সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৯°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৫৮%বাতাস ৬ কিমি/ঘ

মসজিদুল হারাম: কাবাকে ঘিরে মুসলিম বিশ্বের পবিত্রতম কেন্দ্র

মক্কার এই পবিত্র মসজিদ কাবা শরিফকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এবং হজ, উমরাহ ও বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের দৈনন্দিন ইবাদতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

মসজিদুল হারাম: কাবাকে ঘিরে মুসলিম বিশ্বের পবিত্রতম কেন্দ্র
ইসলাম

মক্কা, সৌদি আরব: সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার কেন্দ্রে অবস্থিত মসজিদুল হারাম ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র মসজিদ। এই মসজিদের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে কাবা শরিফ, যেদিকে মুখ করে বিশ্বের মুসলিমরা প্রতিদিন নামাজ আদায় করেন। হজ ও উমরাহ পালনের প্রধান কেন্দ্রও এই মসজিদ।

প্রতিদিন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলিমরা মক্কায় আসেন। কেউ আসেন উমরাহ পালন করতে, কেউ হজের জন্য, আবার কেউ পবিত্র কাবা শরিফের কাছে নামাজ ও ইবাদত করার আকাঙ্ক্ষায়। ভাষা, দেশ, জাতি ও সংস্কৃতিতে ভিন্ন হলেও মসজিদুল হারামে এসে সবাই একই কাবাকে কেন্দ্র করে ইবাদতে অংশ নেন।

মসজিদুল হারামের গুরুত্ব শুধু এর বিশাল আকার বা আধুনিক স্থাপত্যের কারণে নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলামের প্রাচীন ইতিহাস, হজরত ইবরাহিম (আ.), হজরত ইসমাইল (আ.), মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), কাবা শরিফ, কিবলা এবং মুসলিম উম্মাহর দীর্ঘ ধর্মীয় ঐতিহ্য।

কাবা শরিফকে ঘিরেই মসজিদুল হারাম


কাবা শরিফের দরজা ও সোনালি কারুকাজের কালো গিলাফ (কিসওয়া)। ছবি: Abdullah Shakoor / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
কাবা শরিফের দরজা ও সোনালি কারুকাজের কালো গিলাফ (কিসওয়া)। ছবি: Abdullah Shakoor / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

মসজিদুল হারামের প্রাণকেন্দ্র কাবা শরিফ। কালো গিলাফে আবৃত ঘনকাকৃতির এই পবিত্র স্থাপনাকে মুসলিমরা বায়তুল্লাহ বা আল্লাহর ঘর হিসেবে সম্মান করেন।

কুরআনে মক্কার এই পবিত্র ঘরকে মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠিত প্রথম ঘর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, মক্কার বাক্কা এলাকায় প্রতিষ্ঠিত এই ঘর মানুষের জন্য বরকত ও হেদায়াতের স্থান।

ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) কাবার ভিত্তি উঁচু করেন। তাঁরা কাবা নির্মাণের সময় আল্লাহর কাছে তাঁদের কাজ কবুল করার জন্য দোয়া করেছিলেন। এই ঘটনা কাবার সঙ্গে ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-এর গভীর সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

কাবা শরিফকে ঘিরেই তাওয়াফ করা হয়। হজ ও উমরাহ পালনকারীরা কাবাকে কেন্দ্র করে সাতবার প্রদক্ষিণ করেন। মসজিদুল হারামের বিশাল প্রাঙ্গণে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এই ইবাদত সম্পন্ন করেন।

কিবলার ইতিহাস: একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন


মসজিদুল হারামের ইতিহাসের সঙ্গে কিবলা পরিবর্তনের ঘটনাও গভীরভাবে যুক্ত। এই বিষয়টি নিয়ে অনেক সময় সংক্ষিপ্তভাবে বলা হয় যে মুসলিমরা শুরু থেকেই কাবার দিকে নামাজ পড়তেন, পরে আবার কাবার দিকে ফিরে আসেন। বিষয়টি আরও নির্ভুলভাবে বলা প্রয়োজন।

