সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

নাটোরে পেঁয়াজের দামে খরচ উঠছে না বলে জানালেন চাষিরা

২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুতে নাটোরের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজের হাট নলডাঙ্গায় চাষিরা জানান, মণপ্রতি ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা দামে তাঁদের উৎপাদন খরচ উঠছে না; ব্যবসায়ীরা দায় দেন ভারত থেকে আমদানি ও সংরক্ষণাগারের অভাবকে।

নাটোরে পেঁয়াজের দামে খরচ উঠছে না বলে জানালেন চাষিরা
শাকসবজি

২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুতে, পেঁয়াজ তোলার ভরা মৌসুমে, নাটোরের চাষিরা উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছিলেন। জেলার সবচেয়ে বড় পেঁয়াজের হাট নলডাঙ্গার চাষি ও ব্যবসায়ীরা ২০২৬ সালের ৫ এপ্রিল প্রকাশিত জাগো নিউজ ২৪-এর এক প্রতিবেদনে জানান, বীজ, সার, কীটনাশক, শ্রমিক আর বর্গা জমির পেছনে যে টাকা খরচ হয়েছে, বাজারদরে তা উঠছে না। দাম কমার প্রধান কারণ হিসেবে তাঁরা দেখান ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজকে, যা দেশি পেঁয়াজের সঙ্গে একই সময়ে বাজারে এসেছে।

চাষিরা জানান, সেবার পেঁয়াজ তোলার কিছুদিন আগে বৃষ্টির কারণে এ অঞ্চলে ফলন কম হয়েছে, আর সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের দাম বাড়ায় খরচ বেড়েছে। তাঁদের হিসাবে বিঘাপ্রতি লাইলা বা কন্দ জাতের পেঁয়াজ চাষে খরচ পড়েছে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা, আর দেশি জাতের বিভিন্ন পেঁয়াজ চাষে বিঘাপ্রতি ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। তখনকার বাজারদরে সেই টাকা উঠছে না বলে জানান তাঁরা।

নলডাঙ্গা হাটে দাম ও খরচ


নলডাঙ্গা হাটে জাগো নিউজের প্রতিনিধি দেখতে পান, নানা ধরনের পেঁয়াজ আকারভেদে মণপ্রতি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের পেঁয়াজের হাটে বেচাকেনা চলে মণের হিসাবে; দ্য ডেইলি স্টার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক মণকে প্রায় ৩৭ কেজি বলে উল্লেখ করেছে।

হাটে নলডাঙ্গার মাধবপুর গ্রামের কৃষক মো. সাইদুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, তাঁরা মণপ্রতি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করছেন, এতে খরচের অর্ধেক দামও পাচ্ছেন না।

হাটের পেঁয়াজ বিক্রেতা বিমল কুমার নিজের হিসাব দেন। তিনি জানান, ৪০ হাজার টাকায় এক বিঘা জমি বর্গা নিয়েছেন, মণপ্রতি ৩ হাজার টাকা দরে বীজ কিনেছেন, আর সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় বিঘাপ্রতি খরচ ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। তাঁর ভাষ্য, বিঘায় ফলন পাচ্ছেন ৫০ থেকে ৬০ মণ, আর পরিবহন খরচ মেটানোর পর খরচের টাকাই উঠছে না।

সংরক্ষণ, পচন ও আমদানি: ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তারা যা বলেন


নলডাঙ্গা হাটের পেঁয়াজ আড়তদার রানা আহমেদ ও জহুরুল ইসলাম জানান, শুধু নলডাঙ্গা উপজেলাতেই বছরে ৫৪ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। তাঁদের ভাষ্য, অন্য জেলায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও নাটোরে নেই, আর দেশীয় পদ্ধতিতে বাড়িতে রাখলে কিছু পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়। ফলে পরে দাম বাড়লেও প্রকৃত চাষিরা সেই দাম পান না, লোকসান গুনতে হয় তাঁদেরই।

এই দুই ব্যবসায়ীর মতে, মৌসুমে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ আর দেশি পেঁয়াজ একসঙ্গে বাজারে আসায় দাম কমে গেছে। এটি তাঁদের ব্যাখ্যা; ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত সরকারি সংস্থাগুলো আমদানির যে হিসাব দিয়েছিল, তা নিচে তুলে ধরা হলো।

নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সবুজ আলী স্বীকার করেন, কৃষকেরা খরচের তুলনায় কম দাম পাচ্ছেন। তিনি জানান, কৃষকেরা যাতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারেন, সে জন্য কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিচ্ছে এবং পচন রোধে কৃষকদের মধ্যে কিছু ফ্যান বিতরণ করছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) নাটোরের উপপরিচালক হাবিবুল ইসলাম খান জানান, সেই মৌসুমে জেলায় ৭ হাজার ৩০৪ হেক্টর জমিতে কন্দ ও চারা জাতের পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫০৫ মেট্রিক টন। তবে পেঁয়াজ তোলার আগে বৃষ্টির কারণে উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে বলে জানান তিনি।

নলডাঙ্গা, তার হাট ও হালতি বিল


২০১৩ সাল পর্যন্ত নলডাঙ্গা ছিল নাটোর সদর উপজেলার অংশ। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ২০১৩ সালের ২৭ মে-র বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০১৩ সালের ৭ জুলাই প্রজ্ঞাপন জারি করে নলডাঙ্গা পৌরসভা এবং বিপ্রবেলঘরিয়া, ব্রহ্মপুর, খাজুরা, মাধনগর ও পিপরুল, এই পাঁচ ইউনিয়ন নিয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা গঠন করে। ২০২২ সালের জনশুমারিতে উপজেলার জনসংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩১৮। শহরটি বারনই নদের উত্তর তীরে; উপজেলার উত্তরে নওগাঁর আত্রাই, দক্ষিণে নাটোর সদর, পূর্বে সিংড়া এবং পশ্চিমে রাজশাহীর পুঠিয়া ও বাগমারা উপজেলা।

যে হাট থেকে জনপদটির পরিচিতি, সেটি ১৯৪৭ সালে বারনই নদের তীরে স্থানীয়দের উদ্যোগে বসানো হয়। সপ্তাহে দুই দিন, শনিবার ও মঙ্গলবার হাট বসে; শুরু থেকেই দেশের নানা অঞ্চলের মহাজনেরা এখানে পেঁয়াজ, আলু, পান ও সবজি কিনতে আসতেন। হাটকে ঘিরে ১৯৬২ সালের ১ আগস্ট নলডাঙ্গা রেলস্টেশন চালু হয়। ২০২০ সালের মার্চে প্রথম আলো নাটোর শহর থেকে ১৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমের এই পেঁয়াজের বাজারের বর্ণনা দেয়: বাইরের পাইকারেরা আড়ত থেকে পেঁয়াজ কিনে ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুরসহ অন্তত ১০টি জেলায় নিয়ে যান। স্থানীয় ট্রাক বন্দোবস্ত কার্যালয়ের এক প্রতিনিধি তখন জানান, প্রতি হাটে ১৫০ থেকে ২০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ কেনাবেচা হয়।

নলডাঙ্গার ফসলি জমির বড় অংশ হালতি বিলে। নাটোর শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরের এই বিল পিপরুল, খাজুরা, মাধনগর ও ব্রহ্মপুর ইউনিয়নের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে। বৈশাখ থেকে কার্তিক পর্যন্ত বিল ৫ থেকে ৮ ফুট পানিতে ডুবে থাকে এবং দেশি মাছের প্রজননক্ষেত্র হিসেবে এর খ্যাতি আছে; বিলটি আত্রাই নদীর সঙ্গে যুক্ত, আর শীতে যে অংশে পানি থাকে তা মৎস্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। শুকনো মৌসুমে একই জমিতে ফসল হয়; ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আজকের পত্রিকা হালতি বিলের সোনাপাতিল এলাকায় দেখতে পায়, কৃষকেরা কন্দ পেঁয়াজ তুলছেন আর নারী শ্রমিকেরা পেঁয়াজ কেটে, বাছাই করে, রোদে শুকিয়ে হাটে নেওয়ার জন্য বস্তায় ভরছেন।

