মৎস্যচাষে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান হ্যাচ ব্লু (Hatch Blue) তাদের নতুন প্রতিবেদনে বলেছে, শক্তিশালী মৎস্যচাষ খাত গড়ার অনেক উপাদান যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকলেও খাতটি এখনো ছোট, আর এতে বিনিয়োগও আসে সামান্য।
কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তিতে বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বে শীর্ষে। কিন্তু সেই অর্থের খুব কম অংশ যায় মাছ, ঝিনুক ও শৈবাল চাষে। প্রতিবেদনের যুক্তি, সমস্যাটা কেবল পুঁজির ঘাটতি নয়। সাক্ষাৎকার দেওয়া এক শিল্প বিশেষজ্ঞের ভাষায়, জটিল নিয়ন্ত্রক পরিবেশ সামলে গ্রহণযোগ্য সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত মুনাফা দিতে পারে, এমন সুযোগ বিনিয়োগকারীর সামনে হাজির করাই কঠিন।
সবচেয়ে বেশিবার যে বাধার কথা উঠে এসেছে, তা হলো নিয়মকানুন। গভীর সমুদ্রে মৎস্যচাষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কোনো স্পষ্ট কেন্দ্রীয় কাঠামো নেই; একটি প্রধান কেন্দ্রীয় সংস্থা নির্ধারণের চেষ্টাও প্রতিবেদনের ভাষায় আইনসভায় আটকে আছে। ফলে প্রকল্পগুলোকে রাজ্যভেদে আলাদা আলাদা অনুমতি নিতে হয়। এতে সময় লাগে বেশি, অনুমোদন মিলবে কি না তা-ও অনিশ্চিত থাকে, আর পরীক্ষামূলক খামার থেকে বাণিজ্যিক পর্যায়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
আস্থার সংকটের একটি চক্রের কথাও বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি আলোচিত মৎস্যচাষ প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে, তাতে খাতের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। এক নীতি বিশেষজ্ঞ হ্যাচ ব্লুকে বলেছেন, এর ফলে নতুন প্রকল্প ও নিয়ম সংস্কারের পক্ষে জনসমর্থন গড়া কঠিন হয়, আর বিনিয়োগও দূরে থাকে।
কোন ধরনের অর্থ দরকার, সে বিষয়ে প্রতিবেদন বলছে, সফটওয়্যার ও সহায়ক প্রযুক্তি অনেক সময় ভেঞ্চার পুঁজির জন্য উপযুক্ত, বিশেষ করে যখন তা বড় গ্রাহকগোষ্ঠী বা মৎস্যচাষের বাইরের বাজারেও কাজে লাগে। কিন্তু উৎপাদন নির্ভর করে অবকাঠামোর ওপর, আর বাণিজ্যিক পর্যায়ে পৌঁছাতে সাধারণত ভেঞ্চার বিনিয়োগকারীর প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগে। পদ্ধতিভেদে ঝুঁকিও আলাদা: গভীর সমুদ্রের মাছের খামার, স্থলভিত্তিক রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (আরএএস), ঝিনুক চাষ আর শৈবাল খামার, প্রতিটির খরচ, পথ ও বাজার ভিন্ন।
সাক্ষাৎকারদাতারা ধাপে ধাপে অর্থায়নের একটি কাঠামোর পরামর্শ দিয়েছেন: শুরুর অপরীক্ষিত উদ্যোগের জন্য অনুদান ও অনুঘটক পুঁজি, বড় হওয়ার বাস্তব পথ দেখা দিলে ভেঞ্চার বা প্রবৃদ্ধি বিনিয়োগ, আর যথেষ্ট পরিচালন ইতিহাস, আয় বা সম্পদ হলে ঋণ। বেশি পুঁজির প্রকল্পে সফল প্রদর্শনী আর প্রচলিত প্রকল্প অর্থায়নের মাঝের কঠিন পর্বটি পার হতে ঋণ নিশ্চয়তা, রেয়াতি ঋণ ও ঝুঁকি ভাগাভাগির অন্য উপায় লাগতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লক্ষ্য প্রতিটি ধাপে ভর্তুকি দেওয়া নয়; বরং যেখানে ধৈর্যশীল বা ঝুঁকি নিতে রাজি পুঁজি একটি ব্যবসাকে এমন পর্যায়ে পৌঁছে দিতে পারে, যার পর পরের ধাপের বিনিয়োগকারী এগিয়ে আসবেন, সেখানে তা ব্যবহার করা।
এজিফান্ডনিউজের পক্ষে প্রতিবেদনটি নিয়ে লিখেছেন জেনিফার মারস্টন।
ছবি: NOAA's National Ocean Service / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)