সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

চড়া দামে ইলিশের স্বাদ ভুলতে বসেছে মানুষ

ভরা মৌসুমেও পর্যাপ্ত ইলিশের দেখা মিলছে না বরিশালের ইলিশ মোকামে। যে পরিমাণ মাছ আসছে তা অতিরিক্ত দামের কারণে কিনতে পারছেন না সাধারণ ক্রেতারা। আগে এমন সময়ে হাজার মণ ইলিশ এলেও বর্তমানে ১৫০-২০০ মণ ইলিশ আসছে মোকামগুলোতে। সংশ্লিষ্টরারা বলছেন, ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি, সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে।

ভরা মৌসুমেও পর্যাপ্ত ইলিশের দেখা মিলছে না বরিশালের ইলিশ মোকামে। যে পরিমাণ মাছ আসছে তা অতিরিক্ত দামের কারণে কিনতে পারছেন না সাধারণ ক্রেতারা। আগে এমন সময়ে হাজার মণ ইলিশ এলেও বর্তমানে ১৫০-২০০ মণ ইলিশ আসছে মোকামগুলোতে। সংশ্লিষ্টরারা বলছেন, ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি, সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালে বরিশালের পাইকারি ইলিশের মোকাম পোর্টরোড মৎস অবতরণ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৩৫০ টাকা, দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ২৮০০ টাকা ও ৭০০-৯০০ গ্রাম ইলিশ ২১০০ টাকা, ৫০০ গ্ৰাম আকারের ইলিশ ১২০০-১৫০০ টাকা ও ৩ পিসে এক কেজি আকারের ইলিশ ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের পাশাপাশি অন্য মাছেরও চড়া দাম দেখা গেছে।

ইলিশের আড়তগুলো ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বড় এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটির ১৬০টির বেশি আড়তে তেমন মাছ নেই বললেই চলে। আগে যেখানে প্রতিদিন ভোরে মাছভর্তি ট্রলার ভিড়ত, সেখানে এখন ঘাটে বসে থাকতে দেখা যায় আড়তদার, শ্রমিক, বরফ কাটার শ্রমিকসহ শতশত মানুষকে।

ইলিশ আড়তদার মেসার্স দুলাল ফিশ'র ম্যানেজার মো. রবিন বলেন, গত এক মাস ধরে গড়ে দেড় থেকে আড়াইশ মণ ইলিশ নিয়ে ট্রলারগুলো পোর্টরোডের মোকামে আসছে। কিন্তু এমন সময় হাজার হাজার মণ ইলিশ আসার কথা। কয়েক বছর আগেও ভরা মৌসুমে পোর্ট রোডের মোকামের আড়তগুলোয় দিনশেষে ২ হাজার মণ ইলিশ বেচাকেনা হতো।

তিনি আরও বলেন, মৌসুম অনুযায়ী বাজারে ইলিশ কম আসছে। কিন্তু ইলিশের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। ইলিশ কম থাকায় ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। ক্রেতাদের চাহিদার কারণেই ইলিশের দাম কিছুটা বেড়েছে।

পোর্ট রোড বাজারে ইলিশ কিনতে আসা সাইফুল বলেন, সকালে বাজারে যাওয়ার সময় ছেলেমেয়ে বায়না ধরেছে ইলিশ মাছ নিয়ে আসার। তবে বাজার ঘুরে সাধ্যের মধ্যে একটি ইলিশ মাছ মিলাতে পারিনি। পরে নিরূপায় হয়ে ৯০০ গ্ৰাম ওজনের একটি ইলিশ ১৮০০ টাকায় কিনেছি।

শুধু সাইফুল ইসলামই নন এমন চিত্র এখন প্রতিটি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারে। ইলিশের উচ্চ দামে হতাশা প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। অবস্থা এমন যে ইলিশ নিজেদের নদ-নদীর মাছ হলেও অতিরিক্ত দামের কারণে এর স্বাদ ভুলতে বসেছে এক শ্রেণির মানুষ।

আরেক ক্রেতা সোহাগ বলেন, এলাকার বাজার থেকে মাছ না কিনে পোর্টরোড পাইকারি বাজারে এসেছিলাম একটু কম দামে কেনার আশায়। কিন্তু এখানেও দেখি খুচরা বাজারের মতো চড়া দামে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। তারপরও ছোট ছোট ৫০০ গ্রাম ওজনের ৪টা ইলিশ কিনেছি ২৮০০ টাকায়। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে মানুষ কিছু দিনের মধ্যে ইলিশের স্বাদ ভুলে যাবে।

রাব্বি নামে এক ক্রেতা বলেন, ইলিশ কিনতে এসে দরদামে পোষাতে না পেরে পাঙ্গাশ মাছ কিনতে হয়েছে। ৫০০ গ্ৰাম সাইজের ইলিশ কেজি ১৫০০ টাকা হয়েছে। যা আগে ছিল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। পাঙ্গাশ মাছেরও দাম বেড়েছে। ২৮০ টাকা করে কেজি পাঙ্গাশ মাছ কিনেছি। যা আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে।

আরেক ক্রেতা মুরাদ হোসেন বলেন, মাছের সরবরাহ কম থাকার অজুহাতে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে মূল্যবৃদ্ধি করেছেন। না হলে এ ইলিশ তো আর বিদেশ থেকে রপ্তানি হচ্ছে না। নিজেদের নদ-নদী বা সাগরের মাছ। এতো মূল্য বৃদ্ধির কোন কারণ দেখছি না।

আড়তদার সজীব সিকদার জানান, নদীতে মাছই নেই। জেলেরা আবহাওয়ার কারণে সাগরে যেতে পারছেন না। যে অল্প কিছু মাছ উঠছে, তা দিয়ে বাজারের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। ফলে দামের ওপরও চাপ পড়ছে।

বরিশাল মৎস্য মালিক সমিতির সদস্য সচিব মো. কামাল সিকদার বলেন, মেঘনার বিভিন্ন পয়েন্টে চর পড়ে গেছে, ফলে ইলিশ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদীগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। যদি এখনই নদী রক্ষা না করা হয়, ভবিষ্যতে বরিশালে আর মিঠাপানির ইলিশ পাওয়া যাবে না।

তিনি আরও বলেন, কুয়াকাটার মহিপুর থেকেও এখন আর মাছ আসে না। তারা সরাসরি ঢাকাসহ অন্য স্থানে ইলিশ বিক্রি করে। পদ্ম সেতু ও পায়রা সেতু হওয়ার কারণে তাদের বরিশাল পোর্ট এখন প্রয়োজন হয় না। আর বরিশালের আশপাশের নদীতেও মাছ নেই। ব্যবসা একেবারেই ভেঙে পড়েছে।

বরিশালের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ জাগো নিউজকে বলেন, চলতি বছর বৈরি আবহাওয়ার কারণে নদী ও সমুদ্র থেকে ইলিশ আহরণ কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে এর প্রভাব পড়েছে বাজারের ওপর। ইলিশের সরবরাহ আবার স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা কমে আসবে।

শাওন খান/এমএন/এএসএম

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)