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলার আয়তন ১ হাজার ৭২১.৮৪ বর্গকিলোমিটার। পদ্মা, বড়াল ও বারনই এর নদীগুলোর মধ্যে, আর চলনবিল এর সবচেয়ে পরিচিত জলাভূমি। ১৯৮৪ সালে নাটোর জেলা হয়; বাংলাপিডিয়ার জনশুমারিভিত্তিক বিবরণে এ জেলার আয়ের প্রধান উৎস কৃষি, যার হার ৭০.৫৯ শতাংশ।

নাটোরের হালতি বিলে পাটখেত, ২০১৬ সালের জুলাইয়ে তোলা; শুকনো মৌসুমে বিলের জমিতে পেঁয়াজের মতো ফসল হয়। ছবি: Masum-al-hasan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
নাটোরের হালতি বিলে পাটখেত, ২০১৬ সালের জুলাইয়ে তোলা; শুকনো মৌসুমে বিলের জমিতে পেঁয়াজের মতো ফসল হয়। ছবি: Masum-al-hasan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কন্দ পেঁয়াজ, চারা পেঁয়াজ ও বীজ


দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বাংলা সংস্করণ ২০২৬ সালের ৭ মার্চ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য উল্লেখ করে জানায়, দেশে দুই পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ হয়। মুড়িকাটা পদ্ধতিতে অক্টোবর-নভেম্বরে ছোট কন্দ লাগানো হয় এবং ডিসেম্বরের শেষ থেকে মার্চের মধ্যে ফসল ঘরে ওঠে। হালি পদ্ধতিতে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে চারা রোপণ করে মার্চ-এপ্রিলে পেঁয়াজ তোলা হয়। নাটোরে ডিএই উপপরিচালকের হিসাবে যে কন্দ ও চারা জাতের পেঁয়াজের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো এই দুই ফসল।

আগাম মুড়িকাটা পেঁয়াজ বেশি দিন রাখা যায় না। ২০২০ সালে নলডাঙ্গার তৎকালীন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রথম আলোকে ব্যাখ্যা করেন, এই পেঁয়াজের ফুল তরকারি হিসেবে খাওয়ার জন্য আগেই তুলে ফেলা হয়, ফলে মাথায় একটি গুটি থেকে যায়; তাই এটি বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না, আর পচনের ভয়ে কৃষকেরা তাড়াতাড়ি তুলে বিক্রি করে দেন। ২০২৬ সালের মার্চে চাষিরা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মাঠ থেকে তোলার দুই থেকে চার দিনের মধ্যে বিক্রি করতে না পারলে মুড়িকাটা পেঁয়াজ পচতে শুরু করে। ২০২০ সালে নলডাঙ্গার ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন, পরের চারা পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সহজ এবং তা ধীরে ধীরে হাটে আসে।

বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, পেঁয়াজ (Allium cepa) একটি কন্দজাতীয় বীরুৎ, যার খাওয়ার উপযোগী কন্দটি খাদ্য সঞ্চয়কারী পাতা দিয়ে তৈরি। সব ধরনের মাটিতে এর চাষ হয়; বাংলাদেশে চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হিসেবে বাংলাপিডিয়া ডিসেম্বর বা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের কথা বলেছে, আর গুরুত্বপূর্ণ দুই স্থানীয় জাত হিসেবে তাহেরপুরী ও ফরিদপুরীর নাম দিয়েছে, সঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্ভাবিত বারি পিঁয়াজ-১। ২০২৬ সালের মার্চে যুগান্তর জানায়, পাশের রাজশাহীতে তাহেরপুরী ও নাসিক এন-৫৩ জাতের ভালো ফলন হয়েছে।

নলডাঙ্গায় পেঁয়াজের বীজও উৎপাদন হয়। রূপালী বাংলাদেশ ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি জানায়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সবুজ আলীর তথ্যমতে সেই মৌসুমে উপজেলায় পেঁয়াজ বীজের (কদম) চাষ ৭৮ হেক্টর বেড়েছে; আগের বছর বীজ বিক্রি হয়েছিল কেজিপ্রতি সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকায়। হরিদাখলসি গ্রামের কৃষকেরা এই বীজকে বলেন 'কালো সোনা', আর তাঁদের মতে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি বৈশাখের শিলাবৃষ্টি। কন্দ পেঁয়াজের বীজও দামি: ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাটোরের কৃষকেরা আজকের পত্রিকাকে জানান, সেই মৌসুমে প্রতি মণ বীজ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে, আর এক বিঘায় লেগেছে ৮ থেকে ১০ মণ।

