সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

গোলাপের জাতের নাম, ফোটার সময় ও বাংলাদেশে চাষের পদ্ধতি

কৃষি তথ্য সার্ভিসের তালিকায় বাংলাদেশে পাপা মেলান্ড, ডাবল ডিলাইট, তাজমহলসহ নানা জাতের গোলাপ চাষ হয়। চারা রোপণের উপযুক্ত সময় অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি, আর বাণিজ্যিক চারা তৈরির প্রধান পদ্ধতি চোখ কলম।

গোলাপের জাতের নাম, ফোটার সময় ও বাংলাদেশে চাষের পদ্ধতি
ফুল

গোলাপকে বলা হয় ফুলের রানি। Rosaceae গোত্রের Rosa গণের এই কাঁটাযুক্ত গুল্মের প্রায় ১৫০টি প্রজাতি আছে সারা পৃথিবীতে। কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) জানায়, গোলাপ মূলত শীতকালীন মৌসুমি ফুল, তবে এখন সারা বছরই এর চাষ হয়। বাংলাপিডিয়ার তথ্যে, দেশে গোলাপের উৎপাদন ও বিপণন অনেক বেড়েছে; সাভার ও সালনার বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন ব্যাপকভাবে গোলাপের চাষ হয়।

উপমহাদেশে গোলাপ এবং দেশে চাষ হওয়া জাত


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, যতদূর জানা যায় ভারতীয় উপমহাদেশে সুন্দর গোলাপ এসেছে প্রায় পাঁচশ বছর আগে বসরা থেকে। মোগল সম্রাট বাবর প্রথম ‘বসরা’ নামের একটি গোলাপ নিয়ে আসেন। সুগন্ধি গোলাপি রঙের এই গোলাপ এখনও এ দেশে ‘বসরা’ নামে পরিচিত এবং কোনো কোনো পুরোনো বাগানে এর চাষ হয়।

এআইএসের তালিকায় বাংলাদেশে চাষ হওয়া কয়েকটি জাত হলো মিরান্ডি, পাপা মেলান্ড, ডাবল ডিলাইট, তাজমহল, প্যারাডাইস, ব্লু-মুন, মন্টেজুমা, টাটা সেন্টার ও সিটি অব বেলফাস্ট। বুনো গোলাপের গাছে চোখ কলম বসিয়ে দেশে এখন পাপা মেলান্ড, ডাবল ডিলাইট, ডাচ গোল্ড, কুইন এলিজাবেথ ও মন্টেজুমার মতো বিদেশি নামি জাত পাওয়া যায় বলে জানায় বাংলাপিডিয়া। দেশে উদ্ভাবিত জাতের মধ্যে ‘ফাতেমা ছাত্তার’, ‘শিবলী’, ‘রাহেলা হামিদ’, ‘পিয়ারী’, ‘ভাসানী’, ‘শের-এ-বাংলা’, ‘১৯৫২’ ও ‘জয়ন্তি’ উল্লেখযোগ্য; তবে উপযুক্ত বাগান ও উদ্যোগের অভাবে এগুলো কতদিন টিকে থাকবে, তা নিয়ে বাংলাপিডিয়াই সংশয় প্রকাশ করেছে।

বিদেশি জাতগুলোর মধ্যে পাপা মেলান্ড একটি হাইব্রিড টি গোলাপ; ১৯৬৩ সালে ফ্রান্সে আলাঁ মেইয়াঁ এটি উদ্ভাবন করেন। ডাবল ডিলাইটও হাইব্রিড টি, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭৭ সালে বাজারে আসে; লাল-সাদা মেশানো বড় ফুলে কড়া মিষ্টি গন্ধ। কুইন এলিজাবেথ গোলাপি রঙের গ্র্যান্ডিফ্লোরা জাত, যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৫৪ সালে ওয়াল্টার ল্যামার্টস এটি উদ্ভাবন করেন।

