরিবারের আয় জাতীয় মধ্যমার নিচে থাকলেও সম্পদ জাতীয় মধ্যমার নিচে ছিল মাত্র ২ শতাংশের। বিভিন্ন ধরনের পারিবারিক খামারে এই হার ১ থেকে ৪ শতাংশ। প্রতিবেদনের ভাষায়, আয় কম হলেও খামারি পরিবারগুলো জমি ও অন্যান্য সম্পদে উল্লেখযোগ্য সম্পদ ধরে রাখে।
অতি বড় পারিবারিক খামারের পরিবারের আয়ের মধ্যমা ছিল ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং সম্পদের মধ্যমা ৯৩ লাখ ডলার, যা সব ধরনের মধ্যে সর্বোচ্চ। মাঝারি বিক্রির ছোট খামারের পরিবারের আয়ের মধ্যমা ১ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ ডলার ও সম্পদ ২৬ লাখ ডলার, আর মাঝারি পারিবারিক খামারের আয় ২ লাখ ৬ হাজার ৭০০ ডলার ও সম্পদ ৩৪ লাখ ডলার।
অধিকাংশ খামারি পরিবারের আয়ের মূল উৎস খামারের বাইরে। সব পারিবারিক খামারের ৮৬ শতাংশ পরিবার মোট আয়ের অর্ধেকের বেশি খামারের বাইরের উৎস থেকে পেয়েছে; অবসরপ্রাপ্ত, খামারবহির্ভূত পেশা ও স্বল্প বিক্রির খামারে এই হার অন্তত ৯০ শতাংশ। ২০২৪ সালে অবসরপ্রাপ্ত খামারের ৫২ শতাংশ, খামারবহির্ভূত পেশার খামারের ৬৮ শতাংশ এবং স্বল্প বিক্রির খামারের ৬৩ শতাংশ পরিবার খামার থেকে লোকসান দেখিয়েছে; মাঝারি বিক্রির খামারে এই হার ২৪ শতাংশ।
সরাসরি বিক্রি ও জৈব চাষের জমি
এবারের প্রতিবেদনে দুটি নতুন অংশ যোগ হয়েছে। প্রথমটি সরাসরি বিক্রি নিয়ে, অর্থাৎ খামারের উৎপাদিত পণ্য ভোক্তা, খুচরা বাজার, প্রতিষ্ঠান বা মধ্যবর্তী বাজারে সরাসরি বিক্রি। ভোক্তার কাছে সরাসরি বিক্রির মধ্যে আছে কৃষকের বাজার, খামারের দোকান, রাস্তার পাশের স্টল, কমিউনিটি সাপোর্টেড অ্যাগ্রিকালচার (সিএসএ) ও অনলাইন বাজার; প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল ও খাদ্যব্যাংক। ২০২৪ সালে সরাসরি বিক্রি ছিল মোট খামার বিক্রির ১১ শতাংশ, অঙ্কে প্রায় ৫১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার; এর মধ্যে খাদ্যপণ্য ৩২ দশমিক ২ বিলিয়ন এবং অখাদ্য পণ্য, যেমন হে, পশু, ফুল, ক্রিসমাস ট্রি, নার্সারি পণ্য ও উল, ১৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
ছোট পারিবারিক খামারের কাছে ভোক্তার কাছে সরাসরি বিক্রিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ। তারা ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের খাদ্যপণ্য ও ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের অখাদ্য পণ্য সরাসরি ভোক্তার কাছে বিক্রি করেছে, যা তাদের অন্য যেকোনো সরাসরি বিক্রির পথের চেয়ে বেশি। বড় আকারের পারিবারিক খামার সব পথেই শীর্ষে, সরাসরি বিক্রিতে তাদের মোট অঙ্ক প্রায় ২৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। অপারিবারিক খামার মধ্যবর্তী বাজারে ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন, খুচরা বাজারে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন, প্রতিষ্ঠানে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন এবং সরাসরি ভোক্তার কাছে ৯০ কোটি ডলারের পণ্য বিক্রি করেছে। প্রতিষ্ঠানে সরাসরি বিক্রির ৮৮ শতাংশই ছিল খাদ্যপণ্য।