বাংলাদেশের একটি পেঁয়াজখেত, ২০১৮ সালের নভেম্বরে তোলা। ছবি: RockyMasum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশের একটি পেঁয়াজখেত, ২০১৮ সালের নভেম্বরে তোলা। ছবি: RockyMasum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

নলডাঙ্গার আগের অভিযোগ


২০২৬ সালের এপ্রিলের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আজকের পত্রিকা জানায়, সেই মৌসুমে নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫০০ হেক্টর বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে; দ্বিগুণ দামে জমি লিজ নিয়ে আর বেশি দামে বীজ কিনে যাঁরা চাষ করেছিলেন, মৌসুমের শুরুতে দরপতনে তাঁরা উৎপাদন খরচ তুলতে পারছিলেন না। নলডাঙ্গা হাটে তখন নতুন কন্দ পেঁয়াজ মণপ্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

হালতি বিলের কৃষকেরা পত্রিকাটিকে জানান, বিঘাপ্রতি মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, আর ফলন ৭০ থেকে ৮০ মণ। তাঁদের একজন সাজদার রহমান বলেন, এক বিঘায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ৮০ মণ পেঁয়াজ পেয়েছেন এবং তা বিক্রি করে পেয়েছেন ৯৬ হাজার টাকা। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সেই মৌসুমে নলডাঙ্গায় ১ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে কন্দ পেঁয়াজ চাষ হয়, যা আগের বছরের চেয়ে ৫৪০ হেক্টর বেশি; উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৬ হাজার ৯১১ টন।

তখনও নলডাঙ্গা হাটের পাইকারি ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলাম ও আড়তদার বুলবুল দরপতনের জন্য ভারত থেকে আমদানি অব্যাহত থাকাকে দায়ী করেন, আর কৃষকেরা অন্তত ফলনের মৌসুমে দুই মাস আমদানি বন্ধ রাখার দাবি তোলেন। নাটোরের কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের (ডিএএম) কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, তখন বাজারে যে পেঁয়াজ আসছে তা সংরক্ষণযোগ্য নয়, তাই কৃষকেরা একসঙ্গে বাজারে ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন; তাঁরা প্রতিদিন বাজারদর তদারক করছেন, আর কৃষকেরা যাতে পেঁয়াজ রাখতে পারেন, সে জন্য সংরক্ষণাগার নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে কম দামের মৌসুম


২০২৫-২৬ মৌসুমে লোকসানের কথা বলা চাষিরা শুধু নাটোরে ছিলেন না। ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দ্য ডেইলি স্টার জানায়, আগাম তোলা পেঁয়াজ ও আমদানি বাড়ায় পাবনার পুষ্পপাড়া হাটে পাইকারি দাম রমজানের আগের মণপ্রতি ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে নেমে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় এসেছে। সবচেয়ে বেশি উৎপাদনকারী জেলা পাবনার ডিএইর তথ্যমতে, সেখানে ৫৪ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, লক্ষ্যমাত্রা ৮ লাখ ৪৫ হাজার টন। সুজানগর উপজেলার এক ব্যবসায়ী বলেন, বিঘাপ্রতি চাষের খরচ ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে, লাভ পেতে হলে দাম মণপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে থাকা দরকার; সেখানকার চাষি ও ব্যবসায়ীরা আমদানি বন্ধের দাবি জানান।

