কৃষি বিভাগের হিসাবে লক্ষ্মীপুরে চলতি মৌসুমে প্রায় ৭১০ কোটি টাকার সুপারি বেচাকেনা হবে। জেলার শতাধিক হাটবাজার এখন দিনরাত সুপারির ক্রেতা-বিক্রেতায় মুখর, প্রথম আলো জানিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা গ্রামের হাট থেকে সুপারি কিনে বড় বাজারে আনেন, সেখান থেকে জেলার বাইরের পাইকারেরা কিনে নিয়ে যান।
লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেহমনী বাজারে সপ্তাহে দুই দিন সুপারি কেনাবেচা হয়। বিক্রেতা নজরুল ইসলাম জানান, প্রতি পণ (৮০টি) পাকা সুপারি ১৫০ থেকে ১৭০ টাকায় আর প্রতি কাউন (১ হাজার ২৮০টি) ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; শুধু এই বাজারেই সপ্তাহে এক থেকে দেড় কোটি টাকার সুপারি হাতবদল হয়। দুই যুগ ধরে সুপারির ব্যবসা করা রায়পুরের মোখলেছুর রহমানের দাবি, বছরে তাঁর হাত দিয়েই ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়।
সুপারি বিক্রি হয় তিনভাবে: পাকা, ভেজানো ও শুকনা। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, উৎপাদিত সুপারির প্রায় ৬০ শতাংশ নদী, খাল, পুকুর বা পানিভর্তি চৌবাচ্চায় ভিজিয়ে রাখা হয়, বাকি ৪০ শতাংশ কাঁচা ও রোদে শুকিয়ে বিক্রি হয়। রায়পুরের চর মোহনা গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিন বলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরে সুপারি পাকলে মজুতদারেরা জোট বেঁধে কিনে ভিজিয়ে রাখেন; কৃষকের বিক্রি শেষ হলে জানুয়ারি থেকে মার্চে দাম লাফিয়ে বাড়ে।
মৌসুমে আয় বাড়ে গাছ থেকে সুপারি পাড়ার শ্রমিকদেরও। ২০ বছর ধরে এ কাজ করা রায়পুরের কেরোয়া এলাকার রুবেল হোসেন গাছপ্রতি ১০ টাকা পান, দিনে ২৫০ থেকে ৩০০টি গাছে ওঠেন; তাতে দৈনিক আয় হয় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। একটি গাছ থেকে মৌসুমে দুই থেকে তিনবার সুপারি পাড়া যায়।
জেলায় গত বছর ৭ হাজার ২৪৫ হেক্টরে সুপারিবাগান ছিল, এখন প্রায় ৭ হাজার ২৫০ হেক্টর। গতবার উৎপাদন হয়েছিল ৪২ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন, এবারের লক্ষ্য প্রায় ৪২ হাজার ৩৫০ মেট্রিক টন। একটি সুপারিগাছ ৩০ বছরের বেশি সময় ফলন দেয়, তাই দীর্ঘমেয়াদি আয়ের আশায় নতুন বাগান করতে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকেরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জহির আহমেদ বলেন, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ সুপারি সংগ্রহের প্রধান সময়, এ সময় গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আসে। জেলার সুপারির অর্ধেকের বেশি আসে রায়পুর থেকে, এরপর সদর উপজেলা। পাকা, শুকনা ও ভেজানো মিলিয়ে এ বছর কৃষকেরা প্রায় ৭১০ কোটি টাকার সুপারি বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদন: এ বি এম রিপন, প্রথম আলো
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)