পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর তেলিপাড়ায় বালাইনাশক প্রয়োগের পর প্রায় তিন বিঘার করল্লার বাগান নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষক ইসলাম উদ্দিন। দেড় লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ হারানোর আশঙ্কায় তিনি বালাইনাশকটির মান যাচাই, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন, জানিয়েছে বাংলানিউজ২৪।
ইসলাম উদ্দিন জানান, ধারদেনা করে করল্লা চাষ করেছিলেন, ফলনও ভালো হয়েছিল, দুই দফায় বিক্রিও করেছেন। উপজেলা সদরের ফকিরগঞ্জ বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী আনিছুর রহমানের দোকান থেকে এক লিটারের একটি জৈব বালাইনাশক ১ হাজার ১০০ টাকায় কিনে ১৮ অক্টোবর জমিতে স্প্রে করেন। পরদিন থেকেই গাছ বিবর্ণ হতে থাকে, পরে ডগা মরে যায় এবং করল্লা পচে ঝরে পড়ে।
তাঁর অভিযোগ, কেনার আগে কোম্পানির প্রতিনিধি নিয়মিত যোগাযোগ রাখলেও ক্ষতির পর আর খোঁজ নিচ্ছেন না, বিক্রেতাও দায় নিতে চাইছেন না; ফলে ঋণ শোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। প্রতিবেশী কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, এলাকায় ইসলাম উদ্দিনের বাগানেই সবচেয়ে ভালো ফলন হয়েছিল; ভেজাল বালাইনাশক ঠেকাতে সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা দরকার। আরেক কৃষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, কোম্পানির প্রতিনিধিরা নানা আশ্বাসে পণ্য কেনান, কিন্তু ক্ষতি হলে অনেক সময় তাঁদের আর পাওয়া যায় না।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিক্রেতা আনিছুর রহমান লেবু। তাঁর দাবি, একই বালাইনাশক আরও অনেক কৃষক কিনেছেন, কেউ অভিযোগ করেননি; ইসলাম উদ্দিন হয়তো ঠিকভাবে প্রয়োগ করেননি। কোম্পানির আটোয়ারী উপজেলার সহকারী বিপণন কর্মকর্তা সবুজ আলী বলেন, কেন এমন হলো বুঝতে পারছেন না, কৃষক হয়তো অন্য কোনো ওষুধ মিশিয়ে স্প্রে করেছেন।
বক্তব্য জানতে আটোয়ারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি বলে জানিয়েছে বাংলানিউজ২৪।
ছবি: Soafaherbals / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বাংলানিউজ২৪





মন্তব্য
(০)