দ্বিতীয় নতুন অংশ জৈব চাষের জমি নিয়ে। ইউএসডিএর ন্যাশনাল অর্গানিক প্রোগ্রামের মান অনুযায়ী জৈব চাষে প্রায় সব কৃত্রিম কীটনাশক ও সার, জিন প্রকৌশল, আয়নাইজিং বিকিরণ ও পয়ঃবর্জ্য ব্যবহার নিষিদ্ধ, আর জৈব পশুপালনে অ্যান্টিবায়োটিক ও বৃদ্ধির হরমোন নিষিদ্ধ। বছরে ৫ হাজার ডলারের কম বিক্রির উৎপাদক ছাড়া সবাইকে জৈব হিসেবে পণ্য বেচতে সনদ নিতে হয়, আর সনদের আগে তিন বছরের রূপান্তরকাল পার করতে হয়। ইআরএস জানায়, জৈব জমি যুক্তরাষ্ট্রের মোট খামারজমির ১ শতাংশেরও কম। ২০২৪ সালে এআরএমএস প্রথমবার ইজারা নেওয়া ও নিজস্ব জৈব জমির তথ্য চেয়েছে। তাতে দেখা গেছে, মোট জৈব ও রূপান্তরাধীন জমির প্রায় ৫০ শতাংশ পশ্চিমাঞ্চলে এবং ৪০ শতাংশের বেশি ছোট পারিবারিক খামার পরিচালিত, যার ৭৫ শতাংশের বেশি জমি নিজস্ব। অপারিবারিক খামারের হাতে মোট জৈব জমির ১৫ শতাংশের কম। ইআরএস সতর্ক করেছে, এআরএমএস জৈব জমির প্রতিনিধিত্বমূলক জরিপ নয়, তাই এ হিসাবকে জনসংখ্যাগত পরিসংখ্যান হিসেবে পড়া ঠিক নয়।

আগের বছরের চিত্রের সঙ্গে তুলনা
ইআরএসের আগের সংস্করণ, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ‘আমেরিকাস ফার্মস অ্যান্ড র্যাঞ্চেস অ্যাট আ গ্লান্স: ২০২৪ এডিশন’ (ইআইবি-২৮৩), ২০২৩ সালের তথ্য দিয়েছিল। তাতেও প্রায় ৮৬ শতাংশ খামার ছিল ছোট পারিবারিক খামার; তারা কৃষিজমির ৪১ শতাংশ চালাত এবং উৎপাদনমূল্যের ১৭ শতাংশ দিত। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২২ সালে ছোট পারিবারিক খামার ছিল মোট খামারের ৮৭ শতাংশ এবং কৃষিজমির ৪৪ শতাংশ চালাত, অর্থাৎ সংখ্যা ও জমি দুটিই সামান্য কমেছিল।
২০২৩ সালে বড় আকারের পারিবারিক খামার উৎপাদনমূল্যের ৪৮ শতাংশ ও কৃষিজমির ৩১ শতাংশের ভাগীদার ছিল, আর সব পারিবারিক খামার মিলে মোট খামারের প্রায় ৯৬ শতাংশ এবং উৎপাদনের ৮৩ শতাংশ। অপারিবারিক খামার ছিল ৪ শতাংশ; তাদের উৎপাদনমূল্যের অংশ ২০২২ সালের ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে ১৭ শতাংশ হয়েছিল। সে বছরের হিসাবে মোট খামার ছিল ১৮,৮৯,৮০০টি, পরিচালিত জমি ৮৯ কোটি ৩৮ লাখ একর এবং উৎপাদনমূল্য ৪৯৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। এই তুলনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালে বড় আকারের পারিবারিক খামারের উৎপাদনমূল্যের অংশ ৪৮ থেকে ৫০ শতাংশে উঠেছে আর অপারিবারিক খামারের অংশ ১৭ থেকে ১৪ শতাংশে নেমেছে।
এনএএসএসের গণনায় খামারের সংখ্যা ও আকার
ইউএসডিএর পরিসংখ্যান সংস্থা এনএএসএস ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ‘ফার্মস অ্যান্ড ল্যান্ড ইন ফার্মস: ২০২৪ সামারি’তে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের খামারের সংখ্যা ধরেছে ১৮ লাখ ৮০ হাজার, যা ২০২৩ সালের চেয়ে ১৪,৯৫০টি কম। খামারজমি ছিল ৮৭ কোটি ৬৪ লাখ ৬০ হাজার একর, আগের বছরের চেয়ে ২১ লাখ একর কম, আর খামারের গড় আকার ৪৬৬ একর, আগের বছর যা ছিল ৪৬৪ একর। ২০১৭ সালে খামারের সংখ্যা ছিল ২০ লাখ ৪২ হাজার। এনএএসএস জানায়, ২০২৪ সালে ১০ লাখ ডলার বা তার বেশি বিক্রির শ্রেণি ছাড়া সব বিক্রিশ্রেণিতে খামার কমেছে।
একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ খামারের বিক্রি ছিল ১০ হাজার ডলারের কম এবং ৭৮ দশমিক ৯ শতাংশের বিক্রি ১ লাখ ডলারের কম। বিপরীতে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ খামারের বিক্রি ছিল ৫ লাখ ডলার বা তার বেশি, আর মোট খামারজমির ৫০ দশমিক ০ শতাংশ চালিয়েছে এই ৫ লাখ ডলার বা তার বেশি বিক্রির খামারগুলো। ১ লাখ ডলারের কম বিক্রির খামারের হাতে ছিল খামারজমির ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ। এনএএসএস বিক্রির অঙ্কে খামার ভাগ করে, আর ইআরএস করে জিসিএফআই ও মালিকানা দিয়ে, তাই দুই সংস্থার শ্রেণি এক নয়।
