সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

পাবদার সঙ্গে শিং ও কার্প: পুকুরে মিশ্র চাষের ধাপে ধাপে ব্যবস্থাপনা

পুকুর প্রস্তুতি থেকে আহরণ পর্যন্ত পাবদা, শিং ও কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষের নিয়ম; প্রতি শতাংশে ৫০টি পাবদা ও ১০০টি শিংয়ের সঙ্গে কার্পের পোনা ছেড়ে ৭ থেকে ৮ মাসে মাছ আহরণ করা যায়।

পাবদার সঙ্গে শিং ও কার্প: পুকুরে মিশ্র চাষের ধাপে ধাপে ব্যবস্থাপনা
মৎস্য

দেশীয় মাছ পাবদা, বৈজ্ঞানিক নাম Ompok pabda, এখন অনেক চাষি পুকুরে চাষ করছেন। একসময় দেশের নদী, খাল ও বিলে মাছটি প্রচুর পাওয়া যেত। ২০২৫ সালের মে মাসে দ্য এগ্রো নিউজের নিজস্ব প্রতিনিধি পাবদার সঙ্গে শিং এবং কাতলা, রুই, মৃগেল, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্পের মিশ্র চাষের একটি ব্যবস্থাপনা তুলে ধরেন। পুকুর নির্বাচন, চুন ও গোবর প্রয়োগ, পোনা মজুদ, খাদ্য ও আহরণের সেই নিয়মের সঙ্গে এখানে মাছটির পরিচিতি ও গবেষণার তথ্য যোগ করা হলো।

পাবদা মাছের পরিচিতি ও বর্তমান অবস্থা


পাবদা ক্যাটফিশ জাতীয় একটি দেশীয় মাছ, বাংলাদেশে যা মধু পাবদা নামেও পরিচিত। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে মাছটি পাওয়া যায় এবং এটি সর্বোচ্চ প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। বিল, পুকুর, নদী, খাল ও বর্ষায় প্লাবিত জমি এর স্বাভাবিক আবাস। পাবদা সর্বভুক; শৈবাল, প্রোটোজোয়া, ক্রাস্টেশিয়ান ও ছোট মাছ খায়। মে থেকে জুলাই এর প্রজনন মৌসুম।

আইইউসিএন বাংলাদেশ ২০১৫ সালে দেশের ২৫৩টি মিঠা পানির মাছের অবস্থা মূল্যায়ন করে ৩০টিকে বিপন্ন ঘোষণা করে; পাবদা সেই তালিকায় রয়েছে। আবাসস্থল হারানো ও সচেতনতার অভাবকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বৈশ্বিক তালিকায় মাছটি প্রায় বিপদগ্রস্ত। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) পাবদার প্রজনন ও পোনা উৎপাদন প্রযুক্তি এবং পাবদা ও গুলশার পোনা উৎপাদন ও চাষ ব্যবস্থাপনা উদ্ভাবন করেছে। যশোরের হ্যাচারিতে কৃত্রিম প্রজননে পোনা উৎপাদন হয় এবং ময়মনসিংহ ও যশোরে পাবদার চাষ হয়।

পুকুর নির্বাচন ও প্রস্তুতি


বছরে অন্তত ৭ থেকে ৮ মাস পানি থাকে এমন পুকুর পাবদা চাষের জন্য বেছে নেওয়া ভালো। সারা বছর পানি থাকে এবং আগে থেকে অন্য মাছ চাষ হচ্ছে এমন পুরোনো পুকুর আরও উপযোগী। নতুন পুকুরের পাড় মেরামত করে জলজ আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। এরপর প্রতি শতাংশে ১ কেজি চুন এবং চুন দেওয়ার ২ থেকে ৩ দিন পর প্রতি শতাংশে ৫ কেজি গোবর প্রয়োগ করলে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি হয়। পোনা ছাড়ার আগে রাক্ষুসে ও অবাঞ্ছিত মাছ সরিয়ে ফেলতে হবে।

