সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

কাঁঠাল দিয়ে শিঙাড়া, সমুসা ও কাবাব তৈরি হচ্ছে, জানালেন কৃষিমন্ত্রী

২০২৬ সালের ১৮ জুন ঢাকায় জাতীয় ফল মেলা উদ্বোধন করে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কাঁঠাল দিয়ে শিঙাড়া, সমুসা ও কাবাব তৈরি হচ্ছে এবং এসবের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি; ফল আমদানি কমছে এবং কাঁঠাল রপ্তানি নিয়ে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে বলেও জানান তিনি।

কাঁঠাল দিয়ে শিঙাড়া, সমুসা ও কাবাব তৈরি হচ্ছে, জানালেন কৃষিমন্ত্রী
ফল

কাঁঠাল দিয়ে শিঙাড়া, সমুসা, কাবাবসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ২০২৬ সালের ১৮ জুন বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণে জাতীয় ফল মেলা-২০২৬ উদ্বোধন ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এসব পণ্যের পুষ্টিগুণও অনেক বেশি। জাগো নিউজ সেদিন সকালে এ খবর প্রকাশ করে। মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ফল উৎপাদন বাড়ায় আমদানি কমছে, বিভিন্ন দেশ কাঁঠালভিত্তিক খাদ্যপণ্য নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং কাঁঠাল রপ্তানি নিয়ে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

ফল মেলায় মন্ত্রী যা বললেন


মন্ত্রী বলেন, দেশে ফল উৎপাদনে এক ধরনের বিপ্লব ঘটেছে। একসময় যেসব ফল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো, তার অনেকগুলো এখন দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে ফল আমদানির পরিমাণ কমেছে এবং ভবিষ্যতে আমদানির প্রয়োজনও পড়বে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, দেশীয় নানা ধরনের ফলের পাশাপাশি সচরাচর পাওয়া যায় না এমন ফলও এই মেলায় প্রদর্শিত হচ্ছে। বিদেশ থেকে আমদানি করা অনেক ফল এখন দেশে উৎপাদিত হচ্ছে, এতে আমদানিনির্ভরতা কমছে।

ড্রাগন ফলের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, "দুই-তিন বছর আগেও আমরা ড্রাগন ফল আমদানি করতাম। এখন আমরা বাংলাদেশ থেকে ড্রাগন ফল রপ্তানির স্বপ্ন দেখছি। যদিও এটি বিদেশি ফল, তবে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উৎপাদিত ড্রাগন ফল অত্যন্ত সুস্বাদু। বাইরের দেশের ড্রাগন ফলের তুলনায় এটি বেশি মিষ্টি ও স্বাদে উন্নত।"

ফলের বহুমুখী ব্যবহার নিয়েও সরকার কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কাঁঠাল দিয়ে শিঙাড়া, সমুসা, কাবাবসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করা হচ্ছে এবং এসব পণ্যের পুষ্টিগুণও অনেক বেশি। তাঁর ভাষ্যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে কাঁঠালভিত্তিক খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিপণন নিয়ে আলোচনা করছে, আর স্থানীয় পর্যায়েও এসব পণ্যের উন্নয়ন চলছে।

তিনি বলেন, দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজনের কাজে যুক্ত হচ্ছেন। এরই মধ্যে আম, আনারস ও কাঁঠাল রপ্তানি শুরু হয়েছে এবং চলতি বছর কাঁঠাল রপ্তানি আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কাঁঠাল রপ্তানি সম্প্রসারণে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি যোগ করেন, "আগামী দিনে ফল বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী রপ্তানি পণ্যে পরিণত হবে বলে আমরা আশা করছি।"

