মাঠ থেকে বাজারে পৌঁছানোর আগেই গ্লোবাল সাউথের কৃষকেরা অনেক ফসলের এক-চতুর্থাংশের বেশি হারান, আর সহজ সংরক্ষণ, শুকানো, মোড়ক ও ঠান্ডা রাখার প্রযুক্তি সেই ক্ষতি অনেকটা কমাতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার নর্থ-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও জোহানেসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, নাইজেরিয়ার ওয়ো স্টেট কলেজ অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড ইস্টার্ন শোরের গবেষকেরা ৩২৪টি গবেষণা পর্যালোচনা করে এ কথা জানিয়েছেন। লেখাটি প্রথম প্রকাশ করে দ্য কনভারসেশন (The Conversation), পরে ফুড ফর মজানসি।
কোনো ব্যবস্থা না নিলে আনুমানিক ক্ষতি দানাশস্যে প্রায় ২৭.৭ শতাংশ, সবজিতে ৩৫.১ শতাংশ, ফলে ২৫.৮ শতাংশ এবং কন্দ ও মূলজাতীয় ফসলে ৪২.৯ শতাংশ। যত্নে ফসল তোলা ও নাড়াচাড়া, বায়ুরোধী (হারমেটিক) সংরক্ষণ, কোল্ড চেইন, উন্নত মোড়ক এবং ভালো প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহনে এই হার নেমে আসে যথাক্রমে প্রায় ৮.২, ৭.৩, ৬.২ ও ১১.৫ শতাংশে।
গবেষকদের মতে, ক্ষতি হয় প্রতিটি ধাপে: তোলা, নাড়াচাড়া, পরিবহন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে, আর এর কারণ কদাচিৎ একটি। খারাপ রাস্তা, অপর্যাপ্ত গুদাম, সীমিত হিমাগার ও অদক্ষ পরিবহনে খাদ্য থেঁতলে যায় ও পচে; ঠিকমতো না শুকানো, মোড়ক ও নাড়াচাড়ার দুর্বলতা ক্ষতি বাড়ায়; গরম, অতিরিক্ত আর্দ্রতা, বন্যা ও খরা পচন দ্রুত করে।
প্রমাণও বিক্ষিপ্ত। একেক গবেষণা একেকভাবে, একেক ফসলে, মূল্য শৃঙ্খলের একেক জায়গায় ক্ষতি মেপেছে; বেশির ভাগ কাজ ভুট্টা, ধান ও ডালের গুদামজাত ক্ষতি নিয়ে, ফল, সবজি, কন্দ ফসল ও প্রাণিজ খাদ্যের তথ্য কম। সরকার যাতে বুঝতে পারে কোথায় বিনিয়োগ দরকার, সে জন্য গবেষকেরা ফসল ও অঞ্চলভিত্তিক মানসম্মত পরিমাপের কথা বলেছেন, যা খামার ও খানা জরিপ, মাঠপর্যায়ের পরিমাপ আর বাজার মূল্যায়নের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যাবে।
তাঁদের মতে, সব সমাধান উচ্চপ্রযুক্তির হতে হবে না। বায়ুরোধী সংরক্ষণ, সৌর শুকানো, উন্নত মোড়ক ও কম খরচের ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা প্রচলিত শুকানো, ধোঁয়া দেওয়া, লবণ মাখানো ও গাঁজন পদ্ধতির পাশাপাশি চলতে পারে; এগুলো ছড়ায় প্রদর্শনী, সম্প্রসারণ সেবা, সমবায় ও স্থানীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। অনেক ক্ষুদ্র কৃষকের সরঞ্জাম কেনার সামর্থ্য না থাকায় লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি, সাশ্রয়ী ঋণ, অনুদান ও ঝুঁকি ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা। ফসল-পরবর্তী কাজের বড় অংশ নারীরা করেন বলে প্রযুক্তির নকশা, প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।
তহবিল একবারের গুদাম বা যন্ত্র প্রকল্পে আটকে না রেখে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন, বাজারে প্রবেশ ও রক্ষণাবেক্ষণ একসঙ্গে নিয়ে পুরো মূল্য শৃঙ্খলে বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা। তাঁদের ভাষায়, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে খাওয়ানো মানে শুধু বেশি উৎপাদন নয়, কৃষক যা ফলান তার কম নষ্ট হতে দেওয়াও।
লেখাটির লেখক আবিব বাবাতুন্দে ওমোতোসো (Abeeb Babatunde Omotoso), আবিওদুন ওলুসোলা ওমোতায়ো (Abiodun Olusola Omotayo), আদেয়েমি ওলাদাপো আরেমু (Adeyemi Oladapo Aremu) ও ওলানিয়ি ফাওলে (Olaniyi Fawole)।
ছবি: Blossom Ozurumba / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ফুড ফর মজানসি





মন্তব্য
(০)