পাপা মেলান্ড জাতের গোলাপ। ছবি: Schubbay / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
পাপা মেলান্ড জাতের গোলাপ। ছবি: Schubbay / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ডাবল ডিলাইট জাতের গোলাপ। ছবি: Arashiyama / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ডাবল ডিলাইট জাতের গোলাপ। ছবি: Arashiyama / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

গোলাপের প্রধান শ্রেণি


উদ্যানবিদেরা আধুনিক বাগানের গোলাপকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করেন। উল্লেখযোগ্য শ্রেণিগুলো হলো:

  • হাইব্রিড টি: ফুল বড়, সুগঠিত, মাঝখান উঁচু; সাধারণত লম্বা ডাঁটার মাথায় একটি করে ফুল ফোটে, তাই কাটা ফুল হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয়। পাপা মেলান্ড ও ডাবল ডিলাইট এই শ্রেণির।
  • পলিয়েন্থা: ছোট গাছে গড়ে প্রায় আড়াই সেন্টিমিটারের ছোট ফুল বড় বড় থোকায় বসন্ত থেকে শরৎ পর্যন্ত ফোটে।
  • ফ্লোরিবান্ডা: হাইব্রিড টি ও পলিয়েন্থার সংকর; ফুল হাইব্রিড টির চেয়ে ছোট, তবে বড় থোকায় ধরে বলে বাগানে রঙের বাহার বেশি।
  • গ্র্যান্ডিফ্লোরা: হাইব্রিড টি ও ফ্লোরিবান্ডার মাঝামাঝি বৈশিষ্ট্যের বড় গাছ, ফুল ছোট থোকায় ধরে; শ্রেণিটি তৈরি হয় কুইন এলিজাবেথ জাতকে ঘিরে।
  • মিনিয়েচার: গাছ, পাতা ও ফুল সবই ছোট; বেশির ভাগ গাছ ৩০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার উঁচু হয়, তাই টব ও জানালার বাক্সে চাষের উপযোগী।
কুইন এলিজাবেথ জাতের গোলাপ, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার ফোক্সগার্টেনে তোলা। ছবি: Anna reg / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
কুইন এলিজাবেথ জাতের গোলাপ, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনার ফোক্সগার্টেনে তোলা। ছবি: Anna reg / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

কখন ফোটে, কখন লাগাতে হয়


এআইএস জানায়, গোলাপ শীত ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ফুল; বেশি গরম ও আর্দ্রতায় ভালো হয় না। ২২ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, ৮৫ শতাংশ আপেক্ষিক আর্দ্রতা ও ১০০ থেকে ১২৫ সেন্টিমিটার বার্ষিক বৃষ্টিপাত গোলাপ চাষের উপযোগী। মাটি হওয়া চাই সুনিষ্কাশিত, উর্বর দোআঁশ, পিএইচ ৬.০ থেকে ৬.৫।

বাংলাদেশে গোলাপের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি। টবে বছরের যেকোনো সময় লাগানো যায়, তবে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ও জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে লাগালে বেশি দিন ফুল মেলে এবং রোগ-পোকার আক্রমণ কম থাকে। এআইএসের নির্দেশিকায় আছে, নভেম্বরের মাঝামাঝি গাছ ছাঁটলে ফেব্রুয়ারিতে ফুল ফোটে।

চারা তৈরি: চোখ কলম ও কাটিং


গোলাপের বংশবিস্তার হয় বীজ, কাটিং, গুটি কলম ও চোখ কলমে। বাণিজ্যিকভাবে নতুন গাছ তৈরির প্রধান পদ্ধতি বাডিং বা চোখ কলম: যে জাতের বংশবৃদ্ধি করা হবে তার চোখ একটি উপযুক্ত আদিজোড়ে (রুটস্টক) বসানো হয়। গোলাপে প্রধানত টি-বাডিং করা হয়।