কৃষি বাজেট নিয়ে প্রশ্ন


প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কৃষির বরাদ্দ কমেনি, বরং আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর বাইরে প্রণোদনা ও উন্নয়ন বাজেটও রয়েছে। যাঁরা বরাদ্দ কমেছে বলছেন, তাঁরা হয়তো সঠিক হিসাব করেননি। তিনি আরও বলেন, তুলনা করলে দেখা যাবে এবারের বাজেটে কৃষিখাতের বরাদ্দ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি, এবং কৃষিকে কেন্দ্র করেই সরকারের মূল পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী ২০২৬ সালের ১১ জুন জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেন। বার্তা সংস্থা ইউএনবি সেদিন জানায়, এতে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য সম্মিলিতভাবে ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জিডিপির ০.৬৩ শতাংশ; ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ বরাদ্দ ছিল ৩৭ হাজার ১২৬ কোটি টাকা, বা জিডিপির ০.৬১ শতাংশ। একই প্রতিবেদনে ফারমার কার্ড কর্মসূচির কথা বলা হয়: ১১টি উপজেলায় ২২ হাজারের বেশি কৃষককে নিয়ে পরীক্ষামূলক পর্যায়ের পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০০টি উপজেলায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার ফারমার কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে; কার্ডধারীরা বছরে একবার ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবেন, আর এ কর্মসূচির জন্য প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৬২.৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূমি ও পানিসম্পদসহ আরও বড় পরিসরের খাত ধরে দ্য ডেইলি স্টার ১২ জুন জানায়, প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ৪৬ হাজার ৮২১ কোটি টাকা রাখা হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দ ৪৫ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকার চেয়ে ২.৩ শতাংশ বেশি। পত্রিকাটি লেখে, মোট বাজেট ১৯ শতাংশ বেড়ে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হওয়ায় তাতে কৃষির অংশ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৮.৭ শতাংশ থেকে কমে ৫.০ শতাংশে নেমেছে। দুই প্রতিবেদন ভিন্ন ভিন্ন খাত হিসাবে ধরেছে, আর ফল মেলায় মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল এই আলোচনারই জবাব।

জাতীয় ফল কাঁঠাল


বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, কাঁঠাল (Artocarpus heterophyllus) বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও জাতীয় ফল। উদ্ভিদবিজ্ঞানের পরিভাষায় সরোসিস নামের এই অতিবৃহৎ ফল আসলে স্ত্রীপুষ্পধর গোটা মঞ্জরির পরিবর্তিত রূপ, তাতে থাকে ১০০ থেকে ৫০০টি বড় তৈলাক্ত বীজ; যে শাঁসালো অংশ খাওয়া হয়, তা আসলে পুষ্পপুট। কাঁঠালের আদি নিবাস ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালা, যেখানে আজও বুনো কাঁঠাল জন্মে। সারা দেশে কাঁঠাল হলেও বাংলাপিডিয়া নওগাঁ, দিনাজপুর, সাভার, মধুপুর ও সিলেটকে কাঁঠালের প্রধান এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

কাঁঠালগাছ চিরসবুজ, ৯ থেকে ২৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয় এবং দুধকষে ভরা থাকে। এর জন্য দরকার আর্দ্র ও উষ্ণ জলবায়ু, মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা, গভীর দোআঁশ মাটি ও ভালো পানিনিষ্কাশন। গাছে ফুল আসে ফেব্রুয়ারি-মার্চে, ফল পাকে মে থেকে জুলাইয়ে; অর্থাৎ মন্ত্রী কথা বলেছেন কাঁঠালের ভরা মৌসুমে। বাংলাপিডিয়া এর নানা ব্যবহারের কথা বলে: রসালো শাঁস তাজা খাওয়া হয় এবং সিরাপ হিসেবেও সংরক্ষণ করা যায়; ভাজা ও সিদ্ধ বীজ এবং বীজের তরকারি জনপ্রিয়; কাঁচা ফল উত্তম সবজি, তা দিয়ে আচারও হয়; পাতা ও উচ্ছিষ্ট পশুখাদ্য; আর কাঠ আসবাব ও বাদ্যযন্ত্রে লাগে। জ্ঞানকোষটি আরও বলেছে, গোটা ফল বেশি দিন রাখা যায় না বলে কাঁঠাল রপ্তানির উপযোগী নয়, যদিও অনেকে বিমানে করে এ ফল বিদেশে নিয়ে যান।

