স্কুল ছুটির পর গেটের পাশের ভ্যান বা দোকান থেকে শিঙাড়া, সমুচা, ফুচকা, নুডলস বা ফ্রায়েড চিকেন কিনে খাওয়া অনেক শিশুর অভ্যাস। নারায়ণগঞ্জের প্রো-অ্যাকটিভ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়াবেটিস বিভাগের প্রধান, সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান নাজনীন এস মৌসুমী বলছেন, এই অভ্যাস শিশু ও অভিভাবক দুজনেরই স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পাঁচ-ছয় ঘণ্টা স্কুলে থেকে খিদে পাওয়া স্বাভাবিক; অনেকে টিফিন পুরো খায় না, কেউ নাশতা না খেয়েই স্কুলে যায়। তখন হাতের কাছে যা মেলে, সেটিই আকর্ষণীয় লাগে। তাঁর মতে, সমস্যার বড় কারণ খিদের মুহূর্তে স্বাস্থ্যকর বিকল্প না থাকা।
গভীর তেলে ভাজা খাবারে বেশি ক্যালরি থাকে, আর একই তেল বারবার গরম করলে ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হতে পারে। ইনস্ট্যান্ট নুডলস, চিপস, কিছু সস ও কোমল পানীয়ে লবণ বা চিনি বেশি; অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকির সঙ্গে আর অতিরিক্ত চিনি দাঁতের ক্ষয় ও ওজন বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত। ভাজাপোড়ায় পেট ভরে যাওয়ায় ফল, সবজি, ডাল, দুধ ও ডিমের মতো খাবার খাওয়াও কমে যায়।
খোলা জায়গায় তৈরি বা অনিরাপদভাবে রাখা খাবার ধুলা, মাছি, দূষিত পানি ও অপরিচ্ছন্ন হাতে জীবাণুযুক্ত হতে পারে, এতে ডায়রিয়ার মতো খাদ্যবাহিত অসুখের ঝুঁকি থাকে। শিশুরা বড়দের দেখেও শেখে, তাই শুধু নিষেধ না করে বুঝিয়ে বলা এবং পুরো পরিবারের খাদ্যাভ্যাস বদলানো দরকার বলে তিনি মনে করেন।
তাঁর পরামর্শে ব্যাগে রাখা যায় কলা, পেয়ারা, আপেল বা মৌসুমি ফল; সেদ্ধ ডিম, ভাজা ছোলা বা পরিমিত বাদাম; ডিম, সবজি বা মুরগির ঘরে তৈরি ছোট স্যান্ডউইচ বা রুটি-রোল; মুড়ি-ছোলা-বাদামের মিশ্রণ; কিংবা চিড়া, দই ও কলা।
ডিম, দই বা মুরগির মতো পচনশীল খাবার বেশিক্ষণ সাধারণ তাপমাত্রায় না রাখা এবং সঙ্গে পানির বোতল দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি; কোমল পানীয়র বদলে সাধারণ পানিই ভালো।
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)