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, কোনো কোনো গোলাপের পরিণত ডালের অংশ কেটে মাটিতে লাগালে কয়েক সপ্তাহে শিকড় গজায়; বিদেশি জাতের মধ্যে তাজমহল ও পাপা মেলান্ডের কাটিং করা যায়, আর কাটা মাথায় উপযুক্ত হরমোন দিলে শিকড় গজানোর সম্ভাবনা বাড়ে।

ছাঁটাই, সার ও পরিচর্যা


এআইএস বলছে, গোলাপের পুরোনো ডাল বেশি দিন ফুল দেয় না, তাই নতুন ডালকে জায়গা করে দিতে নিয়মিত ছাঁটাই দরকার। বর্ষার পর অক্টোবর-নভেম্বর ছাঁটাইয়ের ভালো সময়।

জমির গোলাপে বছরে দুবার সার দিতে হয়: অক্টোবরে ছাঁটাইয়ের সময় এবং শীতের শেষে মার্চে। এআইএসের মতে, ছাঁটাইয়ের দিনেই না দিয়ে ১০ থেকে ১২ দিন পরে সার দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়; শুকনো গোবর সারের সঙ্গে টিএসপি ও পটাশ মাটিতে সাবধানে মেশাতে হয়, যাতে শিকড়ের ক্ষতি না হয়। সঠিক মাত্রা না জেনে রাসায়নিক সার দিতে এআইএস নিষেধ করে, তাই গাছপ্রতি পরিমাণ জানতে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিন। বর্ষায় টবের মাটি মাঝখানে উঁচু করে রাখলে পানি জমে না, আর বর্ষা শেষে বাড়তি মাটি সরিয়ে ফেলতে হয়। লাল মাকড় ও ডাইব্যাক রোগ গোলাপের বড় শত্রু; আক্রমণ দেখা দিলে কোন বালাইনাশক কতটা দেবেন, তা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে জেনে নিন।

সাভারের বিরুলিয়ার সাদুল্লাপুরে গোলাপ গ্রামের খেত, ২০১৯ সালে তোলা। ছবি: ArifHossain.ED / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সাভারের বিরুলিয়ার সাদুল্লাপুরে গোলাপ গ্রামের খেত, ২০১৯ সালে তোলা। ছবি: ArifHossain.ED / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: Salim_Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: দ্য এগ্রো নিউজ, কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস), বাংলাপিডিয়া (বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফুল

সম্পর্কিত খবর

জৈব

গরুর চারণের আচ্ছাদন ফসলে সূর্যমুখী, সেই মাঠেই ফুল তুলতে আসেন দর্শনার্থী

কানাডার ম্যানিটোবার আর্নেসের দুগিদ পরিবার পুনরুৎপাদনশীল চারণের আচ্ছাদন ফসলে কাটা ফুলের সূর্যমুখী জাত যোগ করেছে। এখন একই মাঠ তাদের গরুর খাবার জোগায়, আবার দর্শনার্থীদের নিজ হাতে ফুল তোলার দিনেও ভিড় টানে।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফুল

আগুনরঙা সুগন্ধি পানামা রোজ: গোলাপ নয়, রঙ্গনের আত্মীয়; কাটিংয়েই চারা

মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে ফোটা কমলা-লাল পানামা রোজ (Rondeletia odorata) পানামা ও কিউবার গুল্ম; অক্টোবর থেকে মে পর্যন্ত ফোটে, ১০-১৫ সেন্টিমিটার ডাল কেটে পুঁতলে তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহে শিকড় গজায়।

সমকাল১৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফুল

পাবনার বিল-ঝিলে লাল-সাদা শাপলার সমারোহ, তবু কমছে শাপলা জন্মানোর জায়গা

গাজনার বিল, ডিকশির বিল, চলনবিলসহ পাবনার জলাশয়ে এখন লাল ও সাদা শাপলা ফুটেছে; তবে জলাশয় ভরাট, অপরিকল্পিত মাছ চাষ আর কীটনাশকে শাপলার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

দেশ রূপান্তর১২ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)