নেদারল্যান্ডসের ভাগেনিঙেন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রের গবেষকদের একটি পর্যালোচনা, যা ২০২৫ সালের নভেম্বরে কারেন্ট রিসার্চ ইন ফুড সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়, কাঁঠালকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাছে ধরা ফল বলে বর্ণনা করেছে: লম্বায় ৩০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার, ব্যাসে ১৫ থেকে ৫০ সেন্টিমিটার, ওজনে ৫৫ কেজি পর্যন্ত, আর ফল ধরে সরাসরি কাণ্ডে। পর্যালোচনা অনুযায়ী ফলের ওজনের মাত্র প্রায় ৪০ শতাংশ খাওয়ার উপযোগী কোষ, ফলে প্রতিটি ফলের বড় অংশ নষ্ট হয়। ২০১৯ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ফুড সায়েন্সে আর এ এস এন রণসিংহে ও সহকর্মীদের প্রকাশিত আরেক পর্যালোচনা বলছে, একটি পূর্ণবয়স্ক গাছে ১০ থেকে ২০০টি কাঁঠাল ধরতে পারে, আর কাঁঠাল প্রধানত দুই ধরনের, শক্ত ও নরম: শক্ত ধরনের কোষ পুরো পাকার পরও কচকচে থাকে, নরম ধরনের কোষ পেকে নরম, আঁশযুক্ত ও খুব মিষ্টি হয়।

গাজীপুরে গাছে ঝুলছে কাঁচা কাঁঠাল। ছবি: Mazhar Zarif / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
গাজীপুরে গাছে ঝুলছে কাঁচা কাঁঠাল। ছবি: Mazhar Zarif / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

দেশে কত কাঁঠাল উৎপাদন হয়


কাঁঠাল উৎপাদনের সরকারি হিসাব এক সংস্থা থেকে আরেক সংস্থায় আলাদা। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ২০১৮ সালের নভেম্বরে জানায়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে ৯ লাখ ৫০ হাজার টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়। একই প্রতিবেদনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) হর্টিকালচার উইংয়ের তৎকালীন পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, দেশে উৎপাদিত মোট ফলের ২৫ শতাংশ কাঁঠাল এবং এর উৎপাদন বছরে প্রায় ৩ শতাংশ হারে বাড়ছে।

দ্য ডেইলি স্টার ২০২৩ সালের জুনে জানায়, ডিএইর হিসাবে ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১৯ লাখ টন কাঁঠাল উৎপাদিত হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা অঞ্চলে, এরপর চট্টগ্রামে, আর এর বেশির ভাগই দেশে খাওয়া হয়। ফল মেলার আগে পাওয়া বিবিএসের সর্বশেষ হিসাব তুলে ধরে দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাঁঠাল উৎপাদন ১০ লাখ ২০ হাজার টনে স্থিতিশীল ছিল, তবে চাষের জমি প্রায় ৪ হাজার একর কমেছে।

সামগ্রিক ফল উৎপাদন নিয়ে ডিএইর তথ্য তুলে ধরে দ্য ডেইলি স্টার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জানায়, দেশে ফল উৎপাদন ২০০৮-০৯ অর্থবছরের ১ কোটি ৩ লাখ টন থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ৫১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে, যদিও একই সময়ে ফলের জমি ৯ লাখ ৩৫ হাজার হেক্টর থেকে কমে ৭ লাখ ৭৯ হাজার হেক্টর হয়েছে।

কাঁঠালের পুষ্টিগুণ নিয়ে যা জানা যায়


মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবেদনগুলোতে কাঁঠালের শিঙাড়া, সমুসা বা কাবাবের পুষ্টি উপাদানের কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি। তবে ফলটির পুষ্টির নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফুডডেটা সেন্ট্রাল অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম কাঁচা (রান্না না করা) কাঁঠালের কোষে থাকে ৯৫ কিলোক্যালরি শক্তি, ৭৩.৫ গ্রাম পানি, ১.৭২ গ্রাম আমিষ, ০.৬৪ গ্রাম চর্বি, ২৩.২ গ্রাম শর্করা ও ১.৫ গ্রাম খাদ্যআঁশ; সেই সঙ্গে ১৩.৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ৪৪৮ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, ০.৩২৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি৬, ২৯ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম ও ২৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম।

রণসিংহে ও সহকর্মীদের ২০১৯ সালের পর্যালোচনায় কাঁঠালকে শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ ও উদ্ভিজ্জ যৌগে সমৃদ্ধ বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, অন্যান্য গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফলের তুলনায় কাঁঠালের কোষ ও বীজে আমিষ, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও থায়ামিন বেশি, আর যে অল্প কয়েকটি ফল বি-গ্রুপের ভিটামিনে সমৃদ্ধ, কাঁঠাল তার একটি। পর্যালোচনায় উদ্ধৃত গবেষণা অনুযায়ী বীজে আমিষ থাকে ৫.৩ থেকে ৬.৮ শতাংশ।