২০২৬ সালের ৭ মার্চ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বাংলা সংস্করণ জানায়, চাষিরা মণপ্রতি ৭০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করছেন, অথচ তাঁদের হিসাবে মণপ্রতি উৎপাদন খরচ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। কৃষি কর্মকর্তারা দরপতনের জন্য ব্যাপক আবাদ ও বাম্পার ফলনে অতিরিক্ত সরবরাহকে দায়ী করেন। ফরিদপুরে প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আবাদ হয়েছে প্রায় ৫৪ হাজার হেক্টরে, আর সেখানকার ডিএই উপপরিচালক কৃষকদের এখনই বিক্রি না করে কয়েক মাস সংরক্ষণের পরামর্শ দেন। ডিএইর বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক বলেন, গত দুই বছর ধরে আলু ও পেঁয়াজ চাষ করে কৃষকেরা ব্যাপক লোকসানে পড়ছেন।

দৈনিক সংগ্রাম ২০২৬ সালের ১১ মার্চ সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও পাবনার অংশ নিয়ে গড়া চলনবিল এলাকা থেকে জানায়, মুড়িকাটা পেঁয়াজ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে মণপ্রতি প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকায় বাজারে ওঠে, পরে নেমে আসে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায়, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত আবার ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় ওঠে, তারপর নেমে যায় ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়; ছোট পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মণে।

২০২৬ সালের ১৭ মার্চ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ডিএইর তথ্য উল্লেখ করে জানায়, সারা দেশে ২ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টরের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৩ লাখ ২ হাজার হেক্টরে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, আর উৎপাদনের পূর্বাভাস প্রায় ৪৩ লাখ টন। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে মাঠপর্যায়ে পেঁয়াজের দাম তখন কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা, যেখানে খরচ ৩৮ থেকে ৪০ টাকা।

মার্চের শেষে রাজশাহীতে দরপতন আরও তীব্র হয়। যুগান্তর ২০২৬ সালের ২৮ মার্চ জানায়, জ্বালানি সংকটে বাইরের ব্যাপারিরা ট্রাক পাচ্ছেন না, ফলে বাগমারা, পুঠিয়া ও দুর্গাপুরের হাটে পেঁয়াজ মণপ্রতি মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিএই পত্রিকাটিকে জানায়, রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী, এই সাত জেলায় দেশের অর্ধেক পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়; সেই মৌসুমে এসব জেলায় ১ লাখ ৯২ হাজার হেক্টরে চাষ হয়েছে, লক্ষ্যমাত্রা ১৯ লাখ ৮৮ হাজার টন।

২০২৫-২৬ মৌসুমে ভারত থেকে আমদানি


ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বাজারে দাম বাড়তে থাকায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর পেঁয়াজ আমদানি আবার শুরু হয়। ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি দ্য ডেইলি স্টার জানায়, ৭ ডিসেম্বর থেকে সরকার ৭৩ হাজার ৫০ টন আমদানির অনুমতি দিয়েছে এবং ৫২ হাজার টনের বেশি দেশে এসেছে; আমদানিকারকদের প্রয়োজনীয় উদ্ভিদ সংগনিরোধ সনদ দেয় ডিএইর উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইং, যার তথ্যমতে সব পেঁয়াজই এসেছে ভারত থেকে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ২৪০ কোটি ১১ লাখ টাকার ৬২ হাজার ৯৮৭ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়, যার ৪৯ হাজার ৮৭৩ টন এসেছে শুধু ডিসেম্বরে।

জানুয়ারির শুরুতে দেশি কৃষকের স্বার্থের কথা বলে সরকার ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির নতুন অনুমতি দেওয়া বন্ধ করে; ঢাকা ট্রিবিউন ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি জানায়, আগে দেওয়া অনুমতির পেঁয়াজ ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত আনা যাবে। ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ডিএইর সংগনিরোধ উইংয়ের প্রধান বনি আমিন খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮৭ হাজার ৮৩৮ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যার ৮৬ হাজার ২৭৮ টন এসেছে; দাম স্থিতিশীল ও সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় তখন আর আমদানির দরকার নেই, দাম হঠাৎ অনেক বাড়লেই কেবল নতুন আমদানির কথা ভাবা হবে।

এই প্রতিবেদনের জন্য পড়া সূত্রগুলো থেকে জানা যায় না, ২০২৬ সালের এপ্রিলের শুরুতেও নাটোরের বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ আসছিল কি না; নলডাঙ্গায় দরপতনের সঙ্গে আমদানির সম্পর্কের কথাটি ব্যবসায়ী ও চাষিদের ব্যাখ্যা।

