ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাদ আলী ২০২৫ সালের ১ জুন, রোববার জানান, কোরবানির পশুর হাটে পশু কেনাবেচায় ইজারাদাররা সরকার নির্ধারিত হাসিলের বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ আদায় করতে পারবেন না। সেদিন সকালে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাটের নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় তিনি এ কথা বলেন। জাগো নিউজ ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড সভার খবর প্রকাশ করে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত এই হাসিল ছিল ৫ শতাংশ। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ২৮ মে জানায়, বাংলাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে ৭ জুন। ফলে সভাটি হয় ঈদের কয়েক দিন আগে, যখন রাজধানীর হাটগুলোতে পশু আসছিল।
হাসিল, পশুবাহী গাড়ি ও পরিবহন নিয়ে নির্দেশনা
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিএমপি কমিশনার বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পশুবাহী কোনো যানবাহনকে জোর করে কোনো হাটে ঢোকানো যাবে না। প্রতিটি পশুর হাট সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত চৌহদ্দির মধ্যেই রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যেখানে সেখানে কোরবানির পশু লোড ও আনলোড করা যাবে না। রাস্তায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটালে বা ব্যাপারীদের জোর করে পশু বিক্রিতে বাধ্য করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। হাট থেকে কেনা পশু বাড়িতে নিতে কেউ যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে, সে বিষয়েও তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

রাস্তায় হাট নয়, অভিযোগ জানানো যাবে ৯৯৯-এ
সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. সরওয়ার বলেন, যেকোনো সমস্যায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে অভিযোগ জানানো যাবে; ঘটনার প্রমাণ হিসেবে ভিডিও করে রাখার পরামর্শও দেন তিনি। রাস্তার শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে খারাপ আচরণ না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করলে বা রাস্তা আটকে হাট বসালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পশুর বাজার হাটের চৌহদ্দির মধ্যেই সীমিত রাখতে হবে; কোনো অবস্থাতেই রাস্তায় হাট বসিয়ে জনভোগান্তি সৃষ্টি করা যাবে না। পশুর সংকটের গুজব ছড়িয়ে বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কোরবানির পশুর বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

সভায় যেসব সংস্থা অংশ নেয়
সভার শুরুতে ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ পশুর হাটকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এরপর উন্মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং ঢাকা মহানগরীর হাটগুলোর ইজারাদাররা তাঁদের মতামত, পরামর্শ ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন:
- বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটের প্রতিনিধি
- বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর
- ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ডিপিডিসি ও ডেসকো
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও লবণ ব্যবসায়ী সমিতি
- ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং হাটের ইজারাদারদের প্রতিনিধি
সে বছরের ঈদে কোরবানির পশুর জোগান
দ্য ডেইলি স্টার ২০২৫ সালের ৩০ মে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব তুলে ধরে জানায়, সে বছর ঈদের জন্য প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ পশু প্রস্তুত করা হয়েছিল, যার মধ্যে মোটাতাজা করা ষাঁড় ও মহিষ প্রায় ৫৬ লাখ। অধিদপ্তরের প্রাক্কলন ছিল, কোরবানি হবে ১ কোটির কিছু বেশি পশু, ফলে প্রায় ২০ লাখ ৬৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। আগের বছর কোরবানি হয়েছিল ১ কোটি ৪ লাখ পশু।

ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ডেইলি স্টার




মন্তব্য
(০)