শিঙাড়া, কাটলেট বা কাবাব তৈরি হয় কাঁচা কাঁঠাল থেকে, যার গঠন পাকা কোষ থেকে আলাদা। ভাগেনিঙেনের পর্যালোচনা ব্যাখ্যা করে, অপরিপক্ব কাঁঠালের আঁশযুক্ত গঠন মাংসের সঙ্গে অনেকটা মিলে যায়, তাই মাংসের মতো পদে এটি ব্যবহৃত হয়; এশিয়ার অনেক রান্নায় দীর্ঘকাল ধরে এটি সবজি হিসেবে, স্যুপে ও তরকারিতে রান্না হয়ে আসছে। এর আমিষের পরিমাণ সাধারণত ২ শতাংশের কম বলে উল্লেখ করা হয়: ফল হিসেবে তা তুলনামূলক বেশি, কিন্তু মাংসের চেয়ে কম। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, আমিষ, আয়রন ও ভিটামিন বি১২ কম থাকায় নেদারল্যান্ডসের পুষ্টি কেন্দ্র (ভুডিংসেন্ট্রুম) কাঁঠালকে মাংসের বিকল্প হিসেবে উপযুক্ত মনে করে না; তবে এর খাদ্যআঁশ সুষম, উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্যতালিকায় একে মূল্যবান করে। এতে শর্করা ও আঁশ বেশি, চর্বি কম।

পর্যালোচনাটি আরও সতর্ক করে, কাঁঠাল প্রস্তুতের প্রচলিত পদ্ধতি সিদ্ধ করার সময় চিনি ও ভিটামিনের মতো পানিতে দ্রবণীয় উপাদান রান্নার পানিতে চলে যায়, আর ভিটামিন সির মতো তাপে সংবেদনশীল পুষ্টি ভেঙে যেতে পারে। এতে সংকলিত গবেষণায় দেখা গেছে, মুরগির বলে কাঁঠাল মেশালে তা নরম হয়, কারণ মুরগির মাংসের তুলনায় কাঁঠালে আমিষ কম ও পানি বেশি; আর স্বাদ যাচাইয়ে অংশ নেওয়া প্যানেলগুলোর প্রতিক্রিয়া ছিল ভিন্ন ভিন্ন: কোনো গবেষণায় কাঁঠালযুক্ত পণ্য বেশি পছন্দ হয়েছে, কোনোটিতে হয়নি।

ওপরের হিসাবগুলো ফলটির নিজের। ভাজা নাশতার পুষ্টি নির্ভর করে পুরো প্রণালির ওপর, যেমন খামির, তেল ও অন্যান্য উপকরণ, আর প্রতিবেদনগুলোতে এমন কোনো প্রণালি দেওয়া হয়নি। বিশেষ খাদ্যাভ্যাস বা কোনো রোগ থাকলে এসব খাবার খাদ্যতালিকায় রাখার আগে চিকিৎসক বা যোগ্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কাঁচা কাঁঠাল ও আলুর বাঙালি তরকারি এঁচোড়, ছবিটি ভারতের কলকাতায় তোলা। ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
কাঁচা কাঁঠাল ও আলুর বাঙালি তরকারি এঁচোড়, ছবিটি ভারতের কলকাতায় তোলা। ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন জরুরি: সংগ্রহোত্তর অপচয়


কাঁঠাল দিয়ে অন্য খাবার তৈরির যুক্তির বড় ভিত্তি হলো ফসলের বিপুল অপচয়। ২০১৮ সালে ডিএইর হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, দেশের চাহিদা ও রপ্তানি মেটানোর পরও প্রতিবছর জাতীয় ফলের ৪৫ শতাংশ নষ্ট হয়। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বরাত দিয়ে জানায়, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের অভাবে দেশে উৎপাদিত কাঁঠালের ৪৩ থেকে ৪৫ শতাংশ প্রতিবছর পচে যায়, ফলে কৃষকেরা স্বাভাবিক দামের এক-তৃতীয়াংশে ফল বিক্রি করতে বাধ্য হন।

