সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

বাঘ বাড়লেও নিরাপদ নয় সুন্দরবন

বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। এটি নিঃসন্দেহে এক ধরনের আশার বার্তা। কিন্তু সুন্দরবনের গভীরে যাদের প্রতিদিন যাওয়া হয়, যারা বনের ভেতর মাছ ধরেন, মধু সংগ্রহ করেন কিংবা গাছের পাতা কেটে আনেন; তারা কি বাঘকে আগের মতো ভয় পান! নাকি ভয়টা এখন অন্যকিছু? এ প্রশ্নটা এখন খুব জরুরি। বিশেষ করে যখন 'বিশ্ব বাঘ দিবসে' বলে উঠি 'বা

বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। এটি নিঃসন্দেহে এক ধরনের আশার বার্তা। কিন্তু সুন্দরবনের গভীরে যাদের প্রতিদিন যাওয়া হয়, যারা বনের ভেতর মাছ ধরেন, মধু সংগ্রহ করেন কিংবা গাছের পাতা কেটে আনেন; তারা কি বাঘকে আগের মতো ভয় পান! নাকি ভয়টা এখন অন্যকিছু? এ প্রশ্নটা এখন খুব জরুরি। বিশেষ করে যখন 'বিশ্ব বাঘ দিবসে' বলে উঠি 'বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি, সুন্দরবনের সমৃদ্ধি'।

নতুন জরিপ বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা ১২৫টি। এর আগে ২০১৫ সালে ছিল ১০৬টি। এ বৃদ্ধিকে স্বাগত জানানো যেতেই পারে। কিন্তু ২০০৪ সালের জরিপে বাঘের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৪০টি। বন ছিল গাঢ়, নিস্তব্ধতায় টানটান, বাঘ ছিল নীরব পাহারাদার। ২০০৯ সালেও বলা হয়েছিল, সুন্দরবনে ৪০০ থেকে ৪৫০টি বাঘ আছে। বাঘেরা আজ আগের মতো বনে নেই। না সংখ্যায়, না উপস্থিতির ছায়ায়।

২০১৫ সালের শুমারিতে বাঘ নেমে এসেছে ১০৬টিতে। এরপর ২০১৮ সালে জরিপে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ১১৪টিতে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের মার্চে শেষ হওয়া ক্যামেরা ট্র্যাপ জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে বাঘের সংখ্যা ১২৫টি। এ জরিপ চালাতে ৩১৮ দিন লেগেছে। বসানো হয়েছিল ১ হাজার ২১০টি ক্যামেরা। খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ছবির সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। যার মধ্যে ৭ হাজার ২৯৭টি বাঘের ছবি। এসব পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে কঠোর পরিশ্রমের ফল। সংখ্যার এ উল্লম্ফন কি প্রকৃতপক্ষে সুন্দরবনের নিরাপত্তা কিংবা বাঘের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে?

বাঘের ভয় এখন একমাত্র ভয় নয়। বনজীবীরা তা খুব ভালো বুঝতে পারেন। এখন তারা প্রতিনিয়ত বয়ে বেড়ান চোরা শিকারী ও বনদস্যুদের ভয়। যারা বনের গভীরে আগে থেকে ফাঁদ পেতে রাখেন, যারা বনের চেনা মানুষদের চেয়েও বেশি জানেন কোন পথে বাঘ হেঁটে যায়, কোথায় গেলে শিকার পাওয়া যাবে। হয়তো অনেক সময় বাঘের অবস্থান শনাক্ত করতে যে ক্যামেরা বসানো হয়; সেই ক্যামেরার স্থান আগেই চিহ্নিত করে নেয় অপরাধী চক্র! বাঘের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, বিশেষ করে চামড়া, দাঁত, হাড় আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি হয় কোটি টাকায়। ফলে সুন্দরবনে এখন যে ভয়; তা আসলে মানুষে মানুষে।

এ ভয় বাইরের কেউ টের পান না। নদী পেরিয়ে বনের গভীরে যেসব মানুষ পেশাগত বা জীবিকার জন্য প্রবেশ করেন, তাদের কাছে এখন বাঘ নয়; মানুষের হাতেই প্রাণ বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা বেশি। যারা বনের অভ্যন্তরে শিকারে আসেন, তাদের হাতে আধুনিক অস্ত্র, তথ্যভিত্তিক মানচিত্র ও ছদ্মবেশ থাকে। অনেক সময় ক্যামেরা ট্র্যাপ বসানোর আগেই চিহ্নিত হয়ে যায় জায়গাগুলো। ফলে বনরক্ষীদের প্রযুক্তির চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে অপরাধীরা। কেউ ধরা পড়েন, কেউ ধরা পড়েন না। বনের গহীনে পাতা ফাঁদে বাঘের মৃত্যু হয় নীরবে। বনজীবীরা জানেন, মুখ খুললে ক্ষতি হতে পারে! এ নীরবতার ভয়ই আজ সবচেয়ে ভয়ংকর।

বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিতে আমাদের গর্ব হতে পারে কিন্তু গর্ব তখনই অর্থবহ হয়; যখন এ সংখ্যা নিরাপদ থাকে। যেদিন বনজীবীরা নিশ্চিত হবেন 'বাঘ আছে, তবু ভয় নেই'। চোরা শিকারীরা বুঝে যাবেন, অপরাধ করলে ধরা পড়বেন এবং শাস্তি এড়ানোর কোনো পথ নেই। সেদিনই বাঘের সংখ্যা বাড়ার সার্থকতা আসবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা এখনো সেই নিরাপত্তা দিতে পারিনি। বাঘ সংখ্যা বাড়ছে ঠিকই কিন্তু তাদের জন্য বন নিরাপদ নয়।

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)