সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

সুন্দরবনের দুবলার চরে নতুন প্রজাতির পটকা মাছ ‘বড় জালি পটকা’

সুন্দরবনের দুবলার চর এলাকার আলোর কোলে পাওয়া পটকা-জাতীয় একটি মাছকে নতুন প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী আহসান হাবীবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকেরা; এর নাম রাখা হয়েছে ‘বড় জালি পটকা’ (Chelonodontops bengalensis)।

সুন্দরবনের দুবলার চরে নতুন প্রজাতির পটকা মাছ ‘বড় জালি পটকা’
মৎস্য

সুন্দরবনের দুবলার চর এলাকার আলোর কোলে পাওয়া পটকা-জাতীয় একটি মাছকে বিশ্বের জন্য নতুন প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করেছেন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার একদল গবেষক। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী আহসান হাবীবের নেতৃত্বে এই দলে দক্ষিণ কোরিয়ার মেরিন ইকোসিস্টেম রিসার্চ সেন্টারের তিনজন গবেষক যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর প্রথম আলো এ খবর জানায়। মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে বঙ্গোপসাগরের নামে, Chelonodontops bengalensis (চেলেনোডনটপস বেঙ্গালেনসিস); বাংলা নাম ‘বড় জালি পটকা’।

দেখতে কেমন, নাম এল কোথা থেকে


প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ পটকা মাছের চেয়ে এটি আকারে বড়। গায়ের রং কালচে, তাতে জালের মতো ছোপ ছোপ দাগ; এ কারণেই বিজ্ঞানীরা এর বাংলা নাম দিয়েছেন ‘বড় জালি পটকা’। মাছের তথ্যভান্ডার ফিশবেস প্রজাতিটিকে Bengal reticulated puffer নামে তালিকাভুক্ত করেছে; সেখানে একে উষ্ণমণ্ডলের সামুদ্রিক, তলদেশবাসী মাছ বলা হয়েছে, বিস্তার বাংলাদেশ, আর বর্ণনায় আছে বাদামি জালের মতো নকশা ও সাদা ফোঁটার কথা। ফিশবেসের হিসাবে নমুনার সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য ৩১.২ সেন্টিমিটার (স্ট্যান্ডার্ড লেংথ)।

সুন্দরবনের জেলেরা প্রথম আলোকে জানান, তাঁদের জালে কালেভদ্রে মাছটি উঠত। তাঁরা একে ‘বড় পটকা’ বলতেন, কিন্তু খেতেন না; ধরার পর ফেলে দিতেন। গবেষকদের এ আবিষ্কারের সময় প্রজাতিটি কেবল সুন্দরবনের দুবলার চর এলাকা থেকেই জানা ছিল।

একই গণের আরেকটি প্রজাতি, সাদাফোটা পটকা (Chelonodontops patoca); ছবিটি বড় জালি পটকার নয়। ছবি: JIBON / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
একই গণের আরেকটি প্রজাতি, সাদাফোটা পটকা (Chelonodontops patoca); ছবিটি বড় জালি পটকার নয়। ছবি: JIBON / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

দেড় বছরের মাঠ গবেষণা ও জার্নালে প্রকাশ


২০১৬ সালের মে থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সুন্দরবনে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালিয়ে গবেষকেরা মাছটি খুঁজে পান। প্রথম আলোর তথ্যমতে, এতে আর্থিক সহায়তা দেয় দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়সু কোরিয়া ফাউন্ডেশন আর কারিগরি সহায়তা দেয় কোরিয়া ইনস্টিটিউট অব ওশান সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।

গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয় সমুদ্রবিজ্ঞানবিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল ওশান সায়েন্স জার্নালে। প্রকাশকের তথ্য অনুযায়ী, এটি অনলাইনে আসে ২০১৮ সালের ১৭ অক্টোবর এবং ছাপা হয় জার্নালের ৫৪তম খণ্ডের ৭৯ থেকে ৮৬ পৃষ্ঠায়। লেখক কাজী আহসান হাবীব, অমিত কুমার নিয়োগী, জিনা ওহ, ইউন-হো লি ও চুং-গন কিম। শিরোনাম অনুযায়ী, প্রজাতিটি আলাদা করা হয়েছে দেহের গঠন (মরফোলজি) ও ডিএনএ বারকোড বিশ্লেষণের ভিত্তিতে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকোয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী আহসান হাবীব প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাত্র দেড় বছর মাঠপর্যায়ে কাজ করে আমরা সুন্দরবনের জন্য তো বটেই, বিশ্বের জন্য নতুন একটি প্রজাতি খুঁজে পেলাম। নতুন এই আবিষ্কার বিশ্বের মৎস্যবিজ্ঞান গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও মৎস্য গবেষক মো. নিয়ামুল নাসের প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশের মাছের তালিকায় নতুন একটি নাম যুক্ত হলো, এটা অবশ্যই একটি সুসংবাদ। এর আগেও দেশের পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকায় বেশ কয়েকটি নতুন মাছের সন্ধান আমরা পেয়েছি। তবে সুন্দরবনের ক্ষেত্রে এটা অবশ্যই নতুন একটি ঘটনা।’

ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: Jubair1985 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: Jubair1985 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

দুবলার চর, সুন্দরবন ও পটকা মাছ


দুবলার চর বাগেরহাট জেলায়, সুন্দরবনের দক্ষিণ প্রান্তে বঙ্গোপসাগরের কাছে একটি দ্বীপ। মাছ ধরার মৌসুমে এখানে জেলেদের অস্থায়ী বসতি গড়ে ওঠে, আর শুঁটকি তৈরির জন্য জায়গাটি পরিচিত। সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন; এর ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটারের বেশি অংশ বাংলাদেশের খুলনা বিভাগে। বাংলাদেশের সুন্দরবন ১৯৯৭ সালে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ওঠে।

পটকা মাছ টেট্রাওডনটিডি গোত্রের মাছ। বিপদ টের পেলে এরা পাকস্থলীতে পানি ভরে বলের মতো ফুলে ওঠে। অনেক প্রজাতির দেহে টেট্রোডোটক্সিন নামে মারাত্মক বিষ থাকে, মূলত ডিম্বাশয় ও যকৃতে, অল্প পরিমাণে অন্ত্র ও চামড়ায়। এ কারণে বাংলাদেশে সাধারণত পটকা মাছ খাওয়া হয় না। তবে জাপান, কোরিয়া ও চীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ পাওয়া রাঁধুনির হাতে প্রস্তুত পটকা মাছ বিশেষ খাবার হিসেবে খাওয়া হয়, কারণ তাঁরা জানেন মাছের কোন অংশ নিরাপদ।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকদের ২০১৭ সালের এক প্রকাশনা অনুযায়ী, দেশে স্বাদুপানির মাছের ২৬৫টি প্রজাতির কথা জানা ছিল। আর বিজ্ঞানীদের ২০১১ সালের এক হিসাবে, পৃথিবীতে সুকেন্দ্রিক (ইউক্যারিওট) জীবের প্রজাতি আনুমানিক ৮৭ লাখ, যার বেশির ভাগের তখনো বৈজ্ঞানিক বর্ণনা হয়নি।

বাংলাদেশের সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন। ছবি: MAhmadS17 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশের সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন। ছবি: MAhmadS17 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: Fuadctg009 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: প্রথম আলো, ওশান সায়েন্স জার্নাল (স্প্রিংগার), ফিশবেস, প্লস বায়োলজি, ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াটিক স্টাডিজ, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)