২০২১ সালের নভেম্বরে ঢাকার ফল গবেষণা কেন্দ্রে এক কর্মশালায় বারির পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের বিজ্ঞানী ড. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী বলেন, দেশে উৎপাদিত কাঁঠালের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত, যার মূল্য প্রায় ৫০০ কোটি টাকা, নষ্ট হচ্ছে; মূলত খাওয়া বা সংরক্ষণ না করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফলটি পচে যায় বলে। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানায়, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের কাঁঠালের সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা ও বিপণন প্রকল্পের অর্থায়নে বিভাগটি ওই কর্মশালার আয়োজন করে।

ফলটি সামলানো কেন কঠিন, তা ব্যাখ্যা করেছে ২০১৯ সালের পর্যালোচনা। কাঁঠালের কোষ দ্রুত নষ্ট হয়, অল্প দিনেই স্বাদ হারায়, নরম হয়ে যায় এবং কাটা জায়গা বাদামি হয়ে পড়ে; ফলের অর্ধেকের বেশি অংশ খাওয়ার অযোগ্য; আকার ও আকৃতি এত ভিন্ন যে মোড়কজাত করা কঠিন; আর পুরু খোসা ও আঠালো কষের কারণে ছাড়ানো সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য। লেখকেরা খাওয়ার জন্য প্রস্তুত কাটা কোষ, চিপস ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ফ্রিজ-ড্রাইং ও ভ্যাকুয়াম ফ্রাইংয়ের মতো পদ্ধতিতে তৈরি করে, এর ব্যবহার বাড়ানোর পথ দেখিয়েছেন। ভাগেনিঙেনের পর্যালোচনা যোগ করে, সাইট্রিক ও অ্যাসকরবিক অ্যাসিডের দ্রবণে কাঁচা কাঁঠালের বাদামি হয়ে যাওয়া ঠেকানো যায় এবং ক্যানিংসহ তাপ প্রয়োগে তা সংরক্ষণ করা যায়।

গবেষক ও উদ্যোক্তারা আগেই যা তৈরি করেছেন


বারি কাঁঠালের তিনটি জাত, বারি কাঁঠাল-১, বারি কাঁঠাল-২ ও বারি কাঁঠাল-৩ উদ্ভাবন করেছে বলে ২০২৩ সালের জুনে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান ড. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী। প্রতিষ্ঠানটির পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগ পণ্য নিয়েও কাজ করছিল। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বারির বিজ্ঞানীরা কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের প্রকল্পের আওতায় কাঁঠালের পাল্প থেকে দই, চকলেট, আইসক্রিম ও পনির তৈরির কথা জানান; এগুলো তৈরিতে লাগে শুধু পাল্প ও দুধ, দইয়ে পাল্প থাকে ৩ থেকে ৫ শতাংশ, আইসক্রিমে ৫ থেকে ৮ শতাংশ এবং পনিরে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। বিভাগটির তৎকালীন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. হাফিজুল হক খান বলেন, বিজ্ঞানীরা চিপস, আচার, কাটলেট, জ্যাম ও জেলিসহ আরও প্রায় ২০টি পণ্য উদ্ভাবন করেছেন।

মন্ত্রী যেসব খাবারের কথা বলেছেন, তা দেশের গবেষকদের কাছে নতুন নয়। ২০২৩ সালের অক্টোবরে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ড. ফেরদৌসের বরাত দিয়ে জানায়, বারির বিজ্ঞানীরা কাঁচা কাঁঠাল দিয়ে স্যান্ডউইচ, রোল, কাটলেট, শিঙাড়া, সমুসা, জুস, কাস্টার্ড, কেক ও আইসক্রিম তৈরি করেছেন। একই প্রতিবেদনে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) অর্থায়নে বেসরকারি সংস্থা সিডিআইপি পরিচালিত একটি কারখানায় রপ্তানির জন্য কাঁঠালের বার্গার প্যাটি তৈরির কথা বলা হয়। পিকেএসএফ ও সিডিআইপির কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, প্রতিটি প্যাটির ৫৮ শতাংশ কাঁঠাল, ২০ শতাংশ ময়দা ও কর্নফ্লাওয়ারের মিশ্রণ এবং ২২ শতাংশ পেঁয়াজ, আদা, ধনেপাতা, কারি পাউডার ও মরিচগুঁড়ার মতো অন্যান্য উপকরণ, আর এতে ব্যবহার হয় ফলের ভেতরের আঁশযুক্ত অংশ। প্রকল্পে বিনিয়োগ ১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, যার ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা দিয়েছে পিকেএসএফ; বারির সহায়তায় সংস্থাটি উদ্যোক্তাদের ফলভিত্তিক খাবার তৈরির প্রশিক্ষণও দিয়েছে।

