আধুনিক প্রশাসনিক বিজ্ঞানে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বহুল চর্চিত বিষয়। প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্কের লেখায় দেখানো হয়েছে, মহানবী (সা.) অবকাঠামোর চেয়ে মানুষের চরিত্র গঠন ও বিকাশকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন, আর তাঁর জীবনে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার চারটি শিক্ষা মেলে।
প্রথম শিক্ষা, মানুষের দক্ষতার ভিন্নতা বোঝা। আবদুল্লাহ ইবনে জায়েদ (রা.) স্বপ্নে আজানের শব্দ শিখলেও নবীজি নির্দেশ দেন তিনি যেন তা বিলালকে শিখিয়ে দেন, কারণ বিলালের কণ্ঠ ছিল উচ্চ ও সুমধুর (সুনান আবু দাউদ, ৪৯৯)। প্রিয় সাহাবি আবু জর গিফারিকেও তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব দেননি, স্নেহের সঙ্গে কারণ বুঝিয়ে বলেছিলেন (সহিহ মুসলিম, ১৮২৫)।
দ্বিতীয় শিক্ষা, কাছ থেকে মেধা চেনা। নামাজের পর নবীজি সাহাবিদের মুখোমুখি বসে তাঁদের কথা শুনতেন (সহিহ মুসলিম, ৬৭০)। এই ঘনিষ্ঠতার ফলে তিনি ঘোষণা দিতে পেরেছিলেন, বিচারে সবচেয়ে দক্ষ আলী, হালাল-হারামের জ্ঞানে মুআজ ইবনে জাবল, উত্তরাধিকার শাস্ত্রে জায়েদ ইবনে সাবিত, কোরআন পাঠে উবাই ইবনে কাব (সুনানে তিরমিজি, ৩৭৯১)।
তৃতীয় শিক্ষা, উপযুক্ত স্থানে উপযুক্ত ব্যক্তি। কোরআনে নিয়োগের দুই মানদণ্ড শক্তি ও বিশ্বস্ততা (সুরা কাসাস, ২৬)। নবীজি কোরআন শেখার জন্য চার সাহাবির নাম বলেছিলেন (সহিহ বুখারি, ৩৭৫৮), তরুণ ওসামা ইবনে জায়েদকে যোগ্যতার বিচারে সেনাপতি করেছিলেন এবং হিব্রু ও সুরিয়ানি ভাষা শেখার জন্য বেছে নিয়েছিলেন জায়েদ ইবনে সাবিতকে।
চতুর্থ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কাজের মান। আল্লাহ পছন্দ করেন কেউ কাজ করলে যেন নিখুঁতভাবে করে, এমন হাদিস লেখায় উদ্ধৃত হয়েছে। নবীজি নামাজ, ওজু ও হজ সাহাবিদের নিজে করে শিখিয়েছেন। এক দরিদ্র সাহাবির কম্বল ও পানির পাত্র নিলামে বিক্রি করে তিনি কুড়াল কিনে দেন, কাঠ কেটে বিক্রি করতে বলেন; ১৫ দিন পর সেই সাহাবি ১০ দিরহাম উপার্জন করে ফেরেন (সুনান আবু দাউদ, ১৬৪১)।
লেখার মূল কথা, অনুদানের বদলে প্রশিক্ষণ ও কৌশল দিয়ে মানুষকে উৎপাদনশীল করে তোলা যায়, আর ন্যায়বিচার, সহানুভূতি ও মানব মর্যাদাই এই ব্যবস্থাপনার ভিত্তি।
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)