ঢাকার মগবাজারের একটি কাঁচাবাজারে বিক্রির জন্য রাখা পেঁয়াজ, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তোলা। ছবি: Salim_Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ঢাকার মগবাজারের একটি কাঁচাবাজারে বিক্রির জন্য রাখা পেঁয়াজ, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তোলা। ছবি: Salim_Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

উৎপাদন, চাহিদা ও ফসল তোলার পরের ক্ষতি


দেশে কত পেঁয়াজ উৎপাদন হয় আর কত দরকার, সে বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর হিসাব এক নয়। দ্য ডেইলি স্টার ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে জানায়, ডিএইর হিসাবে আগের মৌসুমের উৎপাদন ৩৯ লাখ টনের বেশি, যা দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট; তবু ফসল তোলার পরের ক্ষতি পূরণে ৬ থেকে ৭ লাখ টন আমদানি লাগবে বলে সংস্থাটির ধারণা। ২০২৬ সালের মার্চে বাংলা ট্রিবিউন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পেঁয়াজ উৎপাদন ১০.৪২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩২ লাখ ২১ হাজার ৪৩১ মেট্রিক টন হয়েছে, আর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ৩৭.৯ লাখ টন; বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে বার্ষিক চাহিদা প্রায় সাড়ে ৩৫ লাখ টন, যার একাংশ মেটাতে বছরে সাড়ে ৫ লাখ থেকে ৫ লাখ ৭৮ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়।

ফসল তোলার পর বড় একটি অংশ নষ্ট হয়, এ বিষয়ে সব সূত্র একমত। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ফরিদপুরের জ্যেষ্ঠ কৃষি বিপণন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, উৎপাদিত পেঁয়াজের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ নষ্ট হয়; ফলে প্রায় ৩৫ লাখ টন উৎপাদনের মধ্যে টিকে থাকে প্রায় ২২ লাখ টন, আর চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হলেও বছরে ৬ থেকে ৭ লাখ টন ঘাটতি থেকে যায়। ২০২৬ সালের মার্চে বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে সংরক্ষণের অভাবে ক্ষতির হার বলা হয় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। ওই প্রতিবেদনে উত্তরাঞ্চলের পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে নওগাঁ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাটের সঙ্গে নাটোরের নাম আসে, আর প্রধান উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পাবনা, রাজবাড়ী ও ফরিদপুরের।

মডেল ঘর, এয়ার-ফ্লো যন্ত্র ও ফ্যান


এই ক্ষতি কমাতে সরকারের একটি উদ্যোগ হলো কৃষকের বাড়িতে কম খরচের সংরক্ষণব্যবস্থা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রথম আলো ফরিদপুরে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পেঁয়াজ সংরক্ষণের 'মডেল ঘর'-এর বর্ণনা দেয়: বাঁশ, কাঠ, রঙিন টিন ও আরসিসি পিলারে তৈরি প্রতিটি ঘর ২৫ ফুট লম্বা ও ১৫ ফুট চওড়া, দাঁড়িয়ে আছে ১৫টি পিলারের ওপর; ভেতরে তিন স্তরের মাচা, নিচে আলো-বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা, আর পেছনে ছয়টি বৈদ্যুতিক পাখা ঘরের গরম বাতাস বের করে দেয়। প্রতিটি ঘরে ৩০০ মণ পেঁয়াজ ৬ থেকে ৯ মাস ভালো থাকে, নির্মাণে খরচ সাড়ে ৪ লাখ টাকা, আর একটি ঘর পাঁচজন কৃষকের জন্য; ২০২২-২৩ অর্থবছরে সালথা ও নগরকান্দা উপজেলায় ৬৫টি ঘর নির্মাণের কথা ছিল।

বণিক বার্তা ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই জানায়, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, রাজশাহী ও পাবনা, এই সাত জেলার ২৮৫টি মডেল ঘরে তখন প্রায় ১০ হাজার টন পেঁয়াজ মজুত ছিল; প্রতিটি ঘরের ধারণক্ষমতা ২৫০ থেকে ৩০০ মণ। ওই সাত জেলার মধ্যে নাটোরের নাম ছিল না।