প্রক্রিয়াজাত কাঁঠাল বিদেশে বিক্রির চেষ্টা কয়েক বছরের পুরোনো। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ২০১৮ সালের নভেম্বরে জানায়, বাংলাদেশ এগ্রো-বেজড প্রোডাক্ট প্রডিউসার্স অ্যান্ড মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নে অসমোটিক পদ্ধতিতে শুকানো কাঁঠাল ও কাঁঠালবীজের গুঁড়া সরবরাহের পরিকল্পনা করছে, আর সরকারের এটুআই কর্মসূচি চিপস ও মাংসের বিকল্প প্রক্রিয়াজাতকরণে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। পত্রিকাটি জানায়, ২০১৭ সালে বিশ্বে মাংসের বিকল্পের বাজার ছিল ৪১৭ কোটি মার্কিন ডলারের, যা ২০২৫ সালের মধ্যে ৭৫৪ কোটি ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস ছিল।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ভাজা নাশতা শিঙাড়া, সাধারণত আলুর পুর দিয়ে তৈরি; প্রসঙ্গচিত্র। ছবি: Bellayet / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বাংলাদেশের জনপ্রিয় ভাজা নাশতা শিঙাড়া, সাধারণত আলুর পুর দিয়ে তৈরি; প্রসঙ্গচিত্র। ছবি: Bellayet / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

রপ্তানি ও চীনের বাজার


ফল মেলার আগ পর্যন্ত কাঁঠাল রপ্তানির পরিমাণ ছিল সামান্য। দ্য ডেইলি স্টার ২০২৩ সালের জুনে জানায়, ডিএইর হিসাবে রপ্তানি ছিল নগণ্য। ডিএইর উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের পরিচালক মো. রেজাউল করিম পত্রিকাটিকে বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১৫ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ ৪৬৯ টন কাঁঠাল রপ্তানি করেছে, আর আগের বছর মোট রপ্তানি ছিল ১ হাজার ৩০০ টন। ২০১৮ সালে ডিএই জানিয়েছিল, কাঁচা অবস্থায় ভালো পরিমাণ কাঁঠাল মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে যায়।

মন্ত্রী যে বাজারের কথা বলেছেন, সেই চীনের শুল্ক কর্তৃপক্ষ জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস অব চায়না (জিএসিসি) ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের আম আমদানির অনুমোদন দেয়, আর ছয় বছরের আলোচনার পর ২০২৫ সালের মে মাসের শেষে ৫০ টনের প্রথম চালান রওনা হয়, জানায় বাণিজ্য সাময়িকী ফ্রেশফ্রুটপোর্টাল। তখনো জিএসিসি কাঁঠাল ও পেয়ারার অনুমোদন দেয়নি বলে উল্লেখ করে সাময়িকীটি জানায়, কৃষিসচিব বলেছেন বাংলাদেশ কাঁঠাল ও লিচু রপ্তানির কথা ভাবছে। ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের কাঁঠাল ও পেয়ারার জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার দিতে চীন কাজ করছে, জানায় রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস। ২০১৮ সালেই বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেছিলেন, চীনের কাঁঠালের বাজার থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের দখলে।

ড্রাগন ফল ও ফল আমদানি কমে আসা


মন্ত্রীর উদাহরণ ড্রাগন ফল দেশে এসেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে। দ্য ডেইলি স্টার ২০১৩ সালে জানায়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) জার্মপ্লাজম সেন্টার ১৯৯৯ সালে ভিয়েতনামের ড্রাগন ফলসহ চারটি বিদেশি ফল সংগ্রহ করে এবং ২০০৭ সালে চারা উৎপাদন শুরু করে। পরে বারি নিজস্ব জাত বারি ড্রাগন ফল-১ উদ্ভাবন করে, জানায় ঢাকা ট্রিবিউন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে।

