যুক্তরাষ্ট্রে যেসব দুগ্ধখামার রোবটিক মিল্কিং বা স্বয়ংক্রিয় দোহন ব্যবস্থা নিয়েছে, তাদের নিট আয় যারা নেয়নি তাদের চেয়ে প্রতি হান্ড্রেডওয়েট দুধে গড়ে ৩.১৫ ডলার বেশি। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (ইআরএস) ২০২৬ সালের ৯ জুন তাদের ‘চার্ট অব নোট’ ধারাবাহিকে এই ফল প্রকাশ করে। লেখক ছিলেন ইআরএসের অর্থনীতিবিদ জোনাথন ম্যাকফ্যাডেন। মার্কিন হিসাবে এক হান্ড্রেডওয়েট মানে ১০০ পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ৪৫.৩৬ কেজি।
গবেষণায় কী পাওয়া গেছে
ইআরএসের অর্থনীতিবিদেরা ইউএসডিএর অ্যাগ্রিকালচারাল রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সার্ভের (এআরএমএস) তথ্য দিয়ে মার্কিন দুগ্ধখামারগুলো বিশ্লেষণ করেন। এআরএমএস হলো খামারের উৎপাদন পদ্ধতি, সম্পদের ব্যবহার ও আর্থিক অবস্থা নিয়ে ইউএসডিএর প্রধান তথ্যসূত্র। প্রতিটি খামারের বৈশিষ্ট্য ও পরিচালকের ধরন হিসাবে নেওয়ার পর দেখা যায়, রোবটিক মিল্কিং নেওয়া খামারের নিট আয় প্রতি হান্ড্রেডওয়েটে গড়ে ৩.১৫ ডলার বেশি।
যেসব খামার একাধিক ধরনের প্রিসিশন ডেইরি প্রযুক্তি, যেমন তথ্য-সহায়তা, প্রজনন বা রোবটবিহীন দোহন ব্যবস্থা ব্যবহার করে, তাদের ফল সামান্য ভালো: প্রযুক্তি না নেওয়া খামারের চেয়ে প্রতি হান্ড্রেডওয়েটে নিট আয় ৩.১৮ ডলার বেশি। এখানে নিট আয় মুনাফার মাপ: দুধ ও গবাদিপশু বিক্রি এবং দুগ্ধসংশ্লিষ্ট অন্য আয় থেকে খামারের পরিচালন ব্যয় ও ওভারহেড খরচ বাদ দিয়ে এটি হিসাব করা হয়।
ফলাফলগুলো এসেছে ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত ইআরএসের গবেষণা প্রতিবেদন ‘প্রিসিশন ডেইরি ফার্মিং, রোবোটিক মিল্কিং, অ্যান্ড প্রফিটেবিলিটি ইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’ (ইআরআর-৩৫৬) থেকে। জোনাথন ম্যাকফ্যাডেন ও জ্যাক র্যাফের লেখা ওই প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, রোবটিক মিল্কিং বা দুই বা ততোধিক প্রিসিশন প্রযুক্তির ব্যবহারে মার্কিন খামারিদের দুগ্ধ খাতের নিট আয় গড়ে ১৩ শতাংশ বাড়ে।

প্রিসিশন ডেইরি ও রোবটিক মিল্কিং কী
ইআরএসের সংজ্ঞায় প্রিসিশন ডেইরি ফার্মিং মানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাভি আরও দক্ষভাবে সামলানো। এর কিছু উপকরণ বহু পুরোনো, যেমন প্রতিটি গাভির উৎপাদনের হিসাব রাখা ও কৃত্রিম প্রজনন। কিছু তুলনামূলক নতুন, যার একটি রোবটিক মিল্কিং: গাভি নিজেই বাক্সের মতো একটি স্টলে ঢোকে, হাতের কোনো শ্রম ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দোহন হয়, তারপর বেরিয়ে যায়। ইআরএস জানায়, ২০০০ সাল থেকে দোহন, প্রজনন ও তথ্যব্যবস্থাসংক্রান্ত প্রিসিশন প্রযুক্তির ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
স্বয়ংক্রিয় দোহন ব্যবস্থা ১৯৯০-এর দশকের শুরু থেকে বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যায়, আর এর গবেষণা ও উন্নয়নের বড় অংশ হয়েছে নেদারল্যান্ডসে। গাভি স্টলে ঢুকলে একটি সেন্সর তার গায়ের শনাক্তকরণ ট্যাগ পড়ে নেয়; সাধারণত লেজার দিয়ে বাঁটের অবস্থান খুঁজে রোবটের হাত দোহন কাপ লাগায় ও খোলে। গাভি নিজের সময়মতো দোহনে আসে বলে দিনে দোহনের সংখ্যা সাধারণত আড়াই বারের মতো দাঁড়ায়, আর একেকটি ইউনিটে সাধারণত ৫০ থেকে ৭০টি গাভি দোহন করা যায়।

বদলে যাওয়া মার্কিন দুগ্ধ খাত
ইআরএসের ‘অ্যাম্বার ওয়েভস’ সাময়িকীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে লাইসেন্সধারী দুগ্ধখামারের সংখ্যা ২০০৪ সালের ৬৬ হাজার ৮২৫টি থেকে ২০২৪ সালে ২৪ হাজার ৮১১টিতে নেমেছে, অর্থাৎ ৬৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে দুধ উৎপাদন ১৭০.৮ বিলিয়ন পাউন্ড থেকে ৩২ শতাংশ বেড়ে ২২৫.৯ বিলিয়ন পাউন্ড হয়েছে। খামার কমেছে, কিন্তু খামারপ্রতি গাভি বেড়েছে।
খরচের ব্যবধানও বড়। ২০২১ সালে ৫০টির কম গাভির খামারে ১০০ পাউন্ড দুধ উৎপাদনের মোট খরচ ছিল ৪২.৭১ ডলার, আর ২ হাজার বা তার বেশি গাভির খামারে ১৯.১৪ ডলার। প্রযুক্তির ব্যবহারও বেড়েছে: ২০০০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কম্পিউটারচালিত দোহন ব্যবস্থা ব্যবহারকারী খামার থেকে আসা দুধ বিক্রির হিস্যা ২০ থেকে ৪৫ শতাংশে এবং দিনে তিন বা তার বেশি বার দোহন করা খামারের হিস্যা ১৯ থেকে ৫০ শতাংশে উঠেছে।

ছবি: Ieneach fan 'e Esk / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (চার্ট অব নোট, ৯ জুন ২০২৬; প্রতিবেদন ইআরআর-৩৫৬; অ্যাম্বার ওয়েভস), উইকিপিডিয়া




মন্তব্য
(০)