২০২৫ সালের এপ্রিলে সমকাল জানায়, কৃষি মন্ত্রণালয় পেঁয়াজপ্রধান এলাকায় ৪ হাজার এয়ার-ফ্লো যন্ত্র বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদ্ধতিতে ঘরের মেঝেতে ইট দিয়ে মাচা বানিয়ে ছিদ্রযুক্ত মাদুর বিছানো হয়, ঘরের মাঝখানে রাখা একটি খাড়া সিলিন্ডারের ভেতরের বৈদ্যুতিক পাখা ওপর থেকে বাতাস টেনে মজুত পেঁয়াজের ভেতর দিয়ে ছড়িয়ে দেয়; পত্রিকাটির তথ্যমতে এভাবে বছরে আট মাস পেঁয়াজ রাখা যায়। ফরিদপুর সদরের এক কৃষক সমকালকে জানান, ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকার যন্ত্রে তিনি প্রায় ৩০০ মণ পেঁয়াজ রাখছেন, মাসে বিদ্যুৎ বিল আসে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

নাটোরের প্রতিবেদনের পাঁচ দিন আগে, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জাতীয় সংসদে জানান, সরকার কম বিদ্যুতের একটি নতুন সংরক্ষণ পদ্ধতি চালু করেছে, যাতে পেঁয়াজ তিন মাস পর্যন্ত রাখা যায়; তখন পর্যন্ত ৬৮ জন কৃষককে এটি দেওয়া হয়েছে এবং মন্ত্রণালয় এর বিস্তার নিয়ে আলোচনা করছে, জানায় দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। এই প্রেক্ষাপটেই নলডাঙ্গার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এপ্রিলে জানান, সংরক্ষিত পেঁয়াজের পচন ঠেকাতে সেখানকার কৃষকদের মধ্যে ফ্যান বিতরণ করা হচ্ছে।

ছবি: প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট (পিআইডি) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ঢাকা ট্রিবিউন, বাংলা ট্রিবিউন, দৈনিক সংগ্রাম, যুগান্তর, আজকের পত্রিকা, প্রথম আলো, বণিক বার্তা, সমকাল, রূপালী বাংলাদেশ, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

শাকসবজি

সম্পর্কিত খবর

শাকসবজি

কুয়াশায় শিকড় খাওয়ানোর প্রযুক্তিতে রোগমুক্ত আলুবীজ উৎপাদনের পরীক্ষা ইংল্যান্ডে

স্টার্টআপ এয়ারপনিক্স ও ডাইসন ফার্মিং ডেফরার অর্থায়নে দুই বছরের এক পরীক্ষা শুরু করেছে: কুয়াশাভিত্তিক পদ্ধতিতে বর্তমান খরচের অর্ধেকেরও কমে ইংল্যান্ডে রোগমুক্ত প্রথম প্রজন্মের আলুবীজ উৎপাদন সম্ভব কি না।

AgNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

মাশরুমের গাঁজন প্রযুক্তিতে টফুর বর্জ্য হলো প্রোটিনসমৃদ্ধ সুস্বাদু উপাদান

সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা সয়া দুধ ও টফুর অবশিষ্ট ওকারা ঝিনুক মাশরুমের মাইসেলিয়াম দিয়ে গাঁজন করে এর প্রোটিন প্রায় ২৮ থেকে ৩০ শতাংশে তুলেছেন, বাড়িয়েছেন উমামি স্বাদ।

Green Queen১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

মাদারগঞ্জে ৬০ হেক্টরে আগাম শসা, দুই হাজার টন উৎপাদনের আশা

জামালপুরের মাদারগঞ্জে এবার প্রায় ৬০ হেক্টরে আগাম শসার আবাদ হয়েছে, উৎপাদন হতে পারে প্রায় দুই হাজার টন; পাইকারি বাজারে কেজি ৩০-৪০ টাকা, বিঘায় খরচ ১৫-২০ হাজার আর বিক্রি ৩০-৪০ হাজার টাকা।

ডেইলি বাংলাদেশ১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)