মক্কার প্রাথমিক যুগে মুসলিমরা কাবার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করতেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরত করার পর মুসলিমরা বায়তুল মাকদিস বা জেরুজালেমের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। সহিহ আল-বুখারির বর্ণনায় এসেছে, মদিনায় যাওয়ার পর মহানবী (সা.) প্রায় ১৬ বা ১৭ মাস জেরুজালেমের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেছিলেন। একই বর্ণনায় বলা হয়েছে, তিনি কাবার দিকে মুখ করার নির্দেশ পাওয়ার প্রত্যাশা করতেন।

এরপর কুরআনের সূরা আল-বাকারা ২:১৪৪ আয়াতে কিবলা পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। আয়াতে মহানবী (সা.)-কে আল-মসজিদুল হারামের দিকে মুখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং মুসলিমদেরও নামাজের সময় সেই দিকেই মুখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সহিহ আল-বুখারির আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, কিবলা পরিবর্তনের নির্দেশ পৌঁছানোর পর সাহাবিরা নামাজের মধ্যেই জেরুজালেমের দিক থেকে কাবার দিকে ফিরে যান।

অর্থাৎ, ইতিহাসটি হলো, মদিনায় হিজরতের পর একটি সময় মুসলিমরা বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেছেন; পরে আল্লাহর নির্দেশে কিবলা কাবা শরিফের দিকে নির্ধারিত হয়। সেই কিবলাই আজ বিশ্বের মুসলিমদের নামাজের দিক।

হজের কেন্দ্র মসজিদুল হারাম


হজের শেষে বিদায়ী তাওয়াফ: রাতে কাবাকে ঘিরে হাজিদের ঢল। ছবি: Fadi El Binni, Al Jazeera English / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
হজের শেষে বিদায়ী তাওয়াফ: রাতে কাবাকে ঘিরে হাজিদের ঢল। ছবি: Fadi El Binni, Al Jazeera English / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো হজ। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলিমের জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা ফরজ।

হজের প্রধান কেন্দ্র মক্কা এবং এর কেন্দ্রবিন্দু মসজিদুল হারাম। হজ পালনকারীরা কাবা শরিফ তাওয়াফ করেন এবং মক্কার পবিত্র স্থানগুলোতে নির্ধারিত বিভিন্ন আমল সম্পন্ন করেন।

হজ শুধু একটি ভ্রমণ নয়। এটি মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং আত্মশুদ্ধির সময়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ মক্কায় এসে একই ধর্মীয় নিয়ম ও একই উদ্দেশ্যে হজ পালন করেন।

একজন ধনী ও একজন দরিদ্র, একজন আফ্রিকার দেশ থেকে আসা মুসলিম এবং একজন এশিয়ার দেশ থেকে আসা মুসলিম, সবাই একই পবিত্র স্থানে এসে আল্লাহর কাছে নিজেদের সমর্পণ করেন। এই বৈচিত্র্যের মধ্যকার ঐক্য হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

উমরাহর জন্য সারা বছর মানুষের আগমন


হজের নির্দিষ্ট সময় থাকলেও উমরাহ সারা বছর পালন করা যায়। তাই মসজিদুল হারামে সারা বছরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের উপস্থিতি দেখা যায়।

উমরাহর গুরুত্বপূর্ণ আমলের মধ্যে রয়েছে কাবা শরিফ তাওয়াফ এবং সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাঈ। রমজান মাসে মসজিদুল হারামে মুসল্লিদের উপস্থিতি বিশেষভাবে বেড়ে যায়।

অনেকে রমজানে উমরাহ পালন করতে মক্কায় যান। আবার অনেকে শুধু মসজিদুল হারামে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য ইবাদতের জন্য সেখানে অবস্থান করেন।

সাফা ও মারওয়া: হজরত হাজেরার স্মৃতি


সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী সাঈর পথ (মাসআ); সবুজ বাতির অংশে পুরুষেরা দ্রুত হাঁটেন। ছবি: Tahir mq / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী সাঈর পথ (মাসআ); সবুজ বাতির অংশে পুরুষেরা দ্রুত হাঁটেন। ছবি: Tahir mq / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

