২০২৬ সালের ২৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) জানায়, মেক্সিকোর সোনোরা রাজ্যের সীমান্ত-লাগোয়া অ্যারিজোনার ডগলাসে প্রস্তাবিত একটি বন্ধ্যা মাছি অবমুক্তকরণ কেন্দ্রের জন্য তারা আড়াই কোটি ডলার দেবে। ডগলাস প্রবেশপথের পশু পরিদর্শন কেন্দ্র ঘুরে দেখার সময় কৃষিমন্ত্রী ব্রুক এল. রলিন্স এই ঘোষণা দেন। নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্মের কারণে এক বছরের বেশি বন্ধ থাকার পর এই প্রবেশপথ ২৪ আগস্ট মেক্সিকোর গবাদি পশুর জন্য খুলে দেওয়ার কথা তখন ঘোষণা করা হয়েছিল।
জীবন্ত মাংসখেকো পোকা আবার যুক্তরাষ্ট্রে
নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম (Cochliomyia hominivorax) এক ধরনের পরজীবী মাছি। স্ত্রী মাছি উষ্ণ রক্তের প্রাণীর ক্ষতস্থানে বা খোলা মাংসে ২৫০ থেকে ৫০০টি ডিম পাড়ে, আর ডিম ফুটে বের হওয়া শূককীট জীবন্ত টিস্যু খেয়ে প্রাণীর গুরুতর ক্ষতি করে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। ১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এই পোকা নির্মূল করে মধ্য আমেরিকায় ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। পরে তা পানামা, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া ও হন্ডুরাস হয়ে ২০২৪ সালে মেক্সিকোতে পৌঁছায়। ২০২৫ সালের মে মাসে ইউএসডিএ দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে জীবন্ত পশু আমদানি বন্ধ করে দেয়।
২০২৬ সালের ৩ জুন ইউএসডিএর প্রাণী ও উদ্ভিদ স্বাস্থ্য পরিদর্শন সংস্থা (এপিএইচআইএস) টেক্সাসের জাভালা কাউন্টিতে তিন সপ্তাহ বয়সী এক বাছুরের নাভিতে শূককীট পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে, যা যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম শনাক্ত সংক্রমণ। ডিটিএন প্রগ্রেসিভ ফার্মারের তথ্যমতে, অ্যারিজোনার ঘোষণার সময় পর্যন্ত টেক্সাসে ৪১টি ও নিউ মেক্সিকোতে ১টি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছিল। কেজেজেডজেডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যারিজোনা বা সোনোরায় তখনও কোনো নিশ্চিত সংক্রমণ ছিল না।

বন্ধ্যা মাছি কীভাবে পোকা নির্মূল করে
বন্ধ্যা পোকা কৌশলে গবেষণাগারে বিপুল সংখ্যায় মাছি পালন করে বিকিরণ দিয়ে বন্ধ্যা করা হয়, তারপর আক্রান্ত এলাকায় ছাড়া হয়। বন্ধ্যা পুরুষ মাছির সঙ্গে মিলনের পর বুনো স্ত্রী মাছি যে ডিম পাড়ে তা থেকে বাচ্চা হয় না; প্রজন্মের পর প্রজন্ম এভাবে ছাড়তে থাকলে পোকার সংখ্যা কমতে কমতে নির্মূল হয়ে যায়। পদ্ধতিটি ১৯৫০-এর দশকে উদ্ভাবন করেন ইউএসডিএর দুই কীটতত্ত্ববিদ এডওয়ার্ড এফ. নিপলিং ও রেমন্ড সি. বুশল্যান্ড; এ জন্য তাঁরা ১৯৯২ সালে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ পান। ১৯৫৪ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপ কুরাসাওতে এই কৌশলে স্ক্রুওয়ার্ম নির্মূল হয়, পরে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ১৯৮০-এর দশকে মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকায়। পানামার একটি কারখানা থেকে মাছি ছেড়ে সেখানে একটি জৈব প্রতিরোধ-রেখা ধরে রাখা হয়েছিল।
রলিন্স সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, "নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম নির্মূলের একমাত্র প্রমাণিত পদ্ধতি বন্ধ্যা পোকা কৌশল, এবং আমেরিকার গবাদি পশু ও খাদ্য সরবরাহ রক্ষায় আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার আরও বাড়াতে থাকব।"

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় অবমুক্তকরণ কেন্দ্র
ডগলাসের কেন্দ্রটি হবে দক্ষিণ টেক্সাসের এডিনবার্গের পর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বন্ধ্যা মাছি অবমুক্তকরণ কেন্দ্র। এই নেটওয়ার্কে রয়েছে পানামার মূল উৎপাদন কারখানা, মেক্সিকোর মেতাপায় সদ্য চালু উৎপাদন কেন্দ্র, তাম্পিকোর অবমুক্তকরণ কেন্দ্র এবং এডিনবার্গের মুর এয়ার বেসে নির্মাণাধীন উৎপাদন কেন্দ্র, যা ২০২৭ সালে চালুর কথা। ইউএসডিএ জানায়, জায়গা ও অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে কয়েক মাসেই নির্মাণ শেষ হতে পারে; স্থান ও পরিচালনা পরিকল্পনা ঠিক করতে তারা অ্যারিজোনা কৃষি বিভাগের সঙ্গে কাজ করছিল।
রলিন্স বলেন, "আজকের ঘোষণা আমাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলে আরেকটি বড় বিনিয়োগ, যার লক্ষ্য এই পোকাকে মেক্সিকোয় ঠেলে দেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত উত্তর আমেরিকা থেকে নির্মূল করা।"

ডগলাস প্রবেশপথে কড়া পরিদর্শন
রলিন্স বলেন, "ডগলাস প্রবেশপথ আবার খুলছে কেবল এ কারণে যে ইউএসডিএ ইতিহাসের অন্যতম কঠোর পশু পরিদর্শন পদ্ধতি চালু করেছে।" এই পথে আসা প্রতিটি পশুকে একাধিকবার পশুচিকিৎসকের পরীক্ষা পেরোতে হবে, সীমান্ত পার হওয়ার আগে ইউএসডিএর পশুচিকিৎসকের পরীক্ষাও এর মধ্যে রয়েছে। শর্ত পূরণ না করলে পশুকে ঢুকতে দেওয়া হবে না, আর স্ক্রুওয়ার্ম ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে আমদানি বন্ধ হবে। আগের এক বছরে ডগলাসের আশপাশে ফাঁদে ধরা প্রায় ১,০০০ মাছি শনাক্তের জন্য পাঠানো হয়, যার একটিও স্ক্রুওয়ার্ম ছিল না। সোনোরায় মেক্সিকোর অন্যতম শক্তিশালী প্রাণিস্বাস্থ্য ব্যবস্থা থাকায় ডগলাসকে প্রথমে বাছা হয়; পরে নিউ মেক্সিকোর সান্তা তেরেসা ও কলম্বাস প্রবেশপথ বিবেচনার কথা জানানো হয়।

ছবি: জুডি গ্যালাহার / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ), ইউএসডিএ-এপিএইচআইএস, দ্য টেক্সাস ট্রিবিউন, কেজেজেডজেড, ডিটিএন প্রগ্রেসিভ ফার্মার, হাই প্লেইনস জার্নাল, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রাইজ ফাউন্ডেশন, উইকিপিডিয়া




মন্তব্য
(০)