গাইবান্ধার একটি গ্রামীণ পুকুর। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
গাইবান্ধার একটি গ্রামীণ পুকুর। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

পোনা মজুদের হিসাব


পুকুরের পানির গড় গভীরতা ৪ থেকে ৫ ফুট হলে এবং পানির রং হালকা সবুজাভ হলে পোনা ছাড়ার সময় হয়। মিশ্র চাষে প্রতি শতাংশে নিচের হারে সুস্থ পোনা মজুদ করতে হবে:

  • ২ থেকে ৩ ইঞ্চি আকারের পাবদা: ৫০টি
  • ২ থেকে ৩ ইঞ্চি আকারের শিং: ১০০টি
  • ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি আকারের কাতলা: ৫টি
  • ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি আকারের রুই: ১০টি
  • ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি আকারের মৃগেল: ১০টি
  • ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি আকারের সিলভার কার্প: ২টি
  • ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি আকারের গ্রাস কার্প: ২টি

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশে মিশ্র চাষের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কার্প জাতীয় মাছগুলো পুকুরের আলাদা স্তরে আলাদা খাবার খায়। সিলভার কার্প ও কাতলা ওপরের স্তরে যথাক্রমে উদ্ভিদকণা ও প্রাণিকণা খায়, রুই মাঝের স্তরে প্লাংকটন ও জৈব কণা খায়, গ্রাস কার্প জলজ উদ্ভিদ খায় এবং মৃগেল তলদেশের জৈব পদার্থ খায়। এভাবে পুকুরের সব স্তরের খাবার কাজে লাগে।

শিং মাছ (Heteropneustes fossilis), পাবদার সঙ্গে মিশ্র চাষে যার পোনা সবচেয়ে বেশি ছাড়া হয়। ছবি: দিব্য দত্ত (Dibya Dutta) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
শিং মাছ (Heteropneustes fossilis), পাবদার সঙ্গে মিশ্র চাষে যার পোনা সবচেয়ে বেশি ছাড়া হয়। ছবি: দিব্য দত্ত (Dibya Dutta) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

খাদ্য, পরিচর্যা ও আহরণ


মাছের দেহের ওজনের শতকরা ৩ থেকে ৮ ভাগ হারে নিয়মিত সম্পূরক খাদ্য দিতে হবে। অনুর্বর পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য বাড়াতে ১৫ দিন পরপর প্রতি শতাংশে ২ থেকে ৫ কেজি পচা গোবর দেওয়া যায়। পানির রং গাঢ় সবুজ হয়ে গেলে গোবর দেওয়া বন্ধ করে পানির পিএইচ পরীক্ষা করতে হবে।

পাবদা পুকুরের তুলনামূলক ছোট মাছ খেয়ে ফেলে। তাই অন্য প্রজাতির পোনা যেন পাবদার চেয়ে বড় আকারের হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। অবাঞ্ছিত ছোট মাছ খেয়ে পাবদা একদিকে পুকুরকে চাষের উপযোগী রাখে, অন্যদিকে নিজেও দ্রুত বাড়ে।

কাতলা মাছ, যা পুকুরের ওপরের স্তরের খাবার খায়। ছবি: Khalid Mahmood / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কাতলা মাছ, যা পুকুরের ওপরের স্তরের খাবার খায়। ছবি: Khalid Mahmood / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

পাবদার ওজন ৬০ থেকে ৭০ গ্রাম হলে বিক্রির জন্য ধরা যায়। পোনা ছাড়ার ৭ থেকে ৮ মাস পর সব মাছ আহরণ করা যেতে পারে। তবে ১ বছরের বেশি সময় পর আহরণ করলে মাছের ওজন দ্বিগুণেরও বেশি হতে দেখা গেছে।

ছবি: JIBON / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: দ্য এগ্রো নিউজ (নিজস্ব প্রতিনিধি), বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিডিফিশ (আইইউসিএন বাংলাদেশ ২০১৫ লাল তালিকা), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)