একই প্রতিবেদনে কৃষিবিদদের বরাত দিয়ে ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, দেশে ড্রাগন ফলের উৎপাদন ২০১৪ সালের ৬৬ টন থেকে ২০২৩ সালে ২৫ হাজার ৭০০ টনে পৌঁছেছে; ঢাকা, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, পাবনা, বগুড়া, রাজশাহী, নাটোর, নীলফামারী, নরসিংদী, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে বাণিজ্যিক বাগান গড়ে উঠেছে। তখন দেশি ড্রাগন ফল কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ৪০০ টাকায় এবং আমদানি করা ফল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। বিবিএসের হিসাব অবশ্য কম: দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ড্রাগন ফলের উৎপাদন আগের বছরের ৯ হাজার ৭৫৪ টন থেকে বেড়ে ১২ হাজার ৫২২ টন হয়েছে।

আমদানি নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে মেলে ডিএইর তথ্য, যা দ্য ডেইলি স্টার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশ করে: বিদেশ থেকে আনা ফল ২০২১-২২ অর্থবছরের ৮ লাখ ২২ হাজার টন থেকে কমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫ লাখ ২৫ হাজার টনে নেমেছে। বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম এই পতনের বড় কারণ হিসেবে আমদানি শুল্কের কথা বলেন, যা ২০২৩ সালে কেজিপ্রতি ২৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা হয়, জানায় পত্রিকাটি।

সিলেটের জৈন্তাপুরে সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রে ধরে থাকা ড্রাগন ফল। ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সিলেটের জৈন্তাপুরে সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রে ধরে থাকা ড্রাগন ফল। ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

জাতীয় ফল মেলা


কৃষি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে তিন দিনের জাতীয় ফল মেলা আগের বছরগুলোতেও জুন মাসে রাজধানীর খামারবাড়ির কেআইবি প্রাঙ্গণে হয়েছে। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস জানায়, ২০২২ সালের জুনে পত্রিকাটির ইংরেজি ভাষ্যে মেলার প্রতিপাদ্য ছিল, সারা বছর ফল উৎপাদন অর্থ ও পুষ্টি দুই-ই আনে; তাতে ৬৭টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় এবং মেলা খোলা ছিল সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, ২০২৪ সালে মেলা হয় ৬ থেকে ৮ জুন, পত্রিকাটির ইংরেজি ভাষ্যে প্রতিপাদ্য ছিল, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের জন্য ফল, পুষ্টি ও স্মার্ট কৃষি; ৮টি সরকারি ও ৫৫টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ৬৩টি স্টলে নানা ফল ও ফল চাষের প্রযুক্তি প্রদর্শন করে।

জাগো নিউজ জানায়, ২০২৬ সালের মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত মৌসুমি ও অপ্রচলিত ফলের পাশাপাশি ফলভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য প্রদর্শন করা হয় এবং কৃষক, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাতে অংশ নেয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (১৮ জুন ২০২৬), ইউএনবি (১১ জুন ২০২৬), দ্য ডেইলি স্টার (৭ মে ২০১৩, ১৬ জুন ২০২৩, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ জুন ২০২৬), দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস (১০ নভেম্বর ২০১৮, ২৬ নভেম্বর ২০২১, ১৭ জুন ২০২২, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (৬ ডিসেম্বর ২০২১, ৩ অক্টোবর ২০২৩, ৯ জুন ২০২৪), ঢাকা ট্রিবিউন (৮ ডিসেম্বর ২০২৩), বাসস ও প্রথম আলো (২৩ অক্টোবর ২০২৫), ফ্রেশফ্রুটপোর্টাল (২৮ মে ২০২৫), বাংলাপিডিয়া (বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি), ইউএসডিএ ফুডডেটা সেন্ট্রাল, ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ফুড সায়েন্স (রণসিংহে ও সহকর্মী, ২০১৯), কারেন্ট রিসার্চ ইন ফুড সায়েন্স (সুইঙ্কেলস ও সহকর্মী, ভাগেনিঙেন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্র, ২০২৫)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)