মসজিদুল হারামের সঙ্গে সাফা ও মারওয়ার সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। হজ ও উমরাহ পালনকারীরা সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাঈ করেন।

ইসলামী ঐতিহ্যে এই আমলের সঙ্গে হজরত হাজেরা (আ.)-এর ঘটনা জড়িয়ে আছে। তাঁর শিশু পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর জন্য পানির সন্ধানে তিনি সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় ছুটে বেড়িয়েছিলেন।

আজকের সাঈর পথটি আধুনিক অবকাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হলেও এর ধর্মীয় স্মৃতি সেই প্রাচীন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত।

জমজম: মক্কার আরেক পবিত্র স্মৃতি


মক্কায় জমজমের পানি সংগ্রহ করছেন মুসল্লিরা। ছবি: Yousefmadari / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
মক্কায় জমজমের পানি সংগ্রহ করছেন মুসল্লিরা। ছবি: Yousefmadari / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

মসজিদুল হারামের সঙ্গে জমজমের পানির সম্পর্কও মুসলিমদের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, শিশু ইসমাইল (আ.) ও তাঁর মা হাজেরা (আ.)-এর সময় মক্কার মরুভূমিতে জমজমের পানির উৎসের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনা মুসলিমদের কাছে আল্লাহর রহমত ও সাহায্যের স্মারক হিসেবে পরিচিত।

হজ ও উমরাহ পালনকারীরা জমজমের পানি পান করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের কাছেও জমজমের পানির বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।

হাজরে আসওয়াদ


কাবার পূর্ব কোণে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার চেষ্টায় মুসল্লিদের ভিড়। ছবি: Omar Chatriwala / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
কাবার পূর্ব কোণে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করার চেষ্টায় মুসল্লিদের ভিড়। ছবি: Omar Chatriwala / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

কাবা শরিফের একটি কোণে রয়েছে হাজরে আসওয়াদ, অর্থাৎ কালো পাথর। তাওয়াফের সূচনা ও সমাপ্তির সঙ্গে এর অবস্থান সম্পর্কিত।

ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, সুযোগ থাকলে হাজিরা হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ বা চুম্বন করার চেষ্টা করেন। তবে বিপুল ভিড়ের সময় নিরাপত্তা ও অন্য মুসল্লিদের অসুবিধা এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে দূর থেকে ইশারা করেও তাওয়াফের সূচনা করা যায়।

মসজিদুল হারামের দীর্ঘ ইতিহাস


কাবা শরিফের চারপাশে মুসল্লিদের জন্য মসজিদের পরিসর সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন যুগে মসজিদুল হারামের সংস্কার ও সম্প্রসারণ হয়েছে।

আধুনিক সময়ে এই সম্প্রসারণ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বিপুলসংখ্যক হাজি ও উমরাহ পালনকারীর প্রয়োজন মেটাতে নামাজের জায়গা, চলাচলের পথ, প্রবেশপথ এবং অন্যান্য সেবা অবকাঠামো উন্নত করা হয়েছে।

সৌদি আরবের সরকারি হারামাইন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মসজিদুল হারাম কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মুসলিমদের পবিত্রতম স্থান এবং হজ ও উমরাহর প্রধান কেন্দ্র।

আধুনিক প্রকৌশলের বিশাল পরীক্ষা


রাতে আকাশ থেকে মসজিদুল হারাম; পেছনে সম্প্রসারণ কাজের ক্রেন। ছবি: Wurzelgnohm / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
রাতে আকাশ থেকে মসজিদুল হারাম; পেছনে সম্প্রসারণ কাজের ক্রেন। ছবি: Wurzelgnohm / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

মসজিদুল হারাম শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়; এত বিপুলসংখ্যক মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দিক থেকেও এটি একটি বিশাল ব্যবস্থাপনার উদাহরণ।

হজের সময় বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ মক্কায় আসেন। একই সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের থাকা, চলাচল, ইবাদত, চিকিৎসা, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের অবকাঠামো প্রয়োজন।

এ কারণে আধুনিক সময়ে মসজিদুল হারামের ব্যবস্থাপনায় উন্নত প্রযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

মুসলিম ঐক্যের এক অসাধারণ দৃশ্য


মসজিদুল হারামে দাঁড়ালে মুসলিম বিশ্বের বৈচিত্র্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কেউ আরবি ভাষায় কথা বলেন, কেউ বাংলা, উর্দু, তুর্কি, মালয়, ইংরেজি বা আফ্রিকার বিভিন্ন ভাষায়। কেউ এশিয়া থেকে এসেছেন, কেউ আফ্রিকা থেকে, কেউ ইউরোপ বা আমেরিকা থেকে।

কিন্তু নামাজের সময় সবাই একই কিবলার দিকে মুখ করেন।

হজের সময় এই ঐক্যের দৃশ্য আরও বড় আকারে দেখা যায়। একই পোশাকের সরলতা, একই ইবাদত এবং একই পবিত্র স্থানের চারপাশে মানুষের সমাবেশ মুসলিম বিশ্বের একটি শক্তিশালী ধর্মীয় পরিচয় তুলে ধরে।

শুধু বড় মসজিদ নয়


বিশ্বের অনেক মসজিদ তাদের স্থাপত্য, সৌন্দর্য, ইতিহাস বা আকারের কারণে পরিচিত। মসজিদুল হারামও স্থাপত্য ও আকারের দিক থেকে অসাধারণ।

কিন্তু এর গুরুত্ব শুধু স্থাপত্যে সীমাবদ্ধ নয়।

এখানেই কাবা শরিফ অবস্থিত। এখানেই মুসলিমদের কিবলার কেন্দ্র। হজ ও উমরাহর সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক। ইসলামের প্রাথমিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর সঙ্গে মক্কার সম্পর্কও গভীর।

তাই মসজিদুল হারামকে শুধু বিশ্বের বড় বা বিখ্যাত মসজিদগুলোর তালিকায় একটি নাম হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত অর্থ বোঝা সম্ভব নয়।

একটি জীবন্ত ধর্মীয় কেন্দ্র


অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা আজ মূলত পর্যটন বা ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত। মসজিদুল হারাম তার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এটি একটি জীবন্ত ধর্মীয় কেন্দ্র। এখানে প্রতিদিন নামাজ আদায় হয়। সারা বছর উমরাহ পালন করা হয়। প্রতি বছর হজের সময় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুসলিমরা মক্কায় সমবেত হন।

অর্থাৎ, মসজিদুল হারামের ইতিহাস শুধু অতীতের ইতিহাস নয়। এর ধর্মীয় জীবন প্রতিদিন নতুন করে চলমান।

বিশ্বের মুসলিমদের সঙ্গে মক্কার সম্পর্ক


বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমদের জীবনেও মক্কা ও কাবা শরিফের গুরুত্ব গভীর। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বহু মানুষ হজ ও উমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান।

যারা মক্কায় যেতে পারেন না, তাঁরাও প্রতিদিন নামাজের সময় কাবার দিকেই মুখ করেন। ফলে মক্কা থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে থেকেও একজন মুসলিমের দৈনন্দিন ইবাদতের সঙ্গে কাবা শরিফের সরাসরি সম্পর্ক থাকে।

এই কারণেই মসজিদুল হারাম একটি নির্দিষ্ট শহরের মসজিদ হয়েও মুসলিম বিশ্বের সামগ্রিক ধর্মীয় জীবনের সঙ্গে যুক্ত।

ইতিহাস ও আধুনিকতার মিলন


মসজিদুল হারামের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো এখানে প্রাচীন ধর্মীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক বিশ্বের অবকাঠামো পাশাপাশি রয়েছে।

