সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

বছরব্যাপী ফল উৎপাদন প্রকল্পে ১৬১ কোটি টাকার সংশোধনী একনেকে অনুমোদিত

সারা বছর দেশি ফলের জোগান বাড়াতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন’ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী ২০২০ সালের ১০ মার্চ একনেকে অনুমোদন পায়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১৬১ কোটি ৫ লাখ টাকা।

বছরব্যাপী ফল উৎপাদন প্রকল্পে ১৬১ কোটি টাকার সংশোধনী একনেকে অনুমোদিত
ফল

সারা বছর খাবার টেবিলে দেশি ফল রাখার লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন’ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ২০২০ সালের ১০ মার্চ, মঙ্গলবার, ঢাকার শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই সভা হয়। বাসসের বরাতে জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশোধিত প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ১৬১ কোটি ৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)।

একই সভায় মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পসহ মোট ৯টি প্রকল্প অনুমোদন পায়, যার সম্মিলিত ব্যয় ২৪ হাজার ১১৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ফল প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে একনেকে অনুমোদিত হয়েছিল।

কেন বছরব্যাপী ফলের প্রকল্প


প্রতিবেদনে উদ্ধৃত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তখন দেশে যে ফল উৎপাদিত হতো, তা চাহিদার মাত্র ৪০ শতাংশ পূরণ করত। উৎপাদিত ফলের ৬০ শতাংশই পাওয়া যেত জুন থেকে সেপ্টেম্বর, এই চার মাসে। শীত মৌসুমে ফল কম পাওয়া যায় বলে গ্রামের ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষ পুষ্টির ঘাটতিতে ভোগেন, যা শিশুদের বেড়ে ওঠাকেও বাধাগ্রস্ত করে।

বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, বাংলাদেশে সারা বছরই কিছু না কিছু ফল উৎপাদিত হয়, তবে এ দেশের আবহাওয়া ও ভূপ্রকৃতি গ্রীষ্মকালীন ফলের জন্য বেশি উপযোগী। আম, কাঁঠাল, লিচু ও আনারসের মতো প্রধান ফলগুলো মধুমাসেই পাকে; পেঁপে ও কলা পাওয়া যায় সারা বছর। মিশ্র ফলবাগান গড়ে তুলে বছরজুড়ে ফলের জোগান নিশ্চিত করা সম্ভব বলে বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সুস্থ খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন অন্তত ৪০০ গ্রাম ফল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেয়।

ঢাকার পুরানা পল্টনে একটি ফলের দোকান। ছবি: Hasan Iqbal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
ঢাকার পুরানা পল্টনে একটি ফলের দোকান। ছবি: Hasan Iqbal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

প্রকল্পে যা করার পরিকল্পনা


পরিকল্পনা কমিশন সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৫ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত। দেশের তিনটি পাহাড়ি জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার অসমতল, পাহাড়ি, অব্যবহৃত ও বসতবাড়ির আশপাশের জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে ফল চাষ করে উৎপাদন ২০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য ধরা হয়। কাজ হবে আট বিভাগে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ৭৪টি হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের আওতায় থাকবে:

  • ১ হাজার ১০০ ব্যাচ কৃষকের প্রশিক্ষণ, এবং নারী কৃষক, নার্সারিমালিক ও মালিসহ সংশ্লিষ্টদের ১ হাজার ব্যাচে বিভিন্ন মেয়াদের প্রশিক্ষণ
  • ১১ হাজার বাণিজ্যিক মিশ্র ফলবাগানের প্রদর্শনী
  • ৪ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক ফলবাগান ও ১৭ হাজার বসতবাড়ির ফলবাগান
  • ৫ হাজার কাজুবাদাম বাগান, ১ হাজার ড্রাগন ফলের বাগান এবং ১ হাজার ২৮৮টি বিদেশি ফলের বাগান
  • ৩০ হাজার রানিং মিটার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ
সিলেটের জৈন্তাপুরে সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রে ড্রাগন ফল, ২০১৭। ছবি: এম আবু সাঈদ / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সিলেটের জৈন্তাপুরে সাইট্রাস গবেষণা কেন্দ্রে ড্রাগন ফল, ২০১৭। ছবি: এম আবু সাঈদ / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
গাজীপুরে গাছে ঝুলছে কাজুবাদামের ফল, ২০১০। ছবি: A.K.M Monjurul Hoque Topu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
গাজীপুরে গাছে ঝুলছে কাজুবাদামের ফল, ২০১০। ছবি: A.K.M Monjurul Hoque Topu / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

পরিকল্পনা কমিশন ও মন্ত্রীর বক্তব্য


পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য মো. জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, ‘দেশিয় ও বিদেশি ফলের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমানো ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে এই প্রকল্প ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি চাষীদের প্রযুক্তি ও দক্ষতাভিত্তিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ও আয় বৃদ্ধিতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘দেশে মধুমাসে ফলের প্রাচুর্য থাকে অন্য সময় ফল থাকেনা। আমরা এখন ড্রাগন, স্ট্রবেরি চাষ করছি। আম, জাম, কাঁঠালতো আছেই। আমরা চাচ্ছি এগুলোকে সারা বছর কিভাবে আমাদের টেবিলে আনতে পারি সেই ব্যবস্থা নিতে।’ তাঁর দাবি, ফল উৎপাদন বাড়ায় বিদেশি ফলের আমদানি কমেছে এবং দেশি ফলের বিক্রি বাড়ছে।

ছবি: SyedAminul / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: দ্য এগ্রো নিউজ, জাগো নিউজ (বাসস), প্রথম আলো, বাংলাপিডিয়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)