এনএএসএস ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ২০২২ সালের কৃষিশুমারির ‘ফার্ম ইকোনমিকস’ সারসংক্ষেপে জানিয়েছিল, ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে খামারের সংখ্যা ২০ লাখ ৪০ হাজার থেকে কমে ১৯ লাখে নেমেছে, অথচ কৃষিপণ্যের উৎপাদনমূল্য ৩৮৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ৫৪৩ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। ৫০ লাখ ডলার বা তার বেশি বিক্রির সবচেয়ে বড় খামারগুলো মোট খামারের ১ শতাংশেরও কম হলেও মোট বিক্রির ৪২ শতাংশের জোগানদাতা ছিল; অন্যদিকে ৫০ হাজার ডলার বা তার কম বিক্রির খামার ছিল ৭৪ শতাংশ, কিন্তু বিক্রিতে তাদের অংশ ২ শতাংশ। ১০ লাখ ডলার বা তার বেশি বিক্রির ১,০৫,৩৮৪টি খামার মোট খামারের ৬ শতাংশের কম হলেও সব কৃষিপণ্যের তিন-চতুর্থাংশের বেশি বিক্রি করেছিল। শুমারি অনুযায়ী বড় খামারের সংখ্যা বেড়েছে, আর ছোট ও মাঝারি খামারের সংখ্যা কমেছে।
বিশ্বের প্রেক্ষাপটে পারিবারিক ও ছোট খামার
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ২০২১ সালের ২৩ এপ্রিল ‘ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণার বরাতে জানিয়েছিল, বিশ্বে ৬০ কোটি ৮০ লাখের বেশি পারিবারিক খামার আছে; এগুলো বিশ্বের কৃষিজমির ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ দখল করে এবং মূল্যের হিসাবে বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ খাদ্য উৎপাদন করে। গবেষণাটির শিরোনাম ‘হুইচ ফার্মস ফিড দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হ্যাজ ফার্মল্যান্ড বিকাম মোর কনসেনট্রেটেড?’, লেখক সারা লোডার, মার্কো সানচেস ও রাফায়েলে বের্তিনি।
এফএওর হিসাবে বিশ্বের প্রতি ছয়টি খামারের পাঁচটির আয়তন দুই হেক্টরের কম; এগুলো মোট কৃষিজমির প্রায় ১২ শতাংশ চালায় এবং বিশ্বের প্রায় ৩৫ শতাংশ খাদ্য উৎপাদন করে। আবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১ শতাংশ খামার, যাদের আয়তন ৫০ হেক্টরের বেশি, বিশ্বের খামারজমির ৭০ শতাংশের বেশি চালায়। উচ্চ আয়ের দেশে ৯৯ শতাংশ খামার পাঁচ হেক্টরের বড়, যেখানে নিম্ন আয়ের দেশে এমন খামার মাত্র ২৮ শতাংশ। গবেষণায় এটাও উল্লেখ ছিল যে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলে ছোট খামারের সংখ্যা বেড়েছে, যদিও বড় খামারের হাতে চাষের জমির অংশও বেড়েছে।
এফএওর অ্যাগ্রিফুড ইকোনমিকস বিভাগের উপপরিচালক মার্কো সানচেস তখন বলেছিলেন, ‘পারিবারিক খামার আর ছোট খামার শব্দ দুটি একটির জায়গায় আরেকটি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা জরুরি; বেশির ভাগ পারিবারিক খামার ছোট, তবে কিছু বড়, এমনকি অনেক বড়।’ ইআরএসের ২০২৪ সালের হিসাব এই কথারই একটি উদাহরণ: যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনমূল্যের অর্ধেক আসে পারিবারিক মালিকানার অল্পসংখ্যক বড় খামার থেকে, আর সংখ্যায় বিপুল ছোট পারিবারিক খামারের বেশির ভাগ পরিবারের আয়ের মূল উৎস খামারের বাইরে।
ছবি: ইউএসডিএ / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (চার্ট অব নোট, ২৮ মে ২০২৬), ইআরএস ‘আমেরিকাস ফার্মস অ্যান্ড র্যাঞ্চেস অ্যাট আ গ্লান্স: ২০২৫ এডিশন’ (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ও ‘২০২৪ এডিশন’ (ডিসেম্বর ২০২৪), ইউএসডিএ ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস (ফার্মস অ্যান্ড ল্যান্ড ইন ফার্মস ২০২৪ সামারি, ফেব্রুয়ারি ২০২৫; ২০২২ সালের কৃষিশুমারি, ফেব্রুয়ারি ২০২৪), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও, এপ্রিল ২০২১)





মন্তব্য
(০)