২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল সোমবার, পহেলা বৈশাখের দিন, রাজধানী ঢাকার রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া ও শান্তিনগর বাজারে ইলিশের দাম আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কমেছিল। জাগো নিউজ ২৪-এর সেদিনের বাজার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশাখ ঘিরে অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর বড় ইলিশের দাম কেজিতে প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত নেমে আসে। তবু এক কেজি বা তার চেয়ে বড় ইলিশের কেজি তখনো ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে ছিল, ছোট ইলিশের দামও ছিল চড়া। ফলে নিম্নআয়ের মানুষের পক্ষে ইলিশ কেনা কঠিনই থেকে যায়।
বাজারে কোন আকারের ইলিশ কত দামে
সেদিন রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এক কেজি বা তার কিছুটা বড় ইলিশ বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়, আগের দিন যা ছিল ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকা। ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ছিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা (আগের দিন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা)। ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হয় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় (আগের দিন ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা), আর এর চেয়ে ছোট ইলিশ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকায়।
শান্তিনগর বাজারে এক কেজি বা তার কিছুটা বড় ইলিশের কেজি ছিল ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা, মাঝারি আকারের ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা। রামপুরা বাজারের বিক্রেতা মো. আসলাম জানান, আগের দিন যে ইলিশ তিনি ২ হাজার ২০০ টাকা কেজি বিক্রি করেছিলেন, সেদিন তা বিক্রি করছিলেন ১ হাজার ৮০০ টাকায়। মালিবাগ হাজীপাড়ার বিক্রেতা কামাল ছোট ইলিশ বিক্রি করছিলেন ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি, আগের দিন যা ছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা। শান্তিনগরের বিক্রেতা সুবল বলেন, আগের দিন ৩ হাজার ৪০০ টাকা কেজির ইলিশ সেদিন ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

বৈশাখের চাহিদা আর কম সরবরাহ
বিক্রেতারা দাম বেশি থাকার দুটি কারণ বলেন: বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের বাড়তি চাহিদা এবং বাজারে সরবরাহের ঘাটতি। দাম কমলেও বিক্রি তেমন হচ্ছিল না। সুবলের ধারণা, বৈশাখের জন্য যাঁরা ইলিশ কিনবেন তাঁরা আগেই কিনে ফেলেছেন, আবার কেউ কেউ দাম আরও কমার অপেক্ষায় আছেন। তবে আসলাম, কামাল ও সুবল তিনজনই মনে করছিলেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম শিগগির আর খুব একটা কমবে না।
উৎসবের আগে এই চাপ নতুন ছিল না। দ্য ডেইলি স্টার ১০ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে জানায়, নববর্ষের এক সপ্তাহ আগে থেকেই ইলিশের চাহিদা বেড়ে যায়। কারওয়ান বাজারে তখন হিমাগারে রাখা ১ থেকে দেড় কেজির ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে, আর ওই আকারের তাজা ইলিশ পাইকারি বাজারে পাওয়া গেলেও দাম পড়ছিল অন্তত ৩ হাজার টাকা কেজি।

অভয়াশ্রম ও সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
সুবল বলেছিলেন, পরদিন থেকে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে, তাই বাজারে তাজা মাছ পাওয়া কঠিন হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ১৯ মার্চ ২০২৫ তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা ২০২৩ মেনে ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় সব ধরনের নৌযানে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়। বাসসের খবরে বলা হয়, মাছের যথাযথ প্রজনন, উৎপাদন, সংরক্ষণ ও টেকসই আহরণের জন্য প্রতিবছরের মতো এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
নদীতেও তখন ইলিশ ধরা সীমিত ছিল। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বরিশাল মৎস্য পাইকারি বাজার সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম জানান, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ছয়টি ইলিশ অভয়াশ্রমে মাছ ধরা নিষিদ্ধ, তাই জেলেরা অন্য এলাকায় জাল ফেলছেন, যেখানে মাছ অনেক কম মেলে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এটি সাগর থেকে নদীতে উঠে ডিম ছাড়ে, আর ছোট অবস্থায় (জাটকা) নদী থেকে আবার সাগরে নেমে বড় হয়।

দাম কমলেও ক্রেতাদের অসন্তোষ
দাম কিছুটা কমার পরও ক্রেতারা অসন্তুষ্ট ছিলেন। রামপুরা বাজারে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি ইলিশ ভাজা খেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দুই হাজার টাকার নিচে ভালো ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না, তাই না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। হাজীপাড়া বাজারে আমেনা খাতুন জানান, ২০০ গ্রামের বেশি ওজন হবে না এমন ছোট ইলিশের কেজি চাওয়া হচ্ছিল ১ হাজার ১০০ টাকা, আর ৮০০ টাকা কেজির যে ইলিশ, সেগুলো পচা। তিনিও ইলিশ না কিনে ফেরেন।
শান্তিনগর বাজারের ক্রেতা মো. সাইফুল ইসলাম আগের দিন ১ কেজি ১০০ গ্রামের একটি ইলিশ কিনেছিলেন ৩ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে। সেদিন একই রকম ইলিশ ২ হাজার ৬০০ টাকায় পেয়ে আরেকটি কেনেন। তাঁর কথায়, দাম এখনো বেশি মনে হচ্ছে, কিন্তু বাচ্চারা ইলিশ খুব পছন্দ করে, তাই বাড়তি দাম দিয়েই কিনতে হচ্ছে।
ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য ডেইলি স্টার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), জাগো নিউজ ২৪ ইংরেজি সংস্করণ, বাংলাপিডিয়া





মন্তব্য
(০)