কাবা শরিফের সঙ্গে যুক্ত বহু শতাব্দীর ধর্মীয় ইতিহাসের পাশাপাশি রয়েছে আধুনিক ভবন, চলাচলের ব্যবস্থা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিপুল জনসমাগম পরিচালনার প্রযুক্তি।

এই দুই বাস্তবতার সমন্বয় মসজিদুল হারামকে বিশ্বের অন্যতম অনন্য ধর্মীয় স্থানে পরিণত করেছে।

মসজিদুল হারাম ইসলামের ইতিহাস, ইবাদত ও মুসলিম জীবনের একটি কেন্দ্রীয় স্থান। মক্কার এই পবিত্র মসজিদের কেন্দ্রে রয়েছে কাবা শরিফ, যেদিকে মুখ করে বিশ্বের মুসলিমরা নামাজ আদায় করেন।

হজরত ইবরাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর সঙ্গে কাবার ইতিহাস, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের সঙ্গে মক্কার সম্পর্ক, কিবলা পরিবর্তনের ঘটনা, হজ ও উমরাহর আমল, সবকিছু মিলিয়ে মসজিদুল হারামের গুরুত্ব বহুমাত্রিক।

কিবলা পরিবর্তনের ঘটনাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সহিহ আল-বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, মদিনায় হিজরতের পর মহানবী (সা.) প্রায় ১৬ বা ১৭ মাস বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করেন। পরে আল্লাহর নির্দেশে কিবলা কাবা শরিফের দিকে পরিবর্তিত হয়। কুরআনের সূরা আল-বাকারা ২:১৪৪-এ আল-মসজিদুল হারামের দিকে মুখ করার নির্দেশ স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে।

আজ মসজিদুল হারাম সেই কাবাকে কেন্দ্র করে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের ইবাদতের সঙ্গে যুক্ত। এটি একই সঙ্গে একটি পবিত্র মসজিদ, হজ ও উমরাহর কেন্দ্র, ইসলামী ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং মুসলিম ঐক্যের একটি শক্তিশালী প্রতীক।

মক্কার পবিত্র এই স্থান তাই শুধু একটি স্থাপনা নয়। এটি বিশ্বের মুসলিমদের হৃদয়, ইবাদতের কেন্দ্র এবং ইসলামী ঐতিহ্যের এক জীবন্ত অংশ।

প্রচ্ছদ ছবি: ২০১৮ সালের হজে কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে মসজিদুল হারামের বিশাল প্রাঙ্গণ। ছবি: Adli Wahid / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

তানিয়া চৌধুরীদা এগ্রো নিউজ

ইসলাম

সম্পর্কিত খবর

ইসলাম

বাগেরহাটে ৩১তম জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা

হুফফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের আয়োজনে বাগেরহাট সদরের জামিয়া সিদ্দিকিয়া কওমিয়া মাদ্রাসায় ৩১তম জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাসস১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ইসলাম

বাংলাদেশে বছরে ২০ লাখ ডলার দেয় জাকাত ফাউন্ডেশন অব আমেরিকা, সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা

ঢাকা সফরে জাকাত ফাউন্ডেশন অব আমেরিকার গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট হালিল দেমির জানিয়েছেন, এতিম পৃষ্ঠপোষকতা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পাশাপাশি একক মায়েদের ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বস্তির তরুণদের দক্ষতা প্রশিক্ষণে বিনিয়োগের কথা ভাবছে সংস্থাটি।

দেশ রূপান্তর১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ইসলাম

সরকারি হজযাত্রীদের সেবায় আবারও সৌদি আল-বাইত গেস্টসের সঙ্গে চুক্তি

২০২৭ সালের হজে সরকারি ব্যবস্থাপনার বাংলাদেশি হজযাত্রীদের আবাসন, খাবার, পরিবহন আর মিনা-আরাফাত-মুজদালিফার সেবার জন্য সৌদি প্রতিষ্ঠান আল-বাইত গেস্টসের সঙ্গে চুক্তি করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

দেশ রূপান্তর১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)