যুক্তরাষ্ট্রে খাবারের পেছনে ভোক্তার খরচ করা ডলারে কৃষকের অংশ ২০২৪ সালে আরও কমেছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (ইআরএস) ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল প্রকাশিত এক চার্ট অব নোটে জানায়, ২০২৪ সালে মুদি দোকান ও রেস্তোরাঁর মতো জায়গায় বিক্রি হওয়া দেশে উৎপাদিত খাবারে ব্যয় করা প্রতি ডলারের ১১.৮ সেন্ট পেয়েছে দেশটির খামার প্রতিষ্ঠানগুলো। একই সংশোধিত হিসাবে ২০২৩ সালে খামারের অংশ ছিল ১২.১ সেন্ট। ইআরএসের ভাষায়, ভোক্তার খরচের মোটামুটি আট ভাগের এক ভাগ খামারে পৌঁছেছে।
২০২৪ সালের ফুড ডলারের বাকি ৮৮.২ সেন্ট বিপণনের অংশ। এই অর্থ খামারের পরের ধাপগুলোর খরচ মেটায়: খাবার পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ভোক্তার কাছে বিক্রি। চার্টটি তৈরি করেছেন ইআরএসের অর্থনীতিবিদ কুইন্টন বেকার ও জেমস চ্যান্ডলার জাকারি।
ফুড ডলার কী মাপে
ইআরএস ২০১১ সালে ফুড ডলার সিরিজ চালু করে, ভোক্তারা খাবারে যে অর্থ খরচ করেন তা সরবরাহ শৃঙ্খলের কোথায় যায় তা বিশ্লেষণের জন্য। সব মার্কিন খাদ্য ব্যয়কে একটি ডলারের এককে দেখানো হয়, ফলে ভিন্ন খাবার ও ভিন্ন বছরের তুলনা সহজ হয়। হিসাবটি ইনপুট-আউটপুট বিশ্লেষণের ওপর দাঁড়ানো এবং মূলত মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের (বিইএ) জাতীয় ইনপুট-আউটপুট সারণি থেকে তৈরি ইআরএসের অ্যাগ্রি-ফুড ইকোনমিক ডেটা সিস্টেম ব্যবহার করে।
এর একটি অংশ মার্কেটিং বিল, যা প্রতিটি খাদ্য ডলারকে দুই ভাগে ভাগ করে: খামারের অংশ, অর্থাৎ খামারের পণ্যের মূল্য; আর বিপণনের অংশ, যা ১০০ সেন্ট থেকে খামারের অংশ বাদ দিয়ে পাওয়া যায়। ইআরএসের আরও দুটি হিসাব আছে: ইন্ডাস্ট্রি গ্রুপ বিল, যা খরচকে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পাইকারি, খুচরা ও খাদ্যসেবার মতো শিল্প গোষ্ঠীতে ভাগ করে; এবং প্রাইমারি ফ্যাক্টর বিল, যা দেখায় মূল্যের কতটা বেতন-ভাতা, সম্পত্তি থেকে আয়, কর ও আমদানিতে যায়।

বাইরে খাওয়া বাড়ায় খামারের অংশ কমছে
ইআরএস বলছে, খামারের অংশে দীর্ঘমেয়াদি নিম্নমুখী প্রবণতার একটি কারণ রেস্তোরাঁর খাবারের মতো বাইরে খাওয়ার খাবারে ব্যয়ের অনুপাত বাড়তে থাকা। এ ধরনের খাবারে খাবার তৈরি ও পরিবেশনের বাড়তি খরচ যুক্ত হয়, তাই এতে বিপণনের অংশ বেশি থাকে। ফুড ডলারে ঘরে খাওয়ার খাবার, যেমন বেকারি পণ্য, আর বাইরে খাওয়ার খাবার, যেমন রেস্তোরাঁর খাবার, আলাদা হিসাবে দেখানো হয়।

নতুন মডেলে নতুন ভিত্তিরেখা
চার্টের সব সংখ্যা, ২০২৩ সালের অংশসহ, ২০২৬ সালে সংশোধিত ফুড ডলার মডেল থেকে এসেছে। পদ্ধতি ও তথ্যসূত্র দুটিতেই পরিবর্তনের কারণে ইআরএস ২০০৭ সাল থেকে পুরো তথ্য নতুন করে হিসাব করেছে। সংশোধনের বিবরণ রয়েছে ২০২৬ সালের ৩ মার্চ প্রকাশিত ইআরএস প্রতিবেদন A More Detailed Food Dollar: Enhanced Accounting of U.S. Food Costs (ইআরআর-৩৫৭)-এ, আর তথ্য রয়েছে ১০ মার্চ হালনাগাদ করা ফুড ডলার ডেটা প্রোডাক্টে, যাতে ২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের তথ্য আছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরোনো মডেলে ১৬টি সারণি ছিল, যার মাত্র ৬টি প্রতি বছর হালনাগাদ হতো; নতুন মডেলে খাদ্য ও পানীয়ের খরচ বণ্টনের ৪৭টি বার্ষিক সারণি আছে। নতুন পদ্ধতি খামার থেকে খামারে হওয়া লেনদেনের মূল্য সরাসরি বাদ দেয়, কারণ তা খামারের প্রাপ্তিকে বাড়িয়ে দেখায়। নতুন হিসাবে বাইরে খাওয়ার খাবারে খামারের অংশ বেড়েছে আর ঘরে খাওয়ার খাবারে কমেছে; পাইকারি অংশ প্রতি ডলারে প্রায় ৫ সেন্ট কমেছে। পুরোনো মডেলে ২০২৩ সালে খামারের অংশ ছিল ১৫.৯ সেন্ট, তাই আগের প্রকাশনার সংখ্যার সঙ্গে নতুন সংখ্যা সরাসরি তুলনীয় নয়।

চাষিদের কাছে খামারের অংশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ভোক্তারা খাবারের জন্য যা দেন, তার কতটা খামারের গেট পর্যন্ত পৌঁছায় তা এখানে দেখা যায়। এই প্রকাশনা সংশোধিত মডেলে সেই হিসাবের নতুন ভিত্তিরেখা দিল।
ছবি: Alabama Extension / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (চার্ট অব নোট), ইআরএস প্রতিবেদন ইআরআর-৩৫৭, ইআরএস ফুড ডলার ডেটা প্রোডাক্ট ও ডকুমেন্টেশন, ইআরএস অ্যাম্বার ওয়